মানব শারীরতত্ত্বঃ শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া (84 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ফুসফুসীয় ক্যান্সার বা লাং ক্যান্সারের (Lung Cancer) অন্যতম প্রধান ও ভয়াবহ কারণ হলো ধূমপান।
- চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যমতে, ফুসফুসীয় ক্যান্সারের প্রায় ৯০% ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপান সরাসরি দায়ী।
- সিগারেটের ধোঁয়ায় ৭০টিরও বেশি পরিচিত ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান (Carcinogens) থাকে।
- উল্লেখ্য, একজন সুস্থ মানুষের ফুসফুসের সর্বোচ্চ বায়ু ধারণ ক্ষমতা (Total Lung Capacity) প্রায় ৬ লিটার বা ৬০০০ মিলিলিটার পর্যন্ত হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদী ধূমপানের ফলে ফুসফুসের টিস্যু ধ্বংস হয়ে এই ধারণ ক্ষমতা এবং কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একজন সুস্থ মানুষের বক্ষ গহ্বরে হৃৎপিণ্ডের দুপাশে অবস্থিত স্পঞ্জের মতো ফুসফুস সাধারণত হালকা গোলাপি বর্ণের হয়ে থাকে।
- কিন্তু একজন ধূমপায়ী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সিগারেটের ধোঁয়ায় উপস্থিত টার (Tar), নিকোটিন এবং কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত পদার্থ প্রতিনিয়ত ফুসফুসে জমতে থাকে।
- দীর্ঘদিন ধরে এই ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানগুলো জমা হওয়ার ফলে ফুসফুসের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর স্বাভাবিক গোলাপি বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে কালচে বা গাঢ় ধূসর বর্ণ ধারণ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ওটিটিস মিডিয়া (Otitis Media) মূলত মধ্যকর্ণের (Middle Ear) সংক্রমণ বা প্রদাহ।
- মানুষের কানের তিনটি প্রধান অংশ রয়েছে: বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ এবং অন্তঃকর্ণ।
- সর্দি বা গলা ব্যথার পর ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস ইউস্টেশিয়ান নালি দিয়ে মধ্যকর্ণে প্রবেশ করে এই সংক্রমণ ঘটায়।
- বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ওটিটিস মিডিয়া (Otitis Media) হলো মধ্যকর্ণের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াল বা ভাইরাল সংক্রমণ।
- এই রোগে আক্রান্ত রোগীর প্রবল জ্বর দেখা দেয়, যা সাধারণত ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হতে পারে।
- জ্বরের পাশাপাশি কানে প্রচণ্ড ব্যথা, কান দিয়ে পুঁজ বা তরল পড়া এবং শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মানুষের করোটিতে (Skull) মোট চার জোড়া প্যারান্যাসাল সাইনাস থাকে।
- এগুলো হলো: ফ্রন্টাল সাইনাস (কপালে), ম্যাক্সিলারি সাইনাস (গালে), এথময়েড সাইনাস এবং স্ফেনয়েড সাইনাস (নাক ও চোখের পেছনে)।
- অন্যদিকে, অক্সিপিটাল সাইনাস হলো মস্তিষ্কের ভেতরের ডিউরা ম্যাটারের একটি ভেনাস সাইনাস (রক্ত চলাচলের পথ), এটি মুখমণ্ডলের কোনো প্যারান্যাসাল সাইনাস নয়
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মুখমণ্ডল ও মাথার খুলির ভেতরে থাকা বায়ুপূর্ণ গহ্বর বা সাইনাসের প্রদাহকেই সাইনুসাইটিস (Sinusitis) বলা হয়।
- সাইনাসে শ্লেষ্মা জমে গেলে সেখানে বায়ু চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং গহ্বরের ভেতরে প্রচণ্ড চাপ বৃদ্ধি পায়।
- এর ফলে কপালে, চোখের চারপাশে বা মুখমণ্ডলে তীব্র মাথাব্যথা সৃষ্টি হয়, যা এই রোগের সবচেয়ে প্রধান ও সাধারণ উপসর্গ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্যারান্যাসাল সাইনাসগুলোর মধ্যে ম্যাক্সিলারি সাইনাস সবচেয়ে বড়, যা গালের অংশে (চোয়ালের ঠিক ওপরে) অবস্থিত।
- এর নিচের অংশের অবস্থান দাঁতের শিকড়ের (বিশেষ করে উপরের মাড়ির দাঁতগুলোর) খুব কাছাকাছি।
- এ কারণেই ম্যাক্সিলারি সাইনাসের প্রদাহ বা সংক্রমণের কারণে রোগীর দাঁত, গলা ও মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ম্যাক্সিলারি সাইনাস মানুষের গালের অস্থি বা উপরের চোয়ালের অংশে অবস্থিত।
- এই সাইনাসে সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে গালের অংশে ব্যথা হয় এবং সংশ্লিষ্ট স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ার কারণে অনেক সময় মুখমণ্ডল অনুভূতিহীন বা অবশ মনে হতে পারে।
- কাজে বিরক্তি, হাত-পা অবশ হওয়া বা চোখে ঝাপসা দেখা ম্যাক্সিলারি সাইনাসের সরাসরি বা সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- হাঁপানি (Asthma) কোনো জীবাণুবাহিত বা সংক্রামক রোগ নয়, এটি মূলত একটি অ্যালার্জিজনিত বা শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা
- এটি সাধারণত বংশগত কারণ, ধুলাবালি, ধোঁয়া বা অ্যালার্জেন দ্বারা ফুসফুসের শ্বাসনালীতে প্রদাহের সৃষ্টি করে।
- ভাইরাসজনিত বা ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগগুলো জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়, যা হাঁপানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- সুতরাং, হাঁপানি হলো মূলত অ্যালার্জিজনিত রোগ

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগের সঠিক ইংরেজি বানান হলো Asthma। তবে এর উচ্চারণ 'অ্যাজমা' হওয়ায় অনেক সময় বানান নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তর অনুযায়ী Asma-কে সঠিক ধরা হয়েছে, যা মূলত শব্দটির উচ্চারণভিত্তিক বা ফোনেটিক (phonetic) রূপ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ধূমপান রক্তনালি বা ধমনির ভেতরের গাত্রে চর্বি জাতীয় পদার্থ বা প্লাক (Plaque) জমার প্রক্রিয়াকে দ্রুত ত্বরান্বিত করে। তামাকের বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান রক্তনালির প্রাচীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে সেখানে সহজে কোলেস্টেরল জমা হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এটি অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস নামক অবস্থার সৃষ্টি করে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সিলিকন ডাই-অক্সাইড (SiO2) বা সিলিকা ধূলিকণা দীর্ঘকাল ধরে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করলে সিলিকোসিস নামক মারাত্মক রোগ হয়। এই রোগটি পরবর্তীতে ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। বিশেষ করে যারা খনি, পাথর ভাঙা বা কাঁচ শিল্পে কাজ করেন, তাদের এই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শ্বাসনালির (ব্রঙ্কাস) ভেতরে আবৃত ঝিল্লির প্রদাহকে ব্রঙ্কাইটিস বলে। অধিক ধূমপান এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, স্যাঁতসেঁতে ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়া এবং ঠাণ্ডা লাগা থেকেও এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণেও ঝিল্লিগাত্রে প্রদাহ হতে পারে।
- সাধারণত শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন এবং একবার ব্রঙ্কাইটিস হলে বারবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
এমফাইসেমা (Emphysema) হলো ফুসফুসের একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যেখানে ফুসফুসের বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাই ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসে মারাত্মক কষ্ট হয়।
অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে:
- ওটাইটিস মিডিয়া: এটি মধ্যকর্ণের প্রদাহ।
- সাইনুসাইটিস: এটি মুখমণ্ডল ও মাথার হাড়ের ভেতরের বায়ুপূর্ণ গহ্বর বা সাইনাসের প্রদাহ।
- এলার্জি: এটি শরীরের ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
এমফাইসেমা (Emphysema) হলো ফুসফুসের একটি দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক রোগ। ধূমপান বা বায়ুদূষণের কারণে এই রোগ বেশি হয়।
এই রোগে ফুসফুসের বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাস (Alveolus)-এর প্রাচীর ফেটে যায় এবং ফুসফুসে অস্বাভাবিক বড় ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হয়। এর ফলে গ্যাসীয় বিনিময়ের পৃষ্ঠতল কমে যায় এবং মারাত্মক শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) যখন লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে, তখন এটি হিমোগ্লোবিনের প্রোটিন অংশের (গ্লোবিন) অ্যামিনো মূলকের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়। এর ফলে কার্বামাইনো হিমোগ্লোবিন (Carbaminohemoglobin) নামক একটি অস্থায়ী যৌগ তৈরি হয়। রক্তে প্রায় ১১-২৭% কার্বন ডাইঅক্সাইড এই যৌগ হিসেবে পরিবাহিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত এক প্রকার লৌহযুক্ত প্রোটিন, যা শ্বাসরঞ্জক (Respiratory pigment) হিসেবে পরিচিত।
এর প্রধান কাজ হলো কোষে কোষে শ্বাসবায়ু (অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড) পরিবহন করা। এতে উপস্থিত লৌহ উপাদানের কারণেই রক্তের রং লাল হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বৈজ্ঞানিক পরিমাপ অনুযায়ী, মানুষের ১ গ্রাম হিমোগ্লোবিন প্রায় ১.৩৪ মিলি অক্সিজেন বহন করতে সক্ষম। একে হুফনারের ধ্রুবক (Hufner's constant) বলা হয়। এটি রক্তের সর্বাধিক অক্সিজেন বহন ক্ষমতা (Oxygen carrying capacity) নির্ণয়ের একটি আদর্শ মান।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অক্সিজেন রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন নামক একটি অস্থায়ী যৌগ তৈরি করে। এটি স্থায়ী যৌগ নয়, কারণ টিস্যু কোষে পৌঁছানোর পর এটি সহজেই ভেঙে গিয়ে অক্সিজেন মুক্ত করে।

অন্যান্য তথ্যগুলো সম্পূর্ণ সঠিক:
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন রক্তে প্রবেশ করে
- উপজিহ্বা বা Epiglottis শ্বাসনালিতে খাবার ঢুকতে বাধা দেয়
- প্রশ্বাসের সময় ফুসফুস প্রসারিত হয়

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রক্তের লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিন অণুটি লৌহযুক্ত অংশ 'হিম' এবং প্রোটিনযুক্ত অংশ 'গ্লোবিন' নিয়ে গঠিত। এখানে লৌহ (হিম) এবং প্রোটিন (গ্লোবিন)-এর অনুপাত হলো ১ : ২৫। হিমোগ্লোবিনের গঠনের ৪% হলো লৌহ বা হিম অংশ এবং বাকি ৯৬% হলো গ্লোবিন প্রোটিন অংশ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একজন সুস্থ পূর্ণবয়স্ক মানুষের সমগ্র দেহে মোট লৌহের (Iron) পরিমাণ সাধারণত ৪-৫ গ্রাম হয়ে থাকে। এই লৌহের সবচেয়ে বড় অংশটি (প্রায় ৬৫-৭০%) রক্তের হিমোগ্লোবিনে অবস্থান করে, যা শ্বাসবায়ু বা অক্সিজেন পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবশিষ্ট লৌহ যকৃৎ, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় ফেরিটিন (Ferritin) হিসেবে সঞ্চিত থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত একটি লৌহযুক্ত শ্বাসরঞ্জক। এটি হিম (Heme) নামক রঞ্জক এবং গ্লোবিন (Globin) নামক প্রোটিন দ্বারা গঠিত। রক্তে হিম ও গ্লোবিনের অনুপাত হলো ১ : ২৫। অর্থাৎ, হিমোগ্লোবিনে প্রায় ৪% হিম এবং ৯৬% গ্লোবিন প্রোটিন থাকে। এই হিম অংশের কারণেই রক্তের রং লাল দেখায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রক্তে অক্সিজেন প্রধানত দুটি উপায়ে পরিবাহিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯৮% অক্সিজেন লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক যৌগ (অক্সিহিমোগ্লোবিন) গঠন করে পরিবাহিত হয়। রক্তরসে বা প্লাজমায় অক্সিজেনের দ্রাব্যতা খুবই কম। তাই মোট পরিবাহিত অক্সিজেনের মাত্র ২.০% প্লাজমায় ভৌত দ্রবণরূপে (Physical solution) পরিবাহিত হয়ে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ফুসফুস থেকে অক্সিজেন মিশ্রিত রক্ত যখন দেহকোষে পৌঁছায়, তখন প্রতি ১০০ মিলি রক্তে প্রায় ২০ মিলি অক্সিজেন থাকে। কিন্তু স্বাভাবিক বিশ্রামরত অবস্থায় দেহকোষে মাত্র ৫ মিলি অক্সিজেন সরবরাহ বা পরিবাহিত হয়। বাকি ১৫ মিলি অক্সিজেন রক্তেই থেকে যায়, যা অতিরিক্ত প্রয়োজনের সময় রিজার্ভ হিসেবে কাজ করে।
রক্তে অক্সিজেন প্রধানত দুটি উপায়ে পরিবাহিত হয়:
১. ভৌত দ্রবণরূপে (Physical solution)
২. রাসায়নিক যৌগরূপে (অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে)
রক্তরসে অক্সিজেনের দ্রাব্যতা খুবই কম হওয়ায়, প্রতি ১০০ মিলি রক্তে মাত্র ০.২ মিলি অক্সিজেন ভৌত দ্রবণরূপে পরিবাহিত হয়, যা মোট পরিবাহিত অক্সিজেনের মাত্র ২%।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রক্তে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) প্রধানত তিনটি মাধ্যমে পরিবাহিত হয়: বাইকার্বনেট যৌগ, কার্বামিনো যৌগ এবং কার্বনিক এসিড
অন্যদিকে কার্বন মনোক্সাইড (CO) CO₂ পরিবহনের কোনো মাধ্যম নয়। এটি এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে গঠিত একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন বিষাক্ত গ্যাস
দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইডের উপস্থিতি রক্তে অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে। অত্যধিক মাত্রায় প্রশ্বাসের সাথে এটি গ্রহণ করলে মানুষ দ্রুত অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং দ্রুত চিকিৎসা না করালে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রক্তে অক্সিজেন প্রধানত দুটি উপায়ে পরিবাহিত হয়:
১. ভৌত দ্রবণরূপে (Physical solution)
২. রাসায়নিক যৌগরূপে (অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে)
রক্তরসে অক্সিজেনের দ্রাব্যতা খুবই কম হওয়ায়, প্রতি ১০০ মিলি রক্তে মাত্র ০.২ মিলি অক্সিজেন রক্তরসে ভৌত দ্রবণরূপে পরিবাহিত হয়। মোট পরিবাহিত অক্সিজেনের মাত্র ২% এই পদ্ধতিতে পরিবাহিত হয়ে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মানবদেহে বহিঃশ্বসন (External Respiration) মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
১. প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ (Inspiration): পরিবেশ থেকে অক্সিজেনযুক্ত বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করার প্রক্রিয়া।
২. নিঃশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগ (Expiration): ফুসফুস থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড যুক্ত বায়ু পরিবেশে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রশ্বাসের (Inspiration) সময় ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা সংকুচিত হয়ে নিচের দিকে নেমে যায়।
একইসাথে ইন্টারকোস্টাল পেশির সংকোচনের ফলে পর্শুকাগুলো (Ribs) বাইরের দিকে ও উপরের দিকে উত্তোলিত হয়।
এর ফলে বক্ষ গহ্বরের আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং ভেতরের বায়ুর চাপ কমে যাওয়ায় পরিবেশ থেকে অক্সিজেনযুক্ত বাতাস ফুসফুসে প্রবেশ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মানুষের শ্বসন প্রধানত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
১. বহিঃশ্বসন (External Respiration): এই ধাপে পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করা হয়। এখানে ফুসফুস ও রক্তের মধ্যে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে।
২. অন্তঃশ্বসন (Internal Respiration): এই ধাপে কোষের অভ্যন্তরে খাদ্যের জারণ ঘটে এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। এখানে রক্ত ও কোষের মধ্যে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা হলো একটি পাতলা, পেশিবহুল পর্দা, যা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বক্ষ গহ্বর (Thoracic cavity) এবং উদর গহ্বরকে (Abdominal cavity) পৃথক করে রাখে
♦ এটি শ্বসন প্রক্রিয়ায় (প্রশ্বাস ও নিঃশ্বাস) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
♦ এটি কেবল স্তন্যপায়ী প্রাণীতে পাওয়া যায়, সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীতে নয়।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0