পরমাণুর মডেল এবং নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞান (182 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নিউক্লিয়ার পাওয়ার স্টেশনে বিভাজনযোগ্য বা ফিসাইল ম্যাটেরিয়াল (Fissile material) হিসেবে 235U (ইউরেনিয়াম-২৩৫) প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
ফিশন প্রক্রিয়া: এই প্রক্রিয়ায় 235U এর নিউক্লিয়াসকে ধীর গতির নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে ভেঙে বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন করা হয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগে।
• প্রকৃতিতে প্রাপ্ত ইউরেনিয়ামের মধ্যে 238U এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি (৯৯.৩%) হলেও তা সরাসরি বিভাজনযোগ্য নয়, তাই এটি সাধারণ রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
• ইউরেনিয়াম ছাড়াও প্লুটোনিয়াম (Pu-239)থোরিয়াম (Th-232) পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সূর্য প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 4×1026 জুল (J) শক্তি বিকিরণ করে।
• সূর্যে বিপুল পরিমাণ শক্তির মূল উৎস হলো নিউক্লিয় ফিউশন (Nuclear Fusion) বা নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া।
• এই প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপ ও চাপে চারটি হালকা হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি অপেক্ষাকৃত ভারী হিলিয়াম নিউক্লিয়াস গঠন করে।
• এই প্রক্রিয়ায় ভরের ঘাটতি ঘটে, যা E = mc2 সূত্র অনুযায়ী বিশাল পরিমাণ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে নির্গত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নিউক্লিয়ার ফিজিক্স অনুসারে, যেসব মৌলের ভরসংখ্যা (Mass number) 50 থেকে 60 এর মধ্যে থাকে, তাদের নিউক্লিয়ন প্রতি বন্ধন শক্তি (Binding energy per nucleon) সবচেয়ে বেশি হয়।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 55Mn (ম্যাঙ্গানিজ) এর ভরসংখ্যা 55, যা এই রেঞ্জের মধ্যে পড়ে। আয়রন (56Fe) এবং নিকেল (62Ni) এর কাছাকাছি থাকায় 55Mn এর প্রতি নিউক্লিয়নে (এবং প্রতি গ্রামে) বন্ধন শক্তি অন্যান্য হালকা মৌল (যেমন- He, O, S) এর তুলনায় সবচেয়ে বেশি। এর ফলে এটি অধিকতর স্থিতিশীল।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
এখানে প্রদত্ত নিউক্লিয়াস দুটি হলো 31H এবং 32He।
কোনো মৌলের সংকেতে উপরের সংখ্যাটি হলো ভরসংখ্যা (A) এবং নিচের সংখ্যাটি হলো পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা (Z)
31H এর ক্ষেত্রে: ভরসংখ্যা = 3, পারমাণবিক সংখ্যা = 1
32He এর ক্ষেত্রে: ভরসংখ্যা = 3, পারমাণবিক সংখ্যা = 2
যেহেতু উভয় নিউক্লিয়াসের ভরসংখ্যা সমান (3) কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাই এদেরকে পরস্পরের আইসোবার (Isobar) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রকৃতিতে হাইড্রোজেনের ৩টি আইসোটোপ পাওয়া যায়। যথা:
প্রোটিয়াম (1H): এতে ১টি প্রোটন আছে, কোনো নিউট্রন নেই (সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়)।
ডিউটেরিয়াম (2H বা D): এতে ১টি প্রোটন ও ১টি নিউট্রন আছে। একে 'ভারী হাইড্রোজেন' বলা হয়।
ট্রিটিয়াম (3H বা T): এতে ১টি প্রোটন ও ২টি নিউট্রন আছে। এটি একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ।
যেহেতু ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম হাইড্রোজেনের সুনির্দিষ্ট আইসোটোপের নাম, কিন্তু 'হাইড্রোজেন' হলো সামগ্রিক মৌলটির নাম (যার প্রথম আইসোটোপকে প্রোটিয়াম বলা হয়), তাই অপশনগুলোর মাঝে 'হাইড্রোজেন' সঠিক আইসোটোপের নাম নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে আইসোটোন (Isotone) বলে।
অন্যান্য অপশনগুলোর ক্ষেত্রে:
আইসোটোপ (Isotope): পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন) সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন।
আইসোবার (Isobar): ভরসংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন।
আইসোমার (Isomer): পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা উভয়ই সমান, কিন্তু এদের অভ্যন্তরীণ শক্তির অবস্থা ভিন্ন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কার্বনের তিনটি পরিচিত আইসোটোপ হলো 126C, 136C এবং 146C। এগুলোর মধ্যে 146C হলো একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (Radioactive isotope)
146C আইসোটোপটির একটি নির্দিষ্ট অর্ধায়ু (প্রায় ৫৭৩০ বছর) রয়েছে, যা সময়ের সাথে সাথে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
✔ এই তেজস্ক্রিয়তার কারণে প্রাচীন জীবাশ্ম, কাঠ বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের বয়স নির্ধারণে (Carbon dating) 146C ব্যবহার করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ও ভরসংখ্যা ভিন্ন হয়, সেসব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ (Isotope) বলা হয়।

অন্যান্য পদগুলোর সংজ্ঞা:
আইসোবার: ভরসংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন।
আইসোটোন: নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভরসংখ্যা ভিন্ন।
আইসোমার: পারমাণবিক সংখ্যা এবং ভরসংখ্যা সমান কিন্তু অভ্যন্তরীণ গঠন ভিন্ন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব পরমাণুর ভরসংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার (Isobar) বলা হয়।

অন্যান্য পদগুলোর সংজ্ঞা:
আইসোটোপ: প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন।
আইসোটোন: নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন।
আইসোমার: পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা উভয়ই সমান, কিন্তু অভ্যন্তরীণ শক্তি বা গঠন ভিন্ন।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা হলো তার পারমাণবিক সংখ্যা (নিচের সংখ্যাটি) এবং নিউট্রন সংখ্যা হলো ভরসংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার পার্থক্য (উপরের সংখ্যা - নিচের সংখ্যা)।
অপশনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
11H: প্রোটন = 1, নিউট্রন = 1 - 1 = 0
73Li (প্রশ্নে 37Li উল্লিখিত): প্রোটন = 3, নিউট্রন = 7 - 3 = 4
126C: প্রোটন = 6, নিউট্রন = 12 - 6 = 6 (এখানে প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান)
2311Na: প্রোটন = 11, নিউট্রন = 23 - 11 = 12
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা) ও ভরসংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন (Isotone) বলা হয়।
✔ এখানে 4020Ca (ক্যালসিয়াম) এর নিউট্রন সংখ্যা = 40 - 20 = 20।
3919K (পটাশিয়াম) এর নিউট্রন সংখ্যা = 39 - 19 = 20।
✔ যেহেতু উভয়ের নিউট্রন সংখ্যা সমান, তাই এরা পরস্পরের আইসোটোন
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আইনস্টাইনের ভর-শক্তি সমীকরণ থেকে আমরা জানি, E = mc2
এখানে, প্রদত্ত শক্তি, E = 6.8 × 1011 kWh = 6.8 × 1011 × 3.6 × 106 J = 2.448 × 1018 J
আলোর বেগ, c = 3 × 108 m/s
✔ অতএব, রূপান্তরিত ভর, m = E / c2
m = (2.448 × 1018) / (3 × 108)2 = 27.2 kg
(বিঃদ্রঃ: সঠিক গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী উত্তর 27.2 kg হয়। তবে মূল প্রশ্নে শক্তির পরিমাণ 6.7 × 1011 kWh হলে উত্তর 26.8 kg হবে, যা বোর্ড বইয়ের একটি পরিচিত মুদ্রণজনিত ত্রুটি।)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আমরা জানি, 1 amu (পারমাণবিক ভর একক) ভরের সম্পূর্ণ রূপান্তরের ফলে সমতুল্য শক্তির পরিমাণ হলো প্রায় 931 MeV
✔ প্রদত্ত ভরত্রুটি, Δm = 0.0377 amu
✔ সুতরাং, বন্ধন শক্তি, E = Δm × 931 MeV
E = 0.0377 × 931 MeV = 35.1 MeV
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব পরমাণুর ভরসংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার (Isobar) বলা হয়।
✔ এখানে 4018Ar (আর্গন) এর ভরসংখ্যা 40 এবং 4020Ca (ক্যালসিয়াম) এর ভরসংখ্যাও 40।
✔ যেহেতু উভয়ের ভরসংখ্যা সমান, তাই এরা পরস্পরের আইসোবার
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
126C এবং 136C হলো কার্বনের দুটি আইসোটোপ।
✔ আইসোটোপগুলোর প্রোটন সংখ্যা বা ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে।
✔ কোনো মৌলের রাসায়নিক ধর্ম প্রধানত তার ইলেকট্রন বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে।
✔ যেহেতু আইসোটোপগুলোর ইলেকট্রন বিন্যাস একই, তাই এদের রাসায়নিক ধর্ম এবং রাসায়নিক বিক্রিয়া প্রায় সমান হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ওই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number) বলে।
✔ পারমাণবিক সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
✔ অন্যদিকে, নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ওই মৌলের ভরসংখ্যা (Mass number) বলে। অর্থাৎ, ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
✔ একটি আদর্শ ফিশন বিক্রিয়ায় (যেমন: ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর ফিশন) নিউক্লিয়াস ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।
✔ ইউরেনিয়ামের একটি নিউক্লিয়াসের ফিশন ঘটলে গড়ে প্রায় 200 MeV (Mega Electron-Volt) শক্তি নির্গত হয়।
✔ অন্যদিকে, ১ amu (পারমাণবিক ভর একক) ভরের সম্পূর্ণ রূপান্তরের ফলে সমতুল্য শক্তির পরিমাণ হলো প্রায় 931 MeV
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
✔ যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস (যেমন: হাইড্রোজেন বা ডিউটেরিয়াম) একত্রিত হয়ে একটি অপেক্ষাকৃত ভারী নিউক্লিয়াস গঠন করে, তাকে নিউক্লীয় ফিউশন (Nuclear Fusion) বা সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
✔ হালকা নিউক্লিয়াসগুলোর ভরত্রুটি বেশি থাকায় এরা যুক্ত হওয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। নক্ষত্র বা সূর্যের শক্তির মূল উৎস হলো এই ফিউশন বিক্রিয়া।
✔ অন্যদিকে, ভারী নিউক্লিয়াসগুলো ভেঙে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ফিশন (Fission) বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
✔ যে প্রক্রিয়ায় একটি ভারী নিউক্লিয়াস (যেমন: ইউরেনিয়াম) ভেঙে প্রায় সমান ভরের দুটি হালকা নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয় এবং প্রচুর পরিমাণে শক্তি নির্গত করে, তাকে নিউক্লীয় ফিশন (Nuclear Fission) বা বিভাজন বিক্রিয়া বলে।
✔ পারমাণবিক চুল্লি বা অ্যাটম বোমায় এই ফিশন নীতি ব্যবহার করা হয়।
✔ অন্যদিকে, হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে ভারী নিউক্লিয়াস গঠনের প্রক্রিয়াকে নিউক্লীয় ফিউশন (Nuclear Fusion) বলে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
তেজস্ক্রিয় বিকিরণ একটি নিউক্লীয় ঘটনা
- তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে α (আলফা), β (বিটা) এবং γ (গামা) রশ্মি নির্গত করে। এগুলো সরাসরি নিউক্লিয়াস থেকে উৎপন্ন হয়।
- অন্যদিকে, x-রশ্মি (X-ray) নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত হয় না। এটি পরমাণুর ভেতরের কক্ষপথের ইলেকট্রনের স্থানান্তরের ফলে (উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে আসার কারণে) উৎপন্ন হয়।
সুতরাং, x-রশ্মি নিউক্লীয় ঘটনা নয়, এটি একটি পারমাণবিক ঘটনা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
- amu (Atomic Mass Unit): এটি পারমাণবিক স্তরে ভর পরিমাপের একক।
- MeV/c²: আইনস্টাইনের ভর-শক্তি সমীকরণ (E = mc² থেকে প্রাপ্ত m = E/c²) অনুযায়ী এটি ভরের একটি একক, যা কণা পদার্থবিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- Nm⁻¹s²: এটিকে ভাঙলে পাওয়া যায় (kg·m·s⁻²)·m⁻¹·s² = kg, যা ভরের একক
- MeV (Mega Electron-Volt): এটি মূলত শক্তির একক, ভরের একক নয়।
সুতরাং, ভরের একক নয় MeV
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- amu (atomic mass unit) হলো পারমাণবিক ও উপ-পারমাণবিক কণার ভর মাপার একক।
- আইন্সটাইনের ভর-শক্তি সমীকরণ (E = mc2) ব্যবহার করে ১ amu ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করলে প্রায় 931 MeV শক্তি পাওয়া যায়।
- ১ amu = 1.66 × 10-27 kg।
- অন্যদিকে, 1.6 × 10-19 J হলো 1 ইলেকট্রন ভোল্ট (1 eV) এর মান।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক ক্ষুদ্র ও হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি বড় বা ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়, তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion) বলে।
- সূর্য এবং অন্যান্য নক্ষত্রের কেন্দ্রে এই ফিউশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই (প্রধানত হাইড্রোজেন যুক্ত হয়ে হিলিয়াম তৈরির মাধ্যমে) বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- অন্যদিকে, যে প্রক্রিয়ায় একটি বড় বা ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়, তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন (Nuclear Fission) বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ধরি, আদি নিউক্লিয়াসটি হলো AZX।
- বিক্রিয়াটি হলো: AZX + 10n → 0-1e + 2(42He)
- ভরের সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী:
A + 1 = 0 + (2 × 4)
⇒ A + 1 = 8
A = 7
- চার্জের সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী:
Z + 0 = -1 + (2 × 2)
⇒ Z = -1 + 4
Z = 3
সুতরাং, আদি নিউক্লিয়াসের ভরসংখ্যা (A) = 7 এবং পারমাণবিক সংখ্যা (Z) = 3।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
✔ নিউক্লিয় চুল্লিতে ফিশন বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন দ্রুতগতির নিউট্রনগুলোর গতি কমিয়ে আনার জন্য মন্দক (Moderator) ব্যবহার করা হয়।

✔ সাধারণত ভারী পানি (Heavy water বা D2O), গ্রাফাইট এবং সাধারণ পানি চুল্লিতে মন্দক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

✔ অন্যদিকে, ক্যাডমিয়াম (Cadmium) দণ্ড চুল্লিতে নিয়ন্ত্রক দণ্ড (Control rod) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে। আর ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম হলো পারমাণবিক জ্বালানি।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
✔ যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হাল্কা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি অপেক্ষাকৃত ভারী নিউক্লিয়াস গঠন করে, তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion) বা সংযোজন বিক্রিয়া বলে।

✔ হাল্কা নিউক্লিয়াসগুলোর (যেমন: হাইড্রোজেন বা ডিউটেরিয়াম) ভরত্রুটি বেশি থাকায় এরা যুক্ত হওয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। তাই ফিউশন প্রক্রিয়ায় হাল্কা নিউক্লিয়াস উপযুক্ত।

✔ অন্যদিকে, ভারী নিউক্লিয়াসগুলো ফিশন (Fission) প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
• পারমাণবিক বা নিউক্লিয়ার চুল্লিতে ক্যাডমিয়াম বা বোরন দণ্ড মূলত নিয়ন্ত্রণ দণ্ড (Control Rod) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• ক্যাডমিয়ামের নিউট্রন শোষণ করার ক্ষমতা অত্যন্ত প্রবল, তাই এটি কিছু অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে চেইন বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে।
• নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়ায় অতিরিক্ত নিউট্রন তৈরি হলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে; ক্যাডমিয়াম দণ্ড চুল্লিতে প্রয়োজনমতো প্রবেশ করিয়ে সেই নিউট্রন সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়।
• সব নিউট্রন শোষণ করলে চুল্লির বিক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে, তাই বিক্রিয়াটি স্থিতিশীল ও চলমান রাখতে এটি কিছু নিউট্রন শোষণ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সূর্যে বা নক্ষত্রে শক্তি তৈরির মূল প্রক্রিয়া হলো নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion) বা কেন্দ্রক সংযোজন।

• সূর্যের গ্যাসপিণ্ডের প্রধান উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেনহিলিয়াম
• এই ফিউশন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে হালকা হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী হিলিয়াম (He) নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়।
• এই পরিবর্তনের সময় ভরের যে ঘাটতি ঘটে, তা বিপুল পরিমাণ সৌরশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাই সঠিক উত্তর: ফিউশন
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেকোনো নিউক্লীয় বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক এবং উৎপাদের মোট ভরসংখ্যা (উপরের সংখ্যা) এবং মোট পারমাণবিক সংখ্যা (নিচের সংখ্যা) সংরক্ষিত থাকে।
• বিক্রিয়কের (বামপাশে) মোট ভরসংখ্যা = 235 (U) + 1 (n) = 236
• উৎপাদের (ডানপাশে) মোট ভরসংখ্যা = 141 (Ba) + 92 (Kr) + অজানা কণার ভর (x) = 233 + x
• ভরসংখ্যার সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী: 236 = 233 + x ⇒ x = 3
• বিক্রিয়কের মোট পারমাণবিক সংখ্যা = 92 + 0 = 92
• উৎপাদের মোট পারমাণবিক সংখ্যা = 56 + 36 + অজানা কণার পারমাণবিক সংখ্যা (y) = 92 + y
• পারমাণবিক সংখ্যার সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী: 92 = 92 + y ⇒ y = 0
• যেহেতু প্রতিটি নিউট্রনের ভরসংখ্যা 1 এবং পারমাণবিক সংখ্যা 0, তাই 3 ভরসংখ্যা ও 0 পারমাণবিক সংখ্যা নির্দেশ করে যে এখানে ৩টি নিউট্রন (3¹₀n) উৎপন্ন হয়েছে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেকোনো নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ক এবং উৎপাদের মোট ভরসংখ্যা এবং পারমাণবিক সংখ্যা সংরক্ষিত থাকে
• বিক্রিয়াটি হলো: ¹⁴₇N + x → ¹⁴₆C + ¹₁H
• ধরি, অজানা কণাটি x = ᴬₛX, যেখানে A = ভরসংখ্যা এবং s = পারমাণবিক সংখ্যা।
• ভরসংখ্যার সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী: 14 + A = 14 + 1 ⇒ A = 1
• পারমাণবিক সংখ্যার সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী: 7 + s = 6 + 1 ⇒ s = 7 - 7 ⇒ s = 0
• 0 পারমাণবিক সংখ্যা এবং 1 ভরসংখ্যা বিশিষ্ট কণাটি হলো নিউট্রন (¹₀n)
সুতরাং, x কণাটি হবে একটি নিউট্রন। (বি.দ্র: প্রশ্নে অপশনে ⁰₁n দেওয়া আছে যা মূলত ¹₀n হবে)।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0