মানব শারীরতত্ত্বঃ বর্জ্য ও নিস্কাশন (87 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রক্তের প্লাজমায় সোডিয়ামের মাত্রা স্থির রাখতে ভূমিকা পালন করে অ্যালডোস্টেরন (Aldosterone) হরমোন। এটি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির কর্টেক্স থেকে নিঃসৃত একটি মিনারেলোকর্টিকয়েড হরমোন, যা কিডনিতে সোডিয়াম পুনঃশোষণ এবং পটাশিয়াম নিঃসরণ বাড়ানোর মাধ্যমে শরীরে লবণ ও পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।

অন্যান্য অপশনগুলোর কাজ:
প্রোজেস্টেরন: মহিলাদের গর্ভাবস্থা বজায় রাখতে এবং মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ভ্যাসোপ্রোসিন (ADH): কিডনিতে পানির পুনঃশোষণ বাড়িয়ে শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
লুটিনাইজিং হরমোন (LH): প্রজননতন্ত্রের কার্যাবলি এবং মহিলাদের ডিম্বস্ফোটন (ovulation) নিয়ন্ত্রণ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বিশুদ্ধ পানির pH মান ৭.০, অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ (এসিডিক বা ক্ষারীয় নয়)।
মানবদেহের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তরলের pH মান:
- রক্তের pH: ৭.৩৫-৭.৪৫
- চোখের পানির pH: ৪.৮০-৭.৫০
- মূত্রের pH: ৪.৮০-৭.৫০
- জিহ্বার লালার pH: ৬.৬
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রেচন প্রক্রিয়ায় মূত্র তৈরির প্রথম ধাপ হলো আল্ট্রাফিলট্রেশন বা অতিপরিস্রাবণ, যা গ্লোমেরুলাসে ঘটে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় গ্লোমেরুলাসের কৈশিকজালিকায় রক্তচাপ বা হাইড্রোস্ট্যাটিক প্রেশারের মাত্রা প্রায় ৭০ মিলিমিটার পারদস্তম্ভের (৭০ mmHg) সমান থাকে।
- এই উচ্চচাপ গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট বা পরিস্রুত তরল তৈরিতে সাহায্য করে।
- উল্লেখ্য, মানুষের স্বাভাবিক সিস্টেমিক রক্তচাপে সিস্টোলিক প্রেশার ১২০ mmHg এবং ডায়াস্টোলিক প্রেশার ৮০ mmHg হয়ে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নেফ্রনের প্রক্সিমাল প্যাঁচানো নালিকায় শরীরের জন্য ক্ষতিকর বা অপ্রয়োজনীয় পদার্থগুলোর সক্রিয় ক্ষরণ (Active secretion) ঘটে।
- এর মধ্যে অন্যতম হলো ক্রিয়েটিনিন (Creatinine), ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং কিছু ড্রাগস।
- অন্যদিকে, ভিটামিন, অ্যামিনো এসিড ও ক্লোরাইড আয়ন দেহের জন্য প্রয়োজনীয় হওয়ায় এগুলো এই অংশে পুনঃশোষিত হয়, ক্ষরিত হয় না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নেফ্রনের প্রক্সিমাল প্যাঁচানো নালিকায় (Proximal convoluted tubule) পরিস্রুত তরলের প্রায় ৮০% পুনঃশোষিত হয়।
- এই অংশে পানি, গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড এবং প্রয়োজনীয় লবণের পুনঃশোষণ ঘটে যা বাধ্যতামূলক পুনঃশোষণ (Obligatory reabsorption) নামে পরিচিত।
- ADH (Antidiuretic Hormone) মূলত নেফ্রনের দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা এবং সংগ্রাহী নালিকায় কাজ করে, তাই প্রক্সিমাল প্যাঁচানো নালিকায় পানির পুনঃশোষণ ADH দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অ্যালডোস্টেরন (Aldosterone) হলো অ্যাড্রেনাল কর্টেক্স থেকে নিঃসৃত একটি মিনারেলোকর্টিকয়েড হরমোন।
- এটি প্রধানত রক্তে সোডিয়াম (Sodium) এবং পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এই হরমোন নেফ্রনের দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা এবং সংগ্রাহী নালিকায় কাজ করে সোডিয়াম আয়নের পুনঃশোষণ বৃদ্ধি করে এবং পটাশিয়াম আয়নের ক্ষরণ ত্বরান্বিত করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অতিরিক্ত পেশি ক্ষয় (Rhabdomyolysis) বা পেশি মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলে পেশিকোষ থেকে মায়োগ্লোবিন (Myoglobin) নামক প্রোটিন রক্তে নির্গত হয়।
- রক্তে মায়োগ্লোবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে তা বৃক্ক বা কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
- এটি বৃক্কের ছাঁকনি বা গ্লোমেরুলাস এবং টিউবিউলগুলোকে ব্লক করে দেয়, যার ফলে বৃক্ক সঠিকভাবে রক্ত পরিশোধন করতে পারে না।
- এর ফলে বৃক্কের কার্যকারিতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি (AKI) বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মানবদেহে কিটো এসিড (Keto acid) প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের অভাবে দেহ যখন পর্যাপ্ত শক্তি পায় না, তখন যকৃতে ফ্যাট ভেঙে কিটোন বডি বা কিটো এসিড তৈরি হয়।
- এই কিটো এসিডগুলো রক্তচলাচলের মাধ্যমে বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষীয় শ্বসনের মাধ্যমে জারিত হয়ে ATP বা শক্তি উৎপন্ন করে।
- বিশেষ করে মস্তিষ্ক ও পেশিকোষ উপবাসের বা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার সময় কিটো এসিডকে শক্তির বিকল্প উৎস হিসেবে ব্যবহার করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
দাতার দেহ থেকে বৃক্ক বা কিডনি সংগ্রহের পর তা যত দ্রুত সম্ভব গ্রহীতার দেহে স্থাপন করা উচিত।
- কিডনি সংরক্ষণের জন্য বিশেষ তরল এবং শীতল তাপমাত্রা ব্যবহার করা হয়।
- সফল প্রতিস্থাপনের জন্য বৃক্ক সংগ্রহের পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা গ্রহীতার দেহে স্থাপন করতে হয়।
- এর চেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত হলে বৃক্কের কোষগুলো নষ্ট হতে শুরু করে এবং প্রতিস্থাপনের সফলতা ব্যাপকভাবে কমে যায়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মানবদেহে মূত্র নিষ্কাশনের সঠিক গতিপথ হলো: পেলভিস → ইউরেটার → মূত্রথলি → মূত্রনালি → নির্গমন
- কিডনি বা বৃক্কের পেলভিস (Pelvis) অংশে মূত্র তৈরি হয়ে জমা হয়।
- এরপর ইউরেটার (Ureter) বা গবিনী মূত্রকে বহন করে নিয়ে আসে এবং মূত্রথলি (Urinary Bladder)-তে সাময়িকভাবে সঞ্চয় করে।
- পরিশেষে, সঞ্চিত মূত্র দেহের বাইরে নিষ্কাশিত হওয়ার জন্য যে নালী ব্যবহৃত হয়, তাকে মূত্রনালি বা ইউরেথ্রা (Urethra) বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বা কায়িক পরিশ্রম করলে মূত্রে প্রোটিনের পরিমাণ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এই অবস্থাকে অরথোস্ট্যাটিক প্রোটিনুরিয়া (Orthostatic proteinuria) বলা হয়।
- প্রাণীদের দেহ গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় মূত্রে এর উপস্থিতি থাকে না বা খুব সামান্য থাকে।
- বিশ্রামে থাকলে বা শুয়ে থাকলে সাধারণত এই সমস্যা দেখা যায় না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মূত্রথলির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা প্রায় ৭০০-৭৫০ মি.লি.
তবে মূত্রথলিতে সাধারণত ২৮০-৩২০ মি.লি. মূত্র জমা হলেই মূত্রথলির প্রাচীরে চাপ পড়ে এবং স্নায়বিক উদ্দীপনার মাধ্যমে মূত্র ত্যাগের ইচ্ছা বা তাগিদ সৃষ্টি হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রক্তে বিলিরুবিন (Bilirubin)-এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে জন্ডিস (Jaundice) দেখা দেয়।
জন্ডিস হলে অতিরিক্ত বিলিরুবিন মূত্রের সাথে দেহের বাইরে নির্গত হতে শুরু করে, ফলে মূত্রের রং গাঢ় হলুদ বা হলদেটে-সবুজ হয়ে যায়।
অন্যান্য অপশনগুলোর ক্ষেত্রে:
- ডায়াবেটিস: এই রোগে মূত্রে গ্লুকোজ পাওয়া যায়।
- নেফ্রাইটিস: এটি কিডনির প্রদাহজনিত রোগ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মানুষের মূত্রে প্রায় ৯৫% পানি এবং ৫% কঠিন পদার্থ থাকে। এই কঠিন পদার্থের মধ্যে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান রয়েছে।
মূত্রে উপস্থিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য জৈব উপাদানের শতকরা পরিমাণ:
- ইউরিয়া: ২%
- ক্রিয়েটিনিন: ০.০৫%
- ইউরিক এসিড: ০.০৫%
(উল্লেখ্য, রক্তে বা মূত্রে ইউরিক এসিডের মাত্রা নির্ণয়ে ইউরিকেজ (Uricase) এনজাইম ব্যবহার করা হয়)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নেফ্রনে মূত্র সৃষ্টির প্রক্রিয়া প্রধানত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
১. অতিপরিস্রাবণ (Ultrafiltration): গ্লোমেরুলাসে রক্ত পরিস্রুত হয়ে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট তৈরি হয়।
২. নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ (Selective Reabsorption): পরিস্রুত তরল রেনাল টিউবিউলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পুনরায় রক্তে শোষিত হয়।
৩. সক্রিয় ক্ষরণ (Active Secretion): কিছু অপ্রয়োজনীয় বস্তু রক্ত থেকে সরাসরি রেনাল টিউবিউলে ক্ষরিত হয়।
যেহেতু শোষণ (Absorption) মূত্র সৃষ্টির কোনো নির্দিষ্ট ধাপ নয় (এটি পরিপাকতন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত), তাই এটি সঠিক উত্তর।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মানুষের মূত্রের প্রধান উপাদান হলো পানি (প্রায় ৯৫%)। বাকি ৫% হলো বিভিন্ন কঠিন পদার্থ।
মূত্রের প্রধান উপাদানগুলোর শতকরা হার:
- ইউরিয়া: ২%
- ক্রিয়েটিনিন: ০.০৫%
- ইউরিক এসিড: ০.০৫%
- অ্যামোনিয়াম: ০.০৪%
- সোডিয়াম: ০.৩৫%
- পটাশিয়াম: ০.১৫%
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বিলিরুবিন (Bilirubin) সাধারণত মূত্রের স্বাভাবিক উপাদান নয়।
- এটি যকৃতে লোহিত রক্তকণিকা ভাঙনের ফলে তৈরি হয় এবং পিত্তের মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে মল হিসেবে বের হয়। তবে জন্ডিস বা যকৃতের কোনো রোগ হলে মূত্রে বিলিরুবিন পাওয়া যেতে পারে।
- অন্যদিকে, মূত্রের স্বাভাবিক উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, ইউরিক এসিড এবং ইউরোক্রোম
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মূত্রের রং হালকা হলুদ বা খড়ের মতো হয় মূলত ইউরোক্রোম (Urochrome)-এর উপস্থিতির জন্য।
- এই ইউরোক্রোম হলো এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ।
- রক্তে অবস্থিত লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন ভেঙে এই রঞ্জক তৈরি হয় এবং এটি মূত্রের মাধ্যমে দেহের বাইরে নির্গত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মানবদেহের দুটি বৃক্কে (Kidneys) প্রতি মিনিটে একত্রে প্রায় ১২০০ ml রক্ত প্রবাহিত হয়।
- যেহেতু মানুষের দুটি বৃক্ক থাকে, তাই প্রতি বৃক্কে প্রবাহিত রক্তের পরিমাণ এর ঠিক অর্ধেক, অর্থাৎ ৬০০ ml

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
স্বাভাবিক মূত্রের pH মান সাধারণত ৪.৫ থেকে ৮.০-এর মধ্যে থাকে।
- গড়ে মূত্রের pH মান ৬.০, অর্থাৎ এটি সামান্য অম্লীয়।
- খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে মূত্রের pH পরিবর্তিত হতে পারে (যেমন- প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে অম্লীয় এবং শাকসবজি খেলে ক্ষারীয় মূত্র তৈরি হয়)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ADH (Antidiuretic Hormone) বা ভেসোপ্রেসিন হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (Diabetes Insipidus) বা বহুমূত্র রোগ হয়।
- এটি মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং বৃক্কে পানির পুনঃশোষণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- অন্যদিকে, ইনসুলিন (Insulin) হলো অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত একটি পলিপ্যাপটাইড হরমোন, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলাইটাস (Diabetes Mellitus) রোগ হয়ে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বৃক্কীয় নালিকায় প্রয়োজনীয় পদার্থগুলো পুনঃশোষিত হয়ে রক্তে ফিরে যায়, কিন্তু বর্জ্য পদার্থগুলো মূত্রের মাধ্যমে বের হয়ে যায়।
- হিপপিউরিক এসিড (Hippuric acid) হলো একটি বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ যা যকৃতে তৈরি হয়।
- এটি বৃক্কীয় নালিকায় পুনঃশোষিত হয় না, বরং রক্ত থেকে সক্রিয়ভাবে নালিকায় ক্ষরিত (secreted) হয় এবং মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্কাশিত হয়।
- অন্যদিকে অ্যামাইনো এসিড, বাইকার্বনেট এবং সোডিয়াম দেহের জন্য প্রয়োজনীয় হওয়ায় এগুলো বৃক্কীয় নালিকায় পুনঃশোষিত হয়
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ADH (Antidiuretic Hormone) মূলত নেফ্রনের দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (Distal convoluted tubule) এবং সংগ্রাহী নালিকায় (Collecting duct) কাজ করে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় এই অংশগুলো পানির প্রতি অভেদ্য থাকে।
- কিন্তু ADH-এর প্রভাবে এই নালিকাগুলোর প্রাচীরের ভেদ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং সক্রিয়ভাবে পানির পুনঃশোষণ ঘটে।
- নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা বা হেনলির লুপে পানির পুনঃশোষণ ADH দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মূত্র তৈরির সময় পানির পুনঃশোষণে ADH (Antidiuretic Hormone) প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- যখন শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়, তখন পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ADH ক্ষরিত হয়।
- এটি নেফ্রনের দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা এবং সংগ্রাহী নালিকার প্রাচীরের ভেদ্যতা বাড়িয়ে দেয়, ফলে অধিক পরিমাণ পানি পুনঃশোষিত হয়ে রক্তে ফিরে যায়
- এর ফলে মূত্রের পরিমাণ কমে যায় এবং শরীর পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা পায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অ্যামাইনো এসিড হলো আমিষ বা প্রোটিন গঠনের মূল একক। আমিষ পরিপাক হওয়ার পর তা অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। মানবদেহে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ৮টি (যেমন- লাইসিন, লিউসিন, মিথিওনিন ইত্যাদি)।
- অরনিথিন (Ornithine) একটি নন-প্রোটিন অ্যামাইনো এসিড, কারণ এটি প্রোটিন গঠনে অংশ নেয় না, বরং ইউরিয়া চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- অন্যদিকে আরজিনিন, সেরিন এবং লিউসিন হলো প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো এসিড।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ADH (Antidiuretic Hormone) বা ভেসোপ্রেসিন হলো রক্তচাপ বৃদ্ধিকারী প্রধান এজেন্ট।
- এটি বৃক্কের সংগ্রাহী নালিকা এবং দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকায় পানির পুনঃশোষণ বাড়ায়।
- পানির পুনঃশোষণ বাড়ার ফলে রক্তের আয়তন বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে।
- এছাড়া এটি রক্তনালী সংকুচিত (Vasoconstriction) করেও রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কিডনি বিকল অত্যন্ত জটিল রোগ। রোগ ব্যাধির কারণে কিডনির সক্ষমতা কমে যাওয়াকে কিডনি বিকল বলে।
• কিডনি বিকল হলে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যায়, রক্তে লোহিত কণিকা এবং মুত্রের পরিমাণ কমে যায়।
• ক্রিয়েটিনিন হলো পেশির বিপাকীয় কাজের একটি স্বাভাবিক বর্জ্য পদার্থ, যা সুস্থ কিডনি রক্ত থেকে ছেঁকে বের করে দেয়।
• কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর ছাঁকন ক্ষমতা কমে যায়, ফলে রক্তে ক্রিয়েটিনিন জমতে থাকে। এই কারণে ক্রিয়েটিনিন-এর মাত্রাকে কিডনি রোগ নির্ণয়ের নির্দেশক বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মূত্রের বর্জ্য উপাদানগুলোকে সাধারণত নাইট্রোজেনযুক্ত এবং নন-নাইট্রোজেনাস (নাইট্রোজেনবিহীন) এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
কিটোন বডিস (Ketone bodies) হলো নন-নাইট্রোজেনাস বা নাইট্রোজেনবিহীন বর্জ্য পদার্থ। ফ্যাট বা চর্বি বিপাকের ফলে এগুলো উৎপন্ন হয়।
• অন্যদিকে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং ক্রিয়েটিনিন হলো নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ, যা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে তৈরি হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জীবদেহের অন্তঃপরিবেশ ও বহিঃপরিবেশের মধ্যে পানির পরিমাণ এবং অভিস্রবণিক চাপের (Osmotic pressure) ভারসাম্য বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বলে। মানবদেহে বৃক্ক বা কিডনি এই কাজে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

অন্যান্য অপশনগুলোর ক্ষেত্রে:
রেচন: দেহ থেকে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া।
ফিলট্রেশন: কিডনির গ্লোমেরুলাসে রক্ত ছেঁকে বর্জ্য আলাদা করার প্রাথমিক পদ্ধতি।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ায় রোগীর শরীর থেকে রক্ত বের করে ডায়ালাইজার মেশিনের মাধ্যমে পরিশোধন করা হয়। এই সময় শরীরের বাইরে মেশিনের টিউবের মধ্যে রক্ত যাতে জমাট না বাঁধে, সেজন্য রক্তে হেপারিন (Heparin) মেশানো হয়। হেপারিন হলো মানবদেহে থাকা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট বা রক্ত জমাট বাধাদানকারী পদার্থ।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0