ভারতীয় গণিতবিদরা কোন পদ্ধতিতে স্থানিক মান চালু করেন?
Solution
Correct Answer: Option A
প্রাচীন ভারতীয় গণিতবিদরা গণনার ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন দশমিক (Decimal) স্থানিক মান পদ্ধতির প্রবর্তনের মাধ্যমে।
১. দশমিক পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত মোট ১০টি অঙ্ক বা প্রতীক (০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯) ব্যবহার করা হয়। এই ১০টি প্রতীকের ওপর ভিত্তি করেই একে দশমিক বা 'দশগুণোত্তর' পদ্ধতি বলা হয়।
২. স্থানিক মানের ধারণা: এই পদ্ধতিতে একটি সংখ্যার মান তার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। যেমন- ৫৫৫ সংখ্যাটিতে তিনটি ৫ থাকলেও এদের মান ভিন্ন।
* ডানদিকের প্রথম ৫টির মান = $5 \times 1 = 5$ (একক)
* মাঝখানের ৫টির মান = $5 \times 10 = 50$ (দশক)
* বামদিকের ৫টির মান = $5 \times 100 = 500$ (শতক)
এভাবে ডান থেকে বামে গেলে প্রতিটি স্থানের মান পূর্ববর্তী স্থানের ১০ গুণ হয়।
৩. আর্যভট্ট ও ব্রহ্মগুপ্ত: বিখ্যাত ভারতীয় গণিতবিদ আর্যভট্ট (পঞ্চম শতাব্দী) এবং পরবর্তীতে ব্রহ্মগুপ্ত (সপ্তম শতাব্দী) এই পদ্ধতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে 'শূন্য' (০)-এর ব্যবহার এবং এর গাণিতিক নিয়মাবলী ভারতীয় গণিতবিদরাই প্রথম বিশ্বকে উপহার দেন, যা দশমিক স্থানিক মান ব্যবস্থাকে পরিপূর্ণতা দান করে। পরবর্তীতে আরবীয় বণিক ও গণিতবিদদের মাধ্যমে এই জ্ঞান ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে, যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত।
মনে রাখার উপায় (Short Cut Technique):
যেহেতু আমাদের হাতের আঙুল ১০টি, তাই গণনার আদিম ও সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো ১০ ভিত্তিক বা দশমিক। ভারতীয় ঋষিরা এই প্রাকৃতিক সত্যকেই গাণিতিক রূপ দিয়েছিলেন। তাই মনে রাখবেন: 'ভারতীয় পদ্ধতি = ১০ ভিত্তিক = দশমিক'।