সরকারের অঙ্গসমূহ (30 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আইনের শাসন হলো রাষ্ট্র পরিচালনার এমন একটি বিশেষ নীতি, যেখানে সরকারের সকল প্রকার কার্যকলাপ আইনের অধীনে পরিচালিত হয় এবং সমাজে আইনের স্থান সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকে ।
- বিখ্যাত ব্রিটিশ আইনবিদ এ. ভি. ডাইসি (A. V. Dicey) তাঁর লেখনীর মাধ্যমে আইনের শাসনের এই তত্ত্বটিকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ।
- ডাইসির মতে আইনের শাসনের অন্যতম প্রধান উৎস ও মূল ভিত্তি হলো আইনের চোখে সকলেই সমান এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করা ।
- আইনের শাসনের আরেকটি মৌলিক দিক হলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী বা লিঙ্গ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান চোখে দেখা এবং কাউকে কোনো সুযোগ বা অধিকার থেকে বঞ্চিত না করা ।
- আইনের শাসন অনুযায়ী, স্পষ্টভাবে দেশের প্রচলিত সাধারণ আইন লঙ্ঘন না করলে কাউকেই দৈহিক বা আর্থিকভাবে কোনো প্রকার শাস্তি প্রদান করা বা গ্রেপ্তার করা যাবে না
- এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সমাজে আইনের শাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকারসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনমত হলো শাসনব্যবস্থার প্রাণস্বরূপ এবং বর্তমান সময়ে এই জনমত গঠনে সংবাদপত্র ও প্রথাগত গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী বাহন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ।
- ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (টুইটার) প্রভৃতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে নাগরিকরা অত্যন্ত দ্রুত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেকোনো রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক বিষয়ে নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও মতামত প্রকাশ করতে পারে ।
- রেডিও, টেলিভিশন বা চলচ্চিত্রের মতো একমুখী মাধ্যমের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্বিমুখী তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের সুযোগ থাকায় এটি জনমত গঠনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে ।
- বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যেকোনো সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি এবং অতি দ্রুত জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবচেয়ে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তারকারী মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- জনমত সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানী মরিস জিন্সবার্গ (Morris Ginsberg) মন্তব্য করেছেন, "জনমত হলো বিভিন্ন জনের মতামতের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া (ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া)-র ফলে সৃষ্ট এক সামাজিক ফসল" ।
- ফরাসি দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জঁ জ্যাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Social Contract'-এ জনমত শব্দটির রাজনৈতিক ব্যবহার করেন এবং একে সাধারণ ইচ্ছা (General Will) হিসেবে অভিহিত করেন ।
- বিখ্যাত চিন্তাবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill)-এর ভাষায়, "কোনো সুনির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার ওপর জনগণের সংগঠিত মতামতই হলো জনমত" ।
- মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ভি. ও. কি (V. O. Key)-এর মতে, "ব্যক্তিগোষ্ঠীর মতই জনমত হিসেবে গণ্য হয়, যার গুরুত্ব স্বীকার করে নেওয়াটা সরকার যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করে" ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জঁ জ্যাক রুশো তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'দ্য সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট' (The Social Contract)-এ সর্বপ্রথম জনমত শব্দটির রাজনৈতিক ব্যবহার শুরু করেন।
- তিনি জনমতের এই রাজনৈতিক রূপকে জনগণের 'সাধারণ ইচ্ছা' (General Will) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- রুশোর মতে, এই সাধারণ ইচ্ছা হলো সমাজ বা রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কল্যাণের ইচ্ছা বা যৌক্তিক মতামতের সম্মিলিত প্রকাশ।
- তাঁর রাষ্ট্রদর্শনের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো— পাশবিক শক্তি নয়, বরং জনগণের স্বাধীন ইচ্ছাই হলো রাষ্ট্রের প্রকৃত ভিত্তি।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আভিধানিক অর্থে জনগণের সাধারণ মতামতকে জনমত মনে করা হলেও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে জনমত বলতে মূলত জনগণের সামষ্টিক, সুসংহত ও যুক্তিনির্ভর মতামতকে বোঝায় ।
- এটি কোনো বিষয়ে জনগণের বিক্ষিপ্ত বা বিচ্ছিন্ন মতামত নয়, বরং তা সমাজকল্যাণকামী এবং যুক্তি ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সুসংহত মতামত ।
- জনমতের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সাথে জনকল্যাণ বা জনমঙ্গল জড়িত থাকতে হবে; কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত হলেই তা জনমত হয় না যদি না তাতে জনকল্যাণ নিহিত থাকে ।
- বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায়, "কোনো সুনির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার ওপর জনগণের সংগঠিত মতামতই হলো জনমত" ।
- ফরাসি দার্শনিক রুশো তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'দ্য সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট'-এ জনমত শব্দটির রাজনৈতিক ব্যবহার করে একে 'সাধারণ ইচ্ছা' (General Will) হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কল্যাণের ইচ্ছাকে নির্দেশ করে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন উভয় দেশেই দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা (Two-party system) প্রচলিত রয়েছে ।
- দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলতে এমন রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে ক্ষমতা লাভের জন্য মূলত দুটি সর্ববৃহৎ দলের মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিদ্যমান থাকে ।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল হলো ডেমোক্রেটিক পার্টি (Democratic Party) এবং রিপাবলিকান পার্টি (Republican Party)
- গ্রেট ব্রিটেনের (যুক্তরাজ্য) প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল হলো কনজারভেটিভ পার্টি (Conservative Party) এবং লেবার পার্টি (Labour Party)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের বিপরীতে থাকা প্রধান রাজনৈতিক দলকে বিকল্প সরকার হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল ক্ষমতাসীন দলের কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং নিজেদেরকে যেকোনো সময় দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রাখে।
- ক্ষমতাসীন দল যদি কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় বা পদত্যাগ করে, তবে বিরোধী দলই প্রথম বিকল্প সরকার হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার দাবিদার হয়।
- বিশেষ করে ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দল কর্তৃক গঠিত ছায়া মন্ত্রিসভা (Shadow Cabinet) এই বিকল্প সরকারেরই অন্যতম উদাহরণ।
- সুতরাং, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে বিরোধী দল একটি অপরিহার্য বিকল্প সরকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রত্যক্ষ নির্বাচন হলো এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা যেখানে ভোটার বা নির্বাচকমণ্ডলী সরাসরি নিজেরা ভোট প্রদানের মাধ্যমে আইনসভার প্রতিনিধি বা সদস্য নির্বাচন করেন।
- এই ব্যবস্থায় সাধারণ নাগরিকগণ কোনো মধ্যবর্তী সংস্থা ছাড়াই সরাসরি ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ পান।
- পক্ষান্তরে, ভোটাররা যখন সরাসরি চূড়ান্ত প্রতিনিধি নির্বাচন না করে প্রথমে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচক সংস্থা বা প্রতিনিধি দল নির্বাচন করেন এবং সেই সংস্থা পরবর্তীতে চূড়ান্ত প্রতিনিধি (যেমন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি) নির্বাচন করে, তখন তাকে পরোক্ষ নির্বাচন বলে।
- আইনসভার কোনো সদস্যের মৃত্যু বা পদত্যাগের কারণে আসন শূন্য হলে সেই শূন্য আসন পূরণের জন্য যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাকে উপনির্বাচন বলা হয়।
- দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বা নীতি নির্ধারণী বিষয়ে জনগণের সরাসরি সম্মতি বা অসম্মতি যাচাইয়ের জন্য যে ভোট গ্রহণ করা হয় তাকে গণভোট বলা হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচকমণ্ডলীকে সরকারের চতুর্থ অঙ্গ (Fourth Organ of Government) হিসেবে অভিহিত করা হয় । রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডব্লিউ. এফ. উইলোবি (W.F. Willoughby) সর্বপ্রথম নির্বাচকমণ্ডলীকে সরকারের চতুর্থ অঙ্গ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । সাধারণত আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগকে সরকারের তিনটি প্রধান অঙ্গ বলা হলেও উইলোবি নির্বাচকমণ্ডলীর গুরুত্ব বিবেচনা করে একে চতুর্থ অঙ্গের মর্যাদা দিয়েছেন ।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র । এই ব্যবস্থায় নির্বাচকমণ্ডলী ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং এই নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সরকার গঠন ও পরিচালনা করে । নির্বাচকমণ্ডলীর সচল ভূমিকার ওপরই গণতান্ত্রিক সরকারের বৈধতা ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে । উল্লেখ্য, গণমাধ্যম বা সংবাদপত্রকে গণতন্ত্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ (Fourth Estate) বলা হলেও ‘সরকারের চতুর্থ অঙ্গ’ হিসেবে নির্বাচকমণ্ডলীকেই গণ্য করা হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রতিনিধিত্বমূলক বা পরোক্ষ গণতন্ত্রে নির্বাচকমণ্ডলী বা সাধারণ ভোটারগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে শাসনকার্য পরিচালনা করেন ।
- বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডব্লিউ এফ উইলোবি (W. F. Willoughby) নির্বাচকমণ্ডলীর এই অনন্য গুরুত্বের কারণে একে 'সরকারের চতুর্থ অঙ্গ' হিসেবে অভিহিত করেছেন ।
- নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটদানের মাধ্যমেই মূলত জনমতের প্রতিফলন ঘটে, যা একটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকারের নৈতিক ও আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ১ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখ থেকে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হয় ।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত আবশ্যক, যা দেশের সংবিধান দ্বারাও স্বীকৃত ।
- এই পৃথকীকরণের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে শাসন বা নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ প্রদান করা হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধ করার উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি (Checks and Balances) প্রবর্তন করা হয়েছে ।
- এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারের প্রধান তিনটি বিভাগ—আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ একে অপরকে নিজস্ব এক্তিয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে ।
- মার্কিন সংবিধানে রাষ্ট্রপতি কংগ্রেসের বিলের ওপর ভেটো প্রয়োগ করতে পারেন, তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন থাকলে রাষ্ট্রপতি সেই বিলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য থাকেন ।
- রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়োগ দিলেও সেই নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনসভার উচ্চকক্ষ বা সিনেটের অনুমোদন আবশ্যক ।
- শাসন বিভাগের চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী রাষ্ট্রপতিকে তাঁর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই কংগ্রেস অভিশংসন বা ইম্পিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদচ্যুত করতে পারে ।
- অন্যদিকে আইনসভা প্রণীত কোনো আইন বা শাসন বিভাগের নির্দেশ অসাংবিধানিক হলে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে ।
- মূলত সরকারের এক বিভাগ যাতে অন্য বিভাগের ওপর একক কর্তৃত্ব বা খবরদারি করতে না পারে, মার্কিন সংবিধানে সেই উদ্দেশ্যেই এই নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতির চমৎকার মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস ডি মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'দ্য স্পিরিট অব লজ' (The Spirit of Laws)-এ ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ।
- তিনি ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির (Separation of Powers) মূল প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত ।
- মন্টেস্কুর মতে, সরকারের আইন, শাসন ও বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে ন্যস্ত থাকলে নাগরিকের স্বাধীনতা থাকে না এবং শাসনব্যবস্থা স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে ।
- নাগরিকের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা বন্ধ করতে তিনি সরকারের এই তিনটি বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতন্ত্র রাখার পক্ষে জোর দিয়েছেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আধুনিক ক্ষমতার পৃথকীকরণ (Separation of Powers) নীতির মূল প্রবক্তা হলেন ফরাসি দার্শনিক চার্লস মন্টেস্কু (Charles Montesquieu) ।
- তিনি ১৭৪৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত 'দ্যা স্পিরিট অব লজ' (The Spirit of the Laws) গ্রন্থে এই তত্ত্বটির বিজ্ঞানসম্মত ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
- ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির মূল কথা হলো সরকারের প্রধান তিনটি বিভাগ—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতন্ত্র থাকবে এবং এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না ।
- মন্টেস্কুর মতে, আইন ও শাসন বিভাগীয় ক্ষমতা একই ব্যক্তি বা সংস্থার হাতে ন্যস্ত থাকলে স্বৈরাচারী আইনের সৃষ্টি হতে পারে এবং নাগরিক স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে ।
- ব্রিটিশ রাষ্ট্রচিন্তাবিদ জন লক ক্ষমতার বিভাজনের ধারণা নিয়ে আলোচনা করলেও মন্টেস্কুই একে আধুনিক শাসনব্যবস্থার উপযোগী করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দান করেন।
- এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো সরকারের স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধ করা এবং নাগরিকের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষা করা ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বর্তমান বয়সসীমা ৬৭ বছর
- ২০০৪ সালে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৬৭ বছর করা হয়।
- সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগদান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি
- বিচারপতিগণ তাদের নির্ধারিত বয়সসীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকেন এবং শারীরিক বা মানসিক অসমর্থতার কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করার জন্য **স্থায়ী বিচারক মণ্ডলীর সুপারিশে রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নিয়োগ** পদ্ধতিকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা সর্বোত্তম বলে মনে করেন ।
- বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত তিনটি পদ্ধতি পরিলক্ষিত হয়— জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট, আইনসভা কর্তৃক নিয়োগ এবং শাসন বিভাগ বা রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নিয়োগ ।
- জনগণের সরাসরি ভোটে বিচারক নির্বাচিত করা হলে বিচারকদের মধ্যে জনপ্রিয়তার সস্তা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে এবং বিচারকার্য দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে ।
- আইনসভা কর্তৃক বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও দলীয় আধিপত্য ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকে, যা বিচারকদের নিরপেক্ষভাবে রায় প্রদানের পথকে বাধাগ্রস্ত করে ।
- তাই বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং যোগ্য, দক্ষ ও সৎ বিচারক নিয়োগ নিশ্চিত করতে **স্থায়ী বিচারক মণ্ডলীর (Judicial Commission/Committee) নিরপেক্ষ সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নিয়োগের** বিধানই সবচেয়ে আদর্শ ও যুক্তিযুক্ত পথ [1-3]।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আদালতে অনেক সময় এমন মামলা উপস্থিত হয় যা প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরাসরি সমাধান বা বিচার করা যায় না ।
- এই পরিস্থিতিতে বিচারকগণ প্রচলিত আইনের অস্পষ্টতার সুযোগে নিজেদের নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ ও নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে নতুন কোনো আইনি সিদ্ধান্তের নজির সৃষ্টি করেন ।
- বিচারক কর্তৃক প্রদত্ত এই রায় বা সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে সমজাতীয় মামলার ক্ষেত্রে নজির (Precedent) হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আইনে পরিণত হয় ।
- বিচারকদের এই অভিনব আইন সৃষ্টির প্রক্রিয়াকেই বিচারক প্রণীত আইন (Judge-made law) বলা হয়ে থাকে ।
- অন্যদিকে, সমাজ ও রাষ্ট্রে যুগ যুগ ধরে প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা যখন আইনের মর্যাদা লাভ করে, তখন তাকে প্রথাগত আইন (Customary Law) বলে ।
- রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার মৌলিক নিয়মাবলি যা সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে, তাকে সাংবিধানিক আইন (Constitutional Law) বলা হয় ।
- সরকারি প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকাণ্ড এবং জনগণের সাথে প্রশাসনের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আইনকে প্রশাসনিক আইন (Administrative Law) বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আইনসভা প্রণীত কোনো আইন দেশের মৌলিক আইন বা সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা সংবিধান পরিপন্থী হলে বিচার বিভাগ কর্তৃক তা পরীক্ষা করে বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করার ক্ষমতাকে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা (Judicial Review) বলা হয় ।
- বিচার বিভাগ এই ক্ষমতার মাধ্যমে সংবিধানের অভিভাবক, রক্ষক এবং চূড়ান্ত ব্যাখ্যাদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এবং সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা করে ।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এই ক্ষমতার সার্থক প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বিচারালয় হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে ।
- এর মাধ্যমে আইনসভা বা সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ হয় এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসন সুরক্ষিত থাকে ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সরকারের উৎকর্ষতা পরিমাপের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের গুরুত্ব অনস্বীকার্য এবং এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইস উল্লেখ করেছেন যে, সরকারের উৎকর্ষ যাচাইয়ের জন্য বিচার বিভাগের দক্ষতা অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর আর কোনো মানদণ্ড নেই ।
- বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ না থাকে তবে নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় [2-4]।
- একটি দেশের বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা ও সততার ওপরই জনগণের ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নির্ভর করে, যা পরোক্ষভাবে সরকারের সফলতার পরিচয় বহন করে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ধারণার প্রসারের ফলে রাষ্ট্রের সমাজসেবামূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যাবলি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত শাসন বিভাগ দ্বারা বাস্তবায়িত হয়।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান নিশ্চিতকরণ এবং সমাজের সকল স্তরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মূল দায়িত্ব শাসন বিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকে।
- বিপুল সমাজকল্যাণমূলক কার্যাবলির নীতি নির্ধারণ ও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর করার ফলে জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনের সাথে এই বিভাগের নিবিড় সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।
- আধুনিক রাষ্ট্রে সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজের পরিধি ও গুরুত্ব বৃদ্ধির অর্থই হলো বাস্তবে সরকারের শাসন বিভাগের ক্ষমতা ও গুরুত্ব সর্বাধিক বৃদ্ধি পাওয়া।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- শাসন বিভাগের মূলত দুটি অংশ থাকে— রাজনৈতিক বা অস্থায়ী অংশ এবং অ-রাজনৈতিক বা স্থায়ী অংশ
- শাসন বিভাগের অ-রাজনৈতিক বা স্থায়ী অংশে নিয়োজিত পেশাদার, দক্ষ, স্থায়ী, নিরপেক্ষ এবং বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারীদের সাধারণত আমলা বলা হয় ।
- এই স্থায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকে না এবং তারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে গুণগত যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত হন ।
- আমলাদের প্রধান কাজ হলো রাষ্ট্রীয় আইনকে বাস্তবায়িত ও রক্ষা করা এবং সরকারের গৃহীত নীতি ও কর্মসূচিকে বাস্তবে রূপায়িত করা ।
- অপরদিকে, মন্ত্রীগণ হলেন শাসন বিভাগের রাজনৈতিক বা অস্থায়ী অংশের অংশীদার, যারা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে শাসন বিভাগে যুক্ত হন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আইনসভার অনুপস্থিতিতে বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনসভার অনুমোদন ছাড়াই রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার কর্তৃক জারিকৃত সাময়িক বা বিশেষ আইনকে অধ্যাদেশ (Ordinance) বলা হয় ।
- অধ্যাদেশ সাময়িকভাবে আইনরূপে গৃহীত হয় এবং এটি আইনসভার সাধারণ আইনের মতোই সমান কার্যকর ও শক্তিশালী হয়ে থাকে [1-3]।
- সংসদ বা আইনসভা ভেঙে গেলে অথবা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপ্রধান বিশেষ নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই বিশেষ আইন বা অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন ।
- আইনসভার অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে এই অধ্যাদেশটি সেখানে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা পরবর্তীতে নতুন স্থায়ী আইনে পরিণত হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- শাসন বিভাগ মূলত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত; যথা: রাজনৈতিক অংশ এবং অরাজনৈতিক বা স্থায়ী অংশ
- শাসন বিভাগের রাজনৈতিক অংশটি সাধারণত জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বা রাজনৈতিকভাবে নিযুক্ত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়, যাদের মূল কাজ হলো রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা ।
- শাসন বিভাগের অরাজনৈতিক বা স্থায়ী অংশটি পেশাদার, দক্ষ ও স্থায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের (আমলাতন্ত্র) নিয়ে গঠিত হয়, যাদের প্রধান দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক অংশ কর্তৃক গৃহীত রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্তসমূহ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- শাসন বিভাগের কাজ মূলত রাষ্ট্রের সর্বদা দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড, যার দরুন সাধারণ মানুষের কাছে এই বিভাগটিই মূলত 'সরকার' হিসেবে পরিচিত ।
- শাসন বিভাগ আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইনসমূহ বাস্তবে প্রয়োগ ও কার্যকর করে থাকে ।
- ব্যাপক অর্থে, রাষ্ট্রের শাসন ও নীতি বাস্তবায়নের সাথে নিয়োজিত রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ সরকারি কর্মচারী পর্যন্ত সকলেই শাসন বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ।
- সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শাসন বিভাগের কার্যকারিতা সরাসরি প্রতিফলিত হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার বিপক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে বলা হয় যে, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা হয় অপ্রয়োজনীয় না হয় ক্ষতিকর ।
- লর্ড ব্রাইসের মতে, যখন উভয় কক্ষ কোনো বিষয়ে একমত হয় তখন দ্বিতীয় কক্ষের সিদ্ধান্তকে বাহুল্য বা অপ্রয়োজনীয় বলা হয় ।
- কিন্তু আইনসভা যদি প্রথম কক্ষের সিদ্ধান্তের সাথে ভিন্নমত পোষণ বা বিরোধিতা করে, তখন তা শাসন ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে গণ্য হয় ।
- যদিও সাধারণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই উক্তিটি ফরাসি সংবিধান বিশেষজ্ঞ অ্যাবে সিয়েসের বলে অভিহিত করা হয়, তবে পরীক্ষা সহায়ক বইসমূহে এটি লর্ড ব্রাইসের অভিমত হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রয়োজনের নিরিখে আইনসভা আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন বিচার সম্পর্কিত কার্যাদিও সম্পাদন করে থাকে ।
- আইনসভার কোনো সদস্যের আমলযোগ্য অপরাধ বা অসদাচরণের বিচার করা আইনসভার বিচার সংক্রান্ত কাজের অন্তর্ভুক্ত।
- সংবিধানের ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কোনো গুরুতর অসদাচরণ করলে আইনসভা তাঁর অভিশংসন (Impeachment) অর্থাৎ বিচারিক কাজ সম্পন্ন করতে পারে ।
- আইনসভার সদস্য এবং অন্যান্য নির্বাচিত উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনসভা গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ভূমিকা পালন করে থাকে ।
- এছাড়া বিচারকদের গুরুতর অসদাচরণের বিচারিক কাজ, তদন্ত এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও আইনসভা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ (তৎকালীন আইনসভা) 'গণপরিষদ' (Constituent Assembly) হিসেবে দেশের প্রথম সংবিধান রচনা করেছিল ।
- এই গণপরিষদ স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল, যা সংবিধানের খসড়ার ওপর আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সংবিধানটি প্রস্তুত করে ।
- গণপরিষদ কর্তৃক দেশের এই প্রথম সংবিধানটি ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে গৃহীত হয়েছিল এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয় ।
- এই সংবিধানের মূল চারখানি ভিত্তি বা মূলনীতি ছিল জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সরকারের যে বিভাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ইচ্ছা প্রকাশিত ও কার্যকরী হয়, তার মধ্যে আইন বিভাগ অন্যতম প্রধান এবং এর স্থান সবার উপরে।
- সুখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক জে. ডব্লিউ. গার্নার (J. W. Garner)-এর মতে, "সরকারের যে সকল বিভাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ইচ্ছা প্রকাশিত ও কার্যকরী হয়, তন্মধ্যে নিঃসন্দেহে আইন বিভাগের স্থান সর্বোচ্চ।"
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায়, বিশেষ করে সংসদীয় পদ্ধতিতে, আইন বিভাগের গুরুত্ব অসীম এবং আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালিত হয়।
- সংবিধান বিশেষজ্ঞ ওয়াল্টার বেজহট (Walter Bagehot)-এর মতে, আইনসভা হলো জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের মহান চালিকা শক্তি, যেখানে সর্বক্ষেত্রে জনগণের প্রাধান্য থাকে।
- আইনসভার সদস্যগণ সরাসরি জনগণের प्रत्यक्ष ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ায় তারা আইনসভায় জনমতের প্রতিফলন ঘটান এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেন।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের আর্থিক খাতসহ সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনসভার অনুমোদন আবশ্যক। ⚖️ সরকারের তিনটি বিভাগের পারস্পরিক ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি এবং 'নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য' নীতি কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক মুনরোর (Professor Munro) মতে, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হলো ‘সকল পার্লামেন্টের জননী’ (The British Parliament is the mother of all Parliaments) ।
- গ্রেট ব্রিটেন-এর এই আইনসভাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা ও আদর্শ দ্বারা বিশ্বের প্রায় সকল দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কম-বেশি প্রভাবিত হয়েছে ।
- ব্রিটিশ সংবিধান কোনো নির্দিষ্ট গণপরিষদ বা বিপ্লবী পরিষদ বা রাজার আদেশে তৈরি হয়নি, বরং তা দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক রীতিনীতি ও প্রথার ওপর ভিত্তি করে বিবর্তনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে ।
- অধ্যাপক মুনরোর মতে, ব্রিটিশ সংবিধান হলো রীতিনীতি ও প্রতিষ্ঠানসমূহের এক জটিল সংমিশ্রণ ।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0