উদ্ভিদ প্রজনন (113 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাণিজ্যিকভাবে উচ্চ ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী ও উন্নত জাত উদ্ভাবনের জন্য কৃত্রিম প্রজনন (Artificial breeding) হলো সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।
উদ্ভিদবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা উদ্ভিদ প্রজননবিদ্যার মাধ্যমে উদ্ভিদের নতুন প্রকরণ উদ্ভাবন করা হয়। এই কৃত্রিম পদ্ধতিগুলো হলো:
- উদ্ভিদ প্রবর্তন
- নির্বাচন
- সংরক্ষণ
- মিউটেশন
- পলিপ্লয়ডি এবং
- সংকরায়ন।
কৃষিক্ষেত্রে বাণিজ্যিক প্রসারের জন্য প্রাকৃতিকভাবে ঘটা প্রজনন বা অযৌন প্রজননের চেয়ে মানুষের নিয়ন্ত্রিত এই কৃত্রিম পদ্ধতিগুলোই সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ থেকে অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হতে পারে। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে মিষ্টি আলু-এর জন্ম কাণ্ড থেকে হয় না, বরং এটি মূল বা শিকড় থেকে জন্মায়।
- আদা, হলুদ এবং আলু: এগুলো পরিবর্তিত ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড (Modified stem)। যেমন, আলুর গায়ে থাকা 'চোখ' (মুকুল) থেকে একটি নতুন স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়। আদা ও হলুদও রাইজোম জাতীয় পরিবর্তিত কাণ্ড থেকে জন্মায়।
- মিষ্টি আলু: এটি একটি কন্দাল মূল বা পরিবর্তিত মূল (Modified root), যা থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
সুতরাং, মিষ্টি আলুই একমাত্র উদ্ভিদ যার বংশবৃদ্ধি কাণ্ডের পরিবর্তে মূলের মাধ্যমে ঘটে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ছত্রাক স্বাভাবিক অঙ্গজ প্রজননের উদাহরণ নয়, কারণ এরা মূলত স্পোর (Spore) বা রেণু উৎপাদনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন সম্পন্ন করে।
- অন্যদিকে আলু (টিউবার), আদা ও হলুদ (রাইজোম) হলো উদ্ভিদের প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক অঙ্গজ প্রজননের উদাহরণ।
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন সাধারণত দেহের খণ্ডায়ন, মূল, রূপান্তরিত কাণ্ড এবং পাতার মাধ্যমে ঘটে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পিঁয়াজ (বৈজ্ঞানিক নাম: Allium cepa) বাল্ব (Bulb) বা কন্দ নামক রূপান্তরিত কাণ্ডের সাহায্যে বংশবিস্তার করে।
- বাল্ব হলো একটি অতি সংক্ষিপ্ত এবং রসালো রূপান্তরিত কাণ্ড, যার চারপাশে রসালো শল্কপত্র (Scaly leaves) স্তরে স্তরে সাজানো থাকে।
- পিঁয়াজ ছাড়াও রসুন বাল্বের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
- অন্যদিকে, আদা রাইজোম এবং আলু টিউবারের মাধ্যমে জন্মায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
চন্দ্রমল্লিকা (Chrysanthemum) উদ্ভিদের বংশবিস্তার মূলত অর্ধবায়বীয় কাণ্ডের (Semi-aerial stem) সাহায্যে ঘটে।
- এদের কাণ্ডের কিছু অংশ মাটির কাছাকাছি বা মাটির ঠিক ওপরে অনুভূমিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যাকে সাকার (Sucker) বলা হয়।
- এই অর্ধবায়বীয় শাখাগুলোর পর্ব থেকে নতুন মূল ও বায়বীয় বিটপ সৃষ্টি হয়, যা পরে মাতৃ-উদ্ভিদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন উদ্ভিদে পরিণত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সংকরায়ন বা হাইব্রিডাইজেশন (Hybridization) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উন্নত নতুন জাত উদ্ভাবন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।
- এই প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন পিতা-মাতা উদ্ভিদের মধ্যে পরাগায়ন ঘটিয়ে নতুন জাত তৈরি করা হয়।
- প্রথম বংশধর তৈরি, তাদের থেকে কয়েক প্রজন্ম ধরে বাছাই (Selection), মাঠ পর্যায়ে ফলন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সাধারণত ৭-১০ বছর সময় লেগে যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পাথরকুচি উদ্ভিদের চারা পাতার সাহায্যে উৎপন্ন করা হয়।
- এটি উদ্ভিদের অযৌন প্রজনন বা অঙ্গজ প্রজননের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- পাথরকুচি গাছের পাতার কিনারা থেকে ছোট ছোট মুকুল বের হয়, যা থেকে নতুন চারা জন্মায়।
- এই মুকুলগুলিকে পাতার কিনারার মুকুল বা এপিফাইলাস বাডস (Epiphyllous buds) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ডালিয়া, পটল, কাঁকরোল ইত্যাদি উদ্ভিদ তাদের মূলের (Roots) সাহায্যে প্রজনন সম্পন্ন করে থাকে।
- এদের যেকোনো একটির মূল উপযুক্ত পরিবেশে মাটিতে রোপণ করলে তা থেকে স্বাভাবিকভাবে নতুন গাছের জন্ম হয়।
- এটি এক ধরনের স্বাভাবিক অঙ্গজ প্রজনন (Natural vegetative propagation)
- অন্যদিকে গোলাপ, আখ এবং বাঁশ মূলত কাণ্ডের (Stems) মাধ্যমে অঙ্গজ প্রজনন ঘটায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- অ্যান্ড্রোজেনেসিস (Androgenesis) হলো এমন একটি প্রজনন প্রক্রিয়া যেখানে মাতৃকোষের কোনো জিনগত অবদান ছাড়াই অনিষিক্ত শুক্রাণু (Unfertilized sperm) বা পুংগ্যামেট থেকে সরাসরি ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
- অন্যদিকে, অনিষিক্ত ডিম্বাণু বা স্ত্রীগ্যামেট থেকে সরাসরি ভ্রূণ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) বলা হয়।
- উদ্ভিদ প্রজননে হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ উৎপাদনের জন্য এই পদ্ধতিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আদা (Ginger), আলু, হলুদ, পেঁয়াজ ইত্যাদি উদ্ভিদের রূপান্তরিত কাণ্ডের (Modified stem) মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন হয়। আদার ক্ষেত্রে এই রূপান্তরিত কাণ্ডকে রাইজোম (Rhizome) বলা হয়।
- এই কাণ্ডগুলো মাটির নিচে থাকে এবং অনুকূল পরিবেশে এগুলো থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
- অন্যদিকে মিষ্টি আলু, ডালিয়া, পটল, কাঁকরোল, গাজর ইত্যাদি উদ্ভিদের প্রজনন ঘটে তাদের মূলের (Roots) মাধ্যমে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইমাস্কুলেশন (Emasculation) বা পুংবন্ধ্যাকরণ হলো উভলিঙ্গ ফুল থেকে পরাগ বিসরণের আগেই পরাগধানী বা পুংকেশর (Anthers) কেটে অপসারণ করার একটি কৃত্রিম প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদ প্রজননের সময় স্ব-পরাগায়ন (Self pollination) রোধ করার জন্যই মূলত অপরিণত অবস্থায় এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়।
- পুংকেশর অপসারণের ফলে ওই ফুলে নিজের পরাগরেণু পড়তে পারে না, যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদের সাথে পর-পরাগায়ন (Cross pollination) ঘটানো সম্ভব হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ফাইলোক্ল্যাড (Phylloclade) বা পর্ণকাণ্ড হলো উদ্ভিদের একটি রূপান্তরিত কাণ্ড যা পাতার মতো চ্যাপ্টা ও সবুজ হয় এবং সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে।
- মরুভূমি বা শুষ্ক অঞ্চলের উদ্ভিদ, যেমন ফনিমনসা (Opuntia)-তে ফাইলোক্ল্যাড দেখা যায়। এর পাতাগুলো সাধারণত কাঁটায় রূপান্তরিত হয়।
- ফনিমনসার এই রূপান্তরিত কাণ্ড মাটিতে পড়লে তা থেকে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যা একটি অঙ্গজ জনন প্রক্রিয়া।
- অন্যদিকে, পাথরকুচি পাতার মাধ্যমে এবং মিষ্টি আলু রূপান্তরিত মূলের মাধ্যমে প্রজনন ঘটায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গোল আলু হলো একটি রূপান্তরিত ভূনিম্নস্থ কাণ্ড (Underground stem), যাকে টিউবার (Tuber) বা স্ফীতকন্দ বলা হয়।
- আলুর গায়ে যে ছোট ছোট গর্ত বা 'চোখ' থাকে, সেগুলো মূলত কাক্ষিক মুকুল। এই চোখ বা মুকুল থেকে নতুন চারা জন্মায়, যা ভূনিম্নস্থ কাণ্ডের মাধ্যমে অঙ্গজ জনন (Vegetative reproduction)-এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
- অন্যদিকে, মিষ্টি আলু ও কাঁকরোল রূপান্তরিত মূলের মাধ্যমে এবং কলা সাকারের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইমাস্কুলেশন (Emasculation) হলো উভলিঙ্গ ফুল থেকে পরাগধানী বা পুংকেশর (Anthers) কেটে অপসারণ করার একটি কৃত্রিম প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদ প্রজননের সময় স্ব-পরাগায়ন (Self pollination) রোধ করার জন্যই মূলত অপরিণত অবস্থায় এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়।
- পুংকেশর অপসারণের ফলে ওই ফুলে নিজের পরাগরেণু পড়তে পারে না, যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদের সাথে পর-পরাগায়ন (Cross pollination) ঘটানো সম্ভব হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- নিষেক বা পুং গ্যামেটের সাথে মিলন ছাড়াই অনিষিক্ত ডিম্বাণু (Unfertilized egg) থেকে সরাসরি ভ্রূণ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) বা অপুংজনি বলে।
- এটি এক ধরনের প্রজনন প্রক্রিয়া, যা সাধারণত কিছু উদ্ভিদ এবং নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে দেখা যায়।
- অন্যদিকে, ডিম্বাণু ব্যতীত ভ্রূণথলির অন্য কোনো কোষ থেকে সরাসরি ভ্রূণ তৈরি হলে তাকে অ্যাপোগ্যামি (Apogamy) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- একটি আদর্শ স্ত্রী গ্যামিটোফাইট বা ভ্রূণথলিতে সাধারণত ৭টি কোষ এবং ৮টি নিউক্লিয়াস থাকে।
- ভ্রূণথলির ডিম্বকমূলের (Chalaza) দিকে বা বিপরীত মেরুতে অবস্থিত কোষগুলোকে একত্রে অ্যান্টিপোডাল কোষ (Antipodal cells) বা প্রতিপাদ কোষ বলা হয়।
- একটি স্বাভাবিক ভ্রূণথলিতে এই অ্যান্টিপোডাল কোষের সংখ্যা সর্বদা ৩টি হয়ে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- উদ্ভিদের জনন প্রধানত দুই প্রকার: যৌন জনন ও অযৌন জনন।
- গ্যামিট উৎপাদন (Gamete formation) এবং গ্যামিটের মিলন বা নিষেক হলো যৌন জনন (Sexual reproduction)-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- অন্যদিকে অঙ্গজ জনন (Vegetative reproduction), পুনরুৎপাদন (Regeneration) এবং মুকুলোৎপাদন (Budding) হলো উদ্ভিদের অযৌন জনন (Asexual reproduction) প্রক্রিয়ার বিভিন্ন রূপ, যেখানে গ্যামিট উৎপাদনের প্রয়োজন হয় না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইমাস্কুলেশন (Emasculation) হলো উভলিঙ্গ ফুল থেকে পরাগ বিসরণের আগেই পরাগধানী বা পুংকেশর (Anthers) কেটে অপসারণ করার একটি কৃত্রিম প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদ প্রজননের সময় স্ব-পরাগায়ন (Self pollination) রোধ করার জন্যই মূলত অপরিণত অবস্থায় এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়।
- পুংকেশর অপসারণের ফলে ওই ফুলে নিজের পরাগরেণু পড়তে পারে না, যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদের সাথে পর-পরাগায়ন (Cross pollination) ঘটানো সম্ভব হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- অ্যান্ড্রোজেনেসিস (Androgenesis): নিষেক ক্রিয়া ছাড়াই শুধুমাত্র পুংগ্যামেট বা শুক্রাণু থেকে সরাসরি ভ্রূণ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে অ্যান্ড্রোজেনেসিস বলে। এটি মূলত পুরুষ পার্থেনোজেনেসিসের একটি রূপ।
- অ্যাগামোস্পার্মি: নিষেক ব্যতীত সরাসরি বীজ সৃষ্টির প্রক্রিয়া।
- অ্যাপোগ্যামি: লিঙ্গধর উদ্ভিদের (গ্যামেটোফাইট) কোনো অঙ্গ থেকে নিষেক ছাড়াই সরাসরি রেণুধর উদ্ভিদ (স্পোরোফাইট) সৃষ্টির প্রক্রিয়া।
- অ্যাপোস্পোরি: রেণুধর উদ্ভিদের দেহকোষ থেকে সরাসরি লিঙ্গধর উদ্ভিদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- গ্রাফটিং (Grafting) বা জোড়কলম: এটি উদ্ভিদের কৃত্রিম অঙ্গজ জননের একটি পদ্ধতি।
- এই পদ্ধতিতে দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ডাল বা কাণ্ডকে এমনভাবে জোড়া লাগানো হয় যাতে তারা একত্রে একটিমাত্র উদ্ভিদ হিসেবে বৃদ্ধি পায়।
- স্টক (Stock): গ্রাফটিং প্রক্রিয়ায় যে গাছটির শিকড় মাটিতে থাকে এবং যার ওপর অন্য ডাল জোড়া লাগানো হয় তাকে স্টক বলে।
- সায়ন (Scion): যে উন্নত জাতের ডাল বা কাণ্ডটি স্টকের ওপর জোড়া লাগানো হয়, তাকে সায়ন বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সংকরায়ন (Hybridization): এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদের মধ্যে কৃত্রিমভাবে প্রজনন ঘটানো হয়।
- এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাতৃ উদ্ভিদের জিনগত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অপত্য উদ্ভিদ বা সংকর জাত তৈরি করা হয়।
- অন্যান্য অপশনগুলো (বুলবিল, মুকুলোদগম এবং দাবা কলম) হলো অঙ্গজ জনন (Vegetative reproduction)-এর পদ্ধতি। অঙ্গজ জননের ফলে মাতৃ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন হয় না, অপত্য উদ্ভিদ হুবহু মাতৃ উদ্ভিদের সমগুণসম্পন্ন হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে নিষেক ছাড়াই ডিম্বাণু থেকে সরাসরি ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
- এই প্রক্রিয়াটি প্রধানত দুই প্রকার। যথা: হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস এবং ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস।
- হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস: অনিষিক্ত হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু থেকে সরাসরি ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
- ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস: অনিষিক্ত ডিপ্লয়েড ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
- উদ্ভিদজগতের মধ্যে লেবু (Lemon), কমলা, তামাক প্রভৃতি উদ্ভিদে পার্থেনোজেনেসিস দেখা যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পাথরকুঁচি (Bryophyllum) উদ্ভিদের পাতার মাধ্যমে প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন সম্পন্ন হয়।
• পাথরকুঁচি পাতার কিনারা বা খাঁজগুলোতে অস্থানিক মুকুল (Adventitious buds) বা পত্রজ মুকুল উৎপন্ন হয়।
• পাতাটি গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে পড়লে এই মুকুলগুলো থেকে মূল বের হয় এবং সম্পূর্ণ নতুন ও স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মিষ্টি আলু (Sweet potato) হলো একটি পরিবর্তিত মূল (Modified root), যাকে কন্দাল মূল (Root tuber) বলা হয়।
• খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে এই মূল স্ফীত ও রসালো হয়।
• মিষ্টি আলুর মূলের গায়ে অস্থানিক মুকুল (Adventitious buds) সৃষ্টি হয়, যা মাটিতে রোপণ করলে অনুকূল পরিবেশে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়।
• উল্লেখ্য, গোল আলু ও ওলকচু হলো রূপান্তরিত কাণ্ডের উদাহরণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অর্ধবায়বীয় কাণ্ড (Sub-aerial stem) হলো মাটির ঠিক ওপরে বা সামান্য নিচে সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পাওয়া কাণ্ড।
আখ (Sugarcane)-এর অঙ্গজ প্রজনন কাণ্ড বা সাকার (Sucker)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
• আখের গোড়ার দিকের পর্ব (Node) থেকে নতুন শাখা বা সাকার বের হয়, যা নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। এছাড়া আখের কাণ্ডের খণ্ডাংশ মাটিতে রোপণ করেও বাণিজ্যিকভাবে অঙ্গজ প্রজনন ঘটানো হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হ্যাপ্লয়েড (Haploid) উদ্ভিদ উৎপাদনে পরাগধানী (Anther) ব্যবহার করা হয়, যা টিস্যু কালচার প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
• পরাগধানীর ভেতরে থাকা পরাগরেণু (Pollen grains) মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়, তাই এরা হ্যাপ্লয়েড (n) প্রকৃতির।
• পরাগধানী বা পরাগরেণু আবাদ (Anther/Pollen culture) করে সরাসরি হ্যাপ্লয়েড বা একপ্রস্থ ক্রোমোজোম বিশিষ্ট উদ্ভিদ তৈরি করা সম্ভব।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
গোল আলুর (Potato) ভোজ্য অংশটি হলো একটি পরিবর্তিত ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড (Stem), যাকে টিউবার (Tuber) বলা হয়।
• গোল আলুর গায়ে থাকা 'চোখ' (Eyes) মূলত কাক্ষিক মুকুল (Axillary buds)।
• অনুকূল পরিবেশে এই মুকুলগুলো বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, তাই এটি কাণ্ডের মাধ্যমে অঙ্গজ প্রজনন সম্পন্ন করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
গম হলো একটি প্রধান দানাশস্য (Cereal crop)
- দানাশস্য বলতে সাধারণত ঘাসজাতীয় (Poaceae) উদ্ভিদের ভোজ্য বীজকে বোঝায়, যা মানুষের শর্করা বা শক্তির প্রধান উৎস (যেমন: ধান, গম, ভুট্টা)।
- প্রদত্ত অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে: আলু হলো কন্দাল ফসল, মসুর হলো ডালজাতীয় ফসল এবং তুলা হলো আঁশজাতীয় ফসল।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের সময় গোলাপ গাছে প্রায়ই বন্ধ্যত্ব (Sterility) দেখা যায়।
- গোলাপ সাধারণত অঙ্গজ প্রজনন বা কলম (cutting/grafting) এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বংশবৃদ্ধি করা হয়।
- বাণিজ্যিকভাবে চাষ হওয়া গোলাপের উন্নত জাতগুলো ক্রমাগত কৃত্রিম সংকরায়নের ফসল হওয়ায় এগুলোর প্রজনন অঙ্গ অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর হয় এবং কার্যকর বীজ উৎপন্ন করতে পারে না।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী Joseph Gottlieb Kölreuter সর্বপ্রথম ১৭৬০ সালে সফলভাবে উদ্ভিদ সংকরায়ন (Plant Hybridization) শুরু করেন।
- তিনি তামাক গাছের দুটি ভিন্ন প্রজাতির মধ্যে সংকরায়ন ঘটিয়েছিলেন।
- আধুনিক উদ্ভিদ প্রজনন ও সংকরায়নের ভিত্তি স্থাপনে তাঁর এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0