জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ (124 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সুন্দরী গাছে ঠেসমূল থাকে না—ম্যানগ্রোভ বনের সুন্দরী গাছে মাটির নিচ থেকে খাড়াভাবে উঠে আসা শ্বাসমূল (Pneumatophores) থাকে, যা কর্দমাক্ত মাটিতে অক্সিজেন গ্রহণে সাহায্য করে।
- ঠেসমূল (Prop roots) সাধারণত গরাণ বা কেয়া গাছে দেখা যায়, যা গাছকে নরম মাটিতে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে যান্ত্রিক সহায়তা দেয়।
- উপকূলীয় লবণাক্ত পরিবেশের উদ্ভিদকে ম্যানগ্রোভ বলা হয় এবং ছন এক প্রকার ঘাস—এই বক্তব্যগুলো সঠিক।
- তাই প্রদত্ত তথ্যের মধ্যে ভুল বক্তব্যটি হলো: সুন্দরী গাছে ঠেসমুল থাকে
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শাল হলো পর্ণমোচী (Deciduous) বনভূমির একটি প্রধান উদ্ভিদ।

- পর্ণমোচী উদ্ভিদ: যেসব গাছ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত শীতকালে) আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য তাদের সব পাতা ঝরিয়ে ফেলে, তাদের পর্ণমোচী উদ্ভিদ বলা হয়। বাংলাদেশের ভাওয়াল ও মধুপুর অঞ্চলে শালবন দেখা যায়।
- অন্যান্য অপশন: গোলপাতা হলো ম্যানগ্রোভ বা লবণাক্ত জলের বনভূমির উদ্ভিদ। অন্যদিকে গর্জনছাতিম মূলত ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বা পাতাঝরা বনভূমির মিশ্র উদ্ভিদ হলেও, শাল হলো বিশুদ্ধ পর্ণমোচী বনভূমির সবচেয়ে আদর্শ উদাহরণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
তৃণভূমির বায়োম (Grassland Biome)-এর মাটি অত্যন্ত হিউমাস (Humus) সমৃদ্ধ এবং উর্বর হয়ে থাকে।

- কারণ: তৃণভূমি অঞ্চলে প্রতি বছর ঘাস এবং অন্যান্য লতাপাতার উপরিভাগ মরে যায় এবং পচে মাটিতে মিশে প্রচুর পরিমাণে জৈব পদার্থ বা হিউমাস তৈরি করে।
- ঘাসের শিকড় মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত পৌঁছায়, যা মাটির গঠনকে মজবুত করে এবং পুষ্টি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- তুন্দ্রা বা সাভানা বায়োমের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং বনভূমির বায়োমের পুষ্টি সাধারণত মাটির বদলে উদ্ভিদের মধ্যেই বেশি সঞ্চিত থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মধুপুর বনের মাটি লাল হওয়ার প্রধান কারণ হলো এই মাটিতে লৌহ জাতীয় পদার্থ বা আয়রন অক্সাইডের উপস্থিতি।
- মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় অঞ্চলের মাটির রং মূলত লালচে ও ধূসর।
- এই অঞ্চলের মাটিতে লালচে বর্ণের আয়রন অক্সাইড এবং ধূসর বর্ণের সিলিকা মিশ্রিত থাকে।
- এছাড়াও এই মাটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যালুমিনিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম বিদ্যমান।
- এই মাটি খুবই উর্বর এবং বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হলো হালদা নদী
- এর উৎপত্তি খাগড়াছড়ির বদনাতলী অঞ্চলে এবং এটি চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলা জুড়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রতিবছর একটি বিশেষ মুহূর্তে এই নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কার্প জাতীয় মাছ প্রচুর ডিম ছাড়ে।
- এ কারণেই হালদাকে বাংলাদেশের কার্পজাতীয় মাছের প্রধান প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট (Tropical Rain Forest) বায়োমে উদ্ভিদ ও প্রাণী বৈচিত্র্য পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

- কারণ: এই অঞ্চলে সারা বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং তাপমাত্রা উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে, যা উদ্ভিদের দ্রুত বৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যময় প্রজাতির টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
- পৃথিবীর মোট উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির অর্ধেকেরও বেশি এই বায়োমে বাস করে।

অন্যদিকে, ট্রপিক্যাল সিজনাল ফরেস্ট, ডেসিডুয়াস ফরেস্ট বা সাভানাতে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার তারতম্য থাকায় সেখানে জীববৈচিত্র্য তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শুষ্ক পরিবেশের বা মরুজ উদ্ভিদে (Xerophytes) পানির অপচয় রোধ করার জন্য বিশেষ ধরনের অভিযোজন দেখা যায়।
করবী উদ্ভিদের পাতায় প্রস্বেদনের হার কমানোর জন্য পত্ররন্ধ্রগুলো পাতার ত্বকের গভীরে গর্তের মতো অংশে অবস্থান করে।
• একে লুকায়িত পত্ররন্ধ্র (Sunken stomata) বলা হয়।
• উল্লেখ্য, হাইড্রিলা, শাপলা ও কচুরিপানা জলজ উদ্ভিদ, তাই এদের পাতায় এই ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকে না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ঘড়িয়াল (Gharial) হলো বাংলাদেশের একটি প্রায় বিলুপ্ত প্রাণী।
- এটি ওরিয়েন্টাল (Oriental) বা প্রাচ্য অঞ্চলের একটি এন্ডেমিক (Endemic) বা স্থানিক প্রাণী, যা মূলত ভারত, বাংলাদেশ এবং নেপালের নদীগুলোতে পাওয়া যায়।
- অতীতে বাংলাদেশের পদ্মা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে প্রচুর ঘড়িয়াল দেখা গেলেও বাসস্থান ধ্বংস এবং মাছ ধরার জালে আটকা পড়ার কারণে বর্তমানে এরা মহাবিপন্ন বা বিলুপ্তির পথে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দুটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে: ইন-সিটু (In-situ) এবং এক্স-সিটু (Ex-situ)।
In-situ সংরক্ষণ: কোনো জীবকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে সংরক্ষণ করাকে In-situ সংরক্ষণ বলে। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ইকোপার্ক হলো ইন-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ।
Ex-situ সংরক্ষণ: জীবকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বাইরে নিয়ন্ত্রিত বা কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণ করা। যেমন- বোটানিক্যাল গার্ডেন, বীজ ব্যাংক এবং চিড়িয়াখানা

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত।
- ১৯৬২ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে এটিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এই অভয়ারণ্যটি মূলত বন্য হাতি এবং বিপন্নপ্রায় সাদা-ডানা হাঁস সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত।
- উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটিতে কাপ্তাই হ্রদ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহাসিক তীর্থস্থান 'রাজবন বিহার'-ও অবস্থিত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শকুন প্রজাতির Threatened (বিপন্ন) হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো গবাদিপশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ব্যথা উপশমকারী ও কৃমিনাশক ডাইক্লোফেন (Diclofenac)
গবাদিপশুকে এই ওষুধ দেওয়ার পর তারা মারা গেলে, সেই মৃতদেহ খেয়ে শকুনগুলোর কিডনি বিকল হয়ে যায় এবং তারা মারা যায়। এ কারণেই ডাইক্লোফেনের ব্যবহার শকুনের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যে সকল উদ্ভিদ বা প্রাণী বন্য পরিবেশ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের বিপন্ন বা বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত (Extinct in the wild) প্রজাতি বলা হয়।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে টালিপাম (বা তালি পাম) বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত একটি উদ্ভিদ। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সর্বশেষ বন্য টালিপাম গাছটি ছিল, যা ২০১০ সালে মারা যায়। বর্তমানে এর বীজ থেকে চারা তৈরি করে কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলাদেশের একমাত্র বন্য গোলাপ রাতারগুল বনে পাওয়া যায়।
- রাতারগুল হলো সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র মিঠাপানির সোয়াম্প ফরেস্ট (Swamp Forest) বা জলাবন।
- এই বনটি মূলত বর্ষাকালে পানিতে নিমজ্জিত থাকে এবং এখানকার জলজ ও উদ্ভিদ বৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যার মধ্যে বন্য গোলাপ অন্যতম আকর্ষণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর-কে স্থানীয় লোককথায় 'ছয় কুড়ি বিল ও নয় কুড়ি কান্দা' বলা হয়।
- প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই হাওরটি মূলত ৫২টি বিলের সমন্বয়ে গঠিত।
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট (Ramsar Site) এবং দেশীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পর্ণমোচী বা পাতাঝরা বনাঞ্চল অবস্থিত। এই বনভূমির প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারি, তাই এটি শালবন নামেও পরিচিত। শীতকালে এসব গাছের পাতা ঝরে যায় বলে একে পর্ণমোচী বন বলা হয়।
- বন বিভাগের সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বনভূমির পরিমাণ বেড়ে মোট ভূমির প্রায় ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আকন্দ হলো একটি মরুজ বা শুষ্কজ উদ্ভিদ (Xerophyte)। এরা অত্যন্ত শুষ্ক, বালুকাময় এবং রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে জন্মাতে সক্ষম এবং এদের পাতা পুরু প্রকৃতির হয় যা পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- অন্যদিকে, শাল, পলাশ ও মেহগনি হলো মেসোফাইট বা সাধারণ মাটির উদ্ভিদ, যেগুলো মাঝারি আর্দ্রতাযুক্ত সমতল বা পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মধুটিলা ইকোপার্ক বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র ও সংরক্ষিত এলাকা।
- ১৯৯৯ সালে বন বিভাগ এই ইকোপার্কটি প্রতিষ্ঠা করে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ইকো-ট্যুরিজম শিল্পের বিকাশ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাঁশখালী হলো বাংলাদেশের একটি ইকোপার্ক। এটি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় অবস্থিত এবং ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মধুপুর জাতীয় উদ্যান: এটি টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান।
- রেমা-কালেঙ্গা: এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (Wildlife Sanctuary)।
- টেকনাফ গেইম রিজার্ভ: এটি কক্সবাজারের টেকনাফে অবস্থিত একটি গেইম রিজার্ভ।
- সুতরাং, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে বাঁশখালীই একমাত্র ইকোপার্ক।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- টাঙ্গুয়ার হাওড় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বিস্তৃত একটি মিঠাপানির জলাভূমি।
- প্রায় ৬,৯১২ একর আয়তনের এই হাওড় বর্ষাকালে ২০,০০০ একর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি এবং ২০০০ সালে রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই হাওড় "মাদার অব ফিশারিজ" বা মাছের মাতৃসদন নামে পরিচিত।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ বলতে বিপন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীকে তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বাইরে মানুষের তত্ত্বাবধানে ও কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণ করাকে বোঝায়।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে বীজ ব্যাংক হলো এক্স-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ, কারণ এখানে বীজগুলোকে প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে এনে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়।
বাকি অপশনগুলো—সাফারি পার্ক, হালদা নদী এবং গেম রিজার্ভ হলো ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণের উদাহরণ, যেখানে জীববৈচিত্র্যকে তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রেই রক্ষা করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মাধবকুন্ড মূলত একটি ইকোপার্ক এবং জলপ্রপাত।
- এটি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত।
- ২০০১ সালে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার এটিকে ইকোপার্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
- গেম রিজার্ভ, সাফারি পার্ক বা অভয়ারণ্য ভিন্ন প্রকৃতির সংরক্ষিত এলাকা, তাই এগুলো সঠিক নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ বলতে বিপন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীকে তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বাইরে মানুষের তত্ত্বাবধানে ও কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণ করাকে বোঝায়।
অপশনগুলোর মধ্যে চিড়িয়াখানা হলো এক্স-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ, কারণ এখানে প্রাণীদের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে এনে মানুষের তৈরি পরিবেশে রাখা হয়।
বাকি অপশনগুলো—গেম রিজার্ভ, সাফারি পার্ক এবং ইকোপার্ক হলো ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণের উদাহরণ, যেখানে জীববৈচিত্র্যকে তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রেই রক্ষা করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
এক্স-সিটু (Ex-situ) কনজারভেশন হলো উদ্ভিদ বা প্রাণীকে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বাইরে কৃত্রিম বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সংরক্ষণ করার পদ্ধতি।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে সিড ব্যাংক (Seed bank) হলো এক্স-সিটু কনজারভেশনের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়।
অন্যদিকে ন্যাশনাল পার্ক, ইকোপার্ক এবং সাফারি পার্ক হলো ইন-সিটু (In-situ) কনজারভেশন-এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এখানে জীবজন্তুকে তাদের নিজস্ব বা প্রাকৃতিক পরিবেশেই সংরক্ষণ করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দুটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে: ইন-সিটু (In-situ) এবং এক্স-সিটু (Ex-situ)।
Ex-situ সংরক্ষণ: কোনো জীবকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বাইরে অন্য কোনো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বা কৃত্রিম উপায়ে সংরক্ষণ করাকে Ex-situ সংরক্ষণ বলে। যেমন- বোটানিক্যাল গার্ডেন, সিড ব্যাংক, জিন ব্যাংক। এছাড়া টিস্যুকালচার (Tissue culture) এর মাধ্যমেও বিপন্ন উদ্ভিদ (Endangered plants) সংরক্ষণ ও অল্প সময়ে প্রচুর চারা উৎপাদন একটি কার্যকরী Ex-situ পদ্ধতি।
In-situ সংরক্ষণ: জীবকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে সংরক্ষণ করা। যেমন- জাতীয় উদ্যান, সাফারি পার্ক, ইকোপার্ক।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যে সকল উদ্ভিদ বা প্রাণী পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বা বিলুপ্ত হচ্ছে, তাদের বিলুপ্তপ্রায় বা বিপন্ন (Endangered) প্রজাতি বলা হয়।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে তালি পাম একটি বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সর্বশেষ বন্য তালি পাম গাছটি ছিল, যা ২০১০ সালে মারা যায়। বর্তমানে এর বীজ থেকে চারা তৈরি করে সংরক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সুন্দরী, আম এবং লিচু সহজলভ্য উদ্ভিদ, এরা বিলুপ্তপ্রায় নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলাদেশে আগর গাছ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় মৌলভীবাজার জেলায়।
- বিশেষ করে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা আগর-আতর শিল্পের জন্য বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত।
- আগর গাছের কান্ড থেকে উৎপন্ন নির্যাস থেকে মূল্যবান ও সুগন্ধি 'আতর' তৈরি করা হয়, যার প্রচুর চাহিদা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে রয়েছে।
- মৌলভীবাজার জেলা দেশের সর্বাধিক চা বাগান ধারণ করার পাশাপাশি এই ঐতিহ্যবাহী আগর শিল্পের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সুন্দরী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Heritiera fomes। এটি সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান এবং সবচেয়ে পরিচিত ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে:
Excoecaria agallocha হলো গেওয়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম।
Nipa fruticans হলো গোলপাতার বৈজ্ঞানিক নাম।
Acanthus ilicifolius হলো হরগোজা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সুন্দরবন বা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মাটি অত্যন্ত কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত হওয়ায়, এই মাটিতে বায়ু চলাচলের সুযোগ কম থাকে এবং অক্সিজেনের (O2) মাত্রা খুবই কম হয়।
- মাটির নিচের মূলগুলো শ্বাসকার্যের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন না পাওয়ায় উদ্ভিদের কিছু শাখা মূল মাটির ওপর খাড়াভাবে উঠে আসে, যাদের শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর (Pneumatophore) বলা হয়।
- এই শ্বাসমূলের গায়ে থাকা ছোট ছোট ছিদ্র বা ল্যান্টিসেলের সাহায্যে উদ্ভিদ সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- যেসব উদ্ভিদ পানিতে জন্মায় এবং সেখানেই তাদের জীবনচক্র সম্পন্ন করে, তাদের হাইড্রোফাইট (Hydrophyte) বা জলজ উদ্ভিদ বলে।
- শাপলা হলো একটি সপুষ্পক জলজ উদ্ভিদ। এটি একটি মূলাবদ্ধ ভাসমান হাইড্রোফাইট, যার মূল জলাশয়ের তলদেশের মাটিতে আবদ্ধ থাকে এবং পাতা ও ফুল পানির ওপরে ভাসমান থাকে।
- অন্যদিকে, জেরোফাইট হলো শুষ্ক বা মরুভূমির উদ্ভিদ, হ্যালোফাইট হলো লবণাক্ত মাটির উদ্ভিদ এবং মেসোফাইট হলো সাধারণ স্থলজ উদ্ভিদ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওরকে স্থানীয়ভাবে 'নয় কুড়ি কান্দা ছয় কুড়ি বিল' বা 'নয় কুড়ি বিল ছয় কুড়ি কান্দা' নামে ডাকা হয়।
- এটি বাংলাদেশের ২য় রামসার সাইট (Ramsar Site) হিসেবে পরিচিত একটি বিশাল মিঠা পানির জলাভূমি।
- এই হাওরটি ছোট-বড় প্রায় ১২০টি বিলের (ছয় কুড়ি) এবং ১৮০টি কান্দার (নয় কুড়ি) সমন্বয়ে গঠিত এবং এর আয়তন প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার।
- প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার এই হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) হিসেবে ঘোষণা করে।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0