অন্যান্য (666 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জাতি রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো জাতীয়তাবাদ
• জাতীয়তাবাদ হচ্ছে এমন একটি মানসিক অনূভূতি ও রাজনৈতিক চেতনা, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট জনসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে রাষ্ট্র গঠনে উদ্বুদ্ধ করে।
• বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারেও, বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতির মূল ভিত্তি হলো বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি (Niccolo Machiavelli) হলেন জাতি রাষ্ট্রের (Nation State) স্বপ্নদ্রষ্টা
• জাতীয়তার চেতনা দ্বারা উদ্বুদ্ধ জনসমাজ স্বাধীন হলে বা হতে চাইলে তাকে জাতি (Nation) বলে।
• জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশের ফলেই ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় নতুন নতুন জাতি রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'রাষ্ট্র হলো মানব সমাজের ক্রমবিবর্তনের ফল'— এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার (R.M. MacIver)।
• বিবর্তনমূলক মতবাদ অনুসারে, রাষ্ট্র হঠাৎ করে বা কোনো চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়নি; বরং পরিবার ও সমাজ থেকে ঐতিহাসিক ক্রমবিবর্তনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটেছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রাষ্ট্রের উৎপত্তির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হলো সামাজিক চুক্তি মতবাদ (Social Contract Theory)

এই মতবাদের মূল কথা হলো, রাষ্ট্র কোনো ঐশ্বরিক সৃষ্টি নয়, বরং চুক্তির মাধ্যমে আদিম সমাজের মানুষ নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তার ও সুবিধার জন্য রাষ্ট্র তৈরি করেছে।

এই মতবাদের প্রধান তিনজন প্রবক্তা বা সমর্থক হলেন:
১. থমাস হব্স (Thomas Hobbes) - তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'Leviathan'
২. জন লক (John Locke) - তাঁর অন্যতম গ্রন্থ হলো 'Two Treatises of Government'
৩. জ্যঁ-জ্যাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau) - তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'The Social Contract'
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সুজন-এর পূর্ণরূপ হলো সুশাসনের জন্য নাগরিক
• এটি বাংলাদেশের একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
• সংগঠনটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
• এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে কাজ করা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সুজন-এর পূর্ণরূপ হলো- সুশাসনের জন্য নাগরিক
- এটি বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত নাগরিক সংগঠন বা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী।
- সংগঠনটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):

‘আইনের চোখে সবাই সমান’ এবং ‘সবাইকে সমানাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান’ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি বা প্রধান বৈশিষ্ট্য। গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়, যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সকলেই আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী হয়। এই ব্যবস্থায় আইনের শাসন (Rule of Law) কার্যকর থাকে, যার অর্থ হলো কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক, একনায়কতান্ত্রিক বা রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতা ও সুযোগের বণ্টন মূলত শাসকগোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে নিয়ন্ত্রিত হয়, যা গণতন্ত্রের মতো সর্বজনীন সমতার আদর্শের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকের স্বাধীনতা ও অধিকার সুরক্ষার জন্যই আইনের শাসন ও সমতার নীতিটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

i
ব্যাখ্যা (Explanation):

'The Politics of the Governed: Reflections on Popular Politics in Most of the World' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং ইতিহাসবিদ পার্থ চ্যাটার্জী। ২০০৪ সালে প্রকাশিত এই গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বে তিনি রাষ্ট্র এবং নাগরিক সমাজের মধ্যকার জটিল সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করেছেন।

মূলত, পার্থ চ্যাটার্জী এখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনীতির একটি অনন্য কাঠামো তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, কীভাবে 'নাগরিক সমাজ' (Civil Society) এবং 'শাসিতদের রাজনীতি' (Politics of the Governed) ভিন্ন ভিন্ন পরিসরে কাজ করে। যেখানে নাগরিক সমাজ মূলত প্রভাবশালী এবং উচ্চবিত্তদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে, সেখানে শাসিতদের রাজনীতি সাধারণত প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকা, তাদের বিশেষ অধিকার এবং রাষ্ট্র প্রদত্ত পরিষেবার জন্য লড়াইয়ের একটি ক্ষেত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তার এই কাজ আধুনিক উত্তর-ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বোঝার জন্য একটি অপরিহার্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতি রোধ, দারিদ্র্য বিমোচন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ করা।
- সুশাসনের মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে সম্পদের সুষম বণ্টন হয় এবং দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- সমতা প্রতিষ্ঠা: এটি সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করে।
- পাশাপাশি, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাজারে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে, যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ করে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সুশাসন ছাড়া সমাজে সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং বজায় রাখা সম্ভব নয়।
- সুশাসনের (Good Governance) মূল মন্ত্র হলো সমাজে কোনো প্রকার বৈষম্য না করা।
- সমাজে ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন সমান সুযোগ-সুবিধা ও আইনি অধিকার পায়, তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
- ন্যায়বিচার ও সমতা ছাড়া সমাজে বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, তাই সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সুশাসন অপরিহার্য।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একজন নাগরিকের প্রধান করণীয় হলো সরকারকে জনকল্যাণে সুনীতি গ্রহণে বাধ্য করা
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকরা কেবল নিষ্ক্রিয় সুবিধাভোগী নয়, বরং তারা রাষ্ট্রের সচেতন অংশ।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে নাগরিকরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।
- সরকার যেন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে এবং জনকল্যাণমুখী নীতি গ্রহণ করে, তা নিশ্চিত করতে সচেতন নাগরিকদের চাপ প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতা আদায় করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যে মূল্যবোধগুলো রাষ্ট্র, সরকার ও বৃহত্তর সামাজিক গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত ও উৎসাহিত হয়, তাকে ইতিবাচক মূল্যবোধ বলা হয়।
- সমাজে প্রচলিত যেসব বিশ্বাস, আচরণ বা আদর্শ মানুষের কল্যাণ সাধন করে এবং সমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে, সেগুলোই ইতিবাচক মূল্যবোধ।
- যেমন: সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা ও শৃঙ্খলা।
- উল্লেখ্য, মূল্যবোধের আপেক্ষিকতা থাকতে পারে। অর্থাৎ, যা একটি সমাজে ইতিবাচক, স্থান ও কালের পরিবর্তনে অন্য সমাজে তা ভিন্নভাবে মূল্যায়িত হতে পারে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কল্যাণকর আদর্শগুলো সর্বদাই ইতিবাচক মূল্যবোধ হিসেবে গণ্য হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'Political Order and Political Decay' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকোয়ামা (Francis Fukuyama)
⇒ বইটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Origins of Political Order'-এর দ্বিতীয় খণ্ড।
⇒ এই গ্রন্থে তিনি আধুনিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিকাশ, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক অবক্ষয় বা পতনের কারণগুলো নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'The Oxford English Dictionary' অনুসারে সুশাসন বা Good Governance-কে শাসনের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব, ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
⇒ সাধারণ অর্থে শাসন বলতে রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বোঝায়, কিন্তু সুশাসন বিষয়টি আরও ব্যাপক ও জনকল্যাণমুখী।
⇒ সুশাসন হলো এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং ত্রুটিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- The Theory of Good and Evil গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক ও ধর্মতত্ত্ববিদ হ্যাসটিংস র‍্যাশড্যাল (Hastings Rashdall)
- বইটি ১৯০৭ সালে প্রকাশিত হয়। এটি মূলত নীতিবিদ্যা এবং নৈতিক দর্শনের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- The Universities of Europe in the Middle Ages,
- The Idea of Atonement in Christian Theology,
- Conscience and Christ.
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সুশাসনের উপাদানগুলোকে প্রধানত ২ ভাগে বিভক্ত করা হয়— প্রাতিষ্ঠানিক উপাদান এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক উপাদান। নিচে এগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

১. প্রাতিষ্ঠানিক উপাদান (Institutional Elements):
প্রাতিষ্ঠানিক উপাদান বলতে রাষ্ট্রের সেই সব কাঠামোগত বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বোঝায়, যেগুলো স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করার মাধ্যমে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করে। সুশাসনের উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক উপাদানগুলো হলো:
* স্বাধীন নির্বাচন কমিশন
* কার্যকর সংসদ
* সুদক্ষ আমলাতন্ত্র
* স্বাধীন বিচার বিভাগ
* শক্তিশালী স্থানীয় সরকার
* স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন।

২. অপ্রাতিষ্ঠানিক উপাদান (Non-institutional Elements):
অপ্রাতিষ্ঠানিক উপাদান বলতে মূলত সমাজের বিভিন্ন নীতি, আদর্শ, চর্চা এবং গুণাবলিকে বোঝায়, যা কোনো নির্দিষ্ট অবকাঠামো না হলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। সোর্সে উল্লিখিত অপ্রাতিষ্ঠানিক উপাদানগুলো হলো:
* নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ
* রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং বৈধ রাজনৈতিক ব্যবস্থা
* সফল ও কার্যকর নেতৃত্ব
* সরকারের দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
* আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা
* বিকেন্দ্রীকরণ এবং সম্পদের সুষম বণ্টন
* কার্যকর প্রশাসন
* মানবাধিকারের সংরক্ষণ এবং নারীর ক্ষমতায়ন
* সুস্থ শিক্ষা ব্যবস্থা
* দুর্নীতির মূলোৎপাটন।

সংক্ষেপে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক গুণাবলি ও চর্চা—এই উভয়ের সমন্বয়েই মূলত একটি রাষ্ট্রে পূর্ণাঙ্গ সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

∎ সুশাসন সম্পর্কিত বিবিধ তথ্যাবলী:
# সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ: Good Governance
# সুশাসনের ধারণার উদ্ভাবক: বিশ্বব্যাংক (World Bank)
# সুশাসনের ধারণা উদ্ভাবিত হয়: ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে
# সুশাসনের অর্থ: নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন
# সুশাসনের ধারণা হলো: বহুমাত্রিক
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতি রোধ, দারিদ্র্য বিমোচন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ
- সুশাসনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অন্যান্য লক্ষ্যগুলি হলো:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
সমতাভিত্তিক উন্নয়ন: সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানো এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করা।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি: দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা ও একটি সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মূল্যবোধ শিক্ষা-এর মধ্য দিয়ে গ্রামীণ প্রচলিত রীতি-নীতি, প্রথা ও আদর্শের বিকাশ ঘটে।
- যে শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, সহমর্মিতা, শিষ্টাচার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা জাগ্রত করে, তাকে মূল্যবোধ শিক্ষা বলে।
- সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রচলিত সামাজিক রীতি-নীতি ও প্রথাগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমেই টিকে থাকে এবং বিকশিত হয়।
- পরিবার ও সমাজ থেকে অর্জিত এই শিক্ষা একজন মানুষকে আদর্শ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ যে মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকার ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত এবং যা সমাজের মানুষের জন্য কল্যাণকর, তাকে ইতিবাচক মূল্যবোধ বলে।
⇒ যেমন- আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, সততা, সহমর্মিতা ইত্যাদি ইতিবাচক মূল্যবোধের উদাহরণ।
⇒ অন্যদিকে, যেসব আচরণ বা ধ্যান-ধারণা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর এবং যা সমাজ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত, তাকে নেতিবাচক মূল্যবোধ বলা হয় (যেমন- দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, মিথ্যাচার)।
⇒ রাষ্ট্র বা সমাজ কর্তৃক ইতিবাচক মূল্যবোধ স্বীকৃত হওয়ায় এটি সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সফল গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হিসেবে বর্তমানে সুশাসন (Good Governance) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সুশাসন বলতে সমাজের নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর পরিবর্তে সাধারণ জনগণের চাহিদা মেটাতে সরকার ও প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর দায়বদ্ধতাকে বোঝায়।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুশাসনের প্রধান প্রভাব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:
জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণপ্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বৃদ্ধি।
• নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা।
দুর্নীতিরোধ এবং সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন।

এই উপাদানগুলো নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রে সফল ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ করে সরকার গঠন করা
জনমত গঠন, রাজনৈতিক শিক্ষা দান এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হলো রাজনৈতিক দলের আনুষঙ্গিক কাজ বা ক্ষমতা লাভের মাধ্যম।
মূলত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে নিজেদের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করাই একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উন্নয়নমূলক চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ওয়াচ ডগ (Watchdog) বা অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
এরা সরকারের নীতি ও কাজের ওপর নজর রাখে এবং জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে তার প্রতিবাদ বা সমালোচনা করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বিশ্ব ব্যাংকের মতে সুশীল সমাজের মৌলিক উপাদান ৪টি
সুশীল সমাজ বা সিভিল সোসাইটি (Civil Society) হলো রাষ্ট্র ও পরিবারের মধ্যবর্তী একটি সামাজিক ক্ষেত্র, যা স্বেচ্ছাসেবী, স্বশাসিত এবং স্বাধীন। এটি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ এর মতে Civil Society-এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো জনসমাজ বা আত্মসমাজ

সাধারণভাবে Civil Society-কে সুশীল সমাজ বা নাগরিক সমাজ বলা হলেও তিনি এই ভিন্ন প্রতিশব্দের প্রস্তাব করেছেন।

কিছু প্রাসঙ্গিক পারিভাষিক শব্দ:
- Civil Society:- সুশীল সমাজ / জনসমাজ / নাগরিক সমাজ
- Civil War:- গৃহযুদ্ধ
- Civil Servant:- সরকারি কর্মচারী
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
"নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে সংযুক্ত এবং সংযোগ সম্পর্কে সজাগ ব্যক্তি সমষ্টিকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলে।" —উক্তিটি বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলমন্ড ও পাওয়েল (Almond and Powell)-এর।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure Group): এরা হলো এমন কিছু সংগঠন, যারা সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না বা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে না। বরং তারা বাইরে থেকে সরকারের নীতি নির্ধারণে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী প্রভাব বিস্তার বা চাপ প্রয়োগ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ সঠিক উত্তর: লেখার টেবিল।
• আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy' মূলত দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। এর প্রথম অংশ ফরাসি শব্দ 'Bureau' এবং দ্বিতীয় অংশ গ্রিক শব্দ 'Kratein' বা 'Cracy'।
• এখানে ফরাসি 'Bureau' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো 'লেখার টেবিল' (Writing desk) বা দপ্তর/কার্যালয়।
• অন্যদিকে গ্রিক 'Kratein' শব্দের অর্থ হলো 'শাসন' বা 'ক্ষমতা' (To rule or Power)।
• সুতরাং ব্যুৎপত্তিগত বা শাব্দিক অর্থে Bureaucracy বা আমলাতন্ত্র বলতে বোঝায় 'লেখার টেবিলের শাসন' বা দাপ্তরিক শাসন (Desk Government), যেখানে সরকারি কর্মকর্তারা দাপ্তরিক নিয়মতান্ত্রিকতার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ সঠিক উত্তর: প্রজাতন্ত্র।
• প্রজাতন্ত্র (Republic) হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী কোনো বংশানুক্রমিক রাজা বা রানি নন, বরং তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন ব্যক্তি (যেমন- রাষ্ট্রপতি)।
• এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের চূড়ান্ত মালিকানা থাকে জনগণের হাতে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকার পরিচালনা করেন।
• উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ), কারণ আমাদের দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা রাষ্ট্রপতি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ সঠিক উত্তর: ১৭৪৮ সালে।
• ফরাসি দার্শনিক ব্যারন দ্য মন্টেস্কু তার জগৎবিখ্যাত গ্রন্থ 'The Spirit of Laws' ১৭৪৮ সালে প্রকাশ করেন।
• এই গ্রন্থটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এতে সর্বপ্রথম আধুনিক এবং পরিপূর্ণভাবে 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' (Separation of Powers) ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
• মন্টেস্কু মনে করতেন, সরকারের তিনটি প্রধান বিভাগ— আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ যদি একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, তবে সেখানে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হয় এবং জনগণের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়।
• তাই তিনি এই বইয়ের মাধ্যমে সরকারের এই তিনটি বিভাগকে পৃথক, স্বাধীন এবং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে রাখার পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ সঠিক উত্তর: আইনগত অধিকার।
• যে অধিকারগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, অনুমোদিত এবং রাষ্ট্রের আইনের দ্বারা সংরক্ষিত থাকে, তাকে আইনগত অধিকার (Legal Rights) বলা হয়।
• মানুষের সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার জন্য জীবনধারণের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার এবং শিক্ষার অধিকার একান্ত অপরিহার্য। আধুনিক রাষ্ট্র তার সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে নাগরিকদের এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করে।
• যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অধিকারগুলো থেকে কাউকে বঞ্চিত করে, তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন এবং রাষ্ট্র আদালতের মাধ্যমে তার প্রতিকার করে।
• যেহেতু রাষ্ট্র ও আইন এই অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা দেয় এবং এটি ভঙ্গ করলে আইনি শাস্তির বিধান আছে, তাই এগুলো আইনগত অধিকারের পর্যায়ভুক্ত।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ সঠিক উত্তর: নৈতিক অধিকার।
• নৈতিক অধিকার (Moral Rights) হলো সেই সকল অধিকার যা মানুষের বিবেক, ন্যায়বোধ, ধর্ম এবং সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ বা নৈতিকতা থেকে উদ্ভূত হয়।
• পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তানদের লালন-পালন ও ভরণপোষণ করা অথবা বৃদ্ধ বয়সে সন্তানদের কর্তৃক পিতা-মাতাকে দেখাশোনা করা—এগুলো মূলত মানুষের বিবেক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে আসে।
• এই ধরনের অধিকারগুলো সরাসরি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন দ্বারা সব ক্ষেত্রে কঠোরভাবে বলবৎযোগ্য নয়। অর্থাৎ, এটি ভঙ্গ করলে সব ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি দেওয়া যায় না।
• তবে সমাজ এই অধিকারগুলোকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখে এবং এগুলো ভঙ্গকারীকে সমাজ আর্থসামাজিক বা মানসিকভাবে তিরস্কার করে। তাই এটি একটি বিশুদ্ধ নৈতিক অধিকার।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0