মানব শারীরতত্ত্বঃ রক্ত ও সঞ্চালন (154 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
লোহিত রক্তকণিকায় (RBC) হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ প্রায় ৩৩% থাকে।

- হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত একটি লৌহযুক্ত রঞ্জক প্রোটিন, যা রক্তের অক্সিজেন বহনের ক্ষমতা নির্দেশ করে।
- লোহিত রক্তকণিকার মোট ওজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩৩%) জুড়ে হিমোগ্লোবিন থাকে।
- শরীরের প্রতিটি কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সূচক।
- এই নির্দিষ্ট ঘনত্বের (MCHC) তারতম্য হলে রক্তশূন্যতা (Anemia) বা বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফটিং (CABG) কোনো এনজিওপ্লাস্টি নয়, বরং এটি একটি ওপেন হার্ট সার্জারি

- এনজিওপ্লাস্টি: এটি একটি কাটাছেঁড়াবিহীন প্রক্রিয়া, যেখানে সরু হয়ে যাওয়া রক্তনালী বেলুন বা স্টেন্ট ব্যবহার করে প্রসারিত করা হয়। করোনারি স্টেন্টিং, অ্যাথেরেকটমি এবং বেলুন এনজিওপ্লাস্টি হলো এনজিওপ্লাস্টির বিভিন্ন প্রকারভেদ।
- বাইপাস সার্জারি: অন্যদিকে, করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফটিং প্রক্রিয়ায় শরীরের অন্য অংশ থেকে সুস্থ রক্তনালী কেটে এনে হৃদপিণ্ডের অবরুদ্ধ ধমনীর চারপাশে রক্ত চলাচলের একটি নতুন পথ বা 'বাইপাস' তৈরি করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হৃদ-ফুসফুস যন্ত্র (Heart-Lung machine) মূলত হৃদপিন্ডের বাইপাস সার্জারি বা ওপেন হার্ট সার্জারিতে ব্যবহৃত হয়।

- অস্ত্রোপচার চলাকালীন এটি সাময়িকভাবে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
- এটি রক্তে অক্সিজেন মিশ্রিত করে এবং সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন সচল রাখে।
- এর ফলে সার্জন একটি স্থির ও রক্তশূন্য হৃদপিণ্ডে নিরাপদে অস্ত্রোপচার করতে পারেন।
- অ্যানজিওপ্লাস্টি বা পেসমেকার বসানোর মতো অপেক্ষাকৃত ছোট প্রক্রিয়ায় এই যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রোবট সহযোগী সার্জারি (Robot-assisted surgery) সাধারণ সার্জারির তুলনায় অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও সঠিক হয়।
- রোবট হলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যা মানুষের হাতের চেয়েও নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারে।
- জটিল সার্জারি চিকিৎসায় ডাক্তাররা রোবটিক হাতের সাহায্যে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল অপারেশনগুলো সহজেই সম্পন্ন করতে পারেন।
- এর ফলে কম কাঁটাছেড়া করতে হয়, সূক্ষ্মতা বজায় থাকে এবং রোগীর দ্রুত আরোগ্য লাভ হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হৃদরোগের চিকিৎসায় এবং হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে অ্যাসপিরিন (Aspirin) ব্যবহার করা হয়।
- অ্যাসপিরিন হলো একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ (NSAID), যা রক্তের প্লেটলেটকে একসাথে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
- এটি রক্তকে পাতলা করতে এবং রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
- অন্যান্য ওষুধ (যেমন- ডাইক্লোরোফেনাক বা প্যারাসিটামল) ব্যথা বা প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হলেও, রক্ত পাতলা রাখতে অ্যাসপিরিন সবচেয়ে উপযুক্ত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
করোনারি ধমনি সরু হয়ে যাওয়া বা ব্লক নির্ণয়ে এনজিওগ্রাম (Angiogram) করা হয়।
- হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব পেশিতে (মায়োকার্ডিয়াম) রক্ত সরবরাহকারী ধমনি হলো করোনারি ধমনি (Coronary artery)। এটি মহাধমনির (Aorta) গোড়া থেকে উৎপন্ন হয় এবং হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
- পালমোনারি ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত ফুসফুসে নিয়ে যায়।
- বৃক্কীয় ধমনি কিডনিতে এবং সাবক্ল্যাভিয়ান ধমনি হাত ও কাঁধে রক্ত সরবরাহ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কৃত্রিম পেসমেকার যন্ত্রে লিথিয়াম (Li) ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়।
- লিথিয়াম ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী এবং নির্ভরযোগ্য হওয়ায় এটি পেসমেকারের মতো জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- এই ব্যাটারির আয়ু সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে, ফলে রোগীকে ঘন ঘন ব্যাটারি পরিবর্তনের জন্য সার্জারি করতে হয় না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হৃদযন্ত্রের রোগ নির্ণয়ে প্রাথমিক এবং সবচেয়ে সাধারণ পরীক্ষা হলো ইসিজি (ECG)
- হার্ট অ্যাটাক: ইসিজি-তে ST-segment elevation বা T-wave inversion এর মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক ধরা পড়ে।
- অ্যারিথমিয়া: হৃৎস্পন্দনের অনিয়মিততা, যেমন ব্র্যাডিকার্ডিয়া (ধীর স্পন্দন) বা টাকিকার্ডিয়া (দ্রুত স্পন্দন) নির্ণয় করা যায়।
- পেরিকার্ডাইটিস: হার্টের বাইরের আবরণের প্রদাহ (pericarditis) ইসিজি-তে ST-segment elevation এর মাধ্যমে ধরা পড়ে।
- কার্ডিয়াক মায়োপ্যাথি: হৃৎপিণ্ডের পেশী দুর্বল হয়ে গেলে ইসিজি-তে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।
- বৈদ্যুতিক অস্বাভাবিকতা: হার্টের বৈদ্যুতিক পথের অস্বাভাবিকতা, যেমন Wolff-Parkinson-White syndrome ইসিজি-তে ধরা পড়ে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কৃত্রিম পেসমেকার (Artificial Pacemaker) হলো এমন একটি যন্ত্র যা হৃৎস্পন্দনের ছন্দ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
এর ব্যাটারি তৈরিতে সাধারণত লিথিয়াম (Lithium) ব্যবহার করা হয়। লিথিয়াম-আয়োডিন ব্যাটারি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, দীর্ঘস্থায়ী (সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কার্যক্ষম থাকে) এবং এর শক্তির ঘনত্ব বেশি হওয়ার কারণে পেসমেকারে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত SAN (Sinoatrial Node) বা সাইনোঅ্যাট্রিয়াল নোডকে হৃৎপিণ্ডের প্রাকৃতিক পেসমেকার (Natural Pacemaker) বলা হয়।
এটি নিজে থেকেই বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা (Electrical impulse) তৈরি করে হৃৎস্পন্দন শুরু করে এবং স্পন্দনের স্বাভাবিক হার নিয়ন্ত্রণ করে।
AVN, বান্ডল অব হিজ এবং পারকিনজি তন্তু এই উদ্দীপনা পরিবহনে সাহায্য করলেও স্পন্দনের সূচনা করে শুধুমাত্র SAN।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
এনজাইনা (Angina) হলো হৃৎপিণ্ডের পেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেনের অভাবে সৃষ্ট তীব্র বুকের ব্যথা।
এই ব্যথার একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি শুধুমাত্র বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা ঘাড়, চোয়াল, কাঁধ এবং বাম বাহু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে (Radiating pain)।
নিউমোনিয়া বা প্লুরিসি ফুসফুসজনিত রোগ এবং পেরিকার্ডাইটিস হৃৎপিণ্ডের আবরণের প্রদাহ, এগুলোর ব্যথার প্রকৃতি ভিন্ন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার কারণে রক্তনালীতে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমা হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে হৃৎপিণ্ডে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। এর ফলে করোনারি হার্ট ডিজিজ (Coronary Heart Disease) দেখা দেয়।
এনজাইনা পেকটোরিস, আনস্টেবল এনজাইনা এবং মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন হলো করোনারি হার্ট ডিজিজ, কারণ এগুলো হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর ব্লকের কারণে ঘটে।
অন্যদিকে, স্ট্রোক (Stroke) মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঘটে, তাই এটি করোনারি হার্ট ডিজিজের অন্তর্ভুক্ত নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একজন সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক সিস্টোলিক রক্তচাপ ১২০ mmHg এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৮০ mmHg
নাড়ী রক্তচাপ (Pulse Pressure) হলো সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপের পার্থক্য। অর্থাৎ, ১২০ - ৮০ = ৪০ mmHg
সুতরাং, সিস্টোলিক, ডায়াস্টোলিক ও নাড়ী রক্তচাপের অনুপাত = ১২০ : ৮০ : ৪০ বা ৩ : ২ : ১
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রক্তচাপ বলতে সাধারণত সিস্টেমিক প্রবাহে ধমনির ভেতরের রক্তের চাপকে বোঝায়।
- প্রতিটি হৃৎস্পন্দনের সময় হৃৎপিণ্ডের সর্বোচ্চ সংকোচন চাপকে সিস্টোলিক চাপ এবং দুটি স্পন্দনের মাঝে সর্বনিম্ন প্রসারণ চাপকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলা হয়।
- একজন সুস্থ মানুষের আদর্শ রক্তচাপে সিস্টোলিক প্রেশার ১২০-এর কম এবং ডায়াস্টোলিক প্রেশার ৮০-এর কম থাকে।
- তবে স্বাভাবিকভাবে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে, যা ৭০-৯০ mm Hg এর মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
- উচ্চ রক্তচাপের পূর্বাবস্থায় (প্রি-হাইপারটেনশন) সিস্টোলিক প্রেশার ১২০-১৩৯ এবং ডায়াস্টোলিক প্রেশার ৮০-৮৯ থাকে। ডায়াস্টোলিক চাপ ৯০ বা তার বেশি হয়ে গেলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
স্পন্দন চাপ (Pulse Pressure) হলো সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপের মধ্যকার পার্থক্য।
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক সিস্টোলিক চাপ 120 mm Hg এবং স্বাভাবিক ডায়াস্টোলিক চাপ 80 mm Hg
- সুতরাং, স্বাভাবিক স্পন্দন চাপ = (120 - 80) mm Hg = 40 mm Hg
- হৃৎপিণ্ড বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত একটি অঙ্গ, যা পৌনপৌনিক ছান্দিক সংকোচনের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত প্রবাহিত করে। একটি মানব হৃৎপিণ্ড প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ৭০-৭২ বার স্পন্দিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দনের (Heart Rate) স্বাভাবিক হার প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বিট এর মধ্যে থাকে।
- তবে গড়ে একটি সুস্থ মানব হৃৎপিণ্ড প্রতি মিনিটে প্রায় ৭০-৭২ বার স্পন্দিত হয়।
- প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ৭৫ হলো সবচেয়ে কাছাকাছি এবং সঠিক গড় মান।
- বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, এবং মানসিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই হার কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সঠিক বানান হলো Sphygmomanometer

এটি মূলত একটি ইংরেজি বৈজ্ঞানিক শব্দ, যার অর্থ হলো রক্তচাপ মাপার যন্ত্র বা ব্লাড প্রেসার মাপার মেশিন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই যন্ত্রের বহুল ব্যবহার রয়েছে।

শব্দটির ব্যুৎপত্তি বা গঠন বিশ্লেষণ করলে এর বানান মনে রাখা অত্যন্ত সহজ হবে:
Sphygmo: এটি গ্রিক শব্দ 'sphygmos' থেকে এসেছে, যার অর্থ 'নাড়ি' (pulse) বা হৃৎস্পন্দন।
mano: এটি 'manometer' (চাপ মাপার যন্ত্র) শব্দের একটি অংশ।
meter: এর অর্থ হলো পরিমাপক যন্ত্র।

উপরোক্ত তিনটি অংশ ধারাবাহিকভাবে যুক্ত হয়ে Sphygmo + mano + meter = Sphygmomanometer শব্দটি গঠিত হয়েছে।

অন্যান্য অপশনগুলোর ক্ষেত্রে 'm' এবং 'n'-এর স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে অথবা মাঝের কোনো অক্ষর বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেগুলো ব্যাকরণগত এবং গঠনগতভাবে ভুল।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পালস্অক্সিমিটার (Pulse Oximeter) হলো একটি ক্ষুদ্র চিকিৎসা যন্ত্র, যার সাহায্যে একই সাথে হৃদস্পন্দনের হার (Heart Rate) এবং শরীরে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা (Oxygen Saturation) মাপা যায়।
- ক্ষুদ্র এই যন্ত্রটি সাধারণত আঙুলের মাথায় ক্লিপের মতো লাগিয়ে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ জানা যায়।
- অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যবহার:
- থার্মোমিটার: শরীরের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার: রক্তচাপ মাপার যন্ত্র।
- ব্যারোমিটার: বায়ুমণ্ডলীয় চাপ মাপার যন্ত্র।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রক্তচাপ মাপা হয় দুটি এককে: সিস্টোলিক (হৃৎপিণ্ডের সংকোচনের সময়ের চাপ) এবং ডায়াস্টোলিক (হৃৎপিণ্ডের প্রসারণের সময়ের চাপ)।
- একজন সুস্থ মানুষের আদর্শ রক্তচাপ হলো 120/80 mm(Hg)
- রক্তচাপ যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি থাকে তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে।
- সাধারণত সিস্টোলিক চাপ 140 এর বেশি এবং ডায়াস্টোলিক চাপ 90 এর বেশি হলে উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয়। তবে রক্তচাপ যদি সবসময় 160/90 mm(Hg) বা তার বেশি থাকে, তবে তা নিশ্চিতভাবে মারাত্মক উচ্চ রক্তচাপ (Stage 2 Hypertension) হিসেবে গণ্য করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হৃৎপিণ্ডের সংকোচনের সময় ধমনিতে সৃষ্ট সর্বোচ্চ চাপকে সিস্টোলিক চাপ (Systolic pressure) এবং প্রসারণের সময় সৃষ্ট সর্বনিম্ন চাপকে ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic pressure) বলে।
- এই সিস্টোলিক এবং ডায়াস্টোলিক চাপের পার্থক্যকেই পালস্ প্রেসার (Pulse pressure) বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ: একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক সিস্টোলিক চাপ ১২০ mmHg এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ mmHg হলে, তার পালস্ প্রেসার হবে (১২০ - ৮০) = ৪০ mmHg
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রক্তের আয়তন বা ভলিউম নিয়ন্ত্রণে নিম্নচাপ ব্যারোরিসেপ্টর (Low-pressure baroreceptors) প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- এগুলোকে 'আয়তন রিসেপ্টর' (Volume receptors)-ও বলা হয়, কারণ এগুলো রক্তচাপের চেয়ে রক্তের আয়তনের পরিবর্তনে বেশি সাড়া দেয়।
- এই রিসেপ্টরগুলো পালমোনারি শিরা এবং হৃৎপিণ্ডের অলিন্দে অবস্থান করে এবং অ্যান্টি-ডাইউরেটিক হরমোন (ADH) নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তের আয়তন ঠিক রাখে।
- অন্যদিকে, উচ্চচাপ ব্যারোরিসেপ্টর (যেমন- ক্যারোটিড ও অ্যাওর্টিক ব্যারোরিসেপ্টর) মূলত ধমনির রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আয়তন রিসেপ্টর (Volume receptors) বা নিম্নচাপ রিসেপ্টরগুলো মূলত হৃৎপিণ্ডের পালমোনারি শিরা (Pulmonary vein) এবং ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থান করে।
- এই রিসেপ্টরগুলো রক্তনালিতে রক্তের আয়তনের (blood volume) পরিবর্তন শনাক্ত করতে বিশেষভাবে সংবেদনশীল।
- রক্তের আয়তন বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলে এরা মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়, যা কিডনির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শরীরের তরলের ভারসাম্য ও রক্তের স্বাভাবিক আয়তন বজায় রাখতে সাহায্য করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দের (Right Atrium) প্রাচীরে, সুপিরিয়র ভেনাকাভার ছিদ্রের ঠিক নিচে সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SA Node) অবস্থিত, যা প্রাকৃতিক পেসমেকার হিসেবে কাজ করে।
- এটি এক ধরনের রূপান্তরিত বিশেষায়িত হৃৎপেশিগুচ্ছ।
- এই পেশিখণ্ডটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা তৈরি করে হৃৎস্পন্দন শুরু করতে পারে এবং হৃৎপিণ্ডের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দে অবস্থিত সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SA Node)-কে পেসমেকার বলা হয়।
- এটি হৃৎপিণ্ডের স্বয়ংক্রিয় সংকোচন বা স্পন্দন শুরু করে এবং স্পন্দনের হার নিয়ন্ত্রণ করে।
- SA node থেকে উৎপন্ন বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড (AV Node), বান্ডেল অফ হিজ (Bundle of His) এবং পার্কিনজি তন্ত্রের (Purkinje fibers) মাধ্যমে পুরো হৃৎপিণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্পন্দন সচল রাখে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন প্রবাহ বা বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা পরিবহনের সঠিক ক্রমটি হলো:
১. SAN (Sinoatrial Node): ডান অলিন্দে স্পন্দন উৎপন্ন করে, যা প্রাকৃতিক পেসমেকার হিসেবে কাজ করে।
২. AVN (Atrioventricular Node): স্পন্দন গ্রহণ করে এবং নিলয়ে যাওয়ার আগে সামান্য বিলম্ব (AV delay) ঘটায়।
৩. বান্ডল অব হিজ (Bundle of His): AVN থেকে স্পন্দন গ্রহণ করে নিলয়ের দিকে পরিবহন করে।
৪. পার্কিনজি তন্ত্র (Purkinje Fibers): সবশেষে স্পন্দন পুরো নিলয়ের পেশিতে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়, ফলে নিলয় সংকুচিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
AV নোড (Atrioventricular Node)-কে সংরক্ষিত ছন্দ নিয়ামক বা Reserve Pacemaker বলা হয়।
- যদি কোনো কারণে প্রধান পেসমেকার (SA নোড) স্পন্দন তৈরি করতে ব্যর্থ হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন AV নোড সেই দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন চালু রাখে।
- তবে এর স্পন্দন তৈরির হার SA নোডের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বা সংকোচন প্রবাহ প্রাথমিকভাবে SA নোড (Sinoatrial Node) থেকে উৎপন্ন হয়।
- এটি ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত একটি বিশেষায়িত পেশিগুচ্ছ।
- নিজে থেকেই বৈদ্যুতিক স্পন্দন তৈরি করার ক্ষমতার কারণে একে হৃৎপিণ্ডের প্রাকৃতিক পেসমেকার (Natural Pacemaker) বলা হয়।
- এখান থেকে স্পন্দন প্রবাহ উৎপন্ন হয়ে পুরো হৃৎপিণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অ্যাড্রিনালিন (Adrenaline) হরমোন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির মেডুলা থেকে ক্ষরিত হয়।
- এটি আপদকালীন হরমোন হিসেবে পরিচিত, যা ভয়, উত্তেজনা বা জরুরি অবস্থায় নিঃসৃত হয়।
- জরুরি বা আপদকালীন অবস্থায় দেহকে মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করতে এটি হৃদস্পন্দনের হার (Heart rate) বাড়িয়ে দেয়
- ফলে শরীরে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং পেশিগুলো বেশি অক্সিজেন পায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হৃৎপিণ্ডের প্রাকৃতিক পেসমেকার (Pacemaker) বলা হয় SA Node (Sinoatrial Node)-কে।
- এটি হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দে (Right Atrium) অবস্থিত।
- সুপিরিয়র ভেনাক্যাভার (উর্ধ্ব মহাশিরা) ঠিক নিচে ডান অলিন্দের প্রাচীরে এর অবস্থান।
- এখান থেকেই হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন বা হার্টবিট তৈরি হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হৃৎপিণ্ডের ডান অ্যাট্রিয়ামের প্রাচীরে অবস্থিত সাইনো অ্যাট্রিয়াল নোড (Sino-Atrial Node বা SAN)-কে মানুষের হৃৎপিণ্ডের পেসমেকার (Pacemaker) বলা হয়।
কারণ এখান থেকেই হৃৎস্পন্দনের বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা বা অ্যাকশন পটেনশিয়াল স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎপন্ন হয় এবং এটি হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন হার নিয়ন্ত্রণ করে।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0