জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন (43 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব মিউট্যান্ট জিন কোনো জীবের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী থাকে, তাদের Lethal gene বা মারণ জিন বলা হয়।
ফরাসি বিজ্ঞানী লুসিয়েন কুয়েনো (Lucien Cuénot) সর্বপ্রথম ইঁদুরের গায়ের রঙের ক্ষেত্রে এই জিনের উপস্থিতি লক্ষ করেন।
এই জিনগুলো সাধারণত হোমোজাইগাস অবস্থায় জীবের মৃত্যু ঘটায়। Lethal gene-এর প্রভাবে মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের সাধারণ ফিনোটাইপিক অনুপাত (৩:১) পরিবর্তিত হয়ে ২:১ হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রদত্ত সঠিক উত্তরটি অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance)-এর একটি উদাহরণ নির্দেশ করে।
সাধারণত প্রকট জিন প্রচ্ছন্ন জিনের ওপর সম্পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে প্রকট জিনটি তার বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারে না। ফলে F1 জনুতে পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তে একটি নতুন মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে।
তাই একটি হোমোজাইগাস লাল (RR) ও প্রচ্ছন্ন সাদা (rr) ফুলের গাছের ক্রস করালে F1 জনুতে লাল রঙের পরিবর্তে সংকর অবস্থায় সব গোলাপি (Rr) ফুলের গাছ পাওয়া যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
F1 জনুর সংকর জীবের জিনোটাইপ জানার জন্য তাকে পিতৃ-মাতৃ বংশের বিশুদ্ধ প্রচ্ছন্ন (recessive parent) লক্ষণযুক্ত জীবের সাথে ক্রস করানোকে টেস্ট ক্রস (Test Cross) বলে।
এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো জীবটি হোমোজাইগাস নাকি হেটারোজাইগাস তা নির্ণয় করা।
অন্যদিকে, F1 জনুর জীবকে পিতৃ-মাতৃ বংশের যেকোনো একটির (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) সাথে ক্রস করানোকে ব্যাক ক্রস (Back Cross) বলে। অর্থাৎ, সব টেস্ট ক্রসই ব্যাক ক্রস, কিন্তু সব ব্যাক ক্রস টেস্ট ক্রস নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সাদা লেগহর্ন (White Leghorn) এবং সাদা ওয়াইনডেট (White Wyandotte) জাতের মোরগ-মুরগির মধ্যে ক্রস ঘটিয়ে উইলিয়াম বেটসন (Bateson) এবং আর. সি. পানেট (Punnet) ১৯১৮ সালে প্রকট এপিস্ট্যাসিস (Dominant Epistasis)-এর ফলাফল প্রকাশ করেন, যার ফিনোটাইপিক অনুপাত ১৩:৩।
- উইলিয়াম বেটসন ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম 'Genetics' বা জিনতত্ত্ব শব্দটি ব্যবহার করেন (যা গ্রিক শব্দ 'Genetikos' থেকে এসেছে) এবং তিনিই প্রথম 'Epistasis' ধারণাটি বর্ণনা করেন।
- বেটসন মেন্ডেলীয় নীতিগুলো জনপ্রিয় করে তোলেন।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে জিনতত্ত্বের জনক (Father of Genetics) বলা হয়, কিন্তু তিনি 'Genetics' শব্দটি ব্যবহার করেননি। পরবর্তীতে ১৯০০ সালে হুগো দ্য ভ্রিস, কার্ল করেন্স এবং এরিক ভন শেশমার্ক স্বতন্ত্রভাবে মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র পুনরায় আবিষ্কার করেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় একজোড়া সমসংস্থ (Homologous) ক্রোমোজোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটার প্রক্রিয়াকে ক্রসিং ওভার (Crossing over) বলে।
- এর ফলে জিনের নতুন বিন্যাস তৈরি হয়, যা জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিনিময় ও প্রকরণ (Variation) সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- ক্রসিং ওভার মিয়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ পর্যায়ের প্যাকাইটিন (Pachytene) উপপর্যায়ে ঘটে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রকে স্বাধীনভাবে সঞ্চারণের সূত্র (Law of Independent Assortment) বলা হয়।
- এই সূত্রটি ডাইহাইব্রিড ক্রস বা দুই জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
- এই সূত্র অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম বংশধরে (F1) কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রকাশিত হবে, কিন্তু গ্যামেট সৃষ্টিকালে বৈশিষ্ট্যগুলো জোড়া ভেঙে স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামেটে প্রবেশ করবে।
- দ্বিতীয় সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ (9:3:3:1)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে পৃথকীকরণ সূত্র (Law of Segregation) বলা হয়।
- এই সূত্রটি মনোহাইব্রিড ক্রস-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
- এই সূত্র অনুযায়ী, সংকর জীবে বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টরগুলো (জিন) মিশ্রিত বা পরিবর্তিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামেট সৃষ্টিকালে এরা পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামেটে প্রবেশ করে।
- একে গ্যামেটের বিশুদ্ধতার সূত্র (Law of Purity of Gametes)-ও বলা হয়ে থাকে। প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১ (3:1)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কোনো জীবের ফিনোটাইপ প্রকট হলে এর জিনোটাইপ হোমোজাইগাস নাকি হেটারোজাইগাস, তা জানার জন্য ওই জীবকে বিশুদ্ধ প্রচ্ছন্ন লক্ষণযুক্ত মাতৃ বা পিতৃবংশীয় জীবের সাথে যে ক্রস করানো হয়, তাকে টেস্ট ক্রস (Test cross) বলে।
- অন্যদিকে, এফ১ (F1) জনুর জীবের সাথে পিতৃ বা মাতৃবংশীয় যেকোনো জীবের ক্রসকে ব্যাক ক্রস বলে।
- একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ক্রস করালে মনোহাইব্রিড ক্রস এবং দুই জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ক্রস করালে ডাইহাইব্রিড ক্রস বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জীববিজ্ঞানে প্রথম সংকর পুরুষ (F1 Generation)-এর সাথে তার প্রকট বা প্রচ্ছন্ন পিতৃ-মাতৃ জনুর ক্রসকে মূলত ব্যাক ক্রস বলা হয়। তবে যখন এই ক্রসে কেবল একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য (যেমন- শুধুমাত্র গায়ের রং বা উচ্চতা) নিয়ে সংকরায়ণ ঘটানো হয়, তখন এটি একটি মনোহাইব্রিড ক্রস (Monohybrid Cross) হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মনোহাইব্রিড ক্রস: একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ে সংকরায়ণ।
- টেস্ট ক্রস: F1 জনুর সাথে কেবল প্রচ্ছন্ন মাতার বা পিতার ক্রস।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
লিউকেমিয়া (Leukemia): এটি এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সার যা লিথাল জিনের প্রভাবে হয় না; বরং এটি অস্থিমজ্জা ও রক্তকোষের জিনগত মিউটেশন বা পরিবেশগত কারণে হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, মানবদেহে লিথাল জিনের প্রভাবে সৃষ্ট কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রোগ হলো:
- হিমোফিলিয়া (Hemophilia)
- থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia)
- ব্রাকিফ্যালাঞ্জি (Brachyphalangy)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
লিথাল জিন (Lethal Gene): যেসব জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় উপস্থিত থাকলে জীবের মৃত্যু ঘটে, তাদের লিথাল জিন বলে।
মেন্ডেলের প্রথম সূত্র অনুযায়ী স্বাভাবিক ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১ হওয়ার কথা থাকলেও, লিথাল জিনের প্রভাবে হোমোজাইগাস (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) জীবটি ভ্রূণ অবস্থায় মারা যায়। ফলে ফিনোটাইপিক অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে ২:১ হয়। ফরাসি বিজ্ঞানী লুসিয়েন কুয়েনো (L. Cuenot) ইঁদুরের গায়ের রঙের ক্ষেত্রে এটি প্রথম আবিষ্কার করেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের (Law of Segregation) ব্যতিক্রমগুলো হলো:
- অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete dominance)
- সমপ্রকটতা (Codominance)
- ঘাতক বা লিথাল জিন (Lethal gene)

অন্যদিকে, পরিপূরক জিন (Complementary gene) হলো মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের (Law of Independent Assortment) একটি ব্যতিক্রম, যার ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৭। তাই পরিপূরক জিন প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ব্যাক ক্রস (Back Cross): F1 জনুর (প্রথম সংকর পুরুষ) কোনো জীবের সাথে তার পিতৃ-মাতৃ জনুর (P) যেকোনো একটির (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) সংকরায়ণ বা ক্রসকে ব্যাক ক্রস বলে।
- টেস্ট ক্রস: শুধুমাত্র প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হোমোজাইগাস পিতা বা মাতার সাথে ক্রস।
- মনোহাইব্রিড ক্রস: একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ক্রস।
- ডাইহাইব্রিড ক্রস: দুইজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ক্রস।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রেটিনা (Retina) হলো গিনিপিগসহ মেরুদণ্ডী প্রাণীর চোখের সবচেয়ে ভেতরের স্তর এবং এটিই একমাত্র আলোকসংবেদী অংশ
- এটি চোখের ভেতরে ক্যামেরার ফিল্মের মতো কাজ করে।
- যখন আলোকরশ্মি চোখের লেন্সে প্রবেশ করে, তখন তা রেটিনার ওপর একটি প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
- রেটিনায় থাকা রড (Rod) ও কোন (Cone) নামক আলোকসংবেদী কোষগুলো এই আলোক শক্তিকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে এবং অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায়, যার ফলে প্রাণীরা দেখতে পায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
Monohybrid cross হলো এমন একটি সংকরায়ণ যেখানে কেবল একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে ক্রস করানো হয়।
- যেমন: একটি লম্বা এবং একটি খাটো গাছের মধ্যে ক্রস।
- অন্যদিকে, দুই জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে করা ক্রসকে Dihybrid cross বলে।
- Test cross হলো F1 জনুর জীবের জিনোটাইপ নির্ণয়ের জন্য মাতৃবংশের প্রচ্ছন্ন জীবের সাথে সংকরায়ণ এবং Back cross হলো F1 জনুর সাথে মাতৃবংশের যেকোনো জীবের সংকরায়ণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ঘাতক জিন বা লিথাল জিন (Lethal gene) আবিষ্কার করেন ফরাসি জিনতত্ত্ববিদ লুসিয়েন ক্যুনো (L. Cuénot)
- ১৯০৫ সালে তিনি ইঁদুরের গায়ের রঙের বংশগতি নিয়ে গবেষণা করার সময় এই জিন আবিষ্কার করেন।
- যে জিনের উপস্থিতির কারণে কোনো জীবের মৃত্যু ঘটে, তাকে ঘাতক জিন বলে।
- এর প্রভাবে মেন্ডেলের মনোহাইব্রিড ক্রসের অনুপাত ৩:১ এর পরিবর্তে ২:১ হয়ে যায়, কারণ হোমোজাইগাস অবস্থায় একটি জিনোটাইপ ভ্রূণ অবস্থাতেই মারা যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কো-ডমিন্যান্স (Co-dominance) বা সমপ্রকটতা হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে দুটি ভিন্ন অ্যালিল একসাথে উপস্থিত থাকলে উভয়েই সমভাবে প্রকাশিত হয়।
- এই অ্যালিলগুলো হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের একই লোকাসে অবস্থান করে এবং জিন দুটি সমভাবে প্রকাশিত হয়।
- এরা হুবহু একই বৈশিষ্ট্যের জিন বা অভিন্ন অ্যালিল নয়, বরং একটি চরিত্রের দুটি ভিন্ন রূপ নিয়ন্ত্রণ করে (যেমন- রক্তের এবিও গ্রুপে A এবং B অ্যালিল)। তাই 'একই বৈশিষ্ট্যের জিন' কথাটি কো-ডমিন্যান্সের ক্ষেত্রে ঘটে না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মেন্ডেলের প্রথম সূত্র বা Monohybrid cross-এ একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানো হয়।
- এই ক্রসের ফলে প্রথম বংশধরে (F1) কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায়।
- তবে দ্বিতীয় বংশধরে (F2) প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যগুলো ৩:১ অনুপাতে প্রকাশ পায়।
- এখানে ৩টি প্রকট ফিনোটাইপ এবং ১টি প্রচ্ছন্ন ফিনোটাইপ দেখা যায়। (উল্লেখ্য, ১:২:১ হলো জিনোটাইপিক অনুপাত এবং ৯:৩:৩:১ হলো Dihybrid cross-এর ফিনোটাইপিক অনুপাত)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুসিয়েন ক্যুনো (Lucien Cuenot) ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম ইঁদুরের গায়ের লোমের বর্ণের বংশগতি পরীক্ষা করতে গিয়ে লিথাল জিন (Lethal gene) আবিষ্কার করেন।
- লিথাল জিনের প্রভাবে জীবের মৃত্যু ঘটে এবং এর কারণে মেন্ডেলের মনোহাইব্রিড ক্রসের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১ এর পরিবর্তে ২:১ হয়।
- মেন্ডেল: তাকে বংশগতিবিদ্যার জনক (Father of Genetics) বলা হয়।
- চেরমাক ও ভ্রিস: এরা (কার্ল করেন্স সহ) ১৯০০ সালে স্বাধীনভাবে মেন্ডেলের বংশগতি সূত্রগুলো পুনরায় আবিষ্কার করেন।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব মিউট্যান্ট জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় উপস্থিত থাকলে জীবের মৃত্যু ঘটে, তাদের লিথাল জিন (Lethal gene) বলে।
- মানবদেহে লিথাল জিনের প্রভাবে সৃষ্ট উল্লেখযোগ্য রোগগুলো হলো: হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া, জন্মগত ইকথিয়োসিস, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, সিকল সেল অ্যানিমিয়া ইত্যাদি।
- অসটিওপোরোসিস (Osteoporosis) হলো ক্যালসিয়ামের অভাব, বয়স বৃদ্ধি বা হরমোনজনিত কারণে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া ও ভঙ্গুর হওয়ার একটি রোগ। এর সাথে লিথাল জিনের কোনো সম্পর্ক নেই।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
দুটি ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত প্রকট জিন যখন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এবং একত্রে উপস্থিত থেকে একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বা ফিনোটাইপ প্রকাশ করে, তখন তাদের পরিপূরক জিন (Complementary gene) বলে।
পরিপূরক জিনের প্রভাবে মেন্ডেলের ডাই-হাইব্রিড ক্রসের স্বাভাবিক অনুপাত (৯:৩:৩:১) পরিবর্তিত হয়ে ৯:৭ হয় (যেমন: মিষ্টি মটরের ফুলের রঙ)।
অন্যান্য অনুপাতগুলোর ক্ষেত্রে:
- ১৩:৩: প্রকট ও প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিসের অনুপাত।
- ১:২:১: অসম্পূর্ণ প্রকটতার অনুপাত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একটি জিন যখন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে এপিস্ট্যাসিস (Epistasis) বলে।
জিনগুলোর ভূমিকা অনুযায়ী:
- এপিস্ট্যাটিক জিন: যে জিনটি অন্য নন-অ্যালিলিক জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়।
- হাইপোস্ট্যাটিক জিন: যে জিনটি এপিস্ট্যাটিক জিনের প্রভাবে নিজের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে না।
- মারণ জিন বা লিথাল জিন: যে জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় উপস্থিত থাকলে জীবের মৃত্যু ঘটে।
- পরিপূরক জিন: দুটি ভিন্ন নন-অ্যালিলিক প্রকট জিন একত্রে উপস্থিত থেকে একটি নতুন ফিনোটাইপ প্রকাশ করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীনভাবে সঞ্চারণ সূত্র অনুযায়ী, দুই জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ক্রসের (ডাই-হাইব্রিড ক্রস) ফলে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত হয় ৯:৩:৩:১
অন্যান্য অনুপাতগুলোর ক্ষেত্রে:
- ৩:১: মেন্ডেলের একসংকর জনন বা মনোহাইব্রিড ক্রসের ফিনোটাইপিক অনুপাত।
- ১:২:১: অসম্পূর্ণ প্রকটতা বা সমপ্রকটতার ফিনোটাইপিক অনুপাত।
- ১৩:৩: প্রকট এপিস্ট্যাসিস (বাধা দানকারী জিন) এর ফিনোটাইপিক অনুপাত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
গ্যামেটের ধরন নির্ণয়ের জন্য 2^n সূত্রটি ব্যবহার করা হয়, যেখানে 'n' হলো হেটারোজাইগাস অ্যালিল জোড়ার সংখ্যা।
প্রদত্ত AaBb জিনোটাইপে ২টি হেটারোজাইগাস জোড়া (Aa এবং Bb) রয়েছে।
যেহেতু n = 2, তাই উৎপন্ন গ্যামেটের ধরন হবে 2^2 = ৪টি
গ্যামেটগুলো হলো: AB, Ab, aB এবং ab
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মেন্ডেলের ১ম সূত্রের ব্যতিক্রম সহপ্রকটতা (Codominance)-এর কারণে স্বাভাবিক ৩:১ অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে ১:২:১ হয়।
(উল্লেখ্য: ৯:৭ হলো পরিপূরক জিন (Complementary gene) বা দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস-এর ফিনোটাইপিক অনুপাত, যা মেন্ডেলের ২য় সূত্রের ব্যতিক্রম। তবে প্রদত্ত অপশন ও উত্তরের সামঞ্জস্যতায় এটি মনে রাখা প্রয়োজন)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কোনো জিনোটাইপ থেকে কত ধরনের গ্যামেট তৈরি হবে তা নির্ভর করে জিনোটাইপটিতে উপস্থিত হেটারোজাইগাস জোড়ার (n) সংখ্যার ওপর। গ্যামেট ধরন নির্ণয়ের সূত্রটি হলো 2^n
• aa Rr -এ হেটারোজাইগাস জোড়া ১টি, গ্যামেট ২ ধরনের।
Aa Rr -এ হেটারোজাইগাস জোড়া ২টি (Aa এবং Rr), গ্যামেট 2^2 = ৪ ধরনের (AR, Ar, aR, ar)।
• Aa RR এবং Aa rr উভয়ের ক্ষেত্রেই হেটারোজাইগাস জোড়া ১টি করে, তাই গ্যামেট ২ ধরনের।
সুতরাং, Aa Rr থেকেই সবচেয়ে বেশি গ্যামেট সৃষ্টি হবে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস (Duplicate recessive epistasis) হলো মেন্ডেলের ২য় সূত্রের একটি ব্যতিক্রম।
দুটি ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত দুটি প্রচ্ছন্ন অ্যালিল যখন একে অপরের প্রকট অ্যালিলের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়, তখন তাকে দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস বলে। এর ফলে মেন্ডেলিয়ান স্বাভাবিক ৯:৩:৩:১ অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে ৯:৭ হয়। মানুষের জন্মগত মূক-বধিরতা এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মেন্ডেলের ২য় সূত্র বা স্বাধীনভাবে সঞ্চারণ সূত্রের স্বাভাবিক ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১। এপিস্ট্যাসিস (Epistasis) হলো এই ২য় সূত্রের একটি ব্যতিক্রম, যার ফলে অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে ১৩:৩ বা ৯:৭ ইত্যাদি হয়।
অন্যদিকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা, সমপ্রকটতা এবং লিথাল জিন হলো মেন্ডেলের ১ম সূত্রের (পৃথকীকরণ সূত্র) ব্যতিক্রম।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance) হলো মেন্ডেলের প্রথম সূত্র বা পৃথকীকরণ সূত্রের একটি ব্যতিক্রম।
- যখন একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হোমোজাইগাস জীবের মধ্যে সংকরায়ন ঘটে, কিন্তু প্রকট জিনটি প্রচ্ছন্ন জিনের ওপর সম্পূর্ণভাবে প্রকটত্ব প্রকাশ করতে পারে না, তখন তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে (যেমন- সন্ধ্যামালতী ফুল)। এর ফলে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১ এর পরিবর্তে ১:২:১ হয়।
- অন্যদিকে, প্রকট এপিস্ট্যাসিস, এপিস্ট্যাসিস এবং পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্স হলো মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের (স্বাধীনভাবে সঞ্চারণ সূত্র) ব্যতিক্রম।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের একটি অন্যতম ব্যতিক্রম হলো প্রকট এপিস্ট্যাসিস (Dominant Epistasis)
- যখন একটি প্রকট জিন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক প্রকট জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়, তখন তাকে প্রকট এপিস্ট্যাসিস বলে।
- এর ফলে মেন্ডেলের স্বাভাবিক ৯:৩:৩:১ অনুপাতের পরিবর্তে ফিনোটাইপিক অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে ১৩:৩ হয়।
- এখানে বাধা প্রদানকারী জিনটিকে এপিস্ট্যাটিক জিন এবং বাধাপ্রাপ্ত জিনটিকে হাইপোস্ট্যাটিক জিন বলে।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0