রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিত (30 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৯২০ সালে লিগ অব নেশনস (League of Nations) বা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয় ।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফা শান্তি প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে এই আন্তর্জাতিক সংগঠনটি গড়ে ওঠে ।
- প্রতিষ্ঠার সময় লিগ অব নেশনস-এর প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল ৪০
- আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের কল্যাণসাধন করা এবং যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলা প্রতিরোধ করে বিশ্বশান্তির পথ সুগম করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য ।
• উদাহরণ: লিগ অব নেশনস-এর প্রধান তিনটি বিভাগ ছিল— সভা (Assembly), পরিষদ (Council) এবং কর্মদপ্তর (Secretariat)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের চার্টারে বা সনদে ১১১টি ধারা রয়েছে ।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর বিশ্বব্যাপী স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা ইউনাইটেড নেশন্স (UN) সৃষ্টি হয় ।
- ১৯৪৫ সালে ৫১টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণ মিলে আমেরিকার সানফ্রানসিসকো শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- লর্ড ব্রাইস সুনাগরিকতার পথে প্রধান তিনটি প্রতিবন্ধক বা বাধার কথা উল্লেখ করেছেন, যা হলো: উদ্যমহীনতা বা উদাসীনতা (Indolence), ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা (Private Self interest) এবং দলীয় মনোভাব (Party spirit)
- উদাসীনতা বা উদ্যমহীনতা বলতে রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে নাগরিকের নির্লিপ্ততা, ঔদাসীন্য এবং উৎসাহের অভাবকে বোঝায়। নাগরিক রাষ্ট্রীয় কাজকর্মে উদাসীন হলে রাষ্ট্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।
- ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা হলো সুনাগরিকতার পথে দ্বিতীয় অন্তরায়। সংকীর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে নাগরিক অনেক সময় রাষ্ট্রবিরোধী বা সমাজবিরোধী কাজ করে বসে এবং বৃহত্তর স্বার্থের পরিবর্তে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বড় করে দেখে ।
- দলীয় মনোভাব হলো সুনাগরিকতার পথে তৃতীয় বাধা। এটি মূলত ব্যক্তিগত স্বার্থপরতার একটি রূপ ছাড়া আর কিছুই নয়। দলপ্রথা ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না ঠিকই, তবে অন্ধ দলীয় মনোভাব নাগরিককে জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে দলীয় স্বার্থকে স্থান দিতে বাধ্য করে, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর ।

• উদাহরণ: ব্যক্তিগত স্বার্থপরতার কারণে নাগরিকের মধ্যে ভোট বিক্রয়, উৎকোচ বা ঘুষ গ্রহণ এবং ভোট দানের বিনিময়ে লাইসেন্স বা পারমিট পাওয়ার সুবিধা নেওয়ার মতো দুর্নীতিমূলক প্রবণতা দেখা যায় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলোঃ - রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় নাগরিকত্ব অর্জনের প্রধান পদ্ধতি হলো দুইটি
- এই পদ্ধতি দুটি হলো: জন্মসূত্রে (By birth or descent) এবং অনুমোদনের দ্বারা (by formal grant)
- জন্মসূত্রে নাগরিকতা লাভ করলে তাকে স্বাভাবিক নাগরিক (Natural born citizen) বলা হয় ।
- অন্যদিকে, অনুমোদন দ্বারা অন্য রাষ্ট্রের নাগরিককে নাগরিকত্ব দেওয়া হলে তাকে অনুমোদিত নাগরিক (Naturalised citizen) বলা হয় ।
- জন্মসূত্রে নাগরিকতা লাভের ক্ষেত্রে আবার দুটি নীতি অনুসরণ করা হয়: জন্মনীতি (Jus Sanguinis) এবং জন্মস্থান নীতি (Jus Soli or Jus Loci) । • উদাহরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করলেও সেই ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি বা উপরাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হতে পারেন না, এই পদগুলোর জন্য জন্মসূত্রে নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলোঃ
- একনায়কতন্ত্র হলো এমন এক শাসন ব্যবস্থা যেখানে চরম ক্ষমতা একটি ব্যক্তি অথবা দলের হাতে ন্যস্ত থাকে ।
- বেনিতো মুসোলিনি ছিলেন ইতালিতে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্রের প্রবক্তা ।
- মুসোলিনির মতে ফ্যাসিবাদ শান্তিনীতি, গণতন্ত্র, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ এবং সমাজতন্ত্রবাদকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে ।
- রাষ্ট্রের চরম, একচ্ছত্র ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতার ওপর জোর দিতে গিয়ে মুসোলিনি তাঁর বিখ্যাত উক্তিতে ঘোষণা করেন, "All within the State, none outside the State, none against the State" (রাষ্ট্রের মধ্যেই সব, রাষ্ট্রের বাইরে কিছু নেই, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও কিছু নেই) ।

• উদাহরণ: হিটলারের অধীনস্থ জার্মানি এবং মুসোলিনির অধীনস্থ ইতালিতে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাসিস্ট একনায়কতন্ত্র হলো রাষ্ট্রের এই চরম ও সর্বগ্রাসী রূপের প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় মন্ত্রীগণ তাদের ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে (Collective responsibility) যাবতীয় কাজের জন্য আইনসভা বা পার্লামেন্টের নিকট দায়ী থাকেন
- এই শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভা বা শাসন বিভাগ আইনসভার নিকট দায়িত্বশীল থাকে বলে একে দায়িত্বশীল সরকারও (Responsible Government) বলা হয় ।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তিতে এই ধরনের সরকার গঠিত হয় ।
- দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় মন্ত্রিসভার যৌথ দায়িত্বশীলতা বলতে মূলত নিম্নকক্ষের নিকট দায়িত্বশীলতাকে বোঝায় ।
• উদাহরণ: কোনো একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনসভায় অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হলে শুধু সেই নির্দিষ্ট মন্ত্রীকেই পদত্যাগ করতে হয় না, বরং সমগ্র মন্ত্রিসভাকেই (অর্থাৎ সকল মন্ত্রীকে) পদত্যাগ করতে হয় । এটিই সংসদীয় সরকারের যৌথ দায়িত্বশীলতার উৎকৃষ্ট নিদর্শন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গণতন্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ সংজ্ঞা দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন
- তাঁর প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী, গণতন্ত্র হলো “জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের শাসন” (Government of the People, by the People and for the People) ।
- এই শাসনব্যবস্থায় নাগরিক অধিকার স্বাধীনভাবে প্রকাশ পায় এবং শাসনক্ষমতা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল দুটি নীতির (শাসকের সংখ্যা এবং শাসনের উদ্দেশ্য) ওপর ভিত্তি করে সরকারের শ্রেণিবিভাগ করেছেন ।
- এরিস্টটলের মতে, শাসনক্ষমতা যখন কতিপয় ব্যক্তির হাতে থাকে এবং তা সাধারণের মঙ্গলের পরিবর্তে নিজেদের বা শাসকশ্রেণির ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত হয়, তখন তাকে ধনিকতন্ত্র (Oligarchy) বলে ।
- অপরদিকে, কতিপয় ব্যক্তির শাসন যখন জনকল্যাণ বা সাধারণের মঙ্গলের জন্য পরিচালিত হয়, তখন তাকে অভিজাততন্ত্র (Aristocracy) বলা হয় ।
- অর্থাৎ, শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ যখন সর্বসাধারণের স্বার্থের পরিবর্তে শাসনযন্ত্রকে শাসকশ্রেণির ব্যক্তিগত স্বার্থসাধনে ব্যবহার করে, তখন সরকারের সেই রূপটি বিকৃত হয়ে ধনিকতন্ত্রে রূপান্তরিত হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবাদ হলো মানব সভ্যতার জন্য একটি বড় সংকট।
- এই কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উগ্র জাতীয়তাবাদকে সভ্যতার সংকট (Nationalism is a menace to civilisation) বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বা "এক জাতি এক রাষ্ট্রের" (One Nation, one State) নীতিটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মানুষকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং তখন থেকেই এটি রাষ্ট্রনৈতিক আলোচনার পুরোভাগে চলে আসে ।
- বিংশ শতাব্দীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন এই তত্ত্বটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপায় হিসেবে জোরালোভাবে প্রচার করেন ।
- তিনি ঘোষণা করেন যে, কোনো জাতি যদি নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়, তবে তাদের সেই অধিকার অবশ্যই মেনে নিতে হবে ।
উদাহরণ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট উইলসন যে বিখ্যাত ১৪-দফা শান্তি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন, 'জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার' ছিল সেই প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান একটি দিক ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রদত্ত বিখ্যাত উক্তিটি ('Every state is known by the rights that it maintains') প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি (Harold J. Laski)-এর। তিনি তাঁর অধিকার সম্পর্কিত তত্ত্বে এই কথাটি বলেছেন। একটি রাষ্ট্র কতটা আদর্শ ও জনকল্যাণকামী তা নির্ভর করে সেই রাষ্ট্র তার নাগরিকদের কী পরিমাণ এবং কী ধরনের অধিকার প্রদান করে তার ওপর। রাষ্ট্র শুধু আইন প্রণয়ন করে না, বরং নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের সর্বোচ্চ সুযোগও প্রদান করে।

'প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলো' নিচে দেওয়া হলোঃ
- অধ্যাপক লাস্কি অধিকারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, "অধিকার হইল সমাজজীবনের সেই সকল অবস্থা যাহা ব্যতিরেকে সাধারণভাবে মানুষ তাহার আত্মবিকাশ করিতে পারে না।"
- অধিকার মূলত সমাজবদ্ধ জীবনে মানুষের আত্মবিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সুবিধার দাবি এবং রাষ্ট্র কর্তৃক তার স্বীকৃতি।
- অধিকারের পিছনে রাষ্ট্রের শক্তি বা আইনের সমর্থন থাকে; রাষ্ট্র ছাড়া বা রাষ্ট্রের বাইরে অধিকারের অস্তিত্ব থাকে না।

• উদাহরণ: কোনো রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমতা, ভোটাধিকার এবং শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলো সুনিশ্চিত করে, তবে রাষ্ট্রটি একটি কল্যাণমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে। বিপরীতদিকে যে রাষ্ট্র অধিকার হরণ করে, তা স্বৈরাচারী রাষ্ট্র হিসেবেই পরিচিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- অধ্যাপক লাস্কি (Prof. Harold J. Laski) অধিকারের সংজ্ঞা নির্দেশ করতে গিয়ে বলেছেন, "অধিকার হইল সমাজজীবনের সেই সকল অবস্থা যাহা ব্যতিরেকে সাধারণভাবে মানুষ তাহার আত্মবিকাশ করিতে পারে না।"
- মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন, সমাজ ও রাষ্ট্র যখন তা স্বীকার করে নেয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তাকেই অধিকার বলা হয়।
- অধিকারের মূলত দুটি প্রধান দিক আছে: প্রথমত, আত্মবিকাশের উপযোগী সুযোগ ও সুবিধার দাবি এবং দ্বিতীয়ত, ওই দাবিগুলোর রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃতি।
• উদাহরণ: জীবনধারণের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার, স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার, চুক্তি করার অধিকার ইত্যাদি হলো নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অধিকারের কয়েকটি দৃষ্টান্ত। [2-4]
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- অধিকারের সর্বশ্রেষ্ঠ বা প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে রাষ্ট্রের আইন-কে বিবেচনা করা হয়।
- অধ্যাপক লাস্কির মতে, অধিকার হলো সমাজজীবনের সেই সকল অবস্থা যা ব্যতীত সাধারণভাবে কোনো মানুষ তার আত্মবিকাশ করতে পারে না।
- অধিকারের মূল ভিত্তি হলো রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্রের বাইরে অধিকারের কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারে না।
- রাষ্ট্র তার নাগরিকদের এই অধিকারগুলোকে আইনগতভাবে বলবৎ করার ব্যবস্থা করে থাকে, যার মাধ্যমে নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত হয়।
- অধ্যাপক লাস্কি আরও উল্লেখ করেন যে, আইনসভার প্রকৃত কাজ হলো জনগণের অধিকারের রক্ষাকবচ হিসেবে শাসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা।
• উদাহরণ: কেউ আইনগত অধিকার ভঙ্গ করলে আদালত অপরাধীর শাস্তির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে অধিকার রক্ষা করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইংরেজি 'Liberty' শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো স্বাধীনতা ।
- 'Liberty' শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ 'Liber' থেকে ।
- ল্যাটিন 'Liber' শব্দটির অর্থ হলো স্বাধীন বা মুক্ত
- ব্যুৎপত্তিগত অর্থে স্বাধীনতা বলতে বোঝায় স্ব অর্থাৎ নিজের অধীনতা

• উদাহরণ: ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উদাহরণ হিসেবে জীবনযাত্রার পদ্ধতি, রুচি, ধর্মাচরণের স্বাধীনতা এবং অবাধে কারবার করিবার অধিকার ইত্যাদিকে বোঝানো হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না' বা 'যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'—বিখ্যাত এই উক্তিটি করেছেন ইংরেজ দার্শনিক জন লক
- জন লক তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Two Treatises on Civil Government' (১৬৯০)-এ সরকার, আইন ও স্বাধীনতা সম্পর্কিত তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারা তুলে ধরেছেন ।
- জন লকের মতে, আইনের উদ্দেশ্য মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করা নয়, বরং তা সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করা। তিনি আইনের সাথে স্বাধীনতার এই অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন ।
- তিনি ১৬৮৮ সালের ইংল্যান্ডের 'গৌরবময় বিপ্লব' বা 'রক্তহীন বিপ্লব'-এর অন্যতম সমর্থক ছিলেন। লকের মতে, রাষ্ট্রশক্তি মূলত শাসিতের বা জনগণের ইচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত ।
- লক মনে করতেন, রাষ্ট্র বা সিভিল সোসাইটি গঠনের পূর্বে প্রাকৃতিক রাজ্যেও মানুষের জীবন 'স্বাভাবিক আইন' (Natural law) দ্বারা পরিচালিত হতো এবং মানুষ সেখানে 'স্বাভাবিক অধিকার' ভোগ করতো ।
- তিনি মানুষের মৌলিক অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন; তাঁর মতে মানুষের প্রধান অধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জীবন, স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকার

• উদাহরণ: জন লকের এই উক্তির মূল ভাবার্থ হলো, আইন ছাড়া সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অন্যের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা থাকে না। যেমন, ট্রাফিক আইন বা নিয়মকানুন না থাকলে রাস্তায় চলাচলের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। ঠিক তেমনি, রাষ্ট্রে আইন না থাকলে শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে, ফলে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না। তাই স্বাধীনতাকে উপভোগ করতে হলে আইনের শাসন অপরিহার্য।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আধুনিক রাষ্ট্রে আইনের উৎস হলো ৬টি
- এই উৎসগুলো হলো— প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, ন্যায়বোধ (equity) ও আইনসভা
- প্রথা বা প্রচলিত রীতিনীতি (Customs): মানবইতিহাসের প্রথম যুগে প্রচলিত রীতিনীতিই ছিল আইনের প্রধান উৎস। দীর্ঘদিন ধরিয়া যেসব রীতিনীতি সমাজে প্রচলিত ছিল মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেগুলো পালন করিত।
- ধর্ম (Religion): আদিমযুগে ধর্মের অনুশাসন ব্যক্তির কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করিত। সেই যুগে ধর্ম এবং আইন মিলিয়া এক হইয়া গিয়াছিল।
- বিচারকের রায় (Judicial Decision): বিচারকের রায় হইতে অনেক আইনের উদ্ভব হয়। আইনের কোনো অর্থ যদি অস্পষ্ট অথবা দ্ব্যর্থক হয় তখন বিচারক উহার যথার্থ ব্যাখ্যা দিয়া থাকেন, যা পরবর্তীকালে নতুন আইনের সৃষ্টি করে।
- বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা (Scientific Commentaries): আইনজ্ঞ লেখকেরা আইনের যে টীকা বা ভাষ্য দান করেন তাহাও আইনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হইয়া থাকে। সকল সভ্যদেশেই বিচারকগণ পণ্ডিত ব্যক্তিদের আলোচনাকে গুরুত্ব দেন।
- ন্যায়বোধ (Equity): প্রচলিত আইনের সাহায্যে যখন কোনো বিষয়ের মীমাংসা করা যায় না তখন বিচারকগণ তাঁহাদের বিচারবুদ্ধি ও ন্যায়বোধের উপর ভিত্তি করিয়া উহার মীমাংসা করেন।
- আইনসভা (Legislature): বর্তমানকালে সকল গণতান্ত্রিক দেশে আইনসভাই আইন সৃষ্টির সর্বপ্রধান উৎস। জনমতকে আইনসভাই আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে আইনের রূপ দেয়।
• উদাহরণ: বিজ্ঞানসম্মত আলোচনার উদাহরণ হিসেবে হিন্দু আইনে মনু, পরাশর, যাজ্ঞবল্ক্য, কৌটিল্য প্রভৃতি পণ্ডিতগণের আলোচনা উল্লেখযোগ্য। মুসলমানদের ক্ষেত্রে কোরআনের ভাষ্য হিসেবে হাদিস নামে পরিচিত গ্রন্থগুলো আইনের উৎস হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ব্রিটিশ আইনব্যবস্থায় কোক (Coke) এবং ব্ল্যাকস্টোন (Blackstone)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বহুত্ববাদ (Pluralism) হলো এমন একটি রাজনৈতিক মতবাদ যা রাষ্ট্রের চরম ও অসীম সার্বভৌম ক্ষমতার বিরোধিতা করে ।
- বহুত্ববাদীদের মতে, রাষ্ট্র কোনো অসাধারণ সংগঠন নয় এবং রাষ্ট্রের একক সার্বভৌম ক্ষমতার কোনো প্রয়োজন নাই
- এই মতবাদের মূল কথা হলো, রাষ্ট্র সার্বভৌম ক্ষমতার একচেটিয়া অধিকারী নয়; বরং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিভিন্ন সংঘ ও প্রতিষ্ঠানগুলিও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী
- সুতরাং, একক সার্বভৌম ক্ষমতার পরিবর্তে বহু সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টিত হওয়া উচিত বলে তারা বিশ্বাস করেন, আর এই বিশ্বাস থেকেই এই মতবাদকে বহুত্ববাদ বলা হয় ।

• উদাহরণ: বহুত্ববাদের কয়েকজন প্রধান সমর্থক বা প্রবক্তা হলেন ল্যাস্কি (Laski), ম্যাকাইভার (MacIver), বার্কার (Barker), কোকার (Coker), ফিগিস (Figgis) প্রমুখ । যেমন, অধ্যাপক ম্যাকাইভারের মতে, "রাষ্ট্র হলো অন্যান্য বহু সংঘের মধ্যে একটি সংঘ মাত্র" (The state is one among many associations) ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলোঃ
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় আইনগত সার্বভৌমত্বের প্রধান ব্যাখ্যাকর্তা হলেন ইংরেজ আইনবিদ জন অস্টিন (Austin)
- অস্টিন সার্বভৌমিকতার যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, তা মূলত আইনগত সার্বভৌমত্বকেই প্রকাশ করে ।
- তাঁর মতে, আইন হলো সার্বভৌম শক্তির আদেশ। সুতরাং, রাষ্ট্রের মধ্যে যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইন প্রণয়নে চরম ও অপ্রতিহত ক্ষমতার অধিকারী, তিনি বা তারাই আইনগত সার্বভৌমত্বের অধিকারী ।
- আইনগত সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত আইন রাষ্ট্রের সকলকে মান্য করতে হয় এবং এই আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি প্রদানের চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র তাদের হাতেই থাকে ।

• উদাহরণ: গ্রেট ব্রিটেনের রাজা সহ আইনসভা, অর্থাৎ রাজা, লর্ডসভা ও কমন্সসভা একত্রে আইনগত সার্বভৌম ক্ষমতা ভোগ করে থাকে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- জঁ বোঁদা (Jean Bodin) সার্বভৌম ক্ষমতা সম্পর্কে বলেছেন, “Sovereignty is the supreme power over citizens and subjects unrestrained by laws” অর্থাৎ সার্বভৌম ক্ষমতা হলো নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রের চরম ক্ষমতা যা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় ।
- জঁ বোঁদাকে সার্বভৌমত্বের প্রবক্তা হিসেবে অভিহিত করা হয় ।
- তিনি ছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর একজন ফরাসি দার্শনিক এবং অন্যতম একত্ববাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানী
- তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থের নাম 'The Republic'

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- কার্ল মার্কস এবং এঙ্গেলসের মতে রাষ্ট্র হলো শ্রেণী-শোষণের একটি যন্ত্র (a machine for maintaining the rule of one class over another) ।
- মার্কসীয় দর্শন অনুযায়ী, মানব সমাজের বিবর্তনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সর্বহারা শ্রেণীর বিপ্লবের মাধ্যমে শ্রেণীহীন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে ।
- এই সাম্যবাদী সমাজে যখন পুঁজিপতি ও শ্রমিক নামক কোনো শ্রেণী-বৈষম্য বা শ্রেণী-দ্বন্দ্ব থাকবে না, তখন রাষ্ট্র নামক এই শোষণযন্ত্রটিরও আর কোনো প্রয়োজন পড়বে না ।
- অর্থাৎ, শ্রেণী স্বার্থ এবং শোষণের সম্পূর্ণ অবসানে রাষ্ট্র বিলুপ্ত হয়ে যাবে (The State will wither away)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জার্মান দার্শনিক হেগেল (Hegel) রাষ্ট্র সম্পর্কে চরম আদর্শবাদী মতবাদ প্রদান করেন। তাঁর দর্শনে রাষ্ট্র শুধু চরম ক্ষমতাসম্পন্ন নৈতিক প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং তিনি রাষ্ট্রকে অতিমানবিক ও ঐশ্বরিক সত্তা হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র হলো মাটির পৃথিবীতে ঈশ্বরের পদসঞ্চার (March of God on Earth)

'প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলো' নিচে দেওয়া হলোঃ
- আদর্শবাদের জনক: জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট (Kant)-কে সাধারণভাবে আদর্শবাদের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয় ।
- হেগেলের দৃষ্টিতে রাষ্ট্র: হেগেলের মতে রাষ্ট্র হলো সর্বশক্তিমান, অভ্রান্ত এবং মূলত ঐশ্বরিক (The state is omnipotent, infallible and divine in essence) ।
- ব্যক্তি ও রাষ্ট্র: হেগেলের মতে, রাষ্ট্রের বাইরে ব্যক্তির অস্তিত্ব বা স্বাধীনতা থাকতে পারে না। ব্যক্তির প্রকৃত স্বাধীনতা কেবল রাষ্ট্রের আইনেই নিহিত। রাষ্ট্র ঐশ্বরিক বলিয়া ইহার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা ব্যক্তির এক পবিত্র কর্তব্য ।
- কার্ল মার্কসের দৃষ্টিভঙ্গি: মার্কসীয় তত্ত্বে রাষ্ট্রকে হেগেলের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি শোষণের হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়। মার্কসের মতে, রাষ্ট্র হলো শ্রেণী-শোষণের একটি যন্ত্র (a machine for maintaining the rule of one class over another) ।

• উদাহরণ: কান্ট ও হেগেল উভয়েই আদর্শবাদের সমর্থক হলেও হেগেলের আদর্শবাদ চরম রূপ পরিগ্রহ করে। হেগেলের মতে, রাষ্ট্রের আইন মানিয়াই ব্যক্তি যথার্থ স্বাধীনতা উপলব্ধি করতে পারে এবং রাষ্ট্রই অধিকারের উৎস ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- জৈব মতবাদ (Organic Theory) হলো রাষ্ট্রের প্রকৃতি বিষয়ক এমন একটি মতবাদ, যা জীববিজ্ঞানের আলোকে রাষ্ট্রের প্রকৃতি ও স্বরূপ ব্যাখ্যা করে ।
- এই মতবাদের মূল কথা হলো রাষ্ট্র একটি জীবন্ত প্রাণী বা জীবদেহের মতো, যার প্রাণীদেহের মতোই জন্ম, বৃদ্ধি, বিবর্তন এবং মৃত্যু বা ধ্বংস রয়েছে ।
- জীবদেহ যেমন অসংখ্য কোষ (cell) দ্বারা গঠিত, জৈব মতবাদ অনুযায়ী রাষ্ট্রও তেমনি অসংখ্য ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত একটি জীবন্ত সত্তা ।
- এই মতবাদে জীবদেহের বিভিন্ন অংশের সাথে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশের বা ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে ।

• উদাহরণ: এই মতবাদ অনুসারে মানুষের মস্তিষ্কের সাথে রাষ্ট্রের আইনসভাকে তুলনা করা হয়েছে, কারণ মস্তিষ্ক যেমন চিন্তা করে সমগ্র দেহকে শাসন করে, তেমনি আইনসভাও রাষ্ট্রের মস্তিষ্কস্বরূপ । এছাড়া রাষ্ট্রনায়ককে তুলনা করা হয়েছে জীবাত্মার সাথে, কারণ আত্মা যেমন দেহকে শাসন করে, রাষ্ট্রনায়কও তেমনি রাষ্ট্রকে শাসন করেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৬৫১ সালে প্রকাশিত টমাস হবসের (Thomas Hobbes) বিখ্যাত গ্রন্থ Leviathan রাষ্ট্রনৈতিক চিন্তাজগতে বিরাট আন্দোলন সৃষ্টি করে ।
- তিনি ছিলেন সপ্তদশ শতাব্দীর একজন ইংরেজ দার্শনিক এবং অন্যতম সামাজিক চুক্তি মতবাদী
- টমাস হবস ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের গৃহশিক্ষক ছিলেন ।
- তাঁর রচিত অন্যান্য কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: De-Cive, The Elements of Laws এবং De Homine
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- "Man is born free but everywhere he is in chains" উক্তিটি বিখ্যাত ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশোর
- রুশো তাঁর জগৎবিখ্যাত গ্রন্থ 'Le Contrat Social' (সামাজিক চুক্তি)-এ এই কালজয়ী উক্তিটি করেছেন।
- মানুষের স্বাধীনতা ও সাম্যের পক্ষে তাঁর এই গভীর দার্শনিক চিন্তাধারা এবং উক্তিটি ফরাসি বিপ্লবকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছিল বা বলা যায় ফরাসি বিপ্লবকে ডাকিয়া আনিয়াছিল।
- রুশোর মতে, প্রাকৃতিক রাজ্য ছিল এক আদর্শ অবস্থা বা মর্ত্যের স্বর্গ, যেখানে মানুষের অবাধ স্বাধীনতা ও পূর্ণ সাম্য বিরাজ করত, কিন্তু সমাজ সৃষ্ট কৃত্রিম বন্ধনের দ্বারাই পরবর্তীতে মানুষের স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে বা মানুষ শৃঙ্খলিত হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশোর মতে, রাষ্ট্রের উৎপত্তির পূর্বে মানুষের 'প্রাকৃতিক রাজ্য' ছিল একটি আদর্শ অবস্থা বা মর্ত্যের স্বর্গ
- সেই পবিত্র অবস্থায় মানুষের মাঝে অবাধ স্বাধীনতা, পূর্ণ সাম্য এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বিরাজমান ছিল ।
- সমাজ কর্তৃক সৃষ্ট কোনো কৃত্রিম বন্ধন দ্বারা তখন মানুষের স্বাধীনতা খর্ব হয়নি বা জীবন শৃঙ্খলিত ছিল না ।
- প্রকৃতির এই আদিম রাজ্যে মানুষ স্বাধীন, সুন্দর, সরল, সুখী এবং সম্পূর্ণ ভয়শূন্য জীবনযাপন করত ।

• উক্তি: ফরাসি দার্শনিক রুশো তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Le Contrait Social' (সামাজিক চুক্তি)-এ মানুষের এই অবস্থা ও পরবর্তী সমাজজীবনের শৃঙ্খল বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, "Man is born free but everywhere he is in chains" (মানুষ স্বাধীন হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছে কিন্তু সর্বত্রই সে শৃঙ্খলবদ্ধ) ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- জন লকের মতে প্রাকৃতিক রাজ্যের অসুবিধা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য জনসাধারণ দুইটি চুক্তি সম্পাদন করেছিল ।
- প্রথম চুক্তি: এই চুক্তিটি হয়েছিল জনসাধারণের নিজেদের ভিতর, যা সামাজিক চুক্তি নামে আখ্যাত ।
- দ্বিতীয় চুক্তি: এই চুক্তিটি হয়েছিল জনসাধারণের সাথে রাজার, যা সরকারী চুক্তি নামে অভিহিত ।
- সরকারী চুক্তির দ্বারা প্রজারা এই শর্তে রাজার নিকট ক্ষমতা সমর্পণ করেছিল যে, রাজা তাদের জীবনধারণের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার এবং সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করবেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে ঐশ্বরিক উৎপত্তি মতবাদ (Theory of Divine Origin) হলো সর্বাপেক্ষা প্রাচীন মতবাদ ।
- এই মতবাদের মূলকথা হলো রাষ্ট্র ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। ঈশ্বর মাটির পৃথিবীতে নেমে আসতে পারেন না বলে রাষ্ট্র শাসনের জন্য তাঁর একজন প্রতিনিধির প্রয়োজন হয় ।
- রাজা হলেন ঈশ্বরের সেই অনুমোদিত বা বৈধ প্রতিনিধি এবং তিনি তাঁর সকল কাজের জন্য কেবল ঈশ্বরের নিকটেই দায়ী থাকবেন, প্রজাদের নিকট তাঁর কোনো জবাবদিহিতা নেই ।
- রাজা নিজেই আইন সৃষ্টি করেন বলে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন। ঐশ্বরিক মতবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রগুলোকে ধর্মীয় রাষ্ট্র (Theocratic States) বলা হয় ।

• উদাহরণ: প্রাচীন ভারতবর্ষ, চীন, জাপান, মিশর প্রভৃতি দেশের বহু লোক এই ঐশ্বরিক মতবাদে বিশ্বাস করতেন। এছাড়া সেন্ট অগাস্টাইনের বিখ্যাত গ্রন্থ 'City of God' ঐশ্বরিক উৎপত্তিবাদের ওপর ভিত্তি করেই রচিত ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ডেভিড ইস্টন (David Easton)-এর মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো মূল্যের কর্তৃত্বসম্পন্ন বরাদ্দের পর্যালোচনা
- তিনি মনে করেন, এই পর্যালোচনা মূলত ক্ষমতার বণ্টন ও প্রয়োগের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে ।
- ডেভিড ইস্টন তাঁর এই বিখ্যাত সংজ্ঞায় বলেছেন, "Political science is the study of the authoritative allocation of values as it is influenced by the distribution and use of power."
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেন, যে কারণে তাঁকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয় ।
- তিনিই রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে 'সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান' (Supreme Science বা Master of Science) হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন [1-3]।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নে তুলনামূলক পদ্ধতি (Comparative Method)-এর সর্বপ্রথম প্রয়োগ করেন এরিস্টটল। এটি মূলত ঐতিহাসিক পদ্ধতির একটি পরিপূরক রূপ ।

• উদাহরণ: এরিস্টটল তাঁর সময়কার ১৫৮টি নগররাষ্ট্রের সংবিধান ও শাসনব্যবস্থাকে তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করে সরকারের শ্রেণিবিন্যাস এবং তাঁর নিজস্ব রাষ্ট্রনৈতিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মার্কিন আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড ল্যাসওয়েল (Harold D. Lasswell) বলেছেন, “সমাজের অন্তর্ভূক্ত প্রভাব ও প্রভাবশালীদের ক্রিয়াকলাপের বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনাই হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান” ।
- ল্যাসওয়েল তাঁর সংজ্ঞায় মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে, রাজনীতি হলো প্রভাব এবং প্রভাবশালীদের অধ্যয়ন (study of influence and the influential) ।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত একটি গ্রন্থ ও উক্তি হলো 'Politics, who gets, when and how'
- অপশনের অন্যান্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে ডেভিড ইস্টন (David Easton) বলেছেন, "রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো মূল্যের কর্তৃত্বসম্পন্ন বরাদ্দের পর্যালোচনা" ।
- রবার্ট ডাল (Robert Dahl) হলেন 'Modern Political Analysis' গ্রন্থের রচয়িতা ।
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি-কে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয় এবং তাঁর বিখ্যাত রাজনৈতিক গ্রন্থ হলো 'The Prince' ।
• উদাহরণ: ল্যাসওয়েলের এই ধারণার একটি ব্যবহারিক রূপ হলো, সমাজে কীভাবে এবং কাদের মাধ্যমে ক্ষমতা বণ্টিত ও প্রয়োগ করা হয় তার প্রক্রিয়াগুলো অনুধাবন করা ।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0