তুলনামূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থাসমূহ (30 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'আইনের শাসন' (Rule of Law) বা আইনের অনুশাসন বলতে মূলত আইনের প্রাধান্যকে বোঝায়।
- আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে 'আইনের শাসন' বা 'আইনের অনুশাসন' তত্ত্বের প্রবর্তক বা স্রষ্টা হলেন বিখ্যাত ইংরেজ আইনজ্ঞ এ. ভি. ডাইসি (A. V. Dicey)
- ডাইসির মতে, আইনের শাসনের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে: (১) সরকারের কোনো ইচ্ছাধীন (arbitrary) বা বিশেষ ক্ষমতা (prerogative) থাকবে না; অর্থাৎ, আদালত কর্তৃক অপরাধী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া বা কারারুদ্ধ করা যাবে না। (২) আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান; অর্থাৎ, সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সকলেই দেশের সাধারণ আইন মানতে বাধ্য। (৩) জনগণের অধিকার সাধারণ আইন দ্বারাই সংরক্ষিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত: রাজা বা রানি (The Crown), লর্ডসভা (House of Lords) এবং কমন্সসভা (House of Commons)।
- ব্রিটেনের শাসনতান্ত্রিক নিয়মানুযায়ী, পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত এবং ভেঙে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা একমাত্র রাজা বা রানির হাতে ন্যস্ত।
- লর্ডসভা হলো ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ এবং পার্লামেন্টের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই এর সভা আহ্বান ও সমাপ্তি ঘোষণা করার অধিকার রাজা বা রানির
- মূলত ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় এটি একটি রাজকীয় বিশেষাধিকার (Royal Prerogative), যা সাংবিধানিকভাবে কেবল রাজা বা রানিই প্রয়োগ করে থাকেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- "The Government of the United States" গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডব্লিউ. বি. মুনরো (W. B. Munro)
- এই গ্রন্থে তিনি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা, সাংবিধানিক রীতিনীতি এবং রাজনৈতিক কাঠামোর বিস্তারিত ও বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।
- তুলনামূলক রাজনীতি (Comparative Politics) এবং সরকার ব্যবস্থা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে মুনরো (Munro) অন্যতম একজন পথিকৃৎ ও প্রামাণ্য লেখক হিসেবে পরিচিত ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ব্রিটিশ সংবিধান মূলত অলিখিত, যা কোনো নির্দিষ্ট গণপরিষদ কর্তৃক একক সময়ে গ্রন্থিত বা লিখিত হয়নি বরং দীর্ঘ ঐতিহাসিক ক্রমবিবর্তন, প্রথা, রীতিনীতি, ঐতিহাসিক দলিল ও বিচারালয়ের রায়ের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
- এই শাসনব্যবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে। এর অর্থ হলো, রাজা বা রানি রাষ্ট্রের নামমাত্র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু প্রকৃত শাসন ক্ষমতা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত পার্লামেন্ট বা মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- জাপানের বর্তমান বা যুদ্ধোত্তর শান্তিবাদী সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে, ১৯৪৭ সালে কার্যকর হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন মিত্রবাহিনীর (বিশেষ করে জেনারেল ডগলাস ম্যাকআর্থারের) তত্ত্বাবধানে এই সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল।
- এই সংবিধানটি মূলত ৩ নভেম্বর, ১৯৪৬ সালে প্রণীত বা গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে জাপানে সম্রাটভিত্তিক নিরঙ্কুশ শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সূচনা হয়।
- এটিকে 'শান্তি সংবিধান' বা Peace Constitution বলা হয়, কারণ এই সংবিধানের বিখ্যাত ৯নং অনুচ্ছেদে (Article 9) জাপান আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধকে চিরতরে পরিহার করার এবং সামরিক বাহিনী সংরক্ষণের অধিকার ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- দেং জিয়াওপিং (Deng Xiaoping) ছিলেন গণচীনের অন্যতম প্রধান সংস্কারবাদী নেতা, যিনি ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে 'সমাজতন্ত্রের চীনা বৈশিষ্ট্য' (Socialism with Chinese characteristics) নামক মতবাদ বা তত্ত্বটি প্রবর্তন করেন ।
- এই তত্ত্বটির মূল ভিত্তি হলো— মার্কসবাদ ও সমাজতন্ত্রের আদর্শকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ঠিক রেখে চীনের নিজস্ব আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মুক্ত বাজার অর্থনীতির সমন্বয় ঘটানো (উৎসগুলোতে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা না থাকায় আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে যুক্ত করা হলো)।
- মাও সে তুং-এর মৃত্যুর পর চীনের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে তিনি এই বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সমাজতন্ত্র মানেই শুধু সমবণ্টন নয়, বরং উৎপাদন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ উন্নয়ন করা। তাই তিনি কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং সীমিত ব্যক্তি উদ্যোগকে উৎসাহিত করেন।
- অন্যান্য অপশনগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মাও সে তুং হলেন ১৯৪৯ সালে গণচীনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রধান রূপকার ।
- অন্যদিকে চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মূলত 'চায়না ড্রিম' (China Dream) বা চীনা স্বপ্নের ধারণা প্রবর্তনের জন্য পরিচিত ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা (USA) মোট ৫০টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে গঠিত ।
- এটি মূলত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার দেশ, যেখানে এই অঙ্গরাজ্যগুলো একত্রে মিলে একটি বৃহৎ রাষ্ট্র গঠন করেছে ।
- উদাহরণস্বরূপ, নিউইয়র্ক আলাদা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নয়, বরং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে অন্যতম একটি ।
- যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, নিউজার্সি, টেক্সাস ইত্যাদি ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'বিল অব রাইটস' (Bill of Rights) বা অধিকারের বিল হলো ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক আইনসংক্রান্ত বিষয়ে পার্লামেন্টের প্রাধান্য স্বীকৃত একটি ঐতিহাসিক বিধিবদ্ধ আইন ।
- ১৬৮৮ সালের ইংল্যান্ডের গৌরবময় বিপ্লব বা রক্তপাতহীন বিপ্লবের (Bloodless Revolution) পর রাজা ও পার্লামেন্টের মধ্যকার দীর্ঘ দ্বন্দ্ব নিরসনের উদ্দেশ্যে এই আইনটি সম্পাদিত হয় ।
- রাজতন্ত্রের ওপর পার্লামেন্টের একক অধিকার ও শাসনতান্ত্রিক প্রাধান্য সুনিশ্চিত করতে ১৬৮৯ খ্রিস্টাব্দে এই ঐতিহাসিক 'বিল অব রাইটস' অনুমোদিত হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ভেটো (Veto) শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো 'মানি না'
- ভেটো বলতে মূলত আইনসভার কোনো প্রস্তাব বা বিলকে রহিত বা বাতিল করার পদ্ধতিকে বোঝানো হয় ।
- রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি ভেটো (Veto) ক্ষমতা প্রয়োগ করে আইনসভার পাস করা কোনো আইন বা বিলকে বাতিল করতে পারেন
- এছাড়াও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদেরও কোনো প্রস্তাব নাকচ করে দেবার ক্ষমতা বা ভেটো (Veto) ক্ষমতা রয়েছে ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'The State in Capitalist Society' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন র‍্যালফ মিলিব্যান্ড (Ralph Miliband)
- সনাতন তুলনামূলক রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থার আলোচনার বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান ।
- (উৎস বহির্ভূত তথ্য) প্রখ্যাত মার্কসবাদী তাত্ত্বিক র‍্যালফ মিলিব্যান্ড এই গ্রন্থে আলোচনা করেছেন কীভাবে একটি পুঁজিবাদী সমাজে রাষ্ট্রযন্ত্র মূলত পুঁজিপতি বা শাসক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- কেইট মিলেট (Kate Millet) ১৯৬৮ সালে 'Sexual Politics' নামক বিখ্যাত গ্রন্থটি রচনা করেন ।
- এই বইতে তিনি রাজনীতিকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন, "power structured relationships, arrangements, whereby one group of persons is controlled by another" ।
- নারীবাদী রাজনৈতিক গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্তরের সাথে সামাজিক স্তরের মধ্যকার বিভাজনটি এই গ্রন্থে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং সমাজে নারী-পুরুষের ক্ষমতা কাঠামোর বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ফরাসি দার্শনিক টকভিল তার বিখ্যাত গ্রন্থ "Democracy in America" রচনা করেন ।
- এই গ্রন্থে তিনি মূলত মার্কিন গণতন্ত্রের ভাবনার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মন্তেস্কুর চিন্তাকে আরও পরিপুষ্ট করেছেন ।
- তার এই গ্রন্থে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, নাগরিক সমাজ হলো এমন এক পরিসর যার অবস্থান পরিবার ও রাষ্ট্রের মধ্যবর্তী স্থানে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৯৩ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক রবার্ট প্যাটনাম তাঁর লিখিত “Making Democracy Work” গ্রন্থে নাগরিক সমাজ প্রসঙ্গে “Social Capital” বা সামাজিক পুঁজির ধারণা প্রদান করেন।
- এই গ্রন্থে তিনি দেখিয়েছেন যে, কোনো একটি দেশের নাগরিক সমাজ সেই দেশের গণতন্ত্রকে কীভাবে আরও সক্রিয় করে তোলে।
- প্যাটনামের মতে, এই ধরনের সমাজেই একমাত্র প্রকৃত গণতন্ত্র গড়ে ওঠা সম্ভব এবং এই সমাজে জনগণের সঙ্গে সরকারের এক পারস্পরিক বিশ্বাসের ধারণা গড়ে ওঠে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'The Civic Culture' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জি. এ. অ্যালমন্ড এবং সিডনি ভারবা
- ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত এই বিখ্যাত গ্রন্থে অ্যালমন্ড ও ভার্বা কাঠামোগত-কার্যগত দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিভিন্ন রূপকে তাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ।
- তুলনামূলক রাজনীতির আলোচনায় আচরণবাদী এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি সংক্রান্ত বিশ্লেষণে এই গ্রন্থটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
- অন্যদিকে, অপশনের অন্যান্য চিন্তাবিদদের মধ্যে ডেভিড ইস্টন-এর বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'The Political System' যা ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ।
- কার্ল মার্কস এবং ফ্রেডরিক এঙ্গেলস যৌথভাবে রচনা করেছেন বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Communist Manifesto'
- রবার্ট প্যাটনাম তাঁর 'Making Democracy Work' গ্রন্থে মূলত সামাজিক পুঁজি (Social Capital) এবং নাগরিক সমাজ নিয়ে আলোচনা করেছেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইমানুয়েল ওয়ালারস্টেইনের বিশ্ব-ব্যবস্থা তত্ত্ব (World-System Theory) বিশ্ব ইতিহাস ও সামাজিক পরিবর্তন ব্যাখ্যার একটি সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গি ।
- এই তত্ত্ব অনুসারে আধুনিক বিশ্বব্যবস্থা বা বিশ্ব-অর্থনীতি মূলত তিনটি অঞ্চলে বা এলাকায় বিভক্ত, যথা: কেন্দ্র (Core), আধা-প্রান্ত (Semi-periphery) এবং প্রান্ত (Periphery)
- কেন্দ্র এলাকাগুলি (Core): এগুলো হলো অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী উন্নত দেশসমূহ, যাদের সুদৃঢ় সরকার ও আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে এবং যারা মূলত শিল্পজাত পণ্য উৎপাদন করে ।
- প্রান্ত এলাকাগুলি (Periphery): এগুলো মূলত দুর্বল সরকার পরিচালিত অনুন্নত অঞ্চল, যারা অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর এবং কাঁচামাল সরবরাহের মাধ্যমে কেন্দ্রের শোষণের শিকার হয় ।
- আধা-প্রান্ত এলাকাগুলি (Semi-periphery): এগুলো কেন্দ্র এবং প্রান্ত এলাকার মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকে, যাদের অর্থনীতি আংশিক শিল্পায়িত এবং যারা প্রান্ত ও কেন্দ্র উভয়ের সাথেই বাণিজ্য করে ।
- বিশ্ব-ব্যবস্থা হলো মূলত এই কেন্দ্র, আধা-প্রান্ত ও প্রান্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে ত্রিপাক্ষিক শ্রমবিভাজন ব্যবস্থার প্রকাশ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৪৯ সালে হ্যান্স সিঙ্গার (Hans Singer) ও রাউল প্রেবিশ (Raul Prebish)-এর লেখনী এবং গবেষণার মাধ্যমে সনাতনী নির্ভরতা তত্ত্বের (Classical Dependency Theory) সূত্রপাত ঘটে ।
- এই তত্ত্বের মূল স্রষ্টা রাউল প্রেবিশ ছিলেন একজন আর্জেন্টিনীয় অর্থনীতিবিদ এবং সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ল্যাটিন আমেরিকার জন্য কমিশন (United Nations Commission for Latin America)-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ।
- সনাতনী নির্ভরতা তত্ত্বের উদ্ভব ঘটে তৃতীয় বিশ্বে, বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকায়। তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবনতি এবং উন্নত দেশগুলোর (পশ্চিমা বিশ্বের) উপর তাদের নির্ভরশীলতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়েই তিনি এই তত্ত্বের অবতারণা করেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭০ সালে ইমানুয়েল ওয়ালারস্টেইন (Immanuel Wallerstein)-এর হাত ধরে বিশ্ব-ব্যবস্থা তত্ত্বের (World-System Theory) উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে ।
- এই তত্ত্ব অনুসারে সমগ্র বিশ্বকে একটি অখণ্ড অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা বিশ্ব-অর্থনীতি হিসেবে গণ্য করা হয়, যা মূলত কেন্দ্র (Core), আধা-প্রান্ত (Semi-periphery) এবং প্রান্ত (Periphery)—এই তিনটি এলাকায় বিভক্ত ।
- ওয়ালারস্টাইনের মতে, বিশ্ব-অর্থনীতির এই ব্যবস্থায় প্রান্ত বা অনুন্নত, দরিদ্র ও কাঁচামাল রপ্তানিকারী দেশগুলো থেকে উদ্বৃত্ত সম্পদ বা মূল্য শোষণ করে উন্নত বা কেন্দ্র দেশগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় ।
- তাঁর এই তত্ত্বটি মূলত অ্যানালেস স্কুল (Annales School), মার্কসবাদ এবং নির্ভরতা তত্ত্বের দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত হয়েছে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- তুলনামূলক রাজনীতি চর্চায় কাঠামো-কার্যগত দৃষ্টিভঙ্গির (Structure-Functional Approach) সঙ্গে প্রধানত গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ডের (Gabriel Almond) নাম যুক্ত ।
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড এবং বিংহ্যাম পাওয়েল (Bingham Powell) যৌথভাবে তাঁদের 'Comparative Politics: A Developmental Approach' (১৯৬৬) গ্রন্থে এই কাঠামো-কার্যগত দৃষ্টিভঙ্গির পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছেন ।
- এছাড়াও জেমস কোলম্যানের সাথে যৌথভাবে লেখা 'Politics of Developing Areas' (১৯৬০) গ্রন্থে অ্যালমন্ড উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনীতি গভীরভাবে বোঝার জন্য রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাঠামো ও কার্যপ্রণালীর আলোচনা করেছেন ।
- অন্যদিকে, অপশনে থাকা ডেভিড ইস্টনের নাম মূলত 'ব্যবস্থাপক দৃষ্টিভঙ্গি' (System Approach)-এর সাথে যুক্ত এবং ট্যালকট পারসন্সের নাম কাঠামো-কার্যবাদের পূর্বসূরী বা সমাজতাত্ত্বিক প্রবক্তা হিসেবে যুক্ত । তাই তুলনামূলক রাজনীতির ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'The Political System' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডেভিড ইস্টন (David Easton)
- এই বিখ্যাত গ্রন্থটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমেই তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তাঁর বিখ্যাত 'ব্যবস্থাপক তত্ত্ব' (System Theory) প্রাথমিকভাবে উপস্থাপন করেন, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আধুনিক আলোচনায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে ।
- ডেভিড ইস্টন এই গ্রন্থে রাজনীতি বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে সমাজের 'মূল্যের কর্তৃত্বসম্পন্ন বরাদ্দ' (Authoritative allocation of values) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডেভিড ইস্টন (David Easton) রাজনীতি বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় একে "মূল্যের কর্তৃত্বসম্পন্ন বরাদ্দ" (Authoritative allocation of values) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁর মতে, রাজনীতি হলো সমাজের সেই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সমাজে কাঙ্ক্ষিত বস্তুর (মূল্য বা value) বরাদ্দ হয়ে থাকে। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে সমাজের সকলেই মেনে নিতে বাধ্য থাকে।
- ডেভিড ইস্টন আরও উল্লেখ করেন যে, মূল্যের এই কর্তৃত্বসম্পন্ন বরাদ্দটি মূলত সমাজে ক্ষমতার বণ্টন ও প্রয়োগের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে।
- রাজনীতি অধ্যয়নের ক্ষেত্রে ইস্টনের এই ধারণাটি ব্যবস্থাপক দৃষ্টিভঙ্গি (System Approach) বা আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়, যা তাঁর 'The Political System' (১৯৫৩) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনসভার ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে, এর মধ্যে জাপানের আইনসভার নাম হলো ডায়েট (Diet)
- অপশনে থাকা কংগ্রেস (Congress) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বা আমেরিকার আইনসভার নাম ।
- পার্লামেন্ট (Parliament) হলো গ্রেট ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্যের আইনসভার নাম ।
- এছাড়া নেসেট (Knesset) হলো ইসরায়েলের আইনসভার নাম (তথ্যটি সোর্সে না থাকায় নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে যুক্ত করা হলো)।
- তাই অন্যান্য অপশনগুলো বাদ দিয়ে জাপানের আইনসভা হিসেবে সঠিক উত্তর হবে ডায়েট
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গণচীনের সংবিধানে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (National People's Congress)-কে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী এবং সর্বোচ্চ আইনসভা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ।
- এটি চীনের এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা, যা রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, সংবিধান সংশোধন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ বা অপসারণের ক্ষমতা রাখে।
- অপশনগুলোর মধ্যে স্টেট কাউন্সিল হলো চীনের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক বা নির্বাহী বিভাগ এবং সুপ্রিম পিপলস কোর্ট হলো সর্বোচ্চ বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান ।
- অন্যদিকে, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি হলো চীনের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান নীতিনির্ধারণী ফোরাম। দলীয় দিক থেকে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও সাংবিধানিক ও কাঠামোগতভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও আইন প্রণয়নের বৈধ অধিকার ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের হাতেই ন্যস্ত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গণচীনের বর্তমান সংবিধানটি ১৯৮২ সালে কার্যকর হয়, যা দেশটির চতুর্থ সংবিধান
- এর পূর্বে দেশটিতে ১৯৫৪, ১৯৭৫ এবং ১৯৭৮ সালে আরও তিনটি সংবিধান প্রণীত ও কার্যকর হয়েছিল।
- তৎকালীন চীনা নেতা দেং শিয়াওপিং-এর নেতৃত্বে আধুনিক চীনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপরেখা প্রণয়নের জন্য ১৯৮২ সালের সংবিধানে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়, যা অদ্যাবধি দেশটিতে বলবৎ রয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির কার্যকাল বা মেয়াদকাল ৪ বছর
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন না, বরং তিনি ইলেক্টোরাল কলেজ (Electoral college) নামক একটি নির্বাচনী সংস্থা দ্বারা নির্বাচিত হন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার নাম কংগ্রেস (Congress)
- এই আইনসভা দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত, যার উচ্চকক্ষের নাম সিনেট (Senate) এবং নিম্নকক্ষের নাম প্রতিনিধি সভা (House of Representatives)
- কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ১০০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভার বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৪৩৫ জন
- অন্যদিকে অপশনে থাকা লর্ডসভা ও কমনস সভা হলো গ্রেট ব্রিটেনের আইনসভা পার্লামেন্ট (Parliament)-এর যথাক্রমে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বিশ্বের সর্বপ্রাচীন লিখিত সংবিধান হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান
- ১৭৮৭ সালে জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ফিলাডেলফিয়া সম্মেলনে এই সংবিধান গৃহীত হয় ।
- পরবর্তীতে ১৭৮৯ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই লিখিত সংবিধানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর বা চালু করা হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট বা আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। এর উচ্চকক্ষের নাম লর্ডসভা (House of Lords) এবং নিম্নকক্ষের নাম কমনস সভা বা হাউস অফ কমন্স (House of Commons) ।
- কমনস সভা জনপ্রতিনিধিমূলক কক্ষ, যার বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৬৫০ জন এবং এটি ব্রিটিশ মন্ত্রিসভাকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ।
- পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বিতীয় কক্ষ বা উচ্চকক্ষ হিসেবে পরিচিত হলো ব্রিটেনের লর্ডসভা
- অপশনে উল্লেখিত সিনেট (Senate) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা বা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ এবং প্রতিনিধি সভা (House of Representatives) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বিখ্যাত 'The English Constitution' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন ইংরেজ সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ওয়াল্টার বেজহট (Walter Bagehot) ।
- তিনি তাঁর এই গ্রন্থে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থা, কেবিনেট এবং রাজতন্ত্রের বাস্তব রূপ চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ব্রিটিশ জনগণের এক বিশেষ মনস্তত্ত্বই ওই দেশে নিয়মতান্ত্রিক সরকারের সাফল্যের মূল কারণ
- অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
- এ. ভি. ডাইসি: তিনি আইনের অনুশাসন (Rule of Law) তত্ত্বের প্রবক্তা এবং তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'Introduction to the Law of the Constitution'
- জন স্টুয়ার্ট মিল: তিনি ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদের অন্যতম প্রবক্তা। তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে 'On Liberty' এবং 'Principles of Political Economy' অন্যতম ।
- টমাস হবস: সার্বভৌমের চরম ও অবাধ ক্ষমতার প্রবক্তা এই ব্রিটিশ দার্শনিকের জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'The Leviathan'
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৬৮৮ সালে ব্রিটেনে যে ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত হয়, তা গৌরবময় বিপ্লব (Glorious Revolution) নামে পরিচিত ।
- বিনা রক্তপাতে বা বিনাযুদ্ধে এই বিপ্লব সংঘটিত এবং সফল হয়েছিল বলে একে 'রক্তপাতহীন বিপ্লব' (Bloodless Revolution)-ও বলা হয়ে থাকে ।
- প্রখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক জন লক (John Locke) ১৬৮৮ সালের এই গৌরবময় বিপ্লব বা রক্তহীন বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন ।
- এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ব্রিটেনে জাতি ও জাতীয়তাবাদী ধারণার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১২১৫ সালের ১৫ জুন ইংল্যান্ডের রানিমিড প্রান্তরে ঐতিহাসিক ম্যাগনাকার্টা (Magna Carta) চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ।
- এই চুক্তিটি মূলত ইংল্যান্ডের রাজা জন ও ব্যারনদের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল, যেখানে ব্যারনরা রাজার ওপর চাপ প্রয়োগ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধিকারের দাবি আদায় করে নেন ।
- এই সনদের মাধ্যমে ব্রিটিশ জনগণ অত্যাচারী রাজাগণের স্বেচ্ছাচরিতা থেকে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করে এবং সংবিধানে রাজার অনুমোদন আদায় করে ।
- ম্যাগনাকার্টাকে মহাসনদ নামেও অভিহিত করা হয়, যা ব্রিটিশ সাংবিধানিক ইতিহাসের একটি অন্যতম ভিত্তি ।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0