পরিবেশ রসায়ন (480 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যানবাহন এবং আইপিএস-এ বহুল ব্যবহৃত স্টোরেজ ব্যাটারি হলো লেড-এসিড ব্যাটারি
• এই ব্যাটারিতে তড়িৎদ্বার হিসেবে ভারী ধাতু লেড বা সীসা (Pb) ব্যবহৃত হয়।
• ব্যাটারিগুলো নষ্ট হওয়ার পর যত্রতত্র ফেলে দিলে এর ভেতরের লেড মাটি ও পানিতে মিশে যায় এবং উদ্ভিদের মাধ্যমে তা খাদ্য-শৃঙ্খলে (Food chain) প্রবেশ করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
অন্যদিকে:
Cd (ক্যাডমিয়াম): নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি বা প্লাস্টিক শিল্প থেকে পরিবেশে ছড়ায়।
Cr (ক্রোমিয়াম): চামড়া শিল্পের বর্জ্য থেকে পরিবেশে যুক্ত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে একসময় লেড আর্সিনেট-এর মতো কীটনাশক (Insecticide) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।
• এসব কীটনাশকের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ভারী ধাতু লেড বা সীসা (Pb)
• প্রয়োগের পর এটি মাটিতে মিশে যায় এবং উদ্ভিদের মাধ্যমে খাদ্য শৃঙ্খলে (Food chain) প্রবেশ করে মারাত্মক বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে অন্যান্য দূষকগুলোর প্রধান উৎস ভিন্ন:
As (আর্সেনিক): মূলত ভূগর্ভস্থ দূষিত পানি থেকে।
Cr (ক্রোমিয়াম): ট্যানারি বা চামড়া শিল্পের বর্জ্য থেকে।
Cd (ক্যাডমিয়াম): প্লাস্টিক, রং শিল্প বা ফসফেট সার থেকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ক্রোমিয়াম (III) বা Cr3+ মানবদেহের জন্য একটি প্রয়োজনীয় ট্রেস এলিমেন্ট (Trace element)।
• এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
• রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়াকে (সাধারণত 200 mg/dL এর বেশি) Diabetes বা বহুমূত্র রোগ বলা হয়।
• বহুমূত্র রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির গ্লুকোজ সহ্য করার ক্ষমতা (Glucose tolerance) বাড়িয়ে দিতে Cr(III) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে Cr(VI) অত্যন্ত বিষাক্ত এবং ক্ষতিকর।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বিভিন্ন ভারী ধাতুর বিষক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট রোগগুলো হলো:
আর্সেনিক (As): ব্ল্যাক-ফুট ডিজিজ (Black-foot disease)।
ক্রোমিয়াম (Cr): লাং ক্যান্সার বা Chronic Chromate Lung।
ক্যাডমিয়াম (Cd): ইটাই ইটাই (Itai-itai) বা আউচ আউচ (Ouch-ouch) রোগ। এটি হাড়ের তীব্র ব্যথা ও অস্থিভঙ্গুরতা সৃষ্টি করে।
লেড (Pb): অ্যানিমিয়া, শিশুদের IQ হ্রাস, মস্তিষ্ক বিকৃতি ইত্যাদি।
যেহেতু 'আউচ আউচ' রোগটি ক্যাডমিয়ামের কারণে হয়, তাই লেড → আউচ আউচ তথ্যটি সত্য নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব ধাতুর ঘনত্ব 5 g/cm3 এর বেশি, সাধারণত তাদের ভারী ধাতু (Heavy Metal) বলা হয়।
• পরিবেশ রসায়ন অনুযায়ী লেড (Pb), পারদ (Hg), ক্যাডমিয়াম (Cd), ক্রোমিয়াম (Cr) ইত্যাদি হলো অত্যন্ত পরিচিত বিষাক্ত ভারী ধাতু।
• প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ক্যাডমিয়াম (Cd) পরিবেশ দূষণকারী একটি নির্দিষ্ট ভারী ধাতু হিসেবে বিবেচিত, যার ঘনত্ব প্রায় 8.65 g/cm3
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তি বা IQ হ্রাসের জন্য প্রধানত লেড (Pb2+) এবং আর্সেনিক (As3+) দায়ী।
• আর্সেনিক (As) একটি মারাত্মক বিষাক্ত ভারী ধাতু যা শিশুদের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের বিকাশে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদী আর্সেনিক দূষণের ফলে শিশুদের স্মৃতিশক্তি এবং IQ (Intelligence Quotient) হ্রাস পায়
• মানবদেহ বা অন্যান্য প্রাণীর কোষে As3+, As5+ অপেক্ষা প্রায় 10 গুণ বেশি বিষাক্ত
• একইভাবে লেড (Pb2+) দূষণও শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে এবং IQ কমিয়ে দেয়।
(বিঃদ্রঃ প্রশ্নে সঠিক উত্তর হিসেবে Cr3+ দেওয়া থাকলেও বৈজ্ঞানিকভাবে As3+ বা Pb2+ সঠিক হবে।)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
দীর্ঘমেয়াদী আর্সেনিক (As) যুক্ত পানি পানের ফলে হাত ও পায়ের তালুতে কালো দাগ পড়ে এবং ধীরে ধীরে পচন ধরে। আর্সেনিক দূষণের এই ভয়াবহ রূপকেই ব্ল্যাক-ফুট ডিজিজ (Black-foot disease) বলা হয়। তাই মানব শরীরে আর্সেনিকের কারণে এই রোগটি হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মানবদেহে Cr (ক্রোমিয়াম) আয়নের (বিশেষ করে হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম, Cr6+) আধিক্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি রক্তের লোহিত রক্তকণিকায় (RBC) প্রবেশ করে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে মারাত্মকভাবে বাধা প্রদান করে। এর ফলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের অভাব দেখা দেয়, যা রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া সৃষ্টি করে।

অন্যান্য ধাতুসমূহের ক্ষতিকর প্রভাব:
Cd (ক্যাডমিয়াম): এর আধিক্যে কিডনি বিকল হয় এবং 'ইতাই-ইতাই' বা অস্থিভঙ্গুর রোগ হয়।
As (আর্সেনিক): এর প্রভাবে ব্ল্যাকফুট ডিজিজ ও ত্বকের ক্যান্সার হয়।
Fe (আয়রন): এটি হিমোগ্লোবিনের মূল উপাদান, তবে অতিরিক্ত মাত্রা লিভার ও হৃদপিণ্ডের ক্ষতি করতে পারে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Cd2+ (ক্যাডমিয়াম) একটি ক্ষতিকর ভারী ধাতু যা মানবদেহের কোষে প্রবেশ করে বিভিন্ন এনজাইমের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।
• পর্যায় সারণিতে ক্যাডমিয়াম (Cd) এবং জিংক (Zn) একই গ্রুপে (গ্রুপ-১২) অবস্থিত হওয়ায় এদের রাসায়নিক ধর্মে ও আয়নিক আকারে অনেক মিল রয়েছে।
• এর ফলে মানবদেহে প্রবেশ করার পর Cd2+ আয়ন বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় এনজাইম থেকে Zn2+ আয়নকে প্রতিস্থাপন করে। ফলে এনজাইমগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং বিপাকীয় কাজে বিঘ্ন ঘটে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের মধ্যে হ্যালোজেনযুক্ত যৌগ (যেমন: ক্লোরোফর্ম- CHCl3, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড- CCl4) যকৃত বা লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বা হেপাটোটক্সিক।
দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত মাত্রায় এসব যৌগের সংস্পর্শে থাকলে লিভারের কোষগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা জন্ডিস বা লিভার সিরোসিস এর মতো মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
টলুইন: এটি মস্তিষ্কের বা স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে।
অ্যানিলিন: এটি রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে বিক্রিয়া করে মেথেমোগ্লোবিনেমিয়া ও সায়ানোসিস সৃষ্টি করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব ধাতুর আপেক্ষিক গুরুত্ব ৫ এর বেশি এবং যেগুলো জীবদেহের জন্য বিষাক্ত, পরিবেশ রসায়নে তাদের সাধারণত ভারী ধাতু বলা হয়। Hg (পারদ), Cd (ক্যাডমিয়াম) এবং Zn (জিঙ্ক) হলো ভারী ধাতু, কারণ এদের আপেক্ষিক গুরুত্ব ৫ এর অধিক এবং এগুলো জীবদেহে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, Au (সোনা) একটি নিষ্ক্রিয় বা অভিজাত (Noble) ধাতু। এর ঘনত্ব অনেক বেশি হলেও এটি রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়। তাই পরিবেশ দূষক বা ক্ষতিকর ভারী ধাতু হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা হয় না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ট্যানারি বা চামড়া শিল্পে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ (ট্যানিং) এর সময় Cr (ক্রোমিয়াম) এর লবণ, বিশেষ করে বেসিক ক্রোমিয়াম সালফেট প্রচুর ব্যবহৃত হয়। এর ফলে ট্যানারির বর্জ্যে বিপুল পরিমাণে ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম আয়ন থাকে, যা পানি দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
Cu (কপার): এটি সাধারণত ইলেকট্রনিক্স, তার তৈরি এবং কিছু ছত্রাকনাশক শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
Zn (জিঙ্ক): এটি গ্যালভানাইজিং এবং ব্যাটারি শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
Pb (লেড): এটি লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি, রং ও পাইপ শিল্পে বেশি ব্যবহৃত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ক্যাডমিয়াম (Cd²⁺) একটি ভারী ধাতু যা কোষে প্রবেশ করে বিভিন্ন এনজাইমের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।
• পর্যায় সারণিতে ক্যাডমিয়াম (Cd) এবং জিংক (Zn) একই গ্রুপে (গ্রুপ-১২) অবস্থিত হওয়ায় এদের রাসায়নিক ধর্মে অনেক মিল রয়েছে।
• এর ফলে মানবদেহে প্রবেশ করার পর Cd²⁺ আয়ন বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় এনজাইম থেকে Zn²⁺ আয়নকে প্রতিস্থাপন করে।
(বিঃদ্রঃ রসায়নের পাঠ্যবইয়ের বৈজ্ঞানিক তথ্যমতে সঠিক উত্তর Zn²⁺ হওয়ার কথা, তবে প্রদত্ত প্রশ্নে উত্তর হিসেবে K⁺ কে নির্দিষ্ট করা হয়েছে)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ক্যাডমিয়াম (Cd): ক্যাডমিয়াম দূষণের ফলে মানবদেহে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ দেখা দেয়। এর দীর্ঘস্থায়ী বিষক্রিয়ায় অস্থি বা হাড়ের ক্যালসিয়াম প্রতিস্থাপিত হয়, ফলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। হাড়ের এই অবস্থাকে অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis) বলা হয়। এছাড়া এটি 'ইতাই-ইতাই' (Itai-itai) নামক রোগেরও কারণ।
লেড (Pb): এর বিষক্রিয়ায় রক্তশূন্যতা এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি (Encephalopathy) হয়।
আর্সেনিক (As): এর কারণে ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ (Black foot disease) এবং ত্বকের ক্যান্সার হয়।
ক্রোমিয়াম (Cr): এর প্রভাবে চর্মরোগ ও ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পানির বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের বিভিন্ন মানদণ্ড রয়েছে। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে:
pH মান 6.4-7.4: এটি বিশুদ্ধ বা পানযোগ্য পানির স্বাভাবিক মাত্রা।
DO মান 6 mg/L: এটি বিশুদ্ধ পানির নির্দেশক, যা জলজ প্রাণীর জন্য অনুকূল।
BOD মান 2 mg/L: এটি নির্দেশ করে পানি বেশ বিশুদ্ধ (পানযোগ্য পানির আদর্শ BOD মান 1-2 mg/L)।
COD মান 100 mg/L: COD (Chemical Oxygen Demand) এর মান বেশি হওয়া মানে পানিতে রাসায়নিক দূষকের পরিমাণ বেশি। পানযোগ্য পানির COD মান সাধারণত 4 mg/L এর কাছাকাছি থাকে। তাই COD এর মান 100 mg/L হওয়া একটি দূষিত পানির নির্দেশক
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
DO (Dissolved Oxygen): পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণকে DO বলা হয়। জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের শ্বসন এবং বেঁচে থাকার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
• একটি আদর্শ বা বিশুদ্ধ পানির DO এর পরিসীমা সাধারণত 8-10 mg/L (বা ppm) হয়ে থাকে।
• পানিতে DO এর মান 5 mg/L এর নিচে নেমে গেলে তা জলজ প্রাণীদের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং সেই পানিকে দূষিত বলে গণ্য করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রদত্ত অপশনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
সারফেস ওয়াটার (Surface water): এতে সাধারণত O2, N2, CO2 ইত্যাদি গ্যাস প্রাকৃতিকভাবে দ্রবীভূত থাকে। এতে সাধারণত HNO3 এসিড দ্রবীভূত থাকে না (এসিড বৃষ্টি ছাড়া)। তাই প্রথম তথ্যটি সঠিক নয়।
খর পানি: পানিতে Ca2+, Mg2+, Fe2+ ইত্যাদি আয়নের লবণ দ্রবীভূত থাকলে তাকে খর পানি বলে।
বিশুদ্ধ পানির pH: 25°C তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানির pH ঠিক 7.00 হয়।
পানির ভৌত গুণাগুণ: পানির pH 6.5-8.5 এর মধ্যে থাকলে এটি সাধারণত বর্ণহীন ও গন্ধহীন পানযোগ্য পানি নির্দেশ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পানিতে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে তাকে পানির স্থায়ী খরতা বলে।

- স্ফুটন বা ফোটানো পদ্ধতিটি কেবল অস্থায়ী খরতা (পানিতে বাই-কার্বনেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে) দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়। পানিকে কিছুক্ষণ ফোটালে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম বাই-কার্বনেট ভেঙে অদ্রবণীয় কার্বনেটে পরিণত হয়, যা ছেঁকে আলাদা করা যায়।

- কিন্তু পানির স্থায়ী খরতা ফুটন প্রক্রিয়ায় দূর করা যায় না।

- স্থায়ী খরতা দূর করতে রাসায়নিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেমন: Sodium carbonate বা Caustic soda সংযোজন এবং পাতন (Distillation) পদ্ধতি।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- pH হলো কোনো দ্রবণের অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব পরিমাপের একটি স্কেল, যার মান 0 থেকে 14 পর্যন্ত হয়ে থাকে।

- বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ প্রকৃতির, অর্থাৎ এটি অম্লীয়ও নয়, আবার ক্ষারীয়ও নয়। তাই বিশুদ্ধ পানির pH মান 7

অন্যান্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তরলের pH মান:
✔ মানুষের রক্তের pH = ৭.৩৫-৭.৪৫
✔ চোখের পানির pH = ৪.৮০-৭.৫০
✔ মূত্রের pH = ৪.৮০-৭.৫০
✔ জিহ্বার লালার pH = ৬.৬

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
BOD (Biochemical Oxygen Demand) এর মান দ্বারা পানিতে জৈব দূষণের মাত্রা পরিমাপ করা হয়।

• পান করার উপযোগী বা সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ পানির BOD এর মান সাধারণত 1-2 mg/L (বা ppm) হয়ে থাকে।
• BOD এর মান 3 ppm হলে তা মোটামুটি ভালো এবং 5 ppm এর বেশি হলে সেই পানিকে দূষিত বলে বিবেচনা করা হয়।
• সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ পানির মানদণ্ড 1-2 ppm হলেও, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ পানযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য পানির জন্য BOD এর গ্রহণযোগ্য মাত্রা 3-5 ppm পর্যন্ত ধরা হয়ে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পানির বিশুদ্ধতা পরিমাপের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়। যেমন: DO (Dissolved Oxygen), BOD (Biochemical Oxygen Demand), COD (Chemical Oxygen Demand) এবং pH

- DO: পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ নির্দেশ করে।
- BOD: পানিতে থাকা জৈব পদার্থ পচানোর জন্য অণুজীবের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ।
- pH: পানি কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা নির্দেশ করে।

- অন্যদিকে, SDS (Sodium Dodecyl Sulfate) হলো এক প্রকার ডিটারজেন্ট বা সারফেকট্যান্ট, যা পানির বিশুদ্ধতা পরিমাপের কোনো মানদণ্ড নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন বা Dissolved Oxygen (DO) এর পরিমাণ জলজ প্রাণী ও অণুজীবের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশক।

- সাধারণত সুস্থ জলজ পরিবেশ ও জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনধারণের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ ৪.০ থেকে ৮.০ ppm (parts per million) এর মধ্যে থাকা প্রয়োজন।

- যদি পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ ৩.০ ppm এর নিচে নেমে যায়, তবে জলজ প্রাণীদের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং মারা যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

- পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং বায়ুমণ্ডলীয় চাপের ওপর এই দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ নির্ভর করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পানির খরতা সাধারণত প্রতি লিটার পানিতে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) এর পরিমাণ (মিলিগ্রাম এককে) দ্বারা হিসাব করা হয়। একে ppm (parts per million) এককেও প্রকাশ করা যায় (১ ppm = ১ mg/L)।

গাণিতিক সমাধান:
দেওয়া আছে,
অধঃক্ষিপ্ত CaCO3 এর ভর = 0.3 g = 0.3 × 1000 mg = 300 mg
পানির নমুনার আয়তন = 250 mL = 250 ÷ 1000 L = 0.25 L

আমরা জানি,
পানির খরতা (ppm) = [CaCO3 এর ভর (mg)] ÷ [পানির আয়তন (L)]
∴ পানির খরতা = 300 mg ÷ 0.25 L = 1200 mg/L বা 1200 ppm
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
TDS এর পূর্ণরূপ হলো Total Dissolved Solids। এটি দ্বারা মূলত পানিতে দ্রবীভূত জৈব ও অজৈব পদার্থের পরিমাণ বোঝানো হয়।

- পানিতে দ্রবীভূত বিভিন্ন খনিজ লবণ (যেমন: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম), বাইকার্বোনেট, ক্লোরাইড, সালফেট এবং কিছু জৈব পদার্থের সমষ্টিই হলো TDS।
- পানীয় জলে TDS এর মাত্রা সাধারণত ৫০০ ppm (বা mg/L) এর নিচে থাকা বাঞ্ছনীয়।
- চামড়া শিল্প বা ট্যানারির মতো শিল্পকারখানার বর্জ্যে প্রচুর রাসায়নিক (যেমন- NaCl, ক্রোমিয়াম লবণ) ব্যবহৃত হয় বলে এদের বর্জ্য মিশ্রিত পানির TDS অনেক বেশি থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
pH মান দ্বারা পানির অম্লতা বা ক্ষারকত্ব নির্ধারণ করা হয়। পানীয় জলের জন্য এই মান একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকা আবশ্যক।

মূল কারণ:
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড (ECR'97) অনুযায়ী পানীয় জলের গ্রহণযোগ্য pH সীমা হলো ৬.৫ থেকে ৮.৫
- pH < ৬.৫ হলে পানি এসিডিক হয় যা পাইপলাইনে ক্ষয়ের (corrosion) সৃষ্টি করে এবং স্বাদে টক ভাব আনে।
- pH > ৮.৫ হলে পানি ক্ষারীয় হয় যা স্বাদকে তিক্ত করে এবং স্কেলিং তৈরি করতে পারে।
- ৬.৫-৮.৫ রেঞ্জের মধ্যে পানি পানের জন্য নিরাপদ এবং মানবদেহের জন্য অনুকূল।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পানির অস্থায়ী খরতা মূলত পানিতে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের বাইকার্বোনেট (HCO3-) লবণের উপস্থিতির কারণে হয়ে থাকে।

- ক্যালসিয়াম বাইকার্বোনেট (Ca(HCO₃)₂) এবং ম্যাগনেসিয়াম বাইকার্বোনেট (Mg(HCO₃)₂) পানিতে দ্রবীভূত থাকলে পানিকে খর করে তোলে।
- পানি ফুটিয়ে এই অস্থায়ী খরতা দূর করা যায়। ফুটানো হলে বাইকার্বোনেট লবণ ভেঙে অদ্রবণীয় কার্বনেট হিসেবে অধঃক্ষিপ্ত হয়।

রাসায়নিক বিক্রিয়া:
Ca(HCO₃)₂ → CaCO₃ ↓ + H₂O + CO₂ ↑
Mg(HCO₃)₂ → MgCO₃ ↓ + H₂O + CO₂ ↑
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কৃষিকাজে সারফেস ওয়াটার বা ভূপৃষ্ঠের পানির গুণাগুণ যাচাইয়ের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হলো pH এর মান

- pH এর মান মাটির পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
- সেচের পানির pH মান সাধারণত ৬.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে থাকা সবচেয়ে ভালো।
- pH মান এর চেয়ে বেশি বা কম হলে তা মাটির গঠন নষ্ট করতে পারে এবং ফসলের ফলন কমিয়ে দেয়।
- অন্যান্য অপশনগুলো (যেমন: BOD, COD) মূলত দূষিত পানি বা বর্জ্য পানির গুণাগুণ যাচাইয়ে ব্যবহৃত হয় এবং TDS পানির লবণাক্ততা নির্দেশ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মাছের প্রধান শসন অঙ্গ হলো ফুলকা (Gills), যা পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (Dissolved Oxygen বা DO) ছেঁকে নিয়ে রক্তে মিশিয়ে দেয়।

• পুকুরের পানিতে অতিরিক্ত জৈব দূষণ বা অন্য কোনো কারণে অণুজীব প্রচুর অক্সিজেন ব্যবহার করলে পানিতে DO এর মান খুব কমে যায়
• পানিতে অক্সিজেনের চরম ঘাটতি দেখা দিলে মাছ ফুলকার সাহায্যে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না এবং শ্বাসকষ্টে ভোগে। তখন তারা বাধ্য হয়ে অক্সিজেনের সন্ধানে পানির ওপরের অংশে ভেসে উঠে হা করে সরাসরি বাতাস থেকে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
DO (Dissolved Oxygen) হলো পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ, যা জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।

• সাধারণত পানিতে DO এর মান 4.0 - 6.0 mg/L (বা ppm) বা তার বেশি থাকলে তাকে বিশুদ্ধ পানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
• DO এর মান 4.0 এর নিচে নেমে গেলে জলজ পরিবেশের ক্ষতি হতে শুরু করে এবং পানি দূষিত হিসেবে গণ্য হয়।
• পানিতে দূষণ ঘটলে (যেমন BOD 4-8 ppm হলে) অণুজীবগুলো জৈব পদার্থ ভাঙতে তত বেশি অক্সিজেন গ্রহণ করে, ফলে পানির DO এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলাদেশে মিঠা পানির প্রধান উৎস হলো ভূগর্ভস্থ পানি

• আমাদের দেশে প্রাকৃতিক ঝরনার অভাব থাকায় মিঠা পানির মূল উৎস হিসেবে নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর, হ্রদ এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করা হয়।
• এর মধ্যে পানীয় জল, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ভর করা হয় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর।
• তবে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে আর্সেনিক-এর উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি পানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0