dump (167 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন ।
- স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিনই অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি 'অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন ।
- এই আদেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা ।
- এই আদেশের অনুবলে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৫(৩) নং অনুচ্ছেদে মন্ত্রিসভার যৌথ জবাবদিহিতা বা যৌথ দায়িত্বশীলতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে .
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা তাদের সকল নীতি ও শাসনকার্যের জন্য যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকবে .
- মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার এই যৌথ জবাবদিহিতা অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় .
- সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে .
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালে গঠিত বাংলাদেশের গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আব্দুল হামিদ
- তিনি ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হন এবং তাঁর মৃত্যুর পর মোহাম্মদউল্লাহ স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ।
- পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ গঠিত হলে জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদউল্লাহ
- তবে সাধারণ অর্থে এবং প্রথম গণপরিষদের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় শাহ আব্দুল হামিদকে বাংলাদেশের প্রথম স্পিকার হিসেবে গণ্য করা হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- স্বাধীন বাংলাদেশের আইনসভার নাম হলো জাতীয় সংসদ, যার ইংরেজি নাম হলো House of the Nation
- বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী এই আইনসভা গঠিত এবং এটি একটি এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ।
- জাতীয় সংসদ মোট ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়, যার মধ্যে ৩০০ জন সাধারণ আসনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এবং ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত ।
- এটি বাংলাদেশের সার্বভৌম আইন প্রণয়নকারী অঙ্গ এবং এর মেয়াদকাল সাধারণত ৫ বছর ।
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কর্তৃক সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে এই আইনসভা সাংবিধানিক ভিত্তি লাভ করে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ও মূল সংবিধান ১৯৭২ সালে প্রণীত হয় ।
- এই ১৯৭২ সালের সংবিধানেই সর্বপ্রথম 'ন্যায়পাল' (Ombudsman) পদটির প্রথম বিধান যুক্ত করা হয়েছিল ।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৭ নম্বর অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ।
- ন্যায়পাল হলেন এমন একজন নিরপেক্ষ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যিনি জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত করে থাকেন ।
- জাতীয় সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পাল পদটি প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে সংবিধানে প্রথম এই বিধানটি ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানেই অন্তর্ভুক্ত ছিল ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদে পাস হয়।
- এই সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল যুদ্ধাপরাধীসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধীদের বিচার নিশ্চিত করা
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার করাই ছিল এই সংশোধনীর প্রধান লক্ষ্য।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৪৭(৩) অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়, যা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনো আইন বাতিলের সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
- সংবিধানের ৪৭এ অনুচ্ছেদ এই সংশোধনীর মাধ্যমেই প্রথম যুক্ত হয়েছিল, যা অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট কিছু সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে সহায়তা করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫টি থেকে বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়েছিল।
- ২০১১ সালের ৩০ জুন এই সংশোধনী বিলটি জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং ৩ জুলাই তা রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে ।
- এই সংশোধনীর ফলে জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩০০টি সাধারণ আসন এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ৩৫০টিতে উন্নীত হয় ।
- এর আগে ২০০৪ সালে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৩০টি থেকে ৪৫টিতে উন্নীত করা হয়েছিল।
- পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ এই সংশোধনী চালুর সময় থেকে ১০ বছর করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ২০১৮ সালের সপ্তদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আরও ২৫ বছর বাড়ানো হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর (15th Amendment) মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল [1-4]।
- এই সংশোধনীটি ২০১১ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ।
- ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর (13th Amendment) মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে সংযোজন বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল ।
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি পুনর্বহাল করা হয় এবং জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করা হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমেই সংবিধানের 'গণভোট' ব্যবস্থাও বাতিল করা হয়েছিল ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সংবিধানের চার মূলনীতির অন্যতম দুটি নীতি ধর্মনিরপেক্ষতাসমাজতন্ত্র পরিবর্তন করা হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে মূল ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে তার স্থলে 'সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' প্রতিস্থাপন করা হয় ।
- মূল সমাজতন্ত্রের পরিবর্তে 'অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার -এ অর্থে সমাজতন্ত্র' নীতিটি যুক্ত করা হয় ।
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে এই পঞ্চম সংশোধনী পাস হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক শাসনকালের সকল সামরিক ফরমান ও আদেশকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১০২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তা বলবৎ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলা বা রিট পিটিশন দায়ের করা যায় ।
- সংবিধানের ৪৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পার্ট-৩ এ বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎ করার জন্য ১০২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করার অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে ।
- ১০৪ নং অনুচ্ছেদ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ বা আদেশ জারির ক্ষমতা সংক্রান্ত।
- ১০৬ নং অনুচ্ছেদ সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার সম্পর্কিত, যেখানে রাষ্ট্রপতি কোনো আইনগত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাইতে পারেন।
- ১১১ নং অনুচ্ছেদ সুপ্রিম কোর্টের রায় বা ঘোষিত আইনের বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত, যা দেশের অধস্তন সকল আদালতের ওপর বলবৎযোগ্য।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক ও চূড়ান্ত ব্যাখ্যাদাতা হলো সুপ্রিম কোর্ট
- সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। অন্য কোনো আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে তা বাতিল করতে পারে।
- সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও বলবৎ করার অভিভাবকত্ব সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ওপর ন্যস্ত।
- সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের যেকোনো বিধান বা ধারার চূড়ান্ত আইনগত বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে সংবিধানের পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকা পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ প্রথম স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।
- এই ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের 'সর্বাধিনায়ক' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠিত হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি বা ঘোষণা করা হয় ।
- এই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয় ।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (মুজিবনগর) নবগঠিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম পাঠ করেন অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি মনোনীত করা হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার (অস্থায়ী সরকার) গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) এই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাজউদ্দীন আহমদ
- এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- তাজউদ্দীন আহমদ মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে, মুজিবনগর সরকার পরিচালনা করতে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকার বা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম-কে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয় ।
- পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বন্দি থাকার কারণে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন ।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলায় (যা পরবর্তীতে মুজিবনগর নামে পরিচিত হয়) এই অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে ।
- এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তাজউদ্দীন আহমদ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- Modern Politics and Government নামক বিখ্যাত গ্রন্থটি লিখেছেন ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যালান বল (Alan R. Ball)
- অ্যালান বল এই গ্রন্থে রাষ্ট্রবিজ্ঞান চর্চার সূচনা লগ্ন থেকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিবিভাগের যে প্রচেষ্টা রয়েছে তা আলোচনা করেছেন ।
- অন্যদিকে, 'A Grammar of Politics' গ্রন্থটির লেখক হলেন ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড লাস্কি
- ব্যবস্থা তত্ত্বের (System Theory) প্রবক্তা ডেভিড ইস্টন-এর বিখ্যাত গ্রন্থগুলো হলো 'The Political System' এবং 'A Framework for Political Analysis'
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ম্যাক্স ওয়েবার মূলত আমলাতন্ত্র (Bureaucracy) ও কর্তৃত্বের (Authority) তত্ত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- রাজনৈতিক দলচাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো তাদের লক্ষ্য ও কর্মসূচি ।
- রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং জনমত সংগ্রহের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা ।
- অন্যদিকে, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি কোনো নির্বাচনে অংশ নেয় না এবং তারা ক্ষমতা দখল করতে চায় না ।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য হলো নিজস্ব স্বার্থ বা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতিকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করা
- বণিক সমিতি, শিক্ষক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন বা ছাত্র সংসদ প্রভৃতি হলো চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, ভাবাদর্শ এবং মূল্যবোধ অর্জন করে ।
- এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সমাজ বা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয় এবং তা নিজের মধ্যে সঞ্চার করে ।
- পরিবার, স্কুল, চার্চ, ক্লাব, স্বেচ্ছামূলক সংগঠন ইত্যাদি রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অন্যতম প্রধান বাহন বা মাধ্যম ।
- এটি একদিকে যেমন বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব রক্ষা করে, অন্যদিকে তেমনি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার সামঞ্জস্য বিধানে ও পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে ।
- সুতরাং, রাজনৈতিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আদর্শ অর্জনের প্রক্রিয়াটিই হলো রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ, যেখানে রাজনৈতিক দলে যোগদান বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ হলো রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অংশ ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'Public Opinion' গ্রন্থটির লেখক হলেন বিখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াল্টার লিপম্যান
- গ্রন্থটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়, যা জনমত ও গণমাধ্যমের ভূমিকা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এক কালজয়ী অবদান।
- এই গ্রন্থে লিপম্যান মনের কাল্পনিক জগৎ ও বাস্তব জগতের ব্যবধান বোঝাতে আধুনিক অর্থে প্রথম 'Stereotype' শব্দটি ব্যবহার করেন।
- ওয়াল্টার লিপম্যান স্নায়ুযুদ্ধ বা 'Cold War' শব্দটি জনপ্রিয় করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- অপশনের অন্যান্য লেখকদের বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ:
- আর্থার বেন্টলি: 'The Process of Government'
- ডেভিড ইস্টন: 'The Political System'
- রবার্ট ডাল: 'Who Governs?' ও 'A Preface to Democratic Theory'।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সাধারণ অর্থে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কল্যাণকামী, যৌক্তিক, সুসংবদ্ধ ও সুদৃঢ় অভিমতকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে জনমত বলা হয়, যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Public Opinion
- ফরাসি দার্শনিক জঁ জ্যাক রুশো তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Social Contract'-এ সর্বপ্রথম 'জনমত' শব্দটির রাজনৈতিক ব্যবহার করেন এবং একে 'সাধারণ ইচ্ছা' বা 'General Will' হিসেবে অভিহিত করেন।
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রাণস্বরূপ হলো জনমত এবং বিখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক জন লক, জন স্টুয়ার্ট মিল ও লর্ড ব্রাইস জনমতের রাজনৈতিক উৎপত্তি ও প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
- সমাজবিজ্ঞানী মরিস জিন্সবার্গ-এর মতে, জনমত হলো বিভিন্ন ব্যক্তির মতামতের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট একটি সামাজিক ফসল (Public opinion is a social product due to the interaction of many minds)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে রাজনৈতিক সংস্কৃতি (Political Culture) ধারণাটি জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল আমন্ড (Gabriel Almond) অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ।
- গ্যাব্রিয়েল আমন্ড এবং সিডনি ভার্বা তাঁদের বিখ্যাত 'The Civic Culture' গ্রন্থে এই ধারণাটি প্রথম প্রণালীবদ্ধভাবে বিশ্লেষণ করেন ।
- আমন্ডের মতে, রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সদস্যদের রাজনীতি সম্পর্কে মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির বিন্যাস ।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লুসিয়ান পাই এবং ডেভিড ইস্টনও এই ক্ষেত্রটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ।
- মূলত গ্যাব্রিয়েল আমন্ড এবং সিডনি ভার্বার গবেষণার ফলেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই ধারণাটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গেম থিওরি বা ক্রীড়া তত্ত্ব মূলত গণিত শাস্ত্র থেকে উদ্ভূত একটি গাণিতিক ও আনুষ্ঠানিক মডেল ।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই তত্ত্বটি প্রধানত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় (Decision-making) বহুল ব্যবহৃত হয় ।
- গেম তত্ত্বের মূল উপাদান হলো কৌশলগত পছন্দ, যার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র বা পক্ষসমূহের সিদ্ধান্ত ও আচরণ বিশ্লেষণ করা হয় ।
- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা, চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও কৌশলগত সমন্বয় বুঝতে এটি অত্যন্ত কার্যকর ।
- এই তত্ত্বে 'শূন্য সমষ্টি ক্রীড়া' (Zero-sum game) পরিস্থিতি দ্বারা আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বে এক পক্ষের লাভ এবং অন্য পক্ষের ক্ষতির সমতা ব্যাখ্যা করা হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ তত্ত্বের (Decision-Making Theory) অন্যতম প্রধান প্রবক্তা হলেন মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রিচার্ড স্নাইডার (Richard Snyder)
- স্নাইডার ১৯৫৪ সালে 'Decision-making as an Approach to the Study of International Politics' গ্রন্থে এই তত্ত্বের রূপরেখা প্রকাশ করেন।
- স্নাইডারের মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কোনো রাষ্ট্রের আচরণ মূলত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মনস্তত্ত্ব ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।
- লোকপ্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ তত্ত্বের সাথে হারবার্ট সাইমন জড়িত থাকলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রিচার্ড স্নাইডারই প্রধান।
- এছাড়া অপশনের কার্ল মার্কস দ্বন্দ্ব তত্ত্বের এবং ম্যাক্স ওয়েবার আমলাতন্ত্র মডেলের প্রবক্তা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'The Process of Government' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আর্থার বেন্টলি (Arthur F. Bentley) ।
- তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গোষ্ঠী তত্ত্বের (Group Theory) প্রথম অবতারণা করেন ।
- ১৯০৮ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থে তিনি সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর পারস্পরিক দ্বিমুখী প্রক্রিয়া এবং সরকারের নীতি নির্ধারণে তাদের প্রভাব আলোচনা করেছেন ।
- অপশনে উল্লিখিত অন্যান্যদের মধ্যে ডেভিড ইস্টন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ব্যবস্থা তত্ত্বের (System Theory) প্রবক্তা এবং রবার্ট ডাল আধুনিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গোষ্ঠী তত্ত্ব (Group Theory) অনুসারে রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো স্বার্থগোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়
- এই তত্ত্বের মূল প্রবক্তা আর্থার বেন্টলি (Arthur Bentley) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Process of Government'-এ দেখিয়েছেন যে, সমাজ মূলত বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর সমষ্টি এবং এদের মধ্যকার সম্পর্কই রাজনীতি ।
- বেন্টলির মতে, রাজনীতি কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, বরং এটি হলো বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর পারস্পরিক প্রভাব বিস্তার ও চাপ সৃষ্টির দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়ের গতিশীল প্রক্রিয়া
- গোষ্ঠী তত্ত্বে সরকারি নীতিসমূহকে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর মধ্যকার পারস্পরিক আপস-মীমাংসা ও ভারসাম্যের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা হয় ।
- তাই গোষ্ঠী বা স্বার্থগোষ্ঠীসমূহের মধ্যকার প্রতিনিয়ত চলতে থাকা দ্বন্দ্ব, দরকষাকষি ও শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সমন্বয়ই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি ও গতিশীলতা নির্ধারণ করে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'The Ruling Class' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন ইতালীয় সমাজবিজ্ঞানী ও এলিট তত্ত্বের প্রবক্তা গায়েতানো মোস্কা
- মোস্কা তাঁর এই গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, সমাজ সর্বদা শাসক ও শাসিত—এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত থাকে ।
- এলিট তত্ত্বের আরেক প্রবক্তা ভিলফ্রেডো প্যারেটো রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'The Mind and Society' এবং তিনি 'এলিট আবর্তন তত্ত্ব' ও "ইতিহাস হলো অভিজাত শ্রেণির সমাধিক্ষেত্র" উক্তিটির জন্য বিখ্যাত ।
- এছাড়া সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট মিশেলস তাঁর এলিট তত্ত্বে বিখ্যাত 'গোষ্ঠীতন্ত্রের লৌহবিধি' (Iron Law of Oligarchy) মতবাদটি প্রদান করেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইতালীয় সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ ভিলফ্রেডো প্যারেটো (Vilfredo Pareto) এলিট বা অভিজাত তত্ত্বের 'circulation of elites' বা অভিজাতদের আবর্তন তত্ত্বের প্রবক্তা ।
- তাঁর এই তত্ত্বটি বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Mind and Society'-তে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে ।
- প্যারেটোর মতে, সমাজে ক্ষমতা ও পদের আবর্তন চক্রাকারে ঘটে; যেখানে অ-অভিজাতরা একসময় যোগ্যতাবলে অভিজাত শ্রেণীতে উন্নীত হয় এবং পূর্বের অভিজাতরা ক্ষয়িষ্ণু হয়ে নিচে নেমে যায় ।
- এই তত্ত্বের মূল কথা হলো, কোনো একক অভিজাত শ্রেণী চিরকাল ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না, বরং এক অভিজাতের জায়গায় অন্য অভিজাতের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি চলমান থাকে ।
- এলিট তত্ত্ব প্রসঙ্গে তাঁর একটি অত্যন্ত বিখ্যাত উক্তি হলো, "ইতিহাস হলো অভিজাত শ্রেণীর সমাধিক্ষেত্র" (History is a graveyard of aristocracies) ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- কাঠামোগত-কার্যকরী বিশ্লেষণে রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি রাজনৈতিক ব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ অর্জন করে ।
- গ্যাব্রিয়েন অ্যালমন্ডের তত্ত্বানুসারে, রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব রক্ষা ও সংস্কৃতি প্রসারে রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ অন্যতম ইনপুট বা উপকরণমূলক কাজ ।
- এই সামাজিকীকরণের প্রাথমিক ও প্রধানতম মাধ্যম হলো পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- শিশু পরিবার থেকে প্রথম রাজনৈতিক সচেতনতা ও মূল্যবোধের পাঠ গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আদর্শ ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যে দীক্ষিত হয় ।
- রাজনৈতিক দল বা গণমাধ্যম সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখলেও শৈশবে মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাই সবচেয়ে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- তুলনামূলক রাজনীতি চর্চায় কাঠামোগত-কার্যকরী পদ্ধতি (Structural-Functional Approach) একটি অত্যন্ত পরিচিত দৃষ্টিভঙ্গি ।
- এই পদ্ধতির প্রধান প্রবর্তক হলেন বিশিষ্ট মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল আমন্ড (Gabriel Almond)
- গ্যাব্রিয়েল আমন্ড ছাড়াও এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে বিংহ্যাম পাওয়েল, জেমস কোলম্যান এবং সিডনি ভার্বার নাম বিশেষভাবে জড়িত ।
- এই তত্ত্বানুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার কিছু নির্দিষ্ট কাঠামো (Structures) থাকে এবং সেই কাঠামোগুলো কিছু অপরিহার্য কার্য সম্পাদন (Functions) করে থাকে ।
- রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাঠামো ও তার কার্যকারিতাই এই পদ্ধতিতে মূলত বিশ্লেষণ করা হয় ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আচরণবাদ হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা তাত্ত্বিক ও কাল্পনিক পর্যালোচনার পরিবর্তে মানুষের বাস্তব ও পর্যবেক্ষণমূলক আচরণ-এর ওপর জোর দেয় ।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রথাগত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আলোচনার বদলে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, পরিমাপ ও পরিসংখ্যানের ব্যবহার এবং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বাস্তব রাজনৈতিক আচরণ বিশ্লেষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ।
- এই দৃষ্টিভঙ্গিটি মূল্যবোধ-নিরপেক্ষ এবং এটি কেবল আদর্শগত আলোচনার পরিবর্তে পর্যবেক্ষণযোগ্য বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে ।
- সুতরাং, মানুষের প্রত্যক্ষ ক্রিয়াকলাপ ও আচরণকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে পর্যবেক্ষণ করার ওপর জোর দেওয়ার কারণেই আচরণবাদের মূল ভিত্তি বাস্তব ও পর্যবেক্ষণমূলক আচরণ ।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0