কোষ বিভাজন (92 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কোষ বিভাজনের শুরুতে জল বিয়োজনের (dehydration) মাধ্যমে ক্রোমোজোমগুলোর ক্রমাগত খাটো ও মোটা হওয়ার প্রক্রিয়াকে কনডেনসেশন (Condensation) বলা হয়।
অন্যান্য পরিভাষাগুলো হলো:
- সিন্যাপসিস (Synapsis): মিয়োসিস বিভাজনের জাইগোটিন উপ-পর্যায়ে দুটি হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের জোড়া বাঁধার প্রক্রিয়া।
- বাইভ্যালেন্ট (Bivalent): সিন্যাপসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট প্রতিটি ক্রোমোজোম জোড়াকে একত্রে বাইভ্যালেন্ট বলে।
- অ্যাপোপটোসিস (Apoptosis): এটি হলো জীবের জিন নিয়ন্ত্রিত স্বাভাবিক কোষ মৃত্যু (programmed cell death)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মিয়োসিস (Meiosis) কোষ বিভাজনের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যগুলো হলো:
- মিয়োসিস-১ এর অ্যানাফেজ-১ দশায় ক্রোমোজোমগুলো সেন্ট্রোমিয়ার বরাবর বিভক্ত হয় না, বরং হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই মেরুতে যায়। এর ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়। ক্রোমোজোম বিভক্ত হয়ে দুই মেরুতে যাওয়া এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকা মূলত মাইটোসিস কোষ বিভাজনের বৈশিষ্ট্য।
- মিয়োসিসে নিউক্লিয়াস দুবার কিন্তু ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয় এবং একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয়।
- এর প্রোফেজ-১ এর জাইগোটিন উপ-পর্যায়ে হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া বা বাইভ্যালেন্ট সৃষ্টি করে।
- এতে কায়াজমা সৃষ্টি ও ক্রসিং ওভার (Crossing over) ঘটে, যার ফলে জিনের আদান-প্রদান হয়। তাই সৃষ্ট অপত্য কোষগুলোর ক্রোমোজোমের গুণাগুণ মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের সমগুণ সম্পন্ন হয় না
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মিয়োসিস (Meiosis) কোষ বিভাজনে ক্রসিং ওভার (Crossing over) ঘটার কারণে জিনের আদান-প্রদান হয়।
- এর ফলে সৃষ্ট অপত্য কোষগুলোর ক্রোমোজোমের গুণাগুণ মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের সমগুণ সম্পন্ন হয় না। অপত্য কোষে মাতৃকোষের হুবহু সমগুণ থাকা মূলত মাইটোসিস কোষ বিভাজনের বৈশিষ্ট্য।
- মিয়োসিসের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: এটি কেবল ডিপ্লয়েড কোষে ঘটে (হ্যাপ্লয়েড কোষে হয় না), নিউক্লিয়াস দুবার কিন্তু ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয় এবং একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মিয়োসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ-১ (Anaphase-1) ধাপে হোমোলগাস ক্রোমোজোম জোড়ার প্রতিটি ক্রোমোজোম সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে অগ্রসর হয়।
- মাইটোসিসের মতো এই ধাপে সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় না, বরং আস্ত ক্রোমোজোমটি মেরুর দিকে চলে যায়।
- এর ফলে কোষের দুই মেরুতে ক্রোমোজোমের সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক (Haploid) হয়ে যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মিয়োসিস বিভাজনের প্রফেজ-১ এর ডিপ্লোটিন (Diplotene) উপ-পর্যায়ে সমসংস্থ বা হোমোলগাস ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে বিকর্ষণের কারণে এরা একে অপরের থেকে দূরে সরে যেতে থাকে।
- এর ফলে কায়াজমাটা (Chiasmata) ক্রমশ ক্রোমোজোমের প্রান্তের দিকে সরে যায়।
- কায়াজমাটার এই প্রান্তের দিকে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকেই প্রান্তীয়করণ (Terminalization) বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মিয়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ দশার ডিপ্লোটিন (Diplotene) উপ-পর্যায়ে হোমোলগাস ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে বিকর্ষণ শুরু হয়।
- বিকর্ষণের ফলে কায়াজমাটা (Chiasmata) ক্রমশ ক্রোমোজোমের প্রান্তের দিকে সরে যেতে থাকে।
- কায়াজমাটার ক্রোমোজোমের প্রান্তের দিকে এই সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকেই প্রান্তবর্তন বা প্রান্তীয়করণ (Terminalization) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মিয়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ দশাকে পাঁচটি উপ-পর্যায়ে ভাগ করা যায়: লেপ্টোটিন, জাইগোটিন, প্যাকাইটিন, ডিপ্লোটিন এবং ডায়াকাইনেসিস।
- জাইগোটিন (Zygotene) উপ-পর্যায়ে হোমোলগাস (সমসংস্থ) ক্রোমোজোম জোড় বাঁধে।
- হোমোলগাস ক্রোমোজোমগুলোর জোড় বাঁধার এই প্রক্রিয়াকেই সিন্যাপসিস (Synapsis) বলা হয় এবং সৃষ্ট প্রতিটি জোড়াকে বাইভ্যালেন্ট (Bivalent) বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ মিয়োসিস-১ কোষ বিভাজনের প্রফেজ-১ দশায় জাইগোটিন (Zygotene) উপ-দশায় দুটি সমসংস্থ বা হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের মধ্যে জোড়া বাঁধার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
⇒ ক্রোমোসোমের এই জোড়া বাঁধার প্রক্রিয়াকেই সিন্যাপসিস (Synapsis) বলা হয় এবং প্রতিটি সৃষ্ট জোড়াকে বাইভ্যালেন্ট (Bivalent) বলা হয়।
⇒ কোষের প্রতিটি হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া থেকে একটি বাইভ্যালেন্ট সৃষ্টি হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ মিয়োসিস-১ কোষ বিভাজনের প্রফেজ-১ দশায় জাইগোটিন (Zygotene) উপ-দশায় দুটি সমসংস্থ বা হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের মধ্যে জোড়া বাঁধার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
⇒ ক্রোমোসোমের এই জোড়া বাঁধার প্রক্রিয়াকেই সিন্যাপসিস (Synapsis) বলা হয় এবং প্রতিটি জোড়াকে বাইভ্যালেন্ট (Bivalent) বলা হয়।
অন্যান্য উপ-দশার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি:
লেপ্টোটিন: ক্রোমোসোমগুলো জল বিয়োজন করে দৃশ্যমান হতে শুরু করে।
প্যাকাইটিন: ক্রসিং ওভার (Crossing over) ঘটে।
ডিপ্লোটিন: কায়াজমা (Chiasma) স্পষ্ট হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ মায়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ দশার প্যাকাইটিন (Pachytene) উপ-পর্যায়ে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ইংরেজি 'X' অক্ষরের মতো জোড় সৃষ্টি হয়, যাকে কায়াজমা (Chiasma) বলা হয়।
⇒ এই উপ-পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো অনুদৈর্ঘ্য বরাবর বিভক্ত হয়ে টেট্রাড (Tetrad) গঠন করে।
⇒ কায়াজমা অংশে ক্রোমাটিডের অংশের বিনিময় ঘটে, যাকে ক্রসিং ওভার (Crossing over) বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ মায়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ দশার প্যাকাইটিন (Pachytene) উপ-পর্যায়ে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ইংরেজি 'X' অক্ষরের মতো জোড় সৃষ্টি হয়, যাকে কায়াজমা (Chiasma) বলা হয়।
⇒ এই কায়াজমা অংশে ক্রোমাটিডের অংশের বিনিময় ঘটে, যাকে ক্রসিং ওভার (Crossing over) বলে।
জাইগোটিন উপ-পর্যায়ে হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের জোড় বাঁধার প্রক্রিয়া বা সিন্যাপসিস ঘটে।
ডিপ্লোটিন উপ-পর্যায়ে কায়াজমাগুলো আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে বিকর্ষণ শুরু হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ মায়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ দশার সর্বশেষ উপপর্যায় হলো ডায়াকাইনেসিস (Diakinesis)
⇒ এই উপপর্যায়ের শেষের দিকে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিওলাস-এর সম্পূর্ণ অবলুপ্তি ঘটে।
⇒ এই পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক খাটো ও মোটা হয় এবং প্রাণী কোষে সেন্ট্রিওল মেরুর দিকে অগ্রসর হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মায়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ (Prophase-I) হলো কোষ বিভাজনের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল পর্যায়।
- বিভাজনের সুবিধার্থে এই পর্যায়টিকে ৫টি উপধাপে ভাগ করা হয়েছে।
- উপধাপগুলোর সঠিক ক্রম পর্যায় হলো: লেপ্টোটিন (Leptotene) → জাইগোটিন (Zygotene) → প্যাকাইটিন (Pachytene) → ডিপ্লোটিন (Diplotene) → ডায়াকাইনেসিস (Diakinesis)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মায়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ দশার প্যাকাইটিন (Pachytene) উপধাপে ক্রসিংওভার ঘটে থাকে।
- এই উপধাপে একজোড়া হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে জিনগত অংশের বিনিময় ঘটে।
- ক্রসিংওভারের ফলে জীবের বৈশিষ্ট্যে নতুন প্রকরণ বা বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
স্পোরোফাইটিক বা ডিপ্লয়েড (2n) জীবের জীবনচক্রে গ্যামেট বা স্পোর সৃষ্টির জন্য মায়োসিস কোষ বিভাজন ঘটে।
- এই বিভাজনটি মূলত জনন মাতৃকোষে (Gamete/Spore mother cell) ঘটে থাকে।
- এর ফলে ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড (n) গ্যামেট বা স্পোর তৈরি করে।
- উল্লেখ্য, জীবের দেহকোষে (Somatic cell) সর্বদা মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে এবং পরাগরেণু হলো হ্যাপ্লয়েড কোষ যা মায়োসিসের ফলে সৃষ্টি হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জীবের বংশ পরম্পরায় ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব বা নিয়ন্ত্রিত রাখতে মায়োসিস (Meiosis) কোষ বিভাজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- মায়োসিস বিভাজনে মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট বা জননকোষ (n) সৃষ্টি হয়।
- পরবর্তীতে পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনের (নিষেক) ফলে পুনরায় ডিপ্লয়েড (2n) অবস্থার সৃষ্টি হয়।
- মায়োসিস না ঘটলে প্রতি প্রজন্মে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত, ফলে প্রজাতির স্বকীয়তা নষ্ট হতো।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মায়োসিস কোষ বিভাজনের সময় ক্রসিংওভার (Crossing over) প্রক্রিয়ায় ক্রোমাটিডের অংশের বিনিময় ঘটে।
- ক্রসিংওভারের শুরুতে হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড (Non-sister chromatid) এক বা একাধিক স্থানে এন্ডোনিউক্লিয়েজ (Endonuclease) এনজাইমের প্রভাবে আড়াআড়িভাবে ভেঙ্গে যায়।
- পরবর্তীতে লাইগেজ (Ligase) এনজাইমের সাহায্যে ভাঙা অংশগুলো পুনরায় জোড়া লাগে এবং জিনগত বিনিময় সম্পন্ন হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বংশগতির জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের সূত্রগুলো মূলত গ্যামেট সৃষ্টি এবং জিনের স্বাধীন সঞ্চারণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
- গ্যামেট সৃষ্টির এই প্রক্রিয়াটি ঘটে মায়োসিস (Meiosis) কোষ বিভাজনের মাধ্যমে।
- মায়োসিস বিভাজনের সময় ক্রসিংওভার ও জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে, যার মাধ্যমে মেন্ডেলের বংশগতিবিদ্যার সূত্রসমূহ এবং এর আপাত ব্যতিক্রমগুলো সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মায়োসিস-১ এর জাইগোটিন উপপর্যায়ে পিতা ও মাতা থেকে আসা হোমোলোগাস ক্রোমোসোমগুলো জোড় বেঁধে বাইভ্যালেন্ট (Bivalent) তৈরি করে।
- এই বাইভ্যালেন্ট অবস্থায় হোমোলোগাস ক্রোমোসোমগুলো একে অপরের সাথে সমকোণে অর্থাৎ ৯০° (90 degree) কোণে অবস্থান করে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মায়োসিস-২ কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ-২ (Anaphase-II) ধাপে প্রতিটি ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার সম্পূর্ণ বিভক্ত হয়ে যায়।
- ফলে সিস্টার ক্রোমাটিডগুলো আলাদা হয়ে অপত্য ক্রোমোসোমে পরিণত হয় এবং স্পিন্ডল তন্তুর সংকোচনের কারণে বিপরীত মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
- এই মেরুমুখী চলনের সময় সেন্ট্রোমিয়ার মেরুর দিকে অর্থাৎ অগ্রগামী থাকে এবং বাহুগুলো অনুগামী বা পশ্চাৎবর্তী অবস্থায় থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কোষ বিভাজনের সময় একটি ক্রোমোসোম লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি ক্রোমাটিড গঠন করে।
- একই ক্রোমোসোম থেকে সৃষ্ট এই দুটি ক্রোমাটিডকে একে অপরের সিস্টার ক্রোমাটিড (Sister chromatid) বলা হয়।
- অন্যদিকে, একটি হোমোলোগাস জোড়ভুক্ত দুটি ভিন্ন ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিডগুলোকে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড (Non-sister chromatid) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মায়োসিস-১ এর প্যাকাইটিন (Pachytene) উপপর্যায়ে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে।
- এই ক্রোমোসোমের অংশের বিনিময় হওয়ার প্রক্রিয়াকেই ক্রসিংওভার (Crossing over) বলা হয়।
- এর ফলে জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে এবং জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মায়োসিস-১ এর জাইগোটিন (Zygotene) উপপর্যায়ে পিতা ও মাতা থেকে আসা হোমোলোগাস (সমসংস্থ) ক্রোমোসোমগুলো জোড় বাঁধে।
- ক্রোমোসোমের এই জোড় বাঁধার প্রক্রিয়াকে সিন্যাপসিস (Synapsis) বলে।
- সিন্যাপসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট প্রতিটি জোড় বাঁধা ক্রোমোসোম জোড়াকে একত্রে বাইভ্যালেন্ট (Bivalent) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মায়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপপর্যায় হলো প্যাকাইটিন (Pachytene)
- এই ধাপে প্রতিটি হোমোলোগাস ক্রোমোসোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড গঠন করে।
- ফলে প্রতিটি বাইভ্যালেন্টে (জোড় বাঁধা ক্রোমোসোম) মোট চারটি ক্রোমাটিড দেখা যায়।
- চারটি ক্রোমাটিডের এই অবস্থাকেই টেট্রাড (Tetrad) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মায়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ এর প্রথম উপপর্যায় হলো লেপ্টোটিন (Leptotene)
- এই ধাপে ক্রোমোসোমগুলো জলবিয়োজন শুরু করে এবং ক্রমান্বয়ে সংকুচিত ও পুরু হতে থাকে।
- এ সময় ক্রোমোসোমের গায়ে অনেকগুলো পুঁতির মালার মতো বিন্দু বা দানাদার অংশ দেখা যায়, যাদের ক্রোমোমিয়ার (Chromomere) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শৈবাল (Algae) এবং ছত্রাকের মতো হ্যাপ্লয়েড (n) জীবের মূল দেহ গ্যামেটোফাইট প্রকৃতির।
- এদের জীবনচক্রে দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেটের মিলনের ফলে যে জাইগোট (Zygote) তৈরি হয়, সেটিই এদের একমাত্র ডিপ্লয়েড (2n) দশা।
- যেহেতু জীবের মূল দেহ হ্যাপ্লয়েড, তাই ডিপ্লয়েড জাইগোটকে পুনরায় হ্যাপ্লয়েড অবস্থায় ফিরে যেতে জাইগোটে মায়োসিস (Zygotic meiosis) সংঘটিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
স্পোরোফাইটিক বা ডিপ্লয়েড (2n) জীবের জীবনচক্রে গ্যামেট বা স্পোর সৃষ্টির জন্য মায়োসিস কোষ বিভাজন ঘটে।
- এই বিভাজনটি মূলত জনন মাতৃকোষে (Spore mother cell) ঘটে থাকে।
- এর ফলে ডিপ্লয়েড মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড (n) গ্যামেট বা স্পোর তৈরি হয়।
- উল্লেখ্য, এদের দেহকোষে সর্বদা মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মিয়োসিস (Meiosis) কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার।
- এর ফলে সৃষ্ট অপত্য কোষে (daughter cell) ক্রোমোজোমের সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়।
- যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় ক্রোমোজোম সংখ্যার হ্রাস ঘটে, তাই মিয়োসিস বিভাজনকে হ্রাসমূলক বা বিয়োজন বিভাজন (Reductional Division) বলা হয়।
- অন্যদিকে, মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষ ও অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে বলে একে সমীকরণিক বিভাজন (Equational Division) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী এডুয়ার্ড স্ট্রাসবার্জার (Eduard Strasburger) ১৮৮৮ সালে সপুষ্পক উদ্ভিদে প্রথমবারের মতো মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রত্যক্ষ করেন।
- প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কোষ বিভাজনের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী ও বর্ণনাকারী ছিলেন জার্মান জীববিজ্ঞানী ওয়াল্টার ফ্লেমিং, যিনি ১৮৮২ সালে সামুদ্রিক সালামান্ডারের কোষে মাইটোসিসের ধাপগুলো প্রথমবারের মতো লক্ষ্য করেন।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শৈবাল (Algae) এবং ছত্রাকের মূল দেহ হ্যাপ্লয়েড (n) প্রকৃতির, অর্থাৎ এদের জীবনচক্রে গ্যামেটোফাইট দশা প্রধান।
- শৈবালের ক্ষেত্রে জাইগোট ব্যতীত অন্য কোনো কোষে ডিপ্লয়েড দশা দেখা যায় না।
- অন্যদিকে ফার্ন (টেরিডোফাইট), জিম্নোস্পার্ম (নগ্নবীজী) এবং অ্যানজিওস্পার্ম (আবৃতবীজী) উদ্ভিদের মূল দেহ ডিপ্লয়েড (2n) বা স্পোরোফাইট প্রকৃতির হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0