অর্থনৈতিক রসায়ন (284 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ZnO-ন্যানো পার্টিক্যাল (Zinc Oxide Nanoparticle) এর সংকেত হিসেবে ZnO-NPT ব্যবহৃত হয়।

ব্যবহার ও বৈশিষ্ট্য:
  • সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট বা অতি বেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
  • সাধারণত সানস্ক্রিনে ZnO এর পাউডার ব্যবহার করলে তা সাদা রং ধারণ করে।
  • কিন্তু ন্যানো পার্টিকেল (ZnO-NPT) হিসেবে ব্যবহার করলে এর সাদা রং আর দেখা যায় না, বরং এটি স্বচ্ছ হয়ে যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অটোমোবাইলের ক্যাটালিটিক কনভার্টারে ওয়াসকোট (Washcoat) মূলত একটি প্রভাবক বাহক হিসেবে কাজ করে।
- এটি কনভার্টারের ভেতরের কাঠামোর ওপর দেওয়া একটি প্রলেপ, যা প্রভাবকের (যেমন- প্ল্যাটিনাম, প্যালাডিয়াম) পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে।
- এর ফলে ইঞ্জিনের ক্ষতিকর নির্গত গ্যাসগুলোর সাথে প্রভাবকের বিক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বায়োমেডিক্যাল দ্রব্যাদি তৈরিতে MgO (ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড) ন্যানো কণা ব্যবহৃত হয়।
- MgO মূলত একটি ক্ষারকীয় অক্সাইড (Basic Oxide), যা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী (Antibacterial) এবং মানুষের কোষের জন্য অ-বিষাক্ত (Non-toxic)।
- এর এই নিরাপদ ও জীবাণুনাশক বৈশিষ্ট্যের কারণে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এবং বিভিন্ন বায়োমেডিক্যাল ম্যাটেরিয়াল তৈরিতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নলকূপের পানিতে থাকা বিষাক্ত আর্সেনিক (As) দূর করতে FeO (আয়রন অক্সাইড) ন্যানো কণা ব্যবহৃত হয়।
- আয়রন অক্সাইডের ন্যানো কণাগুলোর পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল অনেক বেশি হওয়ায় এগুলো অত্যন্ত কার্যকরভাবে পানির আর্সেনিক শোষণ (Adsorption) করতে পারে এবং পানিকে নিরাপদ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কার্বন টেট্রাক্লোরাইড (CCl4) বা অন্যান্য রাসায়নিক দ্বারা দূষিত পানি বিশোধনে Fe ন্যানো কণা (Iron nanoparticles) ব্যবহৃত হয়।
- Fe ন্যানো কণা একটি শক্তিশালী বিজারক হিসেবে কাজ করে।
- এটি ক্লোরিনযুক্ত ক্ষতিকর জৈব যৌগকে (যেমন- কার্বন টেট্রাক্লোরাইড) ভেঙে কম ক্ষতিকর পদার্থে পরিণত করতে সাহায্য করে, যার ফলে পানি দ্রুত দূষণমুক্ত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাকী বল (Buckyball) বা বাকমিন্সটারফুলারিন (Buckminsterfullerene) হলো কার্বনের একটি বিশেষ রূপভেদ, যার রাসায়নিক সংকেত C60
- এটি ৬০টি কার্বন পরমাণু দ্বারা গঠিত একটি ফাঁপা গোলাকার অণু, যা দেখতে অনেকটাই ফুটবলের মতো।
- বিখ্যাত স্থপতি রিচার্ড বাকমিন্সটার ফুলারের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গ্রাফাইটের কেলাসে প্রতিটি কার্বন পরমাণু তার যোজ্যতা স্তরের চারটি ইলেকট্রনের মধ্যে তিনটি ইলেকট্রন ব্যবহার করে অপর তিনটি কার্বন পরমাণুর সাথে সমযোজী সিগমা (σ) বন্ধন গঠন করে।
- এই তিনটি সিগমা বন্ধন একটি সমতলে ১২০° কোণে অবস্থান করে, যা sp2 সংকরায়ণের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- কার্বনের চতুর্থ ইলেকট্রনটি অসংকরিত p-অরবিটালে থেকে যায় এবং পাই (π) বন্ধন গঠনে অংশ নেয়, যা বিদ্যুৎ পরিবহনে সহায়তা করে।
- তাই গ্রাফাইটে sp2 সংকরায়ণ বিদ্যমান।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মানুষের একটি চুলের ব্যাসার্ধ সাধারণত প্রায় ৫০ মাইক্রোমিটার (বা 50,000 ন্যানোমিটার) হয়ে থাকে।
- অন্যদিকে, একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়ার দৈর্ঘ্য সাধারণত প্রায় ২ মাইক্রোমিটার (বা 2,000 ন্যানোমিটার) হয়।
- সুতরাং, মানুষের চুলের ব্যাসার্ধ এবং ব্যাকটেরিয়ার দৈর্ঘ্যের অনুপাত হলো: ৫০ / ২ = ২৫
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- একটি হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর ব্যাস প্রায় ০.২৫ ন্যানোমিটার (nm)
- সুতরাং, ১ ন্যানোমিটার (1 nm) দৈর্ঘ্য পূরণ করতে হলে হাইড্রোজেন পরমাণুকে পাশাপাশি সাজালে প্রয়োজন হবে: ১ / ০.২৫ = ৪টি হাইড্রোজেন পরমাণু।
- উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক একক বা SI পদ্ধতিতে ন্যানো (Nano) বলতে গাণিতিক পরিভাষায় একশ কোটি ভাগের এক ভাগ বা 10-9 গুণক বোঝায় (1 nm = 10-9 m)।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রসাধনী শিল্পে, বিশেষ করে সানস্ক্রিন ও এন্টি-এজিং ক্রিম তৈরিতে টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড (TiO2) এবং জিংক অক্সাইড (ZnO) উভয়েরই ন্যানো কণা ব্যবহৃত হয়।
- এই ন্যানো কণাগুলো সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে ত্বককে রক্ষা করতে অত্যন্ত কার্যকর।
- ন্যানো পার্টিকেল যুক্ত হওয়ায় এগুলো ত্বকের সাথে সহজে মিশে যায় এবং ত্বকের ক্যান্সার রোধে সাহায্য করে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ক ও খ উভয়ই
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ক্যান্সার চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে ন্যানো টিউব (বিশেষ করে কার্বন ন্যানো টিউব) ব্যবহৃত হয়।
- এগুলো ক্যান্সার কোষকে সুনির্দিষ্টভাবে টার্গেট করে ওষুধ সরবরাহ করতে (Drug delivery) বা লেজার রশ্মির সাহায্যে তাপ উৎপাদন করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- ন্যানো টিউব ব্যবহারের ফলে সুস্থ কোষগুলোর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যে সকল সিরামিক পদার্থের মাইক্রোস্ট্রাকচার ন্যানো স্কেলের (1-100 nm) দানাদার কেলাস বা স্ফটিক দিয়ে গঠিত, তাদের ন্যানো ক্রিস্টালাইন সিরামিক বলা হয়।
- গারনিয়ারাইট (Garnierite): এটি নিকেলের একটি আকরিক যা ন্যানো ক্রিস্টালাইন কাঠামো প্রদর্শন করতে পারে।
- নিকোলাইট (Nickelite): এটি নিকেল আর্সেনাইড খনিজ যা ন্যানো ম্যাটেরিয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- জিরকনিয়া (Zirconia): ন্যানো ক্রিস্টালাইন জিরকনিয়া (ZrO2) একটি বহুল ব্যবহৃত সিরামিক উপাদান, যা অত্যন্ত শক্ত এবং তাপসহ।
- যেহেতু প্রদত্ত তিনটি উপাদানই ন্যানো ক্রিস্টালাইন সিরামিক হিসেবে প্রক্রিয়াজাত করা যায়, তাই সঠিক উত্তর All (সবগুলো)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড) বা খাবার লবণ মূলত একটি আয়নিক যৌগ
- কঠিন অবস্থায় আয়নিক যৌগগুলো নির্দিষ্ট জ্যামিতিক বিন্যাসে সজ্জিত হয়ে কেলাস বা স্ফটিক (Crystal) তৈরি করে।
- NaCl-এর ক্ষেত্রে Na+ এবং Cl- আয়নগুলো ত্রিমাত্রিক সুষম বিন্যাসে সজ্জিত হয়ে একটি Crystalline (স্ফটিকাকার বা কেলাসিত) কাঠামো গঠন করে।
- এর ল্যাটিস গঠনটি হলো Face-Centered Cubic (FCC)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বোর পরমাণু মডেল অনুসারে, হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রথম কক্ষপথের ব্যাসার্ধকে বোর ব্যাসার্ধ (Bohr radius) বলা হয়।
- এর পরীক্ষালব্ধ সঠিক মান হলো 0.53 Å (অ্যাংস্ট্রম)।
- যেহেতু 1 Å = 0.1 nm, তাই ন্যানোমিটার এককে এই মান হয় 0.053 nm
- প্রশ্নের অপশনগুলোতে এককগত ভুলের কারণে 0.53 Å-এর কাছাকাছি মান হিসেবে 0.5 nm-কে সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে (প্রকৃতপক্ষে এটি 0.5 Å বা 0.05 nm হবে)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ন্যানো কণার ক্ষেত্রে পদার্থের বৈশিষ্ট্য সাধারণ অবস্থার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। এর মূল কারণ হলো কণার আকার কমার সাথে সাথে পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল (Surface area) বৃদ্ধি পাওয়া।
- কোনো ন্যানো পার্টিকেলের আকার যত ছোট হয়, তার পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল তত বেড়ে যায় এবং এর ফলে কণাটির আলোক শোষণ (Absorption) ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
- অর্থাৎ, ন্যানো কণার আকার এবং এর শোষণ ক্ষমতা পরস্পর ব্যস্তানুপাতিক
- তাই সঠিক গাণিতিক সম্পর্কটি হলো: শোষণ ∝ 1/আকার
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আণবিক বা পারমাণবিক গঠনের কেলাস (Crystal)-এর মধ্যে সেতু বন্ধন (Bridge bond) সৃষ্টি করতে ন্যানো কণা (Nanoparticle) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ন্যানো কণাগুলোর আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র (1-100 nm) হওয়ায় এদের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল আয়তনের তুলনায় অনেক বেশি থাকে।
- এই উচ্চ পৃষ্ঠতলীয় শক্তির কারণে এরা কেলাসের অভ্যন্তরীণ অণু বা পরমাণুগুলোর মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করে এবং শক্তিশালী সেতু বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ন্যানো কণার আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র (সাধারণত 1 থেকে 100 nm) হওয়ায় এদের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল (Surface area) এবং আয়তনের অনুপাত অনেক বেশি থাকে।
- ক্ষুদ্র আকার এবং বৃহত্তর পৃষ্ঠতলের কারণে ন্যানো কণাগুলোর আলো বা অন্যান্য তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ বিচ্ছুরণ (Scattering) করার ক্ষমতা অপেক্ষাকৃত বেশি হয়।
- এই উচ্চ বিচ্ছুরণ ক্ষমতার কারণেই ন্যানো পার্টিকেলগুলো অপটিক্যাল ডিভাইস, সানস্ক্রিন (যেমন- TiO2 বা ZnO ন্যানো কণা যা অতিবেগুনি রশ্মি বিচ্ছুরিত করে) এবং বায়ো-ইমেজিং-এ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ন্যানো কণার আকার সাধারণত 1 থেকে 100 ন্যানোমিটার (nm) এর মধ্যে হয়ে থাকে।
- 'ন্যানো' (Nano) শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ একশ কোটি ভাগের এক ভাগ বা 10-9 গুণক।
- 1 ন্যানোমিটার (nm) = 1 / 109 মিটার = 10-9 মিটার
- সেই হিসেবে, 100 ন্যানোমিটার (nm) = 100 × 10-9 মিটার = 10-7 মিটার
- সুতরাং, মিটারে প্রকাশ করলে ন্যানো কণার আকার দাঁড়ায় 10-9 m হতে 10-7 m
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ন্যানো পার্টিকেলের গঠন ও মাত্রা অনুযায়ী এর বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- শূন্যমাত্রিক (Zero-dimensional): ন্যানো পার্টিকেলগুলোকে সাধারণত শূন্যমাত্রিক (0D) ন্যানো উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এদের তিনটি মাত্রাই (দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা) ন্যানো স্কেলে (1-100 nm) থাকে।
- Amorphous (অনিয়তাকার): ন্যানো পার্টিকেলগুলো ক্রিস্টালাইন (স্ফটিকাকার) বা অ্যামোরফাস (Amorphous) উভয় কাঠামোর হতে পারে।
- Semicrystalline (অর্ধ-স্ফটিকাকার): অনেক পলিমারিক বা যৌগিক ন্যানো পার্টিকেল সেমিক্রিস্টালাইন প্রকৃতির হয়ে থাকে।
যেহেতু ন্যানো পার্টিকেলের ক্ষেত্রে এই সবগুলো বৈশিষ্ট্যই প্রযোজ্য হতে পারে, তাই সঠিক উত্তর সবগুলো।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন ন্যানো পার্টিকেল ব্যাপকভাবে প্রভাবক (Catalyst) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যানো পার্টিকেল হলো:
- TiO2 (টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড): এটি মূলত ফটোক্যাটালিস্ট (Photocatalyst) হিসেবে পানি বিশুদ্ধকরণ এবং বায়ু দূষণ রোধে ব্যবহৃত হয়।
- Mn (ম্যাঙ্গানিজ) ন্যানো পার্টিকেল: বিভিন্ন জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
- Ni (নিকেল) ন্যানো পার্টিকেল: হাইড্রোজেনেশন বিক্রিয়া এবং জৈব সংশ্লেষণে একটি অত্যন্ত কার্যকর প্রভাবক।
সুতরাং, প্রদত্ত অপশনগুলোর সবগুলোই প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ন্যানো পার্টিকেলের আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র হওয়ার কারণে এদের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল অনেক বেশি হয়, যা প্রভাবন ক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে মূল ভূমিকা রাখে। এছাড়া ন্যানো স্কেলে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।
ন্যানো পার্টিকেলের কিছু বিশেষ ধর্ম হলো:
- বর্ধিত যান্ত্রিক শক্তি
- উচ্চ আপেক্ষিক তাপ
- চৌম্বক আচরণ
- আলোকীয় এবং বৈদ্যুতিক ধর্মের পরিবর্তন।
এই সকল ধর্মের সমন্বিত প্রভাবে ন্যানো পার্টিকেলগুলো অত্যন্ত কার্যকর প্রভাবক (Catalyst) হিসেবে কাজ করে এবং প্রভাবন ক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
MRI (Magnetic Resonance Imaging) হলো একটি আধুনিক রোগ নির্ণয়কারী পরীক্ষা, যার মাধ্যমে মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের খুব স্পষ্ট ছবি নেওয়া হয়।
- MRI স্ক্যানে ছবির বৈসাদৃশ্য বা স্পষ্টতা (Contrast) বাড়ানোর জন্য Contrast Agent ব্যবহার করা হয়।
- গ্যাডোলিনিয়াম আয়ন (Gd3+) একটি শক্তিশালী প্যারাম্যাগনেটিক পদার্থ। এতে ৭টি বিজোড় ইলেকট্রন থাকে, যা শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে।
- তাই নিখুঁত ছবি পাওয়ার জন্য MRI Contrast Agent রূপে গ্যাডোলিনিয়াম আয়ন বহুল ব্যবহৃত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ন্যানো স্কেলে পদার্থের ভৌত ধর্ম (যেমন- বর্ণ, পরিবাহিতা ইত্যাদি) সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যায়। স্বাভাবিক বা স্থূল অবস্থায় স্বর্ণের (Gold) বর্ণ সোনালী বা হলুদ হলেও, ন্যানো স্কেলে এর বর্ণ লাল হয়।
- ন্যানো কণাগুলোর আকার আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হওয়ায়, এগুলো নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ করে।
- সারফেস প্লাজমন রেজোন্যান্স (Surface Plasmon Resonance) নামক এই আলোকীয় ঘটনার কারণেই ন্যানো স্বর্ণের বর্ণ লাল দেখায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে H2SO4 হলো ছোট মাত্রাবিশিষ্ট বা একটি সাধারণ ক্ষুদ্র অণু।
- অন্যদিকে SiO2 (সিলিকা), SiC (সিলিকন কার্বাইড) এবং হীরক (Diamond) হলো বিশাল পলিমার বা বৃহৎ আকৃতির সমযোজী জালক (Network covalent structures)।
- এগুলোতে অসংখ্য পরমাণু সমযোজী বন্ধনে যুক্ত হয়ে বিশাল ত্রিমাত্রিক কাঠামো গঠন করে, তাই এদের তুলনায় H2SO4 এর মাত্রা বা আকার অনেক ছোট।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কাজের প্রকৃতি বা উৎপত্তির উপর ভিত্তি করে ন্যানো কণাকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
১. প্রাকৃতিক ন্যানো কণা: যা প্রকৃতিতে আপনাআপনি তৈরি হয় (যেমন- আগ্নেয়গিরির ছাই)।
২. অনিচ্ছাকৃত ন্যানো কণা: মানবসৃষ্ট কাজের ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে তৈরি হয় (যেমন- গাড়ির ধোঁয়া বা কারখানার নির্গমন)।
৩. প্রকৌশলগত ন্যানো কণা: বিশেষ কোনো কাজের উদ্দেশ্যে গবেষণাগারে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়।
- উল্লেখ্য, কোনো পদার্থকে ন্যানো স্কেলে পরিণত করলে তার আকার ও পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল পরিবর্তিত হলেও অন্তর্নিহিত মৌলিক বৈশিষ্ট্য যেমন ঘনত্ব বা মোট ভর স্থূল বস্তুর মতোই অপরিবর্তিত থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কার্বন টেট্রাক্লোরাইড (CCl4) দ্বারা দূষিত পানি বিশোধনে Fe ন্যানো কণা (Iron nanoparticles) ব্যবহৃত হয়।
- Fe ন্যানো কণা একটি শক্তিশালী বিজারক হিসেবে কাজ করে।
- এটি ক্লোরিনযুক্ত ক্ষতিকর জৈব যৌগকে (যেমন- কার্বন টেট্রাক্লোরাইড) ভেঙে কম ক্ষতিকর পদার্থে পরিণত করতে সাহায্য করে, যার ফলে পানি দূষণমুক্ত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ন্যানো প্রযুক্তি (Nanotechnology) হলো এমন একটি প্রযুক্তি যা পারমাণবিক বা আণবিক স্কেলে কাজ করে।

- IUPAC (International Union of Pure and Applied Chemistry)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, সাধারণত 1.0 থেকে 100 ন্যানোমিটার (nm) আকারের কণাকে ন্যানো কণা (Nanoparticle) বলা হয়।
- এই পরিসরে পদার্থের ভৌত, রাসায়নিক, এবং যান্ত্রিক ধর্মে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়, যা সাধারণ স্থুল আকারের (Bulk size) পদার্থের চেয়ে ভিন্ন হয়।
- 1 ন্যানোমিটার (nm) হলো এক মিটারের একশ কোটি ভাগের এক ভাগ (10-9 m)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Elastic modulus বা স্থিতিস্থাপক গুণাঙ্ক পদার্থের কাঠিন্য এবং শক্তির পরিমাপ করে।

- ন্যানো প্রযুক্তি এবং বস্তুর শক্তির দিক বিবেচনায় কার্বন ন্যানোটিউব (Carbon Nanotube বা CNT) সবচেয়ে শক্তিশালী।
- কার্বন পরমাণুগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সমযোজী বন্ধন (sp2 সংকরায়ণ) থাকার কারণে এর Elastic modulus অনেক বেশি (প্রায় 1 TPa বা তার বেশি), যা ইস্পাতের চেয়েও বহুগুণ শক্তিশালী।
- তাই উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে কার্বন ন্যানোটিউব সবচেয়ে বেশি দৃঢ় ও শক্তিশালী।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ন্যানো বস্তুর মাত্রার উপর ভিত্তি করে এদের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।
- একমাত্রিক বা 1D ন্যানো পার্টিকেল: যেসব বস্তুর একটি মাত্র মাত্রা (দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতার যেকোনো একটি) ন্যানো স্কেলে (সাধারণত 1-100 nm) সীমাবদ্ধ থাকে, তাদের একমাত্রিক ন্যানো বস্তু বলা হয়। তাই এদের ১টি মাত্রা ন্যানো স্কেলে থাকে। (যেমন: অতি পাতলা স্তর বা Thin films)।
- উল্লেখ্য, ২ টি মাত্রা ন্যানো স্কেলে থাকলে তাকে 2D এবং ৩ টি মাত্রাই ন্যানো স্কেলে থাকলে তাকে 0D (যেমন: কোয়ান্টাম ডট) ন্যানো বস্তু বলে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ন্যানো স্কেলে পদার্থের ভৌত ধর্মে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়, বিশেষ করে গলনাঙ্কের ক্ষেত্রে।

স্বর্ণের (Gold) স্বাভাবিক গলনাঙ্ক: 1064ºC।
ন্যানো স্কেলে গলনাঙ্ক: স্বর্ণের কণার আকার যখন 2.5 nm হয়, তখন পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল ও আয়তনের অনুপাত (Surface-to-volume ratio) অনেক বেড়ে যাওয়ার কারণে এর গলনাঙ্ক কমে মাত্র 300ºC হয়ে যায়।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0