নিচের কোন সাহিত্যে প্রাচীন হিন্দু ও আগত মুসলিম সংস্কৃতির চমৎকার মিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়?
Solution
Correct Answer: Option C
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মৈমনসিংহ গীতিকা-তে প্রাচীন হিন্দু লোকসংস্কৃতি এবং আগত মুসলিম সংস্কৃতির এক চমৎকার ও অসাম্প্রদায়িক মিথস্ক্রিয়া (Interaction) লক্ষ্য করা যায়।
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত এই গীতিকাগুলোতে (যেমন: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী ইত্যাদি) যে সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে, তা মূলত ধর্মীয় ভেদাভেদমুক্ত এবং মানবতাবাদী।
- এখানে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের প্রতিবেশী হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেছে এবং তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ঘটেছে।
- এই সাহিত্যে লৌকিক প্রেম ও মানবজীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে, যেখানে ধর্মের চেয়ে মানুষের সম্পর্ক ও আবেগ প্রধান্য পেয়েছে। অনেক সমালোচকের মতে, মৈমনসিংহ গীতিকায় সমসাময়িক কালের হিন্দুদের অনেক কুপ্রথা এবং মুসলিম সমাজের গোঁড়ামি থেকে মুক্ত এক উদার সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন দেখা যায়, যা এই দুই সংস্কৃতির সার্থক মিলনের নিদর্শন।
দ্রষ্টব্য: যদিও 'নাথসাহিত্যে' হিন্দু-মুসলিম ধর্মীয় দর্শনের মিশ্রণ (যেমন যোগ ও সুফিবাদের মিলন) দেখা যায় এবং 'শায়ের' বা পুঁথি সাহিত্যে ভাষাগত (দোভাষী) মিশ্রণ প্রবল, কিন্তু প্রশ্নোক্ত "প্রাচীন হিন্দু ও আগত মুসলিম সংস্কৃতির চমৎকার মিথস্ক্রিয়া" বা সামাজিক-সাংস্কৃতিক মিলনের প্রেক্ষাপটে মৈমনসিংহ গীতিকা-কেই সাধারণত সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
==============
==============
- নেত্রকোনা জেলার আইশ্বর আমের অধিবাসী চন্দ্রকুমার দে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভাটি অঞ্চল থেকে গীতিকা সংগ্রহ করেন, যা দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় সালে ধারাবাহিকভাবে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সাহায্যে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে এটি চারখণ্ডে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
- এ চারখণ্ডের প্রথম খণ্ড 'মৈমনসিংহ গীতিকা" নামে পরিচিত।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত পালাসমূহে কথিত শিক্ষিত সমাজের বাইরে সাধারণ মানুষের জীবনকাহিনী উপস্থাপিত হয়েছে। এতে সমসাময়িক কালের হিন্দুদের কুপ্রথা ও মুসলিমদের ফতোয়াবাজি থেকে মুক্ত সমাজব্যবস্থার চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে পালাগুলোর মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাত পরিলক্ষিত হয়নি এবং প্রাচীন হিন্দু ও মুসলিম সংস্কৃতির চরম মিথস্ক্রিয়া লক্ষ করা যায়।