মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি সিস্টেম) (93 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
DPT হলো একটি ট্রিপল অ্যান্টিজেন (Triple Antigen) বা সম্মিলিত ভ্যাক্সিন যা মূলত তিনটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এর নাম থেকেই এর উপাদানগুলো বোঝা যায়:
D (Diphtheria): এটি Corynebacterium diphtheriae নামক ব্যাকটেরিয়ার টক্সয়েড থেকে প্রস্তুত করা হয়।
P (Pertussis): এটি Bordetella pertussis ব্যাকটেরিয়া (যা হুপিং কাশির জন্য দায়ী) থেকে প্রস্তুত করা হয়।
T (Tetanus): এটি Clostridium tetani ব্যাকটেরিয়ার টক্সয়েড থেকে প্রস্তুত করা হয়।
বাস্তবে অপশন ১, ২ এবং ৩ তিনটিই DPT ভ্যাক্সিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তবে 'D' বা ডিপথেরিয়ার উপাদান হিসেবে Corynebacterium diphtheriae হলো এই ভ্যাক্সিনের প্রথম ও অন্যতম প্রধান অংশ, যা এখানে সঠিক উত্তর হিসেবে নির্দেশিত হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
২০১১ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় ইমিউনোলজি (Immunology) বা রোগ প্রতিরোধ বিদ্যা ক্ষেত্রে।
এই বছর তিনজন বিজ্ঞানীকে যৌথভাবে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়: ব্রুস এ. বিউটলার, জুলস এ. হফম্যান এবং রালফ এম. স্টেইনম্যান
তাঁদের গবেষণার মাধ্যমে জন্মগত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সক্রিয়করণ এবং ডেনড্রাইটিক কোষ আবিষ্কার ও মানবদেহের রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ভ্যাক্সিন বা টিকা সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ চিকিৎসক এডওয়ার্ড জেনার
- তিনি ১৭৯৬ সালে গুটিবসন্তের (Smallpox) টিকা আবিষ্কার করেন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তাকে 'ইমিউনোলজির জনক' (Father of Immunology) বলা হয়।
- অন্যান্য বিজ্ঞানীদের অবদান:
- ওয়াটসন ও ক্রিক: ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স মডেল আবিষ্কার করেন।
- আলেকজান্ডার ফ্লেমিং: অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন।
- ল্যামার্ক: বিবর্তনের ল্যামার্কিজম তত্ত্ব প্রদান করেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
লিম্ফোসাইট (Lymphocyte) হলো এক প্রকার শ্বেত রক্তকণিকা (WBC), যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (Immune system) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এরা দেহে প্রবেশকারী যেকোনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা অ্যান্টিজেন শনাক্ত করে এবং তাদের ধ্বংস করার জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি তৈরি করে।
- দেহের প্রতিরক্ষায় প্রাকৃতিক টিকার মতো কাজ করে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা প্রদান করে বলে লিম্ফোসাইটকে প্রোটোপ্লাজমের জীবন্ত ভ্যাক্সিন বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ডিপথেরিয়া (Diphtheria) রোগ প্রতিরোধে টক্সোয়ড (Toxoid) ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়।
- টক্সোয়ড ভ্যাক্সিন: ব্যাকটেরিয়ার নির্গত ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিনকে (Toxin) রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করে এই টিকা তৈরি করা হয়।
- এই টিকা শরীরে প্রবেশ করলে তা ক্ষতি না করে নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে।
- সাধারণত DPT (Diphtheria, Pertussis, Tetanus) টিকার মাধ্যমে শিশুদের ডিপথেরিয়া থেকে রক্ষায় এই ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Attenuated বা Live-attenuated টিকা হলো এমন টিকা যেখানে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দুর্বল করে শরীরে প্রবেশ করানো হয়, যাতে তা রোগ সৃষ্টি করতে না পারে কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। BCG vaccine হলো একটি attenuated টিকা।
- যক্ষ্মা (Tuberculosis) রোগ প্রতিরোধে এই BCG Vaccine দেওয়া হয়।
- এটি একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ যা সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে হয়।
- যক্ষ্মা ফুসফুস, অন্ত্র, হাড়সহ দেহের প্রায় যেকোনো স্থানে হতে পারে।
- যেকোনো লোক যেকোনো সময়ে এ রোগে সংক্রমিত হতে পারে। তবে যারা অধিক পরিশ্রম করে, দুর্বল, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বাস করে বা রোগীর সংস্পর্শে থাকে তারা সহজে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জলাতঙ্ক (Rabies) রোগের প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কার করেন ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর। তিনি রোগজীবাণু তত্ত্বও উদ্ভাবন করেন।
অন্যান্য বিজ্ঞানীদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার:
- এডওয়ার্ড জেনার: গুটিবসন্তের (Smallpox) টিকা আবিষ্কার করেন।
- আলেকজান্ডার ফ্লেমিং: অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন।
- চার্লস রবার্ট ডারউইন: বিবর্তনের সূত্র আবিষ্কার করেন।
- আলবার্ট আইনস্টাইন: থিওরি অব রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন।
- টমাস আলভা এডিসন: বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন।
- ওয়াটসন ও ক্রিক: ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর ডাবল হেলিক্স কাঠামো বর্ণনা করেন এবং এ জন্য নোবেল পুরস্কার জেতেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যে টিকায় রোগের জন্য দায়ী জীবাণুকে (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) তাপ, বিকিরণ বা রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে মৃত বা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে ব্যবহার করা হয়, তাকে নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাক্টিভেটেড (Inactivated) ভ্যাক্সিন বলা হয়।

• প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে পোলিও ভ্যাক্সিন (বিশেষত IPV বা Inactivated Polio Vaccine) হলো একটি নিষ্ক্রিয় ভ্যাক্সিন।
• পোলিও ছাড়াও রেবিস (জলাতঙ্ক), হেপাটাইটিস-এ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাক্সিন হলো নিষ্ক্রিয় ভ্যাক্সিনের উদাহরণ।
• নিষ্ক্রিয় ভ্যাক্সিন সরাসরি রোগ সৃষ্টি করতে পারে না, তবে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কার্যকরভাবে উদ্দীপিত করতে সক্ষম।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মানুষের যক্ষ্মা (টিবি) রোগ প্রতিরোধের জন্য বিসিজি (BCG - Bacillus Calmette-Guérin) টিকা ব্যবহার করা হয়।

• বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই টিকা অত্যন্ত কার্যকর।
• বিসিজি টিকা যক্ষ্মার মারাত্মক ধরন, যেমন - মস্তিষ্কের যক্ষ্মা (মেনিনজাইটিস) এবং সারা দেহে ছড়িয়ে পড়া যক্ষ্মা (মিলিয়ারি টিউবারকুলোসিস) থেকে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা প্রদান করে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বিষভিত্তিক বা টক্সয়েড (Toxoid) টিকা হলো সেই ধরনের টিকা, যেখানে রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নিঃসৃত বিষ বা টক্সিনকে প্রক্রিয়াজাত ও নিষ্ক্রিয় করে ব্যবহার করা হয়।

ডিপথেরিয়া এবং টিটেনাস রোগের ক্ষেত্রে বিষভিত্তিক বা টক্সয়েড টিকা ব্যবহার করা হয়।
ডিপথেরিয়া একটি সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াল রোগ যা গলায় সঙ্কোচন ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করতে পারে। এর ক্ষতিকর টক্সিনকে নিষ্ক্রিয় করে এই টিকা তৈরি করা হয়।
• এই রোগ প্রতিরোধের জন্য সাধারণত ডিপিটি (DPT) টিকা দেওয়া হয়, যা একইসাথে ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি এবং টিটেনাস—এই তিনটি রোগ থেকে রক্ষা করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
১৭৯৬ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক ড. এডওয়ার্ড জেনার সর্বপ্রথম গুটি বসন্তের (Smallpox) টিকা আবিষ্কার করেন।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার:
• ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং এবং চার্লস এইচ বেস্ট (১৯২২ সালে)।
• পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (১৯২৮ সালে)।
• মানুষের শরীরের উপযোগী হিসেবে পেনিসিলিন তৈরি করেন আর্নেস্ট চেইন (১৯৪২ সালে)।
• জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেন লুই পাস্তুর
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তাদের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৬টি মারাত্মক সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা প্রদান শুরু করে। এই ৬টি রোগ হলো:
যক্ষ্মা (Tuberculosis)
টিটেনাস (Tetanus)
ডিপথেরিয়া (Diphtheria)
হুপিংকাশি (Pertussis)
পোলিও (Polio)
হাম (Measles)

এর মধ্যে ডিপিটি (DPT) টিকা একত্রে তিনটি রোগ (ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস) থেকে রক্ষা করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ব্যাকটেরিয়া হলো আদিকোষী (Prokaryotic) জীব। দেহে অনুপ্রবেশিত এসব ব্যাকটেরিয়াকে সহজে শনাক্ত এবং ধ্বংস করার জন্য অপসোনিন (Opsonin) কাজ করে।
- অপসোনিন হলো এক ধরনের প্রোটিন (যেমন- অ্যান্টিবডি বা কমপ্লিমেন্ট প্রোটিন) যা ব্যাকটেরিয়ার গায়ে যুক্ত হয়ে তাকে ফ্যাগোসাইট (Phagocyte) কোষের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে। এই শনাক্তকরণ ও ধ্বংসের প্রক্রিয়াকে অপসোনাইজেশন (Opsonization) বলে।
- অন্যদিকে, ইন্টারফেরন ভাইরাস আক্রান্ত কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব বহিরাগত অণু দেহে প্রবেশ করে ইমিউন রেসপন্স বা অ্যান্টিবডি তৈরিতে উদ্দীপনা যোগায়, তাদের অ্যান্টিজেন বলে।
- অ্যান্টিজেন হিসেবে মূলত প্রোটিন এবং পলিস্যাকারাইড সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এছাড়া লিপোপ্রোটিন বা গ্লাইকোপ্রোটিনও অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করতে পারে।
- তবে বিশুদ্ধ লিপিড (Lipid) এবং নিউক্লিক এসিড সাধারণত অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করতে পারে না, কারণ এদের ইমিউনোজেনিসিটি (Immunogenicity) খুব কম বা নেই।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রক্তে প্রাপ্ত সবচেয়ে বড় ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা অ্যান্টিবডি হলো IgM (Immunoglobulin M)
- এটি পেন্টামার (Pentamer) গঠন বিশিষ্ট, অর্থাৎ এটি ৫টি ওয়াই-আকৃতির (Y-shaped) মনোমার নিয়ে গঠিত।
- প্রতিটি মনোমারে ২টি করে ভারী শৃঙ্খল (Heavy chain) থাকে।
- তাই ৫টি মনোমার নিয়ে গঠিত IgM-এ মোট ভারী শৃঙ্খলের সংখ্যা হলো: ৫ × ২ = ১০টি
i
ব্যাখ্যা (Explanation):

IgG (Immunoglobulin G) মানবদেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা অ্যান্টিবডি। এটি রক্ত ও অন্যান্য শারীরিক তরলগুলোতে প্রায় ৭৫-৮০% অ্যান্টিবডি হিসেবে উপস্থিত থাকে। IgG শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা প্রদান করে।

IgG অ্যান্টিবডি সহজেই প্লাসেন্টা পেরিয়ে সন্তানের শরীরে পৌঁছাতে পারে, যা শিশুকে জন্মের পরের প্রথম কয়েক মাসে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ভ্যাকসিন কার্যকারিতার মাধ্যমেও IgG তৈরি হয়।

i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মায়ের দুধ বা কলোস্ট্রাম (Colostrum) থেকে শিশু যে অ্যান্টিবডি (প্রধানত IgA) লাভ করে, তা প্রাকৃতিক অক্রিয় প্রতিরক্ষা (Natural Passive Immunity)-এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
- প্রাকৃতিক: কারণ এটি প্রাকৃতিকভাবে মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে স্থানান্তরিত হয়।
- অক্রিয় (Passive): কারণ শিশুর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম এই অ্যান্টিবডি নিজে তৈরি করে না, বরং প্রস্তুতকৃত অ্যান্টিবডি সরাসরি মায়ের কাছ থেকে গ্রহণ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Immunoglobulin) বা অ্যান্টিবডির প্রধান পাঁচটি প্রকারভেদ রয়েছে এবং গ্রিক বর্ণমালা অনুসারে এদের ভারী শৃঙ্খলের (Heavy chain) নামকরণ করা হয়:
- IgG (আইজিজি): এটি γ (গামা) ভারী শৃঙ্খল বিশিষ্ট।
- IgA (আইজিএ): এটি α (আলফা) ভারী শৃঙ্খল বিশিষ্ট।
- IgM (আইজিএম): এটি μ (মিউ) ভারী শৃঙ্খল বিশিষ্ট।
- IgE (আইজিই): এটি ε (এপসাইলন) ভারী শৃঙ্খল বিশিষ্ট।
- IgD (আইজিডি): এটি δ (ডেল্টা) ভারী শৃঙ্খল বিশিষ্ট।
সুতরাং, γ-(গামা) ইমিউনোগ্লোবিউলিন হলো IgG
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মানবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি ও ক্ষরণের প্রধান কাজ করে প্লাজমা কোষ (Plasma cell)
- যখন কোনো অ্যান্টিজেন শরীরে প্রবেশ করে, তখন B কোষ (B cell) উদ্দীপিত হয়ে প্লাজমা কোষে রূপান্তরিত হয়।
- এই প্লাজমা কোষগুলোই নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি এবং ক্ষরণ করে দেহকে সুরক্ষা দেয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
IgG (Immunoglobulin G) হলো মানবদেহের একমাত্র অ্যান্টিবডি, যা প্লাসেন্টা (অমরা) ভেদ করে মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণের দেহে প্রবেশ করতে পারে।
- এটি রক্ত ও অন্যান্য শারীরিক তরলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে (৭৫-৮০%) উপস্থিত থাকে।
- এটি জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস নবজাতককে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা প্রদান করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মায়ের বুকের দুধে (বিশেষ করে শালদুধ বা Colostrum-এ) IgA (Immunoglobulin A) অ্যান্টিবডি প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা নবজাতকের অন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- IgA: বুকের দুধ, চোখের পানি, লালা এবং মিউকাস বা শ্লেষ্মায় প্রধানত পাওয়া যায়।
- IgG: এটি মানবদেহে সবচেয়ে বেশি (৭৫-৮০%) থাকে এবং অমরা ভেদ করে ভ্রূণে প্রবেশ করতে পারে।
- IgE: অ্যালার্জি এবং পরজীবীর বিরুদ্ধে কাজ করে।
- IgM: সংক্রমণের পর শরীরে প্রথম তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একটি আদর্শ অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন অণু চারটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে দুটি ভারী (Heavy) এবং দুটি হালকা (Light) শৃঙ্খল থাকে।
- ভারী শৃঙ্খল (Heavy chain): এর আণবিক ওজন 50-70 KD (কিলো ডাল্টন) হয়ে থাকে।
- হালকা শৃঙ্খল (Light chain): এর আণবিক ওজন সাধারণত 25 KD এর কাছাকাছি হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অ্যান্টিবডি হলো ইমিউন সিস্টেমের তৈরি বিশেষ প্রোটিন, যা দেহে প্রবেশকারী ক্ষতিকর অ্যান্টিজেনকে (যেমন: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, টক্সিন) শনাক্ত করে এবং ধ্বংস করে।
- অ্যান্টিজেন: ক্ষতিকর বহিরাগত পদার্থ যা শরীরে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়।
- অ্যান্টিবডি এই অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেহকে রক্ষা করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):

শ্বেত রক্তকণিকার মধ্যে লিম্ফোসাইট (বিশেষত B-লিম্ফোসাইট) অ্যান্টিবডি সৃষ্টির মাধ্যমে জীবাণু ধ্বংসের কাজ করে।

অন্যান্য কণিকার কাজ:
মনোসাইট ও নিউট্রোফিল: এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় সরাসরি জীবাণু গিলে খেয়ে ধ্বংস করে।
থ্রম্বোসাইট (অণুচক্রিকা): রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এটি জীবাণু ধ্বংসের সাথে সরাসরি যুক্ত নয়।

i
ব্যাখ্যা (Explanation):

জৈব প্রযুক্তি (Biotechnology) ব্যবহার করে অণুজীবের (যেমন- ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক) মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করা হয়।

পেনিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিন ইত্যাদি অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতে নির্দিষ্ট অণুজীবের মেটাবলিক প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানো হয়। ফার্মেন্টেশন বা গাজন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অণুজীবের বৃদ্ধি ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা আধুনিক জৈব প্রযুক্তির একটি অন্যতম প্রধান প্রয়োগ।

i
ব্যাখ্যা (Explanation):

মানবদেহের শ্বেত রক্তকণিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকার হলো লিম্ফোসাইট, যা ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

লিম্ফোসাইটের একটি ধরন B-লিম্ফোসাইট সরাসরি অ্যান্টিবডি সৃষ্টির মাধ্যমে দেহে প্রবেশকারী জীবাণু ধ্বংস করে। অন্যান্য রক্তকণিকা যেমন- মনোসাইট, নিউট্রোফিল এবং বেসোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করলেও তারা অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে না।

i
ব্যাখ্যা (Explanation):

মানবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি করা B-লিম্ফোসাইট (B-কোষ)-এর প্রধান কাজ।

যখন শরীরে কোনো ক্ষতিকর জীবাণু বা অ্যান্টিজেন প্রবেশ করে, তখন B-লিম্ফোসাইট সক্রিয় হয়ে প্লাজমা কোষে রূপান্তরিত হয় এবং নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অন্যদিকে, T-লিম্ফোসাইট সরাসরি সংক্রমিত কোষকে ধ্বংস করে এবং মনোসাইটনিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে।

i
ব্যাখ্যা (Explanation):

IgD (Immunoglobulin D) প্রধানত অপরিণত B-লিম্ফোসাইট (B-কোষ) এর কোষপর্দায় রিসেপ্টর হিসেবে অবস্থান করে।

এর প্রধান কাজ হলো B-কোষকে সক্রিয় করা এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সাহায্য করা। অ্যান্টিজেন যখন IgD-এর সাথে যুক্ত হয়, তখন এটি B-কোষকে বিভাজিত হতে এবং অন্যান্য অ্যান্টিবডি (যেমন IgM বা IgG) তৈরি করতে উদ্দীপিত করে। রক্তে এর পরিমাণ খুবই কম হলেও B-কোষের পরিপক্কতা এবং সক্রিয়করণে এর ভূমিকা অপরিসীম।

i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে অ্যান্টিবডিকে সহায়তা করে কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম
- এটি মূলত রক্তের একটি জটিল প্রোটিন ব্যবস্থা, যা অ্যান্টিবডি দ্বারা চিহ্নিত ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
- এই প্রোটিনগুলো একসাথে কাজ করে ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লিতে ছিদ্র তৈরি করে এবং তাদের ধ্বংস করে দেয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অ্যান্টিবডি সরাসরি কোনো ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে না, বরং ব্যাকটেরিয়াকে চিহ্নিত (Opsonization) করে দেয়।
- অ্যান্টিবডি দ্বারা এই চিহ্নিত ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ম্যাক্রোফেজ ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় গ্রাস করে এবং ধ্বংস করে।
- এভাবেই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে অ্যান্টিবডিকে ম্যাক্রোফেজ প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0