প্রধান রাজনৈতিক বিষয় (30 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের পতন ঘটে এবং প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয় ।
- এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ।
- উক্ত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়লাভ করে এবং ১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ।
- পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের আগস্ট মাসে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পাস হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন করা হয় ।
- সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর বেগম খালেদা জিয়াই দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পাস হয় ।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর অধীনে প্রবর্তিত রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার অবসান ঘটে ।
- দীর্ঘ ১৬ বছর পর (১৯৭৫ থেকে ১৯৯১) দেশে পুনরায় সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা তথা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয় ।
- এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ প্রকৃত शासन ক্ষমতার অধিকারী হন ।
- দ্বাদশ সংশোধনীর ফলেই বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃসূচনা ঘটে এবং দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পুনরায় সংসদের কাছে ফিরে আসে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৯৪ সালের মাগুরা-২ আসনের উপ-নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে বিরোধী দলগুলো সংসদ বর্জন শুরু করে ।
- সংসদীয় রাজনীতিতে এই অচলাবস্থা নিরসনে ব্যর্থতার জেরে ১৯৯৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের ১৪৭ জন সংসদ সদস্য একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন ।
- এর ফলে তৎকালীন পঞ্চম জাতীয় সংসদ তার কার্যকারিতা ও গুরুত্ব হারায় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৯৪ সালের ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত মাগুরা-২ আসনের উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি-র বিরুদ্ধে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ ওঠে ।
- এই উপ-নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে ।
- এই কারচুপির প্রতিবাদে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ১৯৯৪ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিরোধী দলসমূহ সংসদ অধিবেশন বর্জন শুরু করে ।
- পরবর্তীতে এই আন্দোলনই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের আন্দোলনকে বেগবান করে তোলে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৯৬ সালের ১২ জুন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ।
- এই নির্বাচনে মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ।
- পরবর্তীতে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর আওয়ামী লীগে যোগদান এবং জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ও জাসদ (রব)-এর সমর্থনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ঐকমত্যের সরকার গঠন করে ।
- এর পূর্বে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রবল জনমতের চাপে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছিল ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ।
- এই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীক নিয়ে ৮৮টি আসনে জয়লাভ করে ।
- নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করে ।
- এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসন এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়লাভ করে ।
- এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসান ঘটে এবং পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একক বৃহত্তম দল হিসেবে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৪০টি আসন লাভ করে ।
- এই নির্বাচনে অন্যান্য প্রধান দলের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন লাভ করে ।
- এটি ছিল নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম সফল নির্বাচন, যার মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা ঘটে ।
- নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে এবং বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা সূচনা করে ।
- এই নির্বাচনে মোট ৭৫টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছিল ।
- নির্বাচনে ৪২৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২৭৮৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ।
- প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলের এই সংখ্যা তৎকালীন নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল ।
- নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ৪৭ জন নারী প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন ।
- ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৪০টি আসন লাভ করে এবং আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসন লাভ করে ।
- নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন লাভ করে ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সামরিক শাসনকে বৈধ করার উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমান প্রথমে ১৯৭৮ সালের জুন মাসে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠন করেন।
- ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান ৬টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি জোট হিসেবে 'জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট' গঠন করেছিলেন।
- এই ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবেই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করা হয় এবং জিয়াউর রহমান এই দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সামরিক শাসনকে বৈধ করার জন্য নিজস্ব একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা জেনারেল এরশাদ অনুধাবন করতে পেরেছিলেন ।
- এই লক্ষ্যেই ১৯৮৩ সালের ২৭ নভেম্বর 'জনদল' গঠিত হয়, যা ছিল জেনারেল এরশাদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পূর্বপ্রস্তুতি ।
- পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৮৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি 'জাতীয় পার্টি'-র সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং এর পরদিন দলটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ।
- জেনারেল এরশাদ মূলত নির্বাচন অনুষ্ঠান ও নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন—এই উভয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সামরিক শাসনের বেসামরিকীকরণ ও বৈধতা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় .
- এই সংশোধনীর দ্বারা বাংলাদেশে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা (বাকশাল) প্রবর্তন করা হয় .
- চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অত্যন্ত বৃদ্ধি করা হয় এবং রাষ্ট্রপতিকে শাসন বিভাগের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করা হয় .
- পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তিত হয় .
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তীব্র গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী শাসক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ।
- সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণে তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদ পদত্যাগ করেন এবং সেই পদে তিন জোটের মনোনীত প্রার্থী তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদকে উপ-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হয় ।
- একই দিনে রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পদত্যাগ করে নবনিযুক্ত উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন ।
- এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের লক্ষ্যে আন্দোলনরত ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট ঐতিহাসিক 'যৌথ ঘোষণা' প্রকাশ করে ।
- এই যৌথ ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ।
- যৌথ ঘোষণার প্রধান দাবিসমূহ ছিল এরশাদ সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা ।
- এছাড়া রূপরেখায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করে নির্বাচিত সার্বভৌম সংসদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের রূপরেখা প্রণয়ন করা হয় ।
- এই যৌথ ঘোষণা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে এক অপ্রতিরোধ্য রূপ দেয়, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন।
- তাঁর এই সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের লক্ষ্যে ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫-দলীয় জোট গঠিত হয়।
- একই বছর অর্থাৎ ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপির নেতৃত্বে ৭-দলীয় জোট গঠিত হয়।
- এই দুটি রাজনৈতিক জোটের দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবং অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর স্বৈরশাসক এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশে ৩য় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ।
- এই নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ।
- তৎকালীন প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো এই নির্বাচন বর্জন করেছিল এবং নির্বাচনের দিন হরতাল আহ্বান করেছিল ।
- নির্বাচনের ঘোষিত সরকারি ফলাফলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৮৪% ভোট লাভ করেছেন বলে ঘোষণা করা হয় ।
- এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ তাঁর শাসনকে বেসামরিকীকরণ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- জেনারেল এইচ. এম. এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা দখল করেন এবং পরবর্তীতে সামরিক শাসন বেসামরিকীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেন ।
- এই বেসামরিকীকরণ ও দল গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৯৮৩ সালের ২৭ নভেম্বর প্রথমে জনদল গঠিত হয় ।
- পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি এরশাদের সমর্থনপুষ্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টি গঠিত হয় ।
- ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এরশাদ নিজেই এই দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সামরিক শাসক জেনারেল এইচ. এম. এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা দখল করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন ।
- তাঁর সামরিক শাসন ও নীতিসমূহের পক্ষে জনসমর্থন যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ২১ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে এই গণভোটের আয়োজন করা হয় ।
- এই গণভোটের মূল উদ্দেশ্য ছিল এরশাদের গৃহীত নীতি ও কর্মসূচির প্রতি জনসমর্থন এবং নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ক্ষমতায় থাকার বৈধতা যাচাই করা ।
- সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এই নির্বাচনে প্রায় ৯৪.১৪ শতাংশ ভোটার এরশাদের পক্ষে 'হ্যাঁ' vote প্রদান করেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দেয় ।
- এই সুযোগে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান ।
- তিনি ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন [1-3]।
- ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন ।
- জেনারেল এরশাদের এই স্বৈরাচারী সামরিক শাসন ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তীব্র ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁর পতন হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ নয় বছর বলবৎ ছিল [4-6]।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭৮ সালের জুন মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে 'জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল' (জাগদল) গঠিত হয়।
- রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে এই দলের প্রত্যক্ষ সদস্যপদ গ্রহণ না করলেও তার সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার-এর নেতৃত্বে এই দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়।
- বিচারপতি আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে তৎকালীন মন্ত্রিসভার আরও ১০ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই জাগদল বিলুপ্ত করে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হয় এবং জিয়াউর রহমান এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ।
- এই নির্বাচনে মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৭টি আসন লাভ করে ।
- নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামী লীগ ৩৯টি আসনে জয়ী হয় ।
- এই দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সামরিক শাসনকে বেসামরিকীকরণ ও বৈধকরণের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- জেনারেল জিয়াউর রহমান তাঁর বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং রাজনৈতিক সমর্থনের ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন।
- ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল' (বিএনপি) গঠিত হয় এবং জিয়াউর রহমান নিজেই এই দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- বিএনপি গঠনের পূর্বে তাঁর বেসামরিকীকরণের অংশ হিসেবে প্রথমে 'জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল' (জাগদল) এবং পরবর্তীতে ৬টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে 'জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট' গঠিত হয়েছিল।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে প্রথম সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ।
- এই নির্বাচনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান জয়লাভ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ।
- নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী
- এই নির্বাচনে জিয়াউর রহমান ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩৩ হাজার ৬০৭ ভোট পেয়েছিলেন এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল ওসমানী পেয়েছিলেন ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার ২০০ ভোট ।
- এটি ছিল জেনারেল জিয়াউর রহমানের বেসামরিকীকরণ ও শাসনকে বৈধকরণের প্রক্রিয়ার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ [1-3]।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সামরিক শাসনকে বৈধকরণের লক্ষ্যে ৩০ মে, ১৯৭৭ তারিখে বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ।
- এই নির্বাচনে মোট ৮৭ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করেন এবং জিয়াউর রহমানের পক্ষে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলে সরকারিভাবে জানানো হয় ।
- ১৯৭৭-১৯৭৯ সালের বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়াটি ছিল জেনারেল জিয়াউর রহমান কর্তৃক তাঁর সামরিক শাসনকে বৈধকরণের জন্য গৃহীত একটি প্রধান পদক্ষেপ ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭২-৮১ সময়কালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির হার বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ছিল ।
- এই সময়কালে বাংলাদেশে সামরিক ব্যয় ৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৮১ সালে ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়, যা শতকরা ১৮৬% বৃদ্ধি নির্দেশ করে ।
- অপরদিকে একই সময়ে ভারতে সামরিক ব্যয় ৩৪৫৫ মিলিয়ন ডলার থেকে ৩৯৯১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যার বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১৬%
- পাকিস্তানে এই বৃদ্ধির হার ছিল ২২%, যেখানে সামরিক ব্যয় ১০৭০ মিলিয়ন ডলার থেকে ১৩০৭ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয় ।
- সুতরাং, ১৯৭২-৮১ সময়কালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ছিল ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন ।
- পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সেনা অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর খন্দকার মোশতাক আহমেদ পদত্যাগ করেন ।
- তাঁর পদত্যাগের পর ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ.এস.এম সায়েম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ।
- পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল ভগ্নস্বাস্থ্যের অজুহাতে বিচারপতি সায়েম পদত্যাগ করলে জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে একটি অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় ।
- এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে অন্তরীণ করা হয়েছিল ।
- অভ্যুত্থানকারী সেনা কর্মকর্তারা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে নতুন সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন ।
- পরবর্তীতে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ এক সিপাহি অভ্যুত্থানে খালেদ মোশাররফ নিহত হন এবং জিয়াউর রহমান অন্যতম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে গণপরিষদ আদেশ জারির মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয় ।
- ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে গঠিত ৩৪ সদস্যের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদে খসড়া সংবিধানটি বিল আকারে উত্থাপন করেন ।
- দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধানটি গণপরিষদ কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে গৃহীত ও অনুমোদিত হয় ।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) থেকে এই সংবিধান কার্যকর করা হয় ।
- ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান চারটি মূলনীতি ছিল— জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই এপ্রিল ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির সভাপতি বা প্রধান ছিলেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন
- ১৯৭২ সালের ১২ই অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করা হয়।
- দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর গণপরিষদে এই সংবিধান গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ (জাতীয় সংসদ) নির্বাচন ৭ মার্চ, ১৯৭৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় .
- তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে শাসনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক ধারা সুসংহত করতে এই সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করে .
- এই নির্বাচনে জাতীয় সংসদের মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে এককভাবে ২৯৩টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে .
- এই ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার অনুশীলনের পথ উন্মুক্ত হয় .
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0