ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা (57 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হ্যাড্রোসেন্ট্রিক (Hadrocentric) বা জাইলেমকেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং তাকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফ্লোয়েম অবস্থান করে।
- টেরিডোফাইট জাতীয় উদ্ভিদ যেমন- Pteris, Lycopodium, Selaginella ইত্যাদির কান্ডে এই ধরনের ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়।
- উল্লেখ্য, ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থেকে জাইলেম দ্বারা বেষ্টিত থাকলে তাকে লেপ্টোসেন্ট্রিক (Leptocentric) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ফার্ন বা টেরিডোফাইট (Pteridophyta) উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের সুস্পষ্ট পরিবহনতন্ত্র (জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু) রয়েছে। তাই এদের ভাস্কুলার ক্রিপ্টোগ্যামস বলা হয়। সুতরাং, 'এদের পরিবহন তন্ত্র নেই' উক্তিটি ফার্নের ক্ষেত্রে সঠিক নয়।
ফার্নের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:
- এদের প্রধান উদ্ভিদ দেহ স্পোরোফাইটিক যা মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত
- এদের কান্ড সাধারণত রাইজোম প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- এরা অপুষ্পক উদ্ভিদ, অর্থাৎ এদের ফুল, ফল ও বীজ হয় না; এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে।
- এদের যৌনাঙ্গ বহুকোষী এবং বন্ধ্যাকোষের আবরণ যুক্ত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ফার্ন বা টেরিডোফাইট (Pteridophyta) উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের স্পোরোফাইট দেহ মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত
- এদের সুস্পষ্ট পরিবহনতন্ত্র (জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু) রয়েছে, তাই এদের ভাস্কুলার ক্রিপ্টোগ্যামস বলা হয়।
- এরা অপুষ্পক উদ্ভিদ, অর্থাৎ এদের ফুল, ফল ও বীজ হয় না; এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে।
- এদের যৌনাঙ্গ বহুকোষী এবং বন্ধ্যাকোষের আবরণ যুক্ত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Pteris (ফার্ন) এর জীবনচক্রে স্পোরোফাইট বা রেণুধর দশাটি ডিপ্লয়েড (2n)
- পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনের ফলে যে উস্পোর (Oospore) বা জাইগোট তৈরি হয়, সেটিই স্পোরোফাইট দশার প্রথম কোষ।
- উস্পোর মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ স্পোরোফাইট উদ্ভিদ (Pteris) গঠন করে।
- স্পোর (Spore) হলো হ্যাপ্লয়েড এবং গ্যামিটোফাইটিক বা লিঙ্গধর পর্যায়ের প্রথম কোষ।
- স্পোর মাতৃকোষ (2n) মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড স্পোর উৎপন্ন করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ফার্ন বা টেরিডোফাইট উদ্ভিদের জীবনচক্রে স্পোরোফাইট দশা হলো ডিপ্লয়েড (2n)
- পুং গ্যামেট (শুক্রাণু) ও স্ত্রী গ্যামেটের (ডিম্বাণু) নিষেকের ফলে জাইগোট বা উস্পোর (Oospore) উৎপন্ন হয়।
- এই ডিপ্লয়েড উস্পোর-ই হলো ফার্নের স্পোরোফাইটিক বা ডিপ্লয়েড দশার প্রথম কোষ।
- অন্যদিকে, স্পোর (Spore) হলো হ্যাপ্লয়েড এবং এটি গ্যামিটোফাইট দশার প্রথম কোষ। স্পোর মাতৃকোষ ডিপ্লয়েড হলেও এটি স্পোরোফাইট দশার শেষ কোষ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Hepaticae শ্রেণির উদ্ভিদগুলোকে সাধারণভাবে লিভারওয়ার্ট (Liverwort) বলা হয়।
- এদের থ্যালাস দেখতে মানুষের যকৃত বা লিভারের (Liver) মতো লোবযুক্ত হওয়ায় এমন নামকরণ করা হয়েছে। যেমন: Riccia, Marchantia
- অন্যান্য অপশনের মধ্যে Bryopsida শ্রেণির উদ্ভিদগুলোকে মস (Moss) এবং Anthoceratae শ্রেণির উদ্ভিদগুলোকে হর্নওয়ার্ট (Hornwort) বলা হয়।
- Filicinae হলো ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদের শ্রেণি।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Pteris বাংলাদেশে সাধারণভাবে ঢেঁকি শাক নামে পরিচিত।
- এটি একটি ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ (Pteridophyte)।
- এর পাতাগুলো পক্ষল যৌগিক এবং কান্ড রাইজোম (Rhizome) প্রকৃতির, যা মাটির সমান্তরালে বৃদ্ধি পায়।
- অন্যান্য অপশনের মধ্যে Dryopteris এবং Selaginella হলো অন্যান্য টেরিডোফাইট, এবং Riccia হলো একটি সমাঙ্গদেহী বা থ্যালয়েড ব্রায়োফাইট যার কোনো কান্ড নেই।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অধিকাংশ ফার্ন উদ্ভিদ সাধারণত আর্দ্র, স্যাঁতসেঁতে এবং শীতল ছায়াযুক্ত পরিবেশে জন্মাতে পছন্দ করে।
- তবে Pteris (টেরিস) ফার্নটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি সরাসরি রৌদ্রে জন্মাতে পারে এবং আলোতে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
- সূর্যালোক বা রোদে জন্মানোর এই অভিযোজন ক্ষমতার কারণেই Pteris-কে সান ফার্ন (Sun fern) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Pteris উদ্ভিদের স্পোরাঞ্জিয়ামের ভেতরে উৎপন্ন স্পোরগুলো আকৃতি, আকার ও গুণাগুণের দিক থেকে একই রকম হয়।
- স্পোরের এই সমআকৃতি ও সমগুণসম্পন্ন হওয়ার বৈশিষ্ট্যকে হোমোস্পোরিয়াস (Homosporous) বা সমরেণুপ্রসূ বলা হয়।
- হেটারোস্পোরিয়াস (Heterosporous): যখন কোনো উদ্ভিদে আকার ও আকৃতিতে ভিন্ন দুই ধরনের স্পোর (মাইক্রোস্পোর ও মেগাস্পোর) উৎপন্ন হয়, তখন তাকে হেটারোস্পোরিয়াস বলে (যেমন- Selaginella)।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Pteris (টেরিস) উদ্ভিদকে সান ফার্ন (Sun fern) বলা হয়।
- সাধারণত ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ স্যাঁতসেঁতে ও ছায়াযুক্ত স্থানে জন্মাতে পছন্দ করে, কিন্তু Pteris সরাসরি রোদে বা সূর্যালোকিত স্থানে জন্মাতে ও বাঁচতে পারে। এজন্যই একে সান ফার্ন বলা হয়।
- অন্যান্য অপশন:
- Riccia: এটি একটি ব্রায়োফাইট বা মসবর্গীয় উদ্ভিদ।
- Equisetum ও Selaginella: এগুলো টেরিডোফাইট বা ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ হলেও এদের সান ফার্ন বলা হয় না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রথম ভাস্কুলার উদ্ভিদ (যেমন- ফার্ন) এর কান্ড রাইজোম (Rhizome) প্রকৃতির, যা মাটির সমান্তরালে বৃদ্ধি পায়।
- এই রাইজোমের গায়ে যে বাদামি রঙের রোমশ শল্কপত্র (Scaly leaves) থাকে, তাকে র‍্যামেন্টাম (Ramentum) বা বহুবচনে র‍্যামেন্টা (Ramenta) বলে। এটি কচি পাতা ও রাইজোমকে রক্ষা করে।
- অন্যান্য অপশন:
- ফ্রন্ড (Frond): ফার্নের সম্পূর্ণ পাতাকে একত্রে ফ্রন্ড বলা হয়।
- পিনা (Pinna): ফার্নের যৌগিক পাতার প্রতিটি খণ্ড বা পত্রককে পিনা বলে।
- ক্রোজিয়ার (Crozier): ফার্নের কচি পাতা কুণ্ডলিত অবস্থায় থাকলে তাকে ক্রোজিয়ার বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
স্পোর বা রেণু উৎপন্নকারী পাতাকে স্পোরোফিল (Sporophyll) বা রেণুপত্র বলা হয়। ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদে স্পোরোফিলের নিচের তলে স্পোরাঞ্জিয়া উৎপন্ন হয়।
- ক্যাপসিউল: এটি মস জাতীয় উদ্ভিদের স্পোরোফাইটের একটি অংশ।
- অ্যানুলাস ও স্টোমিয়াম: ফার্নের স্পোরাঞ্জিয়ামের প্রাচীরের বিশেষ অংশ যা স্পোরাঞ্জিয়াম ফেটে গিয়ে স্পোর নির্গমনে সাহায্য করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ফার্নের জীবনচক্রে স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে যে সবুজ, চ্যাপ্টা এবং হৃদপিণ্ডাকার (Heart-shaped) অঙ্গজ দেহ গঠন করে, তাকে প্রোথ্যালাস (Prothallus) বলে।
- প্রোথ্যালাসের কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় এরা সালোকসংশ্লেষণে সক্ষম, অর্থাৎ এরা স্বাধীনজীবী ও স্বভোজী (Autotrophic)
- এটি ফার্নের গ্যামেটোফাইট পর্যায়, তাই এটি হ্যাপ্লয়েড (n), ডিপ্লয়েড নয়।
- একই প্রোথ্যালাসে পুং জননাঙ্গ (অ্যান্থেরিডিয়াম) এবং স্ত্রী জননাঙ্গ (আর্কিগোনিয়াম) উভয়েই থাকে, তাই এটি উভলিঙ্গ ও সহবাসী (একলিঙ্গ বা ভিন্নবাসী নয়)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উদ্ভিদজগতে Pteris (ফার্ন) হলো একটি টেরিডোফাইট, যার প্রধান দেহটি স্পোরোফাইট বা ডিপ্লয়েড (2n) প্রকৃতির।
- অন্যান্য অপশন:
- Riccia: একটি ব্রায়োফাইট (মস জাতীয়), যার প্রধান দেহ গ্যামিটোফাইট বা হ্যাপ্লয়েড (n)।
- Ulothrix: একটি শৈবাল, যা হ্যাপ্লয়েড (n) প্রকৃতির।
- Agaricus: একটি ছত্রাক, যার দেহ সাধারণত হ্যাপ্লয়েড (n) মাইসেলিয়াম দ্বারা গঠিত।
- সুতরাং, অপশনগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র Pteris-ই ডিপ্লয়েড জীব।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উদ্ভিদজগতে টেরিডোফাইটা (Pteridophyta) বা ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদেই সর্বপ্রথম পরিবহন টিস্যু (Vascular tissue) অর্থাৎ জাইলেম ও ফ্লোয়েম-এর আবির্ভাব ঘটে।
- Pteris হলো একটি ফার্ন, তাই এটি পরিবহন টিস্যু বহনকারী জীব।
- ফার্ন উদ্ভিদ অপুষ্পক এবং এর প্রধান দেহ স্পোরোফাইটিক (রেণুধর)। তাই এটি সপুষ্পক বা গ্যামিটোফাইটিক নয়।
- এদের দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় ভাগ করা যায়, তাই এটি থ্যালয়েড (Thalloid) বা সমাঙ্গদেহী নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Pteris বা ফার্নের পাতায় রেণুস্থলী বা স্পোরাঞ্জিয়াম (Sporangium) উৎপন্ন হয়।
- ফার্নের পাতার নিচের তলে স্পোরাঞ্জিয়ামগুলো একত্রিত হয়ে যে গুচ্ছ তৈরি করে, তাকে সোরাস (Sorus) (বহুবচনে Sori) বলা হয়।
- অন্যান্য অপশন:
- অ্যানুলাস (Annulus): স্পোরাঞ্জিয়ামের প্রাচীরের একটি বিশেষ স্তর যা রেণু নির্গমনে সাহায্য করে।
- এন্ডোসিয়াম (Indusium): সোরাসকে ঢেকে রাখা পাতলা আবরণী।
- অমরা (Placenta): যে টিস্যু থেকে স্পোরাঞ্জিয়াম উৎপন্ন হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Pteris (ফার্ন)-এর কান্ড রাইজোম (Rhizome) প্রকৃতির।
- রাইজোম হলো রূপান্তরিত ভূ-নিম্নস্থ কান্ড যা মাটির সমান্তরালে বৃদ্ধি পায়। এর গায়ে যে বাদামি রঙের রোমশ শল্কপত্র (Scaly leaves) থাকে, তাকে র‍্যামেন্টা (Ramenta) বলে।
- অন্যান্য অপশন:
- র‍্যাকিস (Rachis): ফার্নের পাতার মাঝখানের প্রধান শিরা বা অক্ষ।
- ক্রোজিয়ার (Crozier): ফার্নের কচি পাতাকে যখন কুণ্ডলিত অবস্থায় থাকে তখন তাকে ক্রোজিয়ার বলে।
- ফ্রন্ড (Frond): ফার্নের সম্পূর্ণ পাতাকে একত্রে ফ্রন্ড বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Pteris বা ফার্ন উদ্ভিদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এদের কচি পাতাগুলো কুন্ডলিত অবস্থায় থাকে।
- ফার্নের এই কুন্ডলিত কচিপাতাকে ক্রোজিয়ার (Crozier) বলা হয় এবং পাতার এই বিন্যাসকে সারসিনেট ভার্নেশন (Circinate vernation) বলে।
- অন্যান্য অংশের মধ্যে ফার্নের পরিণত পাতাকে ফ্রন্ড (Frond) বলা হয় এবং পাতার ক্ষুদ্র খণ্ডগুলোকে পিনা (Pinna) বলে।
- কচি পাতা বা ক্রোজিয়ারের গায়ে যে বাদামি বর্ণের সল্কপত্র বা রোম থাকে, তাকে র‍্যামেন্টাম (Ramentum) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উদ্ভিদজগতে টেরিডোফাইটা (Pteridophyta) বা ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদেই সর্বপ্রথম পরিবহন টিস্যু (Vascular tissue) বা জাইলেম ও ফ্লোয়েম এর আবির্ভাব ঘটে।
- অপশনগুলোর মধ্যে Pteris হলো একটি ফার্ন, তাই এটি পরিবহন টিস্যু বহনকারী জীব।
- অন্যদিকে, Ulothrix (শৈবাল), Agaricus (ছত্রাক) এবং Riccia (ব্রায়োফাইটা বা মস) উদ্ভিদে কোনো পরিবহন টিস্যু থাকে না।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ফার্নের জীবনচক্রে স্পোরোফাইট (2n) এবং গ্যামেটোফাইট (n) দশার একটি সুস্পষ্ট পর্যায়ক্রম দেখা যায়। সঠিক ক্রমধারাটি হলো:
- হ্যাপ্লয়েড স্পোর (n): মায়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে উৎপন্ন স্পোর ফার্নের গ্যামেটোফাইটিক দশার সূচনা করে।
- প্রোথেলাস (Prothallus): স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে ছোট, সবুজ ও হৃদপিণ্ডাকার গ্যামেটোফাইট বা প্রোথেলাস তৈরি করে, যেখানে পুং ও স্ত্রী গ্যামেট উৎপন্ন হয়।
- উস্পোর (Oospore): পুং গ্যামেট ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনের ফলে ডিপ্লয়েড উস্পোর (2n) গঠিত হয়, যা স্পোরোফাইটিক দশার সূচনা করে।
- সোরাস (Sorus): উস্পোর থেকে পূর্ণাঙ্গ স্পোরোফাইট উদ্ভিদ (যেমন: ফার্ন পাতা) তৈরি হয়। পরিণত পাতার নিচের দিকে স্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছ বা সোরাস উৎপন্ন হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ফার্ন একটি স্পোরোফাইটিক বা ডিপ্লয়েড (2n) উদ্ভিদ। এদের জীবনচক্রে স্পোর সৃষ্টির জন্য মায়োসিস (Meiosis) কোষ বিভাজন ঘটে।
- এই বিভাজনটি মূলত স্পোরাঞ্জিয়ামের ভেতরে থাকা স্পোর মাতৃকোষে (Spore mother cell) ঘটে থাকে।
- মায়োসিস বিভাজনের ফলে ডিপ্লয়েড মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড (n) স্পোর তৈরি হয়।
- উল্লেখ্য, ফার্নের দেহকোষে সর্বদা মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ফার্ন বা টেরিডোফাইটের স্পোরাঞ্জিয়ামের ক্যাপস্যুলের ভেতরে স্পোরোজেনাস টিস্যু থাকে। এই টিস্যুগুলো বিকশিত হয়ে ১৬টি স্পোর মাতৃকোষ (Spore mother cell) তৈরি করে।
- প্রতিটি স্পোর মাতৃকোষ ডিপ্লয়েড (2n) প্রকৃতির হয়।
- পরবর্তীতে প্রতিটি স্পোর মাতৃকোষে মায়োসিস (Meiosis) বিভাজন ঘটে এবং প্রতিটি থেকে ৪টি করে মোট ৬৪টি হ্যাপ্লয়েড (n) স্পোর বা রেণু উৎপন্ন হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ফার্নের গ্যামিটোফাইট বা লিঙ্গধর উদ্ভিদটি প্রোথ্যালাস (Prothallus) নামে পরিচিত, যেখানে উদ্ভিদের যৌন (Sexual) জনন ঘটে।
- হৃদপিণ্ডাকার এই প্রোথ্যালাসের অঙ্কীয়তলে পুং জননাঙ্গ অ্যান্থেরিডিয়াম (Antheridium) এবং স্ত্রী জননাঙ্গ আর্কিগোনিয়াম (Archegonium) উৎপন্ন হয়।
- অ্যান্থেরিডিয়াম থেকে শুক্রাণু এবং আর্কিগোনিয়াম থেকে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়ে এদের মিলনের মাধ্যমে জাইগোট সৃষ্টির মাধ্যমে যৌন প্রজনন সম্পন্ন হয়।
- অন্যদিকে ফার্নের প্রধান উদ্ভিদটি হলো স্পোরোফাইট (রেণুধর), যেখানে রেণু বা স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ফার্নের জীবনচক্রে জাইগোট বা ভ্রূণ অঙ্কুরিত ও বিকশিত হয়ে রেণুধর বা স্পোরোফাইট (Sporophyte) উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।
- আর্কিগোনিয়ামের ভেতরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনের ফলে ডিপ্লয়েড (২n) জাইগোট তৈরি হয়। এই জাইগোটই হলো রেণুধর প্রজন্মের প্রথম কোষ।
- জাইগোটটি বিভাজিত ও অঙ্কুরিত হয়ে ক্রমশ মূল, কাণ্ড ও পাতা বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ স্পোরোফাইট উদ্ভিদে পরিণত হয়।
- লিঙ্গধর (Gametophyte): এটি হ্যাপ্লয়েড (n) স্পোর থেকে উৎপন্ন হয়, যা প্রোথ্যালাস নামে পরিচিত এবং স্বাধীনজীবী।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ফার্নের কচি পাতা বা মুকুল অবস্থায় এর অগ্রভাগ ঘড়ির স্প্রিংয়ের মতো গুটিয়ে বা কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে। মুকুলের এই কুণ্ডলী পাকানো বিন্যাস বা অবস্থাকে সারসিনেট ভার্নেশন (Circinate vernation) বলা হয়।
- এই কুণ্ডলী পাকানো কচি পাতাটিকে ক্রোজিয়ার (Crozier) বলা হয়।
- ফ্রন্ড: ফার্নের পরিণত সম্পূর্ণ পাতাকে ফ্রন্ড বলা হয়।
- পিনা: ফার্নের যৌগিক পাতার ছোট ছোট খণ্ড বা লিফলেটকে পিনা বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ব্রায়োফাইট বা ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদের থ্যালাস (Thallus) বা দেহকে প্রতিকূল পরিবেশ (যেমন- শুষ্কতা) থেকে রক্ষা করতে শল্ক (Scale) সাহায্য করে।
- শল্কগুলো বহুকোষী এবং থ্যালাসের নিচের পৃষ্ঠে বা কিনারায় অবস্থান করে। এগুলো পানি ধরে রাখতে এবং কচি বা বর্ধনশীল অংশকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- রাইজয়েড: এটি সুতার মতো অংশ যা উদ্ভিদকে মাটির সাথে আটকে রাখে এবং মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ফার্নের স্পোরোফাইট (Sporophyte) প্রজন্মের বড় ও সবুজ পাতাকে ফ্রন্ড (Frond) বলা হয়।
- ফার্নের জীবনচক্রে স্পোরোফাইট (২n) হলো প্রধান ও দৃশ্যমান পর্যায়, যা রেণু বা স্পোর উৎপাদন করে।
- রাইজোম: এটি মাটির নিচে সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পাওয়া ফার্নের রূপান্তরিত কাণ্ড।
- র‍্যামেন্টা: ফার্নের কচি পাতা ও কাণ্ডকে আবৃত করে রাখা বাদামী রোমশ আবরণ।
- সোরাস: ফার্নের পরিণত পাতার নিচের পৃষ্ঠে উৎপন্ন স্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রেণুধর বা স্পোরোফাইটিক (Sporophytic) পর্যায়ের প্রথম কোষ হলো জাইগোট (Zygote)
- গ্যামেটোফাইট বা লিঙ্গধর উদ্ভিদে উৎপন্ন হ্যাপ্লয়েড পুংগ্যামেট (শুক্রাণু) এবং স্ত্রীগ্যামেট (ডিম্বাণু) এর মিলনের ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট (2n) সৃষ্টি হয়।
- এই জাইগোটটিই মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ ডিপ্লয়েড রেণুধর বা স্পোরোফাইট উদ্ভিদ গঠন করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
স্পোরানজিয়াম থেকে স্পোর বা রেণু বিস্তারে অ্যানুলাস (Annulus) সাহায্য করে।
- স্পোরাঞ্জিয়ামের প্রাচীরের এক সারির কতগুলো কোষের ভিতরের ও পাশের প্রাচীর অত্যন্ত পুরু হয়, একে অ্যানুলাস বলে।
- শুষ্ক আবহাওয়ায় অ্যানুলাসের কোষগুলো থেকে পানি শুকিয়ে সংকুচিত হয়। এর ফলে স্টোমিয়াম (Stomium) নামক অংশের পাতলা প্রাচীর ফেটে যায় এবং স্পোরগুলো সজোরে বাইরের দিকে নিক্ষিপ্ত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ফার্নের জীবনচক্রে প্রোথেলাস (Prothallus) হলো গ্যামেটোফাইট বা লিঙ্গধর দশা, যা হ্যাপ্লয়েড (n) প্রকৃতির।
- স্পোরাঞ্জিয়ামের ভেতরের স্পোর মাতৃকোষ (2n) মায়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড স্পোর (n) তৈরি করে। এই স্পোর অঙ্কুরিত হয়েই প্রোথেলাস গঠন করে।
- অন্যদিকে সোরাস, স্পোরানজিয়াম এবং স্পোর মাতৃকোষ হলো স্পোরোফাইটিক দশার অংশ, তাই এরা ডিপ্লয়েড (2n)।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0