নির্বাচিত চিন্তাবিদগণ (30 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'Das kapital' বা 'ডাস ক্যাপিটাল' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন কার্ল মার্কস (Karl Marx)
- আধুনিক রাষ্ট্রনৈতিক ও অর্থনৈতিক চিন্তাজগতে কার্ল হেনরিখ মার্কসের (১৮১৮-১৮৮৩) অবদান এক অবিস্মরণীয় বিষয় ।
- মার্কসের রাষ্ট্রের প্রকৃতিসংক্রান্ত ধারণা মূলত তাঁর 'Das Capital' এবং 'Communist Manifesto'—এই দুইটি বিখ্যাত গ্রন্থে পাওয়া যায় ।
- এই গ্রন্থগুলোতে তিনি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা, শ্রেণিসংগ্রাম এবং বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের তাত্ত্বিক ভিত্তি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- কার্ল মার্কস-কে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক বলা হয়, কারণ তিনিই প্রথম লেখক যিনি সমাজতন্ত্রবাদের বৈজ্ঞানিক এবং বাস্তবানুগ ব্যাখ্যা প্রদান করেন ।
- তাঁর পূর্বে রবার্ট ওয়েন, সেন্ট সাইমন এবং চার্লস ফুরিয়ার প্রমুখ চিন্তাবিদগণ সমাজতন্ত্রের কথা বললেও তাঁদের ধারণা ছিল মূলত বাস্তবতাবিবর্জিত বা কাল্পনিক সমাজতন্ত্র
- ফ্রেডরিক এঙ্গেলস ছিলেন মার্কসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, তাঁরা যৌথভাবে বিখ্যাত 'Communist Manifesto' গ্রন্থ রচনা করেন । কিন্তু মার্কস তাঁর 'Das Capital' গ্রন্থ এবং অন্যান্য রচনার মাধ্যমে সমাজতন্ত্রকে কল্পনার জগত থেকে বের করে এনে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তব কাঠামোর ওপর দাঁড় করান ।
- তিনি শ্রেণিসংগ্রাম, উদ্বৃত্ত মূল্যতত্ত্ব এবং ইতিহাসের অর্থনৈতিক ব্যাখ্যার মতো বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলে ধরেন যে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতন এবং সমাজতন্ত্রের উত্থান একটি ঐতিহাসিক অনিবার্যতা । এই বস্তুনিষ্ঠ ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যার কারণেই তাঁকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'On Liberty' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন ঊনবিংশ শতকের বিখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল (J. S. Mill) [1-3]।
- এই গ্রন্থের মূল আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের স্বাধীনতা বা ব্যক্তিস্বাধীনতা
- জন স্টুয়ার্ট মিল এবং আধুনিক কালে বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন ব্যক্তি স্বাধীনতার বিখ্যাত সমর্থক
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ (Individualism) ও ব্যক্তি স্বাধীনতার স্বপক্ষে মিলের এই গ্রন্থটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা হিসেবে স্বীকৃত ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো তাঁর বিখ্যাত 'The Social Contract' গ্রন্থে সাধারণ ইচ্ছা বা General Will-এর ধারণা প্রদান করেছেন ।
- তাঁর মতে, সাধারণ ইচ্ছা দুই প্রকার
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আদর্শবাদীদের আলোচনায় রুশোর এই ধারণার ভিত্তিতে মানুষের ইচ্ছাকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়— প্রকৃত ইচ্ছা (Real will) এবং বাস্তব ইচ্ছা (Actual will)
- বাস্তব ইচ্ছা (Actual Will): এটি হলো মানুষের আবেগতাড়িত, তাৎক্ষণিক ও স্বার্থপর ইচ্ছা, যেখানে কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের কথাই চিন্তা করা হয়।
- প্রকৃত ইচ্ছা (Real Will): এটি হলো মানুষের যুক্তিনির্ভর, নিঃস্বার্থ ও কল্যাণকামী ইচ্ছা, যা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের বৃহত্তর কল্যাণের সাথে সম্পর্কিত।
- রুশোর মতে, জনগণ যখন নিজ নিজ ব্যক্তিসত্তা ও স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সমাজের সার্বিক কল্যাণের জন্য এক যৌথ সত্তার সৃষ্টি করে, সেই যৌথ সত্তার কল্যাণকামী ইচ্ছাই হলো সাধারণ ইচ্ছা
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- "Man is born free but everywhere he is in chains" (মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন, কিন্তু সর্বত্রই সে শৃঙ্খলিত) উক্তিটি বিখ্যাত ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাকুয়েশ রুশোর [1-3]।
- রুশো তাঁর বিখ্যাত 'Social Contract' বা সামাজিক চুক্তি মতবাদে এই ধারণাটি বিশদভাবে তুলে ধরেছেন ।
- তাঁর মতে, প্রাকৃতিক রাজ্যে মানুষের জীবন ছিল আদর্শ এবং মর্ত্যের স্বর্গের মতো, যেখানে মানুষ ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং সেখানে অবাধ সাম্য বিরাজ করত ।
- পরবর্তীতে সমাজ সৃষ্ট কৃত্রিম বন্ধনের কারণে মানুষের এই জন্মগত স্বাধীনতা খর্ব হয় এবং মানুষ শৃঙ্খলিত হয়ে পড়ে ।
- রুশো মনে করেন, এই অসহনীয় অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যই মানুষ নিজেদের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করে, যার ফলে মানুষ তার স্বাভাবিক স্বাধীনতা হারায় ঠিকই, কিন্তু এর পরিবর্তে সামাজিক স্বাধীনতা লাভ করে ।
- রুশোর এই অধিকারসচেতন উক্তিটি সেসময়কার সমাজব্যবস্থার মূলে চরম আঘাত হেনেছিল এবং ঐতিহাসিক ফরাসি বিপ্লবকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র ছিল সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা
- বিখ্যাত ফরাসি দার্শনিক জঁ জ্যাঁক রুশো-এর চিন্তাধারা এবং তাঁর লেখা 'Social Contract' গ্রন্থটি এই বিপ্লবকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল ।
- ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্রান্সে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং মানুষের সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার বাণী ঘোষিত হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- জন লক রচিত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো 'Two Treatises on Civil Government'
- এই বিখ্যাত গ্রন্থটি ১৬৯০ সালে প্রকাশিত হয় ।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানে লকের এই গ্রন্থটিকে 'উদারতাবাদের বাইবেল' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় ।
- এই গ্রন্থে তিনি সামাজিক চুক্তি মতবাদ ব্যাখ্যা করে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের সমর্থন করেন এবং উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রশক্তি মূলত শাসিতের ইচ্ছার উপর প্রতিষ্ঠিত ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইংরেজ দার্শনিক জন লক-কে আধুনিক নিয়মতান্ত্রিক সংসদীয় সরকার বা আধুনিক গণতন্ত্রের জনক বলা হয়।
- তিনি ১৬৮৮ সালের ইংল্যান্ডের 'গৌরবময় বিপ্লব' বা 'রক্তহীন বিপ্লবের' অন্যতম সমর্থক ছিলেন এবং এর মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের সমর্থন করেন ।
- লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রশক্তি শাসিতের ইচ্ছার বা সম্মতির উপর প্রতিষ্ঠিত । জনগণ চুক্তির মাধ্যমে সরকারের কাছে ক্ষমতা অর্পণ করে এই শর্তে যে, সরকার মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো রক্ষা করবে ।
- শাসক বা সরকার যদি জনগণের ন্যস্ত অধিকারগুলো রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে চুক্তি ভঙ্গ হওয়ার কারণে সেই সরকারকে সিংহাসনচ্যুত বা বাতিল করার আইনসঙ্গত অধিকার জনগণের হাতে থাকে ।
- লক শাসনকার্যে জনগণের ক্ষমতা এবং 'সাধারণের সম্মতি'র (Theory of Consent) তত্ত্বকে রাজনীতিতে স্থায়ী রূপ দিয়েছেন । মূলত শাসিতের সম্মতিভিত্তিক সরকার এবং নিয়মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার তাত্ত্বিক রূপরেখা প্রণয়ন করার কারণেই তাকে আধুনিক সংসদীয় গণতন্ত্রের পথিকৃৎ বা জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- উক্তিটি সপ্তদশ শতাব্দীর বিখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক টমাস হবস্-এর ।
- তিনি তাঁর বিখ্যাত 'Leviathan' (১৬৫১) গ্রন্থে রাষ্ট্রের উৎপত্তির পূর্বে মানুষের প্রাকৃতিক রাজ্যের (State of Nature) অবস্থা বোঝাতে এই উক্তিটি করেছেন ।
- হবসের মতে, প্রাকৃতিক রাজ্যে মানুষ স্বভাবতই ছিল স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক এবং ক্ষমতালিপ্সু
- সেখানে স্বার্থসাধনের প্রবৃত্তি এবং ক্ষমতার লোভের কারণে প্রাকৃতিক রাজ্য পারস্পরিক বিবাদ ও বিরোধ, সংঘাত ও সংঘর্ষের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছিল ।
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার করার কোনো উপায় না থাকায় মানুষের জীবন হয়ে পড়েছিল চরম নিরাপত্তাহীন, আর এ কারণেই হবস সেই জীবনকে "নিঃসঙ্গ, দরিদ্র, বিশ্রী/কদর্য, পাশবিক ও স্বল্প/ক্ষণস্থায়ী" (Solitary, poor, nasty, brutish and short) বলে বর্ণনা করেছেন ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রখ্যাত 'লেভিয়াথান' (Leviathan) গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন সপ্তদশ শতাব্দীর ইংরেজ দার্শনিক টমাস হবস্ (Thomas Hobbes)
- এই বিখ্যাত গ্রন্থটি ১৬৫১ সালে প্রকাশিত হয়, যা তৎকালীন রাষ্ট্রনৈতিক চিন্তাজগতে বিরাট আন্দোলন সৃষ্টি করেছিল ।
- টমাস হবস্ ছিলেন স্টুয়ার্ট রাজবংশের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের গৃহশিক্ষক ।
- টমাস হবসের লেখা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো- De-Cive, The Elements of Laws এবং De Homine
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Prince'-এ শাসকের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে আলোচ্য উক্তিটি করেছেন ।
- তাঁর মতে, একজন শাসককে সফলভাবে রাজ্য পরিচালনা করতে এবং ক্ষমতা ধরে রাখতে একই সাথে সিংহের মতো বলবান বা সাহসী এবং শৃগাল বা শেয়ালের মতো ধূর্ত হতে হবে ।
- ইতালীয় এই চিন্তানায়ক সর্বপ্রথম নীতিশাস্ত্র ও ধর্মের প্রভাব থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে মুক্ত করে বাস্তববাদী রাজনীতির ভিত্তি গড়েন ।
- ম্যাকিয়াভেলিকে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক বলা হয়, কারণ তিনি রাজনৈতিক চিন্তায় কল্পনার বা আদর্শের চেয়ে বাস্তব প্রয়োজনীয়তা ও ক্ষমতার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইতালির প্রখ্যাত চিন্তানায়ক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয় । তাঁর রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'The Prince' (দ্য প্রিন্স), যেখানে তিনি রাষ্ট্রনৈতিক চিন্তায় বাস্তব প্রয়োজনীয়তাকে প্রাধান্য দিয়েছেন [2-4]।
- লেভিয়াথান (Leviathan) গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন সপ্তদশ শতাব্দীর ইংরেজ দার্শনিক টমাস হবস (Thomas Hobbes), যা ১৬৫১ সালে প্রকাশিত হয় ।
- দ্য সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট (The Social Contract) বা সামাজিক চুক্তি গ্রন্থটি ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau) ১৭৬২ সালে প্রকাশ করেন ।
- টু ট্রিটিজেস অন সিভিল গভর্নমেন্ট (Two Treatises on Civil Government) গ্রন্থটি ১৬৯০ সালে ইংরেজ দার্শনিক জন লক (John Locke) রচনা করেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইতালীয় চিন্তানায়ক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি সর্বপ্রথম ধর্ম ও নৈতিকতার প্রভাব থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করেন।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগে রাষ্ট্রচিন্তা ধর্ম এবং নীতিশাস্ত্রের সাথে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। ম্যাকিয়াভেলিই সর্বপ্রথম রাজনীতিকে নীতিশাস্ত্রের কবল থেকে মুক্ত করে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রের মর্যাদা দান করেন।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Prince'-এ তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির অবতারণা করেন। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত নীতিবোধ এবং রাষ্ট্রনৈতিক নীতিবোধের মধ্যে পার্থক্য আছে।
- তিনি মনে করতেন, ধর্ম ও নীতি রাষ্ট্রের প্রভু নয়, নির্ভরযোগ্য পথপ্রদর্শকও নয়; বরং উহারা রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ভৃত্য বা হাতিয়ার মাত্র। রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখা এবং এর স্বার্থ রক্ষাই হলো শাসকের প্রধান লক্ষ্য।
- ধর্ম ও নৈতিকতাকে রাজনীতি থেকে পৃথক করে রাষ্ট্রচিন্তায় সম্পূর্ণ বাস্তবধর্মী ও ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারার সূত্রপাত করার জন্যই তাঁকে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইতালির দার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি-কে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক বলা হয় ।
- তিনি মধ্যযুগের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার হন এবং নীতিশাস্ত্র ও ধর্মের কবল থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে মুক্ত করে একটি পৃথক শাস্ত্রের মর্যাদা দেন ।
- ম্যাকিয়াভেলি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Prince'-এ রাজনৈতিক চিন্তায় আদর্শবাদের পরিবর্তে বাস্তব প্রয়োজনীয়তাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন ।
- তিনি রাষ্ট্রকে দৈব বা প্রাকৃতিক আইনের আওতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করেন এবং রাষ্ট্রকেই সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করেন ।
- মূলত তাঁর এই বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনীতিকে ধর্ম ও নৈতিকতা থেকে আলাদা করার যুগান্তকারী চিন্তাধারার জন্যই তাঁকে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত 'Politics' গ্রন্থে বলেছেন, মানুষ স্বভাবতই রাষ্ট্রনৈতিক প্রাণী বা 'Man is by nature a political being' ।
- তাঁর মতে, রাষ্ট্র হলো একটি স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র গঠনের উপাদান মানুষের স্বভাবের মধ্যেই নিহিত রয়েছে ।
- মানুষ যেহেতু একাকী বা বিচ্ছিন্নভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে না এবং তার সার্বিক বিকাশের জন্য রাষ্ট্র অপরিহার্য, তাই জন্মগতভাবেই মানুষ একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল শাসকের সংখ্যা ও শাসন পরিচালনার উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে সরকারের শ্রেণিবিভাগ করেছেন এবং শাসনব্যবস্থাকে স্বাভাবিক ও বিকৃত—এই দুটি রূপে ভাগ করেছেন ।
- তাঁর মতে, শাসনক্ষমতা যখন বহু ব্যক্তির হাতে থাকে এবং তা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণের পরিবর্তে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে পরিচালিত হয়, তখন সেই বিকৃত রূপটিকে গণতন্ত্র (Democracy) বা জনতাতন্ত্র বলা হয় ।
- এরিস্টটলের দৃষ্টিতে গণতন্ত্র হলো অশিক্ষিত, অজ্ঞ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন জনতার শাসন, তাই তিনি গণতন্ত্রকে সর্বাপেক্ষা খারাপ বা নিকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন , , ।
- তিনি বহু ব্যক্তির স্বাভাবিক শাসনকে 'পলিটি' (Polity) বা মধ্যতন্ত্র নাম দিয়েছেন এবং একে উত্তম সরকার বলেছেন, কিন্তু এরই বিকৃত রূপ হিসেবে গণতন্ত্রকে তীব্র সমালোচনা করেছেন , ।
- যদিও বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র একটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত, কিন্তু প্রাচীনকালের এরিস্টটলের ধারণায় এটি ছিল একটি চরম বিশৃঙ্খল ও নিকৃষ্ট ব্যবস্থা
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের মতে রাষ্ট্রের সর্বোৎকৃষ্ট বা উত্তম সরকার হলো পলিটি (Polity) বা মধ্যতন্ত্র
- এরিস্টটলের সরকার শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, পলিটি হলো মধ্যবিত্তদের দ্বারা পরিচালিত সরকার ব্যবস্থার নাম
- যখন রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা বহু ব্যক্তির হাতে থাকে এবং তা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয় বরং সাধারণের বা সমগ্র সমাজের কল্যাণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়, তখন সেই শাসনব্যবস্থাকে পলিটি বলা হয় ।
- তিনি মনে করতেন, এই শাসনব্যবস্থায় সমাজের চরম ধনী অভিজাত শ্রেণি এবং চরম দরিদ্র শ্রেণির বদলে একটি সুদৃঢ় মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রাধান্য থাকে। ফলে রাষ্ট্রে চরমপন্থা বা বিপ্লবের আশঙ্কা কম থাকে এবং একটি স্থিতিশীল ও বাস্তবসম্মত সুশাসন নিশ্চিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল ১৫৮টি নগররাষ্ট্রের সংবিধান বিশ্লেষণ এবং তুলনামূলক আলোচনা করে সরকারের শ্রেণিবিন্যাস করেছিলেন [1-3]।
- তিনি এই ১৫৮টি দেশের শাসনব্যবস্থাকে তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে অধ্যয়ন করে সাধারণ সিদ্ধান্তে উপনীত হন এবং এর ভিত্তিতেই তার বিখ্যাত সরকারের শ্রেণিবিভাগ তত্ত্ব প্রদান করেন ।
- এছাড়াও এই বিপুল সংখ্যক সংবিধান পর্যালোচনা করেই তিনি রাষ্ট্রের বিপ্লবের কারণ এবং এর প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য আবিষ্কার করেছিলেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- রাষ্ট্রদর্শনে প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল সর্বপ্রথম যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ করেন ।
- তাঁর অনুসৃত এই পদ্ধতিটি মূলত আরোহ বা বাস্তবভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত ।
- এই পদ্ধতিতে পূর্বনির্ধারিত কোনো কাল্পনিক ধারণার ওপর নির্ভর না করে বাস্তব তথ্য ও পর্যবেক্ষণ থেকে বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতার সাহায্যে সাধারণ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় ।
- এরিস্টটল তাঁর গবেষণায় নিছক কল্পনার আশ্রয় না নিয়ে তৎকালীন ১৫৮টি নগররাষ্ট্রের সংবিধান সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তুলনামূলক অধ্যয়নের মাধ্যমে তাঁর সরকারের শ্রেণিবিভাগ ও রাষ্ট্রনৈতিক তত্ত্ব প্রদান করেছিলেন ।
- তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও তুলনামূলক পদ্ধতির মতো মৌলিক বিষয়গুলোর সূত্রপাত করেন বিধায় তাঁর পদ্ধতিকে বাস্তবভিত্তিক বা অভিজ্ঞতামূলক পদ্ধতি বলা হয় ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল জৈব মতবাদের (Organic Theory) আলোকে রাষ্ট্রকে একটি জীবন্ত প্রাণী বা মানবদেহের সাথে তুলনা করেছেন [1-3]।
- এরিস্টটলের মতে, মানবদেহ যেমন বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত, রাষ্ট্রও তেমনি অসংখ্য ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি সামগ্রিক সত্তা ।
- তিনি এই মতবাদের ব্যাখ্যায় বলেছেন, দেহ বিচ্যুত হাত যেমন হাত নয়, সেইরূপ রাষ্ট্রবহির্ভূত ব্যক্তিও ব্যক্তি নয়
- অর্থাৎ, মানবদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে যেমন হাতের বা কোনো অঙ্গের স্বাধীন অস্তিত্ব বা মূল্য থাকে না, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রের বাইরে কোনো ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ অস্তিত্ব বা আত্মবিকাশ লাভ করা সম্ভব নয় ।
- মূলত রাষ্ট্র এবং ব্যক্তির মধ্যকার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা বোঝাতেই তিনি রাষ্ট্রকে মানবদেহের সাথে এবং ব্যক্তিকে সেই দেহের অঙ্গ হিসেবে তুলনা করেছেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- এরিস্টটল হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক, জ্ঞানী-গুণিদের শিরোমণি ও প্রাচীন গ্রিসের অন্যতম প্রধান দার্শনিক ।
- তিনি প্রাচীন গ্রিসের ১৫৮টি নগর-রাষ্ট্রের সংবিধান বিশ্লেষণ এবং তুলনামূলক আলোচনা করে তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন ।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ করার কারণেই মূলত তাঁকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় ।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Politics'-এ তিনি রাষ্ট্রের গঠন, নাগরিকতা, সরকার ব্যবস্থা এবং বিপ্লবের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তি ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর রচনাবলি 'ডায়ালগস' (Dialogues) নামে পরিচিত ।
- তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য ৩টি গ্রন্থের নাম হলো The Republic, The Statesman এবং The Laws
- প্লেটো তাঁর রাজনৈতিক, সামাজিক ও দার্শনিক চিন্তাভাবনাগুলো মূলত বিভিন্ন চরিত্রের মাঝে সংলাপ বা কথোপকথনের আকারে প্রকাশ করেছেন। এই রচনাশৈলীর কারণেই তাঁর লিখিত গ্রন্থ বা রচনাবলিকে একত্রে ডায়ালগস বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গ্রিক দার্শনিক প্লেটো কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নাম হলো একাডেমি (Academy)
- তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৩৮৭ অব্দে এই বিদ্যাপীঠ বা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন ।
- প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে অবস্থিত প্লেটোর এই একাডেমিকে পাশ্চাত্য বিশ্বের প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে দর্শন, গণিত ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাদান করা হতো।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Republic'-এর বিকল্প শিরোনাম হলো 'Concerning Justice' বা 'ন্যায়ধর্ম'
- এই গ্রন্থটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ই হলো ন্যায়বিচার বা ন্যায়ধর্ম তত্ত্ব
- প্লেটো তাঁর রিপাবলিক গ্রন্থে যে আদর্শ রাষ্ট্রের বর্ণনা দিয়েছেন, তা মূলত ন্যায়বিচারের ধারণার মাধ্যমেই চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ 'দ্য রিপাবলিক' (The Republic)-কে সর্বাত্মকবাদের নীল নকশা বলে সমালোচনা করা হয় ।
- এই গ্রন্থে প্লেটো মূলত একটি আদর্শ রাষ্ট্র (Ideal State) গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন, যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ।
- সর্বাত্মকবাদ বা সামগ্রিক রাষ্ট্র (Totalitarian State) হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে মানুষের জীবনের সকল দিক রাষ্ট্র কর্তৃক কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং ব্যক্তির নিজস্ব স্বাধীন সত্তা সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয় ।
- 'দ্য রিপাবলিক' গ্রন্থে প্লেটো তাঁর আদর্শ রাষ্ট্রে দার্শনিক রাজার নিরঙ্কুশ শাসন, নাগরিকদের তিনটি শ্রেণিতে (দার্শনিক, যোদ্ধা ও উৎপাদক শ্রেণি) কঠোর বিভাজন এবং শাসক ও যোদ্ধা শ্রেণির জন্য সম্পত্তি ও নারী বা পরিবারের সাম্যবাদ-এর প্রস্তাব করেছেন, যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থের কোনো স্থান নেই ।
- মানুষের জীবনের ওপর রাষ্ট্রের এই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছা ও অধিকারকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করার তত্ত্ব দেওয়ার কারণেই সমালোচকগণ প্লেটোর এই গ্রন্থটিকে সর্বাত্মকবাদের নীল নকশা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তাঁর 'আদর্শ রাষ্ট্র' (Ideal State) তত্ত্বে নাগরিকদের মানবাত্মার গুণের বা বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রধান তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন ।
- তাঁর মতে মানবাত্মার তিনটি প্রধান অংশ বা গুণ রয়েছে: প্রজ্ঞা বা জ্ঞান (Reason), সাহস বা শৌর্য (Courage) এবং প্রবৃত্তি বা বাসনা (Appetite)
- মানবাত্মার এই তিনটি গুণের ভিত্তিতে প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের তিনটি শ্রেণি হলো: ১. দার্শনিক শ্রেণি, ২. যোদ্ধা শ্রেণি এবং ৩. উৎপাদক শ্রেণি
- সমাজের যেসব মানুষের মাঝে প্রজ্ঞা বা জ্ঞানের আধিক্য থাকে, তারা হবেন রাষ্ট্রের শাসক বা দার্শনিক শ্রেণি
- যাদের মধ্যে সাহস বা শৌর্যের প্রাবল্য বেশি থাকে, তারা হবেন রাষ্ট্রের রক্ষক বা যোদ্ধা শ্রেণি
- অন্যদিকে যাদের মধ্যে প্রবৃত্তি, ক্ষুধা বা জাগতিক বাসনার আধিক্য থাকে, তারা গঠন করবেন উৎপাদক শ্রেণি। এই শ্রেণিতে মূলত কৃষক, কারিগর, ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন।
- সুতরাং, প্লেটোর শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী উৎপাদক শ্রেণি প্রবৃত্তির প্রতিনিধিত্ব করে
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থার সর্বশেষ ধাপটির নাম হলো দার্শনিক রাজা
- প্লেটো তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Republic'-এ একটি আদর্শ রাষ্ট্রের (Ideal State) ধারণা দিয়েছেন, আর এই আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলেছেন।
- তাঁর মতে, এই দীর্ঘ শিক্ষাক্রমের বিভিন্ন ধাপে শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে যারা চূড়ান্ত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জন করে সবশেষে উত্তীর্ণ হবেন, তারাই হবেন দার্শনিক রাজা বা আদর্শ রাষ্ট্রের শাসক।
- প্লেটোর এই শিক্ষাব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই হলো রাষ্ট্রের শাসনভার এমন ব্যক্তিবর্গের হাতে অর্পণ করা, যারা প্রজ্ঞাবান এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ বা সম্পত্তির মোহ থেকে মুক্ত থেকে কেবল জনকল্যাণ ও ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করবেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাচীনকালের সর্বাত্মকবাদী দার্শনিক হিসেবে প্লেটোকে আখ্যায়িত করা হয় ।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Republic'-কে অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী 'সর্বাত্মকবাদের নীল নকশা' বলে সমালোচনা করে থাকেন ।
- তিনি তাঁর আদর্শ রাষ্ট্রে ব্যক্তির সকল স্বাধীনতাকে রাষ্ট্রের অধীনস্থ করেছিলেন এবং রাষ্ট্রকে চরম ক্ষমতাশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, যে কারণে তাঁকে সর্বাত্মকবাদের প্রথম প্রবক্তা বলা হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর প্রকৃত বা পুরো নাম ছিল এরিস্টোক্লেস (Aristocles)
- তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৪২৭ অব্দে প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন ।
- প্লেটোকে প্রাচীনকালের সর্বাত্মকবাদী দার্শনিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় ।
- তাঁর রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থের নাম হলো 'The Republic'

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গ্রিক দার্শনিক প্লেটো খ্রিষ্টপূর্ব ৪২৭ অব্দে এথেন্সে জন্মগ্রহণ করেন ।
- প্লেটোর প্রকৃত নাম হলো এরিস্টোক্লেস (Aristocles)
- তাঁকে প্রাচীনকালের সর্বাত্মকবাদী দার্শনিক বলা হয় ।
- তাঁর রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম 'The Republic'
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0