টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র (94 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্লেট ভাজক টিস্যুর (Plate meristem) কোষগুলো দুটি তলে বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলোর আয়তন না বেড়ে ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি পায়।
- এই ধরনের বিভাজনের ফলেই উদ্ভিদের পাতা (Leaf) এবং ত্বক (Epidermis) সৃষ্টি হয়, যা চ্যাপ্টা আকৃতির হয়ে থাকে।

অন্যান্য টিস্যুর কাজ:
- রিব ভাজক টিস্যু: কোষগুলো একটি তলে বিভাজিত হয়ে উদ্ভিদের কাণ্ডের মজ্জা ও কর্টেক্স গঠন করে।
- মাস ভাজক টিস্যু: কোষগুলো সব তলে বিভাজিত হয়ে রেণুথলি, ভ্রূণ, শস্য ইত্যাদি গঠন করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হ্যাড্রোকেন্দ্রিক (Hadrocentric) বা জাইলেমকেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং তাকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফ্লোয়েম অবস্থান করে।
টেরিডোফাইট জাতীয় উদ্ভিদ যেমন- Selaginella, Lycopodium, Pteris ইত্যাদির কান্ডে এই ধরনের ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উদ্ভিদে ফ্লোয়েম (Phloem) বা অন্তঃফ্লোয়েম টিস্যুর প্রধান কাজ হলো পাতায় উৎপন্ন খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করা
ফ্লোয়েম টিস্যু মূলত চারটি উপাদান নিয়ে গঠিত: সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম ফাইবার। এর মধ্যে ফ্লোয়েম ফাইবার (Phloem fiber) হলো ফ্লোয়েমের একমাত্র মৃত কোষ যা স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু দিয়ে গঠিত। বাকি তিনটি উপাদান অর্থাৎ সিভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা হলো জীবিত কোষ।
উল্লেখ্য, পানি পরিবহন করা জাইলেম টিস্যুর প্রধান কাজ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উদ্ভিদের মূলে অরীয় (Radial) ভাস্কুলার বান্ডল থাকে। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে জাইলেম বা ফ্লোয়েম গুচ্ছের সংখ্যা সাধারণত ২-৪ টি (কখনো কখনো সর্বোচ্চ ৬টি) হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে জাইলেম বা ফ্লোয়েম গুচ্ছের সংখ্যা ৬ এর অধিক (বহুসংখ্যক) থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে ও প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে থাকে - জাইলেমের এই বিন্যাসকে এক্সার্ক (Exarch) বলা হয়, যা মূলত মূলের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য; কাণ্ডের নয়।
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে জাইলেম সাধারণত এন্ডার্ক (Endarch) প্রকৃতির হয়, অর্থাৎ প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে এবং মেটাজাইলেম পরিধির দিকে থাকে।
- দ্বিবীজপত্রী কাণ্ডের অন্যান্য সঠিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: এদের অধঃত্বক কোলেনকাইমা টিস্যু দিয়ে গঠিত, স্টিলিতে মজ্জা রশ্মি (Medullary ray) উপস্থিত থাকে এবং পরিচক্র বা পেরিসাইকল সাধারণত বহুস্তর বিশিষ্ট হয়ে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কাণ্ডের অন্তর্গঠনের ক্ষেত্রে অন্তঃত্বক বিদ্যমান ও বৃত্তাকার, কোষের পার্শ্বপ্রাচীর স্থুল তথ্যটি প্রযোজ্য নয়, কারণ এটি মূলের অন্তঃত্বকের বৈশিষ্ট্য (যেখানে ক্যাসপেরিয়ান ফিতা বা Casparian strips থাকে)।
- কাণ্ডের অন্তঃত্বক সাধারণত তরঙ্গায়িত (Wavy) প্রকৃতির হয় এবং একে অনেক সময় শ্বেতসার আবরণ (Starch sheath) বলা হয়।
- কাণ্ডের অন্যান্য সঠিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: এপিডার্মিসের বাইরে কিউটিকল থাকে, ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত (Conjoint) প্রকৃতির এবং জাইলেম এন্ডার্ক (Endarch) প্রকৃতির (অর্থাৎ মেটাজাইলেম পরিধির দিকে এবং প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে থাকে)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রদত্ত তথ্যগুলোর মধ্যে ভেসেল গহ্বর সাধারণত বহুকোণ বিশিষ্ট তথ্যটি একবীজপত্রী মূলের জন্য সঠিক নয়।
- একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে জাইলেম ভেসেলের গহ্বর সাধারণত গোলাকার বা ডিম্বাকার হয়। (বহুকোণ বিশিষ্ট ভেসেল সাধারণত দ্বিবীজপত্রী মূলে দেখা যায়)।
- একবীজপত্রী মূলের সঠিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: এদের কেন্দ্রে মজ্জা সর্বদা উপস্থিত ও সুস্পষ্ট (বড়) হয়, জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে ক্যাম্বিয়াম থাকে না এবং ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা ছয়ের অধিক বা বহুসংখ্যক (Polyarch) হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উদ্ভিদের মূলে ভাস্কুলার বান্ডল সর্বদা অরীয় (Radial) প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- অরীয় ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু একত্রে কোনো বান্ডল সৃষ্টি না করে পৃথক গুচ্ছ হিসেবে অবস্থান করে এবং এরা মূলের কেন্দ্রকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধে পর্যায়ক্রমে সজ্জিত থাকে।
- মূলের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে: কর্টেক্স অপেক্ষাকৃত বড় হয়, অধঃত্বক অনুপস্থিত থাকে এবং জাইলেম সাধারণত এক্সার্ক (Exarch) প্রকৃতির হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একবীজপত্রী বা দ্বিবীজপত্রী কোনো উদ্ভিদের মূলেই অধঃত্বক বা হাইপোডার্মিস (Hypodermis) থাকে না। এটি সাধারণত কাণ্ডের বৈশিষ্ট্য।
- মূলের বহিঃত্বকে কিউটিকল অনুপস্থিত থাকে।
- মূলের ভাস্কুলার বান্ডল অরীয় (Radial) প্রকৃতির হয় এবং একবীজপত্রী মূলে ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা সাধারণত ছয়ের অধিক বা বহুসংখ্যক (Polyarch) থাকে।
- অন্যদিকে এন্ডোডার্মিস, পেরিসাইকল এবং কর্টেক্স মূলের অন্তর্গঠনের অংশ, যা মূলে উপস্থিত থাকে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রদত্ত অপশনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
বিষমপৃষ্ঠ (Dorsiventral) পাতা কাণ্ডের সাথে সাধারণত অনুভূমিকভাবে যুক্ত থাকে। এর ফলে পাতার উর্ধ্বপৃষ্ঠে সরাসরি সূর্যের আলো বেশি পড়ে এবং নিম্নপৃষ্ঠে তুলনামূলক কম আলো পড়ে। তাই 'উভয়পৃষ্ঠেই প্রায় সমানভাবে আলোক পড়ে' উক্তিটি সঠিক নয়। (সমানভাবে আলো পড়ার বৈশিষ্ট্যটি সমদ্বিপৃষ্ঠ বা Isobilateral পাতার)।
• পাতায় উপস্থিত পত্ররন্ধ্রের প্রধান কাজই হলো সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের সময় গ্যাস বিনিময় করা।
• অতিরিক্ত প্রস্বেদন রোধ করার জন্য বিষমপৃষ্ঠ পাতার পত্ররন্ধ্র সাধারণত নিম্নত্বকে বেশি থাকে।
• পাতার মেসোফিল টিস্যুতে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, যার প্রধান কাজ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করা
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উদ্ভিদের কাণ্ড ও মূলের গ্রাউন্ড টিস্যুতন্ত্রকে প্রধানত দুটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়: বহিঃস্টিলীয় ও অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল।
বহিঃস্টিলীয় অঞ্চল (Extrastelar region): এটি স্টিলির বাইরের অংশ। এর প্রধান অংশগুলো হলো: অধঃত্বক (Hypodermis), কর্টেক্স (Cortex) এবং অন্তঃত্বক (Endodermis)।
অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল (Intrastelar region): মূল ও কাণ্ডের কেন্দ্রীয় অংশকে স্টিলি বলে। পেরিসাইকল (Pericycle) বা পরিচক্র থেকে শুরু করে কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত সব অংশই (ভাস্কুলার বান্ডল, মজ্জা, মজ্জারশ্মি) এর অন্তর্গত।
যেহেতু পেরিসাইকল অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চলের অংশ, তাই এটি বহিঃস্টিলীয় অঞ্চলের অংশ নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পাতার গ্রাউন্ড টিস্যু বা মেসোফিল টিস্যুকে দুটি স্তরে ভাগ করা যায়: প্যালিসেড প্যারেনকাইমা এবং স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা।
প্যালিসেড প্যারেনকাইমা: পাতার ঊর্ধ্বত্বকের ঠিক নিচে অবস্থিত এই কোষগুলো স্তম্ভাকার এবং ঘন সন্নিবিষ্ট। এই কোষগুলোতে অসংখ্য ক্লোরোপ্লাস্ট উপস্থিত থাকে, যা সালোকসংশ্লেষণে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা: প্যালিসেড স্তরের নিচে অবস্থিত গোলাকার বা ডিম্বাকার কোষ, যেখানে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
• ঊর্ধ্বত্বক ও নিম্নত্বকের সাধারণ কোষগুলোতে সাধারণত ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মূল ও কাণ্ডের কেন্দ্রে অবস্থিত প্যারেনকাইমা টিস্যু দিয়ে গঠিত অংশকে মজ্জা (Pith) বলে।
মজ্জার প্রধান কাজগুলো হলো:
খাদ্য সঞ্চয় করা: মজ্জা শ্বেতসার, নাইট্রোজেন জাতীয় খাদ্য বা প্রোটিন এবং অন্যান্য এর্গাস্টিক পদার্থ সঞ্চয় করে।
• কিছু ক্ষেত্রে পানি সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা।
তাই প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে মজ্জা হলো সঠিক উত্তর।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কিছু দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের (যেমন: লাউ, কুমড়া) কাণ্ডের কেন্দ্রে অবস্থিত মজ্জা (Pith) পরিণত অবস্থায় বিনষ্ট হয়ে একটি বড় ফাঁপা গহ্বর সৃষ্টি করে। একে মজ্জা গহ্বর (Pith cavity) বলা হয়।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে Cucurbita maxima (কুমড়া) উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্যটি দেখা যায়। বাকিগুলো নিরেট কাণ্ডযুক্ত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ভাজক টিস্যুর (Meristematic tissue) কোষগুলো গঠনগত দিক থেকে বিশেষায়িত হয়। এদের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
- কোষগুলো সর্বদা বিভাজনক্ষম
- কোষপ্রাচীর অত্যন্ত পাতলা ও সেলুলোজ নির্মিত।
- কোষে সাধারণত কোনো গহ্বর (Vacuole) থাকে না।
- কোষে ঘন সাইটোপ্লাজম থাকে এবং নিউক্লিয়াসটি কোষের ঠিক কেন্দ্রে অবস্থান করে
(বিঃদ্রঃ ভাজক টিস্যুর কোষে সাইটোপ্লাজমের তুলনায় নিউক্লিয়াসটি আকারে বেশ বড় হয়, ছোট নয়। উদ্ভিদবিজ্ঞানের সঠিক তথ্য অনুযায়ী প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'নিউক্লিয়াস কোষের কেন্দ্রে অবস্থান করে' অপশনটিই ভাজক টিস্যুর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উদ্ভিদের প্রোক্যাম্বিয়াম (Procambium) হতে প্রাথমিক পরিবহন টিস্যু বা ভাস্কুলার বান্ডল তৈরি হয়।
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে জাইলেম (Xylem), ফ্লোয়েম (Phloem) এবং ক্যাম্বিয়াম (Cambium) সৃষ্টি হয়।
- অন্যদিকে, কর্টেক্স (Cortex) সৃষ্টি হয় উদ্ভিদের গ্রাউন্ড মেরিস্টেম (Ground meristem) বা ভিত্তি ভাজক টিস্যু থেকে, এটি প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্টি হয় না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হ্যাড্রোসেন্ট্রিক (Hadrocentric) বা জাইলেমকেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডল হলো এমন এক ধরনের পরিবহন টিস্যু যেখানে জাইলেম কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং তাকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফ্লোয়েম থাকে।
- টেরিডোফাইট (Pteridophyte) বা ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ, যেমন- Pteris, Lycopodium, Selaginella ইত্যাদির কাণ্ডে এই ধরনের ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পাতার গ্রাউন্ড টিস্যুকে (Ground tissue) মেসোফিল (Mesophyll) বলা হয়।
- এটি পাতার ঊর্ধ্ব ও নিম্ন ত্বকের মাঝে অবস্থিত। মেসোফিল টিস্যুর কোষগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় এটি উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থান।
- ক্লোরোপ্লাস্টের থাইলাকয়েড (Thylakoid) মেমব্রেনে থাকা রঞ্জক পদার্থ (যেমন- ক্লোরোফিল) সূর্যালোক শোষণ করে।
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায় থাইলাকয়েডে এবং অন্ধকার পর্যায় ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায় (Stroma) সংঘটিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শাপলা একটি জলজ উদ্ভিদ (Hydrophyte)
- জলজ উদ্ভিদ তাদের সমগ্র দেহতলের মাধ্যমে পানি ও দ্রবীভূত খনিজ লবণ শোষণ করতে পারে।
- এদের পানি পরিবহনের জন্য সুগঠিত কোনো তন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।
- তাই অন্যান্য স্থলজ উদ্ভিদ (যেমন- সুন্দরী, জবা, ধান)-এর তুলনায় শাপলার পরিবহন টিস্যু (Vascular tissue) গঠনগতভাবে অত্যন্ত দুর্বল বা অনুন্নত থাকে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সাধারণত উদ্ভিদের মূলে ভাস্কুলার বান্ডল অরীয় (Radial) প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- অরীয় ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু একত্রে কোনো বান্ডল সৃষ্টি না করে পৃথক গুচ্ছ হিসেবে অবস্থান করে।
- এরা মূলের কেন্দ্রকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধে পর্যায়ক্রমে সজ্জিত থাকে।
- একবীজপত্রী এবং দ্বিবীজপত্রী উভয় ধরনের উদ্ভিদের মূলেই এই অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- হ্যাড্রোসেন্ট্রিক (Hadrocentric) বা জাইলেমকেন্দ্রিক ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং তাকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফ্লোয়েম অবস্থান করে।
- ফার্ন বা টেরিডোফাইট (Pteridophyte) জাতীয় উদ্ভিদ যেমন- Pteris, Lycopodium, Selaginella ইত্যাদির কান্ডে এই ধরনের ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়।
- এই ধরনের ভাস্কুলার বান্ডলকে অ্যাম্ফিক্রিব্রাল (Amphicribral) ভাস্কুলার বান্ডলও বলা হয়ে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম গুচ্ছের সংখ্যা সাধারণত ৬-এর অধিক (Polyarch বা বহু-আদি) হয়ে থাকে।
- অন্যদিকে, দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে জাইলেম ও ফ্লোয়েমের সংখ্যা সাধারণত ২ থেকে ৬টির (Diarch থেকে Hexarch) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের এই ভাস্কুলার বান্ডলগুলো অরীয় (Radial) প্রকৃতির, যেখানে জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথকভাবে বিভিন্ন ব্যাসার্ধে সজ্জিত থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- উদ্ভিদ কান্ড বা মূলের একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত নরম অংশটিকে মজ্জা (Pith বা Medulla) বলা হয়।
- এটি মূলত খাদ্য সঞ্চয় করা এবং কখনো কখনো জলজ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্লবতা রক্ষায় সাহায্য করে।
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে এবং একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে মজ্জা বেশ সুস্পষ্ট ও বৃহৎ হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রোক্যাম্বিয়াম (Procambium) হলো ভাজক টিস্যুর একটি অংশ যা মূলত প্রাথমিক ভাস্কুলার টিস্যু (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) তৈরি করে।
- তবে উদ্ভিদের কান্ডে এই প্রোক্যাম্বিয়াম গুচ্ছের বাইরের দিকের অংশ ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে পরিচক্র (Pericycle) সৃষ্টি করে।
- পরিচক্র হলো স্টিলি (Stele) বা কেন্দ্রীয় প্রকোষ্ঠের সবচেয়ে বাইরের স্তর, যা অন্ততকের (Endodermis) ঠিক নিচেই অবস্থান করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে ভাস্কুলার বান্ডলগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো থাকে এবং এগুলো সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় ও বদ্ধ প্রকৃতির হয়।
• এই ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম টিস্যুর বিন্যাস ইংরেজি Y বা V অক্ষরের মতো দেখতে হয়।
• এর নিচের দিকে (ভিতরের দিকে) সাধারণত দুটি প্রোটোজাইলেম এবং উপরের দিকে (বাইরের দিকে) দুটি মেটাজাইলেম অবস্থান করে, যা এই বিশেষ আকৃতি গঠন করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উদ্ভিদের মূল বা শেকড়ের বাইরের দিকের একসারি কোষ দিয়ে গঠিত ত্বককে এপিব্লেমা (Epiblema) বলা হয়। এটি ইটের মতো ছোট ছোট কোষ নিয়ে গঠিত।
⇒ অন্যদিকে, উদ্ভিদের কান্ড বা পাতার বাইরের দিকের ত্বককে এপিডার্মিস (Epidermis) বলে।
⇒ এপিব্লেমাতে সাধারণত কিউটিকল (Cuticle) এবং স্টোমাটা (Stomata) অনুপস্থিত থাকে, যা এপিডার্মিসের অন্যতম সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ভুট্টা একটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ। একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে বদ্ধ সমপার্শ্বীয় (Closed Collateral) ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়।
সমপার্শ্বীয়: জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে পাশাপাশি অবস্থান করে।
বদ্ধ: জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে বিভাজনক্ষম ক্যাম্বিয়াম (Cambium) টিস্যু থাকে না
⇒ অন্যদিকে ঢেঁড়স, বেগুন এবং টমেটো হলো দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ, যাদের কান্ডে ক্যাম্বিয়ামযুক্ত মুক্ত সমপার্শ্বীয় (Open Collateral) ভাস্কুলার বান্ডল পাওয়া যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে (Dicot stem) এবং নগ্নবীজী উদ্ভিদের কান্ডে মুক্ত সমপার্শ্বীয় (Open Collateral) ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায়।
সমপার্শ্বীয়: জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে পাশাপাশি অবস্থান করে।
মুক্ত: জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে বিভাজনক্ষম ক্যাম্বিয়াম (Cambium) টিস্যু উপস্থিত থাকে।
⇒ অন্যদিকে, একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে বদ্ধ সমপার্শ্বীয় (Closed Collateral) ভাস্কুলার বান্ডল দেখা যায় (কারণ এদের জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে ক্যাম্বিয়াম থাকে না)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে ভাস্কুলার বান্ডলগুলো গ্রাউন্ড টিস্যুতে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো থাকে এবং এগুলো সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় ও বদ্ধ প্রকৃতির হয়।
• এই ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম টিস্যুর বিন্যাস ইংরেজি Y বা V অক্ষরের মতো দেখতে হয়।
• এর নিচের দিকে (ভিতরের দিকে) সাধারণত দুটি প্রোটোজাইলেম এবং উপরের দিকে (বাইরের দিকে) দুটি মেটাজাইলেম অবস্থান করে, যা এই বিশেষ আকৃতি গঠন করে।
• উল্লেখ্য, একবীজপত্রী কান্ডে জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে কোনো ক্যাম্বিয়াম (Cambium) থাকে না বলে এদের ভাস্কুলার বান্ডল বদ্ধ প্রকৃতির।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- উদ্ভিদের মূলের (একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উভয় ক্ষেত্রে) অন্যতম প্রধান অন্তর্গঠনগত বৈশিষ্ট্য হলো এদের ভাস্কুলার বান্ডল অরীয় (Radial) প্রকৃতির। অর্থাৎ, জাইলেম ও ফ্লোয়েম আলাদা গুচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধে অবস্থান করে।
- মূলের বহিঃত্বকে কিউটিকল অনুপস্থিত থাকে।
- একবীজপত্রী মূলে অধঃত্বক (Hypodermis) থাকে না
- V বা Y আকৃতির জাইলেম একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের (যেমন- ভুট্টা কান্ড) বৈশিষ্ট্য, এটি মূলে থাকে না।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0