প্রাণীর আচরণ (66 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
গোলাপী-শির-হাঁস (Pink-headed duck) হলো বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া একটি বন্যপ্রাণী।
- একসময় বাংলাদেশের হাওর ও জলাশয়গুলোতে, বিশেষ করে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় এদের প্রচুর দেখা যেত। তবে অবাধ শিকার এবং বাসস্থান ধ্বংসের কারণে এরা এখন দেশ থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত (Extinct)
- অন্যদিকে, অপশনের বাংলা শকুন বর্তমানে মহাবিপন্ন (Critically Endangered) অবস্থায় রয়েছে এবং লেঞ্জা হাঁস হলো একটি শীতকালীন পরিযায়ী পাখি।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ পালনের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে:
Apiculture: বিজ্ঞান সম্মতভাবে মৌমাছির চাষ বা প্রতিপালন। মৌমাছির ল্যাটিন নাম Apis থেকে এই শব্দটি এসেছে।
Sericulture: রেশম পোকার চাষ। সিল্ক এর ল্যাটিন নাম Sericum।
Pisciculture: বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৎস্য বা মাছ চাষ। মাছের ল্যাটিন নাম Pisci।
Aviculture: বিজ্ঞানসম্মতভাবে পাখি পালন বিদ্যা। পাখির ল্যাটিন নাম Avis।
Horticulture: উদ্যানবিদ্যা বা ফল, ফুল ও শাকসবজির চাষ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Bombyx mori হলো রেশম পোকা বা পলু পোকার বৈজ্ঞানিক নাম।
• এরা প্রধানত তুঁত গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে।
• তুঁত গাছের পাতায় এক ধরণের বিশেষ পুষ্টি উপাদান থাকে যা রেশম পোকার বৃদ্ধি ও গুটি তৈরির জন্য অপরিহার্য।
• এই পোকা তুঁত পাতা খেয়ে যে গুটি তৈরি করে, তা থেকেই মূল্যবান রেশম সুতা আহরণ করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শ্রম বিভাজনের ভিত্তিতে একটি মৌচাকে ৩ ধরনের মৌমাছি বাস করে।
রাণী মৌমাছি (Queen bee): এরা উর্বর স্ত্রী মৌমাছি। এদের প্রধান কাজ ডিম পাড়া। একটি চাকে সাধারণত একটিমাত্র রাণী মৌমাছি থাকে।
পুরুষ মৌমাছি বা ড্রোন (Drone bee): এদের প্রধান কাজ রাণী মৌমাছির সাথে প্রজননে অংশ নেওয়া।
কর্মী মৌমাছি (Worker bee): এরা প্রজননে অক্ষম বা বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি। চাক নির্মাণ, মধু ও পরাগরেণু সংগ্রহ, চাকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ যাবতীয় কাজ এরা করে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মৌচাকে তিন ধরনের মৌমাছি থাকে: রাণী, ড্রোন (পুরুষ) এবং কর্মী মৌমাছি।
কর্মী মৌমাছি: এরা প্রজনন ক্ষমতাহীন এবং মধু সংগ্রহে অংশ নেয়
রাণী মৌমাছি: ফেরোমন নিঃসৃত করে এবং ডিম পাড়ে।
ড্রোন বা পুরুষ মৌমাছি: এরা কর্মী মৌমাছির চেয়ে বড় কিন্তু রাণী মৌমাছির চেয়ে ছোট। এদের প্রধান কাজ প্রজননে অংশ নেওয়া।
(বি.দ্র: প্রশ্নে ড্রোন মৌমাছির বৈশিষ্ট্য জানতে চাওয়া হলেও, প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি মূলত কর্মী মৌমাছির প্রধান বৈশিষ্ট্য।)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ডাকবিল প্লাটিপাস (Duck-billed Platypus) হলো Australian (অস্ট্রেলিয়ান) প্রাণীভৌগোলিক অঞ্চলের একটি এন্ডেমিক (Endemic) বা স্থানীয় প্রাণী।

- এটি একটি বিরল ডিম্বজ স্তন্যপায়ী (egg-laying mammal) প্রাণী, যা প্রধানত পূর্ব অস্ট্রেলিয়া এবং তাসমানিয়া অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে দেখা যায়।
- ক্যাঙ্গারুর মতো প্লাটিপাসও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্রাণী।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক পরিবেশের ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
- পৃথিবীর প্রতিটি জীব একে অপরের সাথে আন্তঃসম্পর্কিত। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশে বিবর্তনের ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্তি রোধ করা সম্ভব হয়।
- পর্যটন উন্নয়ন বা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এর গৌণ সুবিধা হতে পারে, তবে সমগ্র জীবজগতের সুস্থ ও স্বাভাবিক টিকে থাকা নিশ্চিত করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মৌমাছির লিঙ্গ নির্ধারণ হ্যাপ্লয়েড-ডিপ্লয়েড (Haplodiploidy) পদ্ধতিতে ঘটে।
- রাণী মৌমাছি এবং কর্মী মৌমাছিরা হলো ডিপ্লয়েড (2n), অর্থাৎ এদের ক্রোমোসোম সংখ্যা ৩২টি।
- রাজা বা পুরুষ মৌমাছি (Drone) অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় জন্মায়, তাই এরা হ্যাপ্লয়েড (n), অর্থাৎ এদের ক্রোমোসোম সংখ্যা ১৬টি।
- সুতরাং, রাজা মৌমাছির ক্রোমোসোম সংখ্যা (১৬) রাণী মৌমাছির ক্রোমোসোম সংখ্যার (৩২) অর্ধেক
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'অ্যালট্রইজম' (Altruism) বা পরার্থপরতা শব্দটির প্রবর্তক হলেন ফরাসি দার্শনিক August Comte (অগাস্ট কোঁৎ)।
⇒ তিনি ১৯ শতকে ফরাসি শব্দ 'altruisme' হিসেবে এটি প্রথম ব্যবহার করেন, যার অর্থ হলো অন্যের মঙ্গলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করা।
⇒ ল্যাটিন শব্দ 'alteri' (অর্থ: অন্যান্য বা others) থেকে এই শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ফেরোমন (Pheromone) হলো এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা প্রাণী তার দেহ থেকে নিঃসরণ করে এবং এর মাধ্যমে একই প্রজাতির অন্যান্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে।
- মৌমাছিরা তাদের কলোনি বা মৌচাকে সদস্যদের সংঘবদ্ধ রাখতে এবং দিকনির্দেশনা দিতে এই ফেরোমন ব্যবহার করে।
- অন্যদিকে, হরমোন দেহের ভেতরে কাজ করে, প্রোপালিস (Propolis) হলো মৌচাক মেরামতে ব্যবহৃত আঠা, এবং রয়েল জেলি (Royal Jelly) হলো রাণী মৌমাছির বিশেষ খাবার।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- অস্ট্রিয়ান প্রাণীবিজ্ঞানী কার্ল ভন ফ্রিস (Karl von Frisch) মৌমাছির ভাষা আবিষ্কার করেন।
- তিনি প্রমাণ করেন যে মৌমাছিরা খাদ্যের সন্ধান পেলে এক বিশেষ ধরনের শারীরিক নৃত্যের (যেমন: Waggle danceRound dance) মাধ্যমে কলোনির অন্য মৌমাছিদের খাদ্যের দূরত্ব ও দিক সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।
- প্রাণী আচরণের উপর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৭৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাণীর আচরণবিদ্যায় অ্যালট্রুইজম (Altruism) বলতে পরার্থপরতা-কে বোঝায়।
- এটি এমন এক ধরনের আচরণ যেখানে একটি প্রাণী নিজের সুবিধা, প্রজনন ক্ষমতা বা জীবন বিপন্ন করে স্বগোত্রীয় অন্য প্রাণীর উপকার বা সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
- উদাহরণস্বরূপ, মৌচাকে শ্রমিক মৌমাছিরা কলোনি রক্ষার জন্য শত্রুকে হুল ফুটিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করে, যা পরার্থপরতার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম হলো Apis indica
- মৌমাছির ল্যাটিন নাম Apis থেকে মৌমাছি পালন বিদ্যা বা এপিকালচার (Apiculture) শব্দটি এসেছে।
- অন্যান্য অপশনের মধ্যে Bombyx mori হলো রেশম পোকার বৈজ্ঞানিক নাম (রেশম চাষকে সেরিকালচার বা Sericulture বলে) এবং Musca domestica হলো সাধারণ মাছির বৈজ্ঞানিক নাম।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে মৌমাছি হলো দলবদ্ধ বা সামাজিক পতঙ্গ।
- এরা রানী মৌমাছির নেতৃত্বে হাজার হাজার সদস্য মিলে কলোনি বা মৌচাক তৈরি করে বসবাস করে।
- মৌমাছিরা তাদের কাজের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত থাকে, যেমন— রানী মৌমাছি, পুরুষ মৌমাছি এবং শ্রমিক মৌমাছি
- রানী মৌমাছির প্রধান কাজ হলো বংশবৃদ্ধির জন্য ডিম পাড়া, যা একটি সামাজিক কাঠামোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- শ্রমিক মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে এবং মৌচাক রক্ষার কাজ করে, যা তাদের সহযোগিতামূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
- এই সুশৃঙ্খল এবং দলবদ্ধ জীবনযাপনের কারণেই মৌমাছিকে সামাজিক প্রাণী বা পতঙ্গ বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মৌচাকে মৌমাছিরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, যা তাদের সামাজিক আচরণের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- এরা কলোনি বা মৌচাক তৈরি করে এবং কাজের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত থাকে (যেমন: রানী, পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছি)।
- একে অপরের প্রতি এই সহযোগিতামূলক এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের কারণেই এদের আচরণকে সামাজিক বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- একটি মৌচাকে তিন ধরনের মৌমাছি থাকে: রানী (Queen), পুরুষ বা ড্রোন (Drone) এবং কর্মী (Worker)।
- কর্মী মৌমাছি (Worker Bee) হলো বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি। চাক নির্মাণ, মধু সংগ্রহ এবং লার্ভা বা বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া এদের প্রধান কাজ।
- কর্মী মৌমাছির মাথার হাইপোফ্যারিঞ্জিয়াল (Hypopharyngeal) গ্রন্থি থেকে এক ধরনের পুষ্টিকর সাদা তরল পদার্থ নিঃসৃত হয়, যাকে রাজকীয় জেলি (Royal Jelly) বলা হয়।
- এই রাজকীয় জেলি মূলত রানী মৌমাছি এবং রানী হওয়ার জন্য নির্বাচিত লার্ভাদের প্রধান খাবার।
- সাধারণ লার্ভারা প্রথম কয়েকদিন এই জেলি খেতে পেলেও, শুধুমাত্র যে লার্ভাটি আজীবন এই রাজকীয় জেলি খেয়ে বড় হয়, সেটিই পরবর্তীতে রানী মৌমাছি হিসেবে বিকশিত হয়।
- পুরুষ (ড্রোন) বা রানী মৌমাছি রাজকীয় জেলি তৈরি করতে পারে না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাণীদেহে রাসায়নিক যোগাযোগের জন্য এক প্রকার উদ্বায়ী পদার্থ নিঃসৃত হয়, যাকে ফেরোমন (Pheromone) বলে।
- মৌমাছির চাকে শুধুমাত্র একটি রানী মৌমাছি থাকে, যার প্রধান কাজ হলো ডিম পাড়া এবং চাকের শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
- রানী মৌমাছির ম্যান্ডিবুলার গ্রন্থি থেকে ফেরোমন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়।
- এই ফেরোমনের গন্ধের কারণেই চাকের অন্যান্য কর্মী মৌমাছিরা রানীর প্রতি আকৃষ্ট থাকে, রানীর যত্ন নেয় এবং কর্মী মৌমাছিদের প্রজনন ক্ষমতা অবদমিত থাকে।
- অন্যদিকে, এস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং টেস্টোস্টেরন হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের (যেমন- মানুষের) স্টেরয়েড বা যৌন হরমোন, যা মৌমাছির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- রাশিয়ান বিজ্ঞানী ইভান প্যাভলভ (Ivan Pavlov) মূলত একজন শারীরতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি পাচনতন্ত্র (Digestive system) এবং লালা গ্রন্থির কাজ নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করেন।
- পাচনতন্ত্রের শারীরবৃত্তীয় কাজের ওপর তাঁর এই যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ১৯০৪ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞান বা শারীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- তিনি রাশিয়ার ইতিহাসে প্রথম নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী।
- পরবর্তীতে তিনি কুকুরের ওপর গবেষণার মাধ্যমে 'সাপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়া' (Conditioned reflex) আবিষ্কার করেন, যার জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- রাশিয়ান শারীরতত্ত্ববিদ ইভান প্যাভলভ (Ivan Pavlov) শিখন সম্পর্কিত একটি বিখ্যাত তত্ত্ব প্রদান করেন, যা সাপেক্ষ শিখন (Conditioned Learning) বা ক্ল্যাসিক্যাল কন্ডিশনিং (Classical Conditioning) নামে পরিচিত।
- তিনি ১৯২০-এর দশকে কুকুরের ওপর একটি পরীক্ষামূলক গবেষণা পরিচালনা করেন।
- এই পরীক্ষায় তিনি দেখান যে, কীভাবে একটি স্বাভাবিক উদ্দীপকের (খাবার) সাথে একটি নিরপেক্ষ উদ্দীপক (ঘণ্টাধ্বনি) যুক্ত করে প্রাণীর মধ্যে সাপেক্ষ বা শর্তসাপেক্ষ প্রতিক্রিয়া (লালা নিঃসরণ) তৈরি করা যায়।
- প্যাভলভের এই তত্ত্বটি মনোবিজ্ঞান এবং প্রাণী আচরণের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আচরণ (Behavior): প্রাণীর আচরণ প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে—সহজাত আচরণ (Innate behavior) এবং শিখন আচরণ (Learned behavior)।

সঠিক উত্তর: হাসের ছানার মাকে অনুসরণ
হাঁসের ছানা ডিম ফুটে বের হওয়ার পর প্রথম যে চলনশীল বস্তু দেখে তাকেই অনুসরণ করতে শেখে। এটি এক ধরনের শিখন আচরণ, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ইমপ্রিন্টিং (Imprinting) বলা হয়। কনরাড লরেঞ্জ এই আচরণের ওপর গবেষণা করেন। এটি জন্মগতভাবে পাওয়া যায় না, বরং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত হয়।

অন্যান্য অপশন:
* বাবুই পাখির বাসা তৈরি: এটি একটি সহজাত আচরণ (Instinctive behavior)। বাবুই পাখিকে বাসা বানানো কেউ শেখায় না, এটি তারা জন্মগতভাবেই পারে।
* ময়ূরের নৃত্য পরিবেশন: এটিও একটি সহজাত প্রজনন আচরণ। সঙ্গী আকর্ষণের জন্য ময়ূর প্রাকৃতিকভাবেই এই আচরণ করে।
* শীতের পাখির মাইগ্রেশন: এটি একটি সহজাত এবং উদ্দীপনা-নির্ভর আচরণ। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে পাখিরা প্রবৃত্তিগতভাবেই পরিযায়ী হয়, এটি শেখার কোনো বিষয় নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
∎ শিশুর জন্ম লাভ বা ডিম ফোটার পর থেকে সন্তান স্বাধীন ও স্বনির্ভর হওয়া পর্যন্ত পিতামাতা কর্তৃক যে সুরক্ষা, পুষ্টি ও পরিচর্যা প্রদান করা হয়, তাকে প্যারেন্টাল কেয়ার (Parental care) বা অপত্য যতন বলা হয়।
∎ এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রতিকূল পরিবেশে নবজাতকের বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি করা এবং প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
∎ প্রজনন ঋতুতে পুরুষ কোলা ব্যাঙের গলার নিচে অবস্থিত স্বরথলি বা ভোকাল স্যাক (Vocal sac) ফুলে বেলুনের মতো আকার ধারণ করে।
∎ এটি মূলত স্ত্রী ব্যাঙকে প্রজননের জন্য আকৃষ্ট করতে তীব্র ও জোরালো শব্দ বা ডাক তৈরি করার সময় রেজোনেটর হিসেবে কাজ করে।
∎ স্ত্রী ব্যাঙের এই ধরনের স্বরথলি থাকে না, তাই তারা পুরুষ ব্যাঙের মতো জোরালো শব্দ করতে পারে না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
স্টিকলব্যাক (Stickleback) মাছ প্রজনন ঋতুতে এক বিশেষ ধরনের প্রণয় আচরণ বা কোর্টশিপ ডিসপ্লে (Courtship display) প্রদর্শন করে।
∎ পুরুষ স্টিকলব্যাক স্ত্রী মাছকে নিজের তৈরি বাসায় প্রজননের জন্য আকৃষ্ট করতে এই জিগ-জ্যাগ (Zig-zag) নৃত্য প্রদর্শন করে থাকে।
∎ অন্যদিকে, মৌমাছিরা খাদ্যের সন্ধানে সাধারণত ওয়াগল ড্যান্স (Waggle dance) প্রদর্শন করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
∎ মাকড়সা তার উদরের শেষভাগে অবস্থিত সিল্ক (Silk) গ্রন্থি বা স্পিনারেট থেকে সুতোর মতো প্রোটিন তন্তু নিঃসরণ করে শিকার ধরার ফাঁদ বা জাল তৈরি করে।
প্যারোটিড হলো স্তন্যপায়ী প্রাণীর লালা গ্রন্থি।
সোয়েট এবং সিবেসাস হলো যথাক্রমে ঘর্ম ও তৈল গ্রন্থি, যা মাকড়সার জাল তৈরির সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
∎ মাকড়সার সিল্ক গ্রন্থি থেকে স্ক্লেরোপ্রোটিন (Scleroprotein) নামক এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন নিঃসৃত হয়।
∎ এটি মূলত ফাইব্রয়েন নামক অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা বাতাসের সংস্পর্শে এসে শক্ত হয়ে মাকড়সার জাল তৈরি করে।
∎ অন্যান্য অপশনের মধ্যে সেরাটোনিন এবং হিস্টামিন হলো বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং অ্যালবুমিন হলো রক্ত বা ডিমের সাদা অংশে প্রাপ্ত প্রোটিন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সর্বপ্রথম জার্মান বিজ্ঞানী হ্যান্স পিটার্স (Hans Peters) ১৯৩৯ সালে মাকড়সার জাল বোনার ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন।
- তিনি মাকড়সার জাল বোনার প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করেন।
- প্যাভলভ: সাপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়া আবিষ্কার করেন।
- লরেঞ্জ ও টিনবারগেন: প্রাণী আচরণের (Ethology) উপর গবেষণার জন্য বিখ্যাত এবং তাঁরা এই বিষয়ে গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Apis indica বা ভারতীয় মৌমাছির আকৃতি মাঝারি ধরনের হয়ে থাকে।
- এদের গড় আকৃতি প্রায় ১৫ মি.মি.
- এরা শান্ত প্রকৃতির হওয়ায় সহজেই বাক্সে পালন করা যায়।
- Apis dorsata (পাহাড়ি মৌমাছি): আকৃতিতে সবচেয়ে বড়, প্রায় ২০ মি.মি. হয়ে থাকে।
- Apis florea (খুদে মৌমাছি): আকৃতিতে সবচেয়ে ছোট, প্রায় ৮-১০ মি.মি. হয়ে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা Reflex Action প্রধানত সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal cord) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- এসব ক্রিয়া অতি দ্রুত সংঘটিত হওয়ার জন্য মস্তিষ্কের নির্দেশ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে না।
- সংবেদী স্নায়ুর মাধ্যমে উদ্দীপনা সুষুম্নাকাণ্ডে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে সরাসরি আজ্ঞাবাহী স্নায়ুর মাধ্যমে পেশিতে নির্দেশ চলে যায়।
- উদাহরণ: চোখে হঠাৎ আলো পড়লে আপনাআপনি চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ক্ষুধার্ত প্রাণী অন্যকে খাবার খেতে দেখলে লালা ক্ষরণ হওয়া একটি সাপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা Conditioned Reflex।
- সাপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়া: যে প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মগত নয়, বরং পূর্ব অভিজ্ঞতা বা দীর্ঘ অনুশীলনের ফলে অর্জিত হয়।
- বিখ্যাত বিজ্ঞানী ইভান প্যাভলভ (Ivan Pavlov) কুকুরের ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে সাপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা সাপেক্ষ শিখন তত্ত্বটি প্রমাণ করেন।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আগুনে হাত লাগলে বা সুচ ফুটলে সাথে সাথে হাত সরিয়ে নেওয়া হলো প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা Reflex Action।
- যে স্বতঃস্ফূর্ত, দ্রুত ও অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট উদ্দীপকের জবাবে ঘটে, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
- এটি মস্তিষ্ক দ্বারা নয়, বরং সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal cord) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে আমরা ব্যথা অনুভব করার আগেই হাত সরিয়ে নিই।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0