পদার্থের গাঠনিক ধর্ম (148 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব তরল কঠিন পদার্থকে ভেজায় না, তাদের ক্ষেত্রে তরলের সংশক্তি বল (Cohesive force) কঠিন ও তরলের মধ্যকার আসঞ্জন বল (Adhesive force) অপেক্ষা বেশি হয়। ফলে এদের স্পর্শকোণ 90°-এর চেয়ে বড় বা স্থূলকোণ হয়।

পারদ কাঁচকে ভেজায় না, তাই এদের স্পর্শকোণ স্থূলকোণ হয়। বিশুদ্ধ পারদ (Mercury) ও কাঁচের মধ্যকার স্পর্শকোণ (Contact angle) সাধারণত 138° থেকে 140°-এর মধ্যে হয়ে থাকে। তাই প্রদত্ত অপশন অনুযায়ী সঠিক মান 139°

বিভিন্ন পদার্থের মধ্যকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকোণ:
- বিশুদ্ধ পানি ও পরিষ্কার কাঁচ:
- সাধারণ পানি ও সাধারণ কাঁচ: প্রায় 8°
- বিশুদ্ধ পানি ও রূপা (Silver): 90°
- পারদ ও কাঁচ: প্রায় 138° থেকে 140°
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব তরল কঠিন পদার্থকে ভেজায়, তাদের ক্ষেত্রে তরল ও কঠিনের মধ্যকার আসঞ্জন বল (Adhesive force), তরলের অণুগুলোর সংশক্তি বলের (Cohesive force) চেয়ে বেশি হয়।

- এর ফলে তাদের স্পর্শকোণ (Contact angle) সূক্ষ্মকোণ হয়। অর্থাৎ, স্পর্শকোণ 90°-এর চেয়ে ছোট (θ < 90°) হয়।
- সাধারণ পানি ও সাধারণ কাঁচের ক্ষেত্রে আসঞ্জন বল সংশক্তি বলের চেয়ে বেশি হওয়ায় পানি কাঁচকে ভেজায় এবং এদের মধ্যকার স্পর্শকোণ হয় প্রায় 8°
- উল্লেখ্য, বিশুদ্ধ পানি ও পরিষ্কার কাঁচের স্পর্শকোণ হয়ে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
গাছের গোড়ায় বালি জমে থাকলে গাছ মরে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো বালির কৈশিকতা (Capillarity) ধর্ম না থাকা

- মাটির কণাগুলো সাধারণত অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এদের মাঝে কৈশিক নল (Capillary tube) তৈরি হয়, যা ভূগর্ভস্থ পানিকে টেনে গাছের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
- কিন্তু বালির কণাগুলো তুলনামূলক বড় হওয়ায় এদের মাঝে ফাঁকা স্থান বেশি থাকে। ফলে বালি কৈশিক নলের কাজ করতে পারে না
- এর কারণে বালি পানি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। পানির অভাবে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না এবং মরে যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পানির ওপর একটি ইস্পাতের ব্লেড বা সুচ ভেসে থাকার মূল কারণ হলো পানির পৃষ্ঠটান (Surface Tension)

পৃষ্ঠটান হলো তরল পৃষ্ঠের একটি স্থিতিস্থাপক প্রবণতা, যা তার ওপরিতলকে টানটান আবরণের মতো আচরণ করতে সাহায্য করে। এই টানটান আবরণের জন্যই ইস্পাতের ব্লেড পানিতে ডুবে না গিয়ে ভেসে থাকতে পারে।

পৃষ্ঠটানের আরও কিছু উদাহরণ:
• কচুপাতায় পানি গোলাকার আকার ধারণ করে।
• বৃষ্টির ফোঁটা গোলাকার হয়।
• মাকড়সা পানির পৃষ্ঠটানের জন্য পানির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
তরল ও কঠিন পদার্থের মধ্যকার স্পর্শকোণ (Angle of contact) তাদের আসঞ্জন ও সংশক্তি বলের ওপর নির্ভর করে।
• স্পর্শকোণ সূক্ষ্মকোণ (< 90º) হলে তরল অবতল রূপ নেয় (যেমন: পানি ও সাধারণ কাঁচ)।
• স্পর্শকোণ স্থূলকোণ (> 90º) হলে তরল উত্তল রূপ নেয় (যেমন: পারদ ও কাঁচ)।
• কিন্তু স্পর্শকোণ ঠিক 90º হলে তরলের ওপরিতল সমতল থাকে (যেমন: বিশুদ্ধ পানি ও রূপা)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব তরল কঠিন পদার্থকে ভেজায় না (যেমন- পারদ), তাদের ক্ষেত্রে তরল ও কঠিনের মধ্যকার আসঞ্জন বল, তরলের অণুগুলোর সংশক্তি বলের চেয়ে কম হয়।
এর ফলে তাদের স্পর্শকোণ স্থূলকোণ হয়। অর্থাৎ, স্পর্শকোণ 90°-এর চেয়ে বড় হয়।

অন্যদিকে, তরল কঠিন পদার্থকে ভেজালে (যেমন- পানি ও সাধারণ কাঁচ) স্পর্শকোণ 90°-এর চেয়ে ছোট বা সূক্ষ্মকোণ হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব তরল কঠিন পদার্থকে ভেজায় না (যেমন- পারদ ও কাঁচ), তাদের ক্ষেত্রে তরল ও কঠিনের মধ্যকার আসঞ্জন বলের চেয়ে তরলের অণুগুলোর সংশক্তি বল বেশি হয়।
এর ফলে তাদের স্পর্শকোণ স্থূলকোণ হয়। অর্থাৎ, পারদ ও কাঁচের স্পর্শকোণ 90°-এর চেয়ে বড় (90°<θ<180°) হয়।

অন্যদিকে, যেসব তরল কঠিন পদার্থকে ভেজায় (যেমন- পানি ও কাঁচ), তাদের স্পর্শকোণ সূক্ষ্মকোণ বা 90°-এর চেয়ে ছোট হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বর্গাকার কাঠামোর প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য = l
কাঠামোটির মোট পরিসীমা = 4l
যেহেতু সাবানের ফিল্মের দুটি পৃষ্ঠ (উপর ও নিচ) থাকে, তাই মোট কার্যকরী দৈর্ঘ্য হবে পরিসীমার দ্বিগুণ।
অর্থাৎ, মোট দৈর্ঘ্য (L) = 2 × 4l = 8l
আমরা জানি, পৃষ্ঠটান (T) = বল (F) / মোট দৈর্ঘ্য (L)
∴ বল (F) = T × L = T × 8l = 8Tl
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বিশুদ্ধ পানি এবং রূপার (Silver) মধ্যকার স্পর্শকোণ (Contact angle) প্রায় 90° হয়ে থাকে।

বিভিন্ন পদার্থের মধ্যকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকোণ:
- বিশুদ্ধ পানি ও পরিষ্কার কাঁচ:
- সাধারণ পানি ও সাধারণ কাঁচ: প্রায় 8°
- পারদ ও কাঁচ: প্রায় 140° (বা 138°)
- রূপা ও পানি: 90°

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সাধারণত ঘরের তাপমাত্রায় (20°C - 25°C) বিশুদ্ধ পানির পৃষ্ঠটান (Surface Tension) 72×10-3 Nm-1 (বা 0.072 Nm-1) ধরা হয়।

অতিরিক্ত তথ্য:
- পৃষ্ঠটানের একক হলো Nm-1 বা Jm-2
- পানির পৃষ্ঠটান অন্যান্য সাধারণ তরলের তুলনায় বেশ বেশি, যা এর শক্তিশালী হাইড্রোজেন বন্ডের কারণে হয়ে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব তরল কঠিন পদার্থকে ভেজায় (যেমন পানি ও কাঁচ), তাদের ক্ষেত্রে তরল ও কঠিনের মধ্যকার আসঞ্জন বল, তরলের অণুগুলোর সংশক্তি বলের চেয়ে বেশি হয়।

এর ফলে তাদের স্পর্শকোণ সূক্ষ্মকোণ হয়। অর্থাৎ, স্পর্শকোণ 90°-এর চেয়ে ছোট (θ < 90°) হয়।
অন্যদিকে তরল কঠিন পদার্থকে না ভেজালে (যেমন- পারদ ও কাঁচ) স্পর্শকোণ 90°-এর চেয়ে বড় বা স্থূলকোণ হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
তরল ও কঠিন পদার্থের মধ্যকার স্পর্শকোণ (Contact Angle)-এর মানের উপর ভিত্তি করে তরলটি কঠিনকে ভেজাবে কি না তা নির্ভর করে:

- স্পর্শকোণ সূক্ষ্মকোণ (θ < 90°) হলে: তরল পদার্থটি কঠিন পদার্থকে ভেজায় (যেমন- পানি ও কাঁচ)। এক্ষেত্রে তরল ও কঠিনের মধ্যকার আসঞ্জন বল বেশি হয়।
- স্পর্শকোণ স্থূলকোণ (θ > 90°) হলে: তরল পদার্থটি কঠিন পদার্থকে ভেজায় না (যেমন- পারদ ও কাঁচ)। এক্ষেত্রে সংশক্তি বল আসঞ্জন বলের চেয়ে বেশি হয়।

যেহেতু 110º একটি স্থূলকোণ (90°-এর চেয়ে বড়), তাই এই ক্ষেত্রে তরল পদার্থটি কঠিন পদার্থকে ভেজাবে না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
তরলের পৃষ্ঠটান মূলত তরলের অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের (সংশক্তি বল) উপর নির্ভর করে। পৃষ্ঠটানের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব নিচে দেওয়া হলো:

- দূষিতকরণ বা ভাসমান পদার্থ: তরলের পৃষ্ঠে তেল, গ্রিজ বা অন্য কোনো দূষক পদার্থ ভাসমান থাকলে পৃষ্ঠটানের মান কমে যায়। তাই এটি সঠিক উত্তর।
- তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বাড়লে তরলের পৃষ্ঠটান কমে যায়। (অর্থাৎ উষ্ণতার উপর পৃষ্ঠটান নির্ভর করে)
- দ্রবীভূত বস্তুর উপস্থিতি: পানিতে জৈব বস্তু (যেমন সাবান) দ্রবীভূত করলে পৃষ্ঠটান কমে যায় (প্রায় 30×10-3 N.m-1 হয়)।
- মাধ্যম: মুক্ততলের সংস্পর্শে থাকা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর পৃষ্ঠটান অবশ্যই নির্ভর করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
দেওয়া আছে,
তারের দৈর্ঘ্য, l = 0.08 m
প্রযুক্ত বল, F = 4.32×10-3 N

যেহেতু তারটি অনুভূমিকভাবে তরল পৃষ্ঠের সংস্পর্শে আছে, তাই তারের উভয় পাশে তরলের পৃষ্ঠটান ক্রিয়া করবে। সুতরাং, তরলের মোট কার্যকর দৈর্ঘ্য হবে L = 2l

আমরা জানি, পৃষ্ঠটান, T = F / (2l)
  = (4.32×10-3) / (2 × 0.08)
  = (4.32×10-3) / 0.16
  = 2.7×10-2 Nm-1
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
তরল ও কঠিন পদার্থের মধ্যকার স্পর্শকোণ (Angle of contact) তাদের আসঞ্জন ও সংশক্তি বলের ওপর নির্ভর করে।
• স্পর্শকোণ সূক্ষ্মকোণ (< 90º) হলে তরল অবতল রূপ নেয় (যেমন: পানি ও সাধারণ কাঁচ)।
• স্পর্শকোণ স্থূলকোণ (> 90º) হলে তরল উত্তল রূপ নেয় (যেমন: পারদ ও কাঁচ)।
• কিন্তু স্পর্শকোণ ঠিক 90º হলে তরলের ওপরিতল সমতল থাকে (যেমন: বিশুদ্ধ পানি ও রূপা)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পানির পৃষ্ঠটান তার পারিপার্শ্বিক মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে।
বাতাসের সংস্পর্শে পানির পৃষ্ঠটান সাধারণত 72×10-3 Nm-1 হয়।
• কিন্তু জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে থাকলে পানির পৃষ্ঠটান কিছুটা কমে যায় এবং এর মান হয় 70×10-3 Nm-1
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
দুটি ভিন্ন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে আসঞ্জন বল (Adhesive force) বলে।
পানি (তরল) এবং কাঁচ (কঠিন) দুটি ভিন্ন পদার্থ। এদের অণুগুলোর মধ্যে আসঞ্জন বল ক্রিয়া করে। যখন পানির অণু এবং কাঁচের অণুর মধ্যকার আসঞ্জন বল পানির অণুগুলোর নিজেদের মধ্যকার সংশক্তি বলের চেয়ে বেশি হয়, তখন পানি কাঁচকে ভিজিয়ে দেয় বা কাঁচের গায়ে লেগে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
তরলের পৃষ্ঠটান (T) এবং পৃষ্ঠশক্তির মধ্যে সম্পর্ক থেকে আমরা জানি, তরলের পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 1 একক বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ কাজ করতে হয়, তাকে পৃষ্ঠশক্তি বলে।
গাণিতিকভাবে, T = W / ΔA (যেখানে W = কৃতকাজ, ΔA = ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি এবং T = পৃষ্ঠটান)।
অতএব, পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল ΔA পরিমাণ বৃদ্ধি করতে কৃতকাজ, W = ΔA × T
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
তরলের পৃষ্ঠ সর্বদা সংকুচিত হয়ে সম্ভাব্য সর্বনিম্ন ক্ষেত্রফল ধারণ করতে চাওয়ার কারণ হলো পৃষ্ঠটান (Surface Tension)

- তরলের পৃষ্ঠটান মূলত তরলের অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল বা সংশক্তি বলের (Cohesive force) কারণে সৃষ্টি হয়।
- এই বলের কারণে তরলের মুক্ত পৃষ্ঠ একটি টানটান স্থিতিস্থাপক পর্দার মতো আচরণ করে। নির্দিষ্ট আয়তনের ঘনবস্তুগুলোর মধ্যে গোলকের পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল সবচেয়ে কম হওয়ায় পৃষ্ঠটানের কারণেই তরলের ফোঁটা গোলাকৃতি ধারণ করে।

পৃষ্ঠটানের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব:
- তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বাড়লে তরলের পৃষ্ঠটান কমে যায়।
- দূষিতকরণ: তরলের পৃষ্ঠ দূষিত হলে পৃষ্ঠটান কমে যায়।
- দ্রবীভূত বস্তু: অজৈব বস্তু দ্রবীভূত থাকলে পৃষ্ঠটান বাড়ে এবং জৈব বস্তু থাকলে পৃষ্ঠটান কমে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তরলের তলটান বা পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়

কারণ:
- তাপমাত্রা বাড়লে তরলের অণুগুলোর গতিশক্তি বা গতিবেগ বৃদ্ধি পায়।
- এর ফলে অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি বা সংশক্তি বল কমে যায়।
- আকর্ষণ শক্তি কমে যাওয়ার কারণে তরলের পৃষ্ঠের অণুগুলো ভেতরের অণুগুলোর তুলনায় কম আকৃষ্ট হয়, যার ফলে সামগ্রিকভাবে পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়।
- সংকট তাপমাত্রায় (Critical Temperature) তরলের পৃষ্ঠটান শূন্য হয়ে যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
চক ও বোর্ডের অণুর মধ্যকার আকর্ষণ বল হলো আসঞ্জন বল (Adhesive force)

সংশক্তি ও আসঞ্জন বল:
- আসঞ্জন বল (Adhesion): দুটি ভিন্ন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে আসঞ্জন বল বলে। চক এবং বোর্ড দুটি ভিন্ন পদার্থ হওয়ায় এদের অণুগুলোর মধ্যে আসঞ্জন বল কাজ করে, যার কারণে চকের দাগ বোর্ডে লেগে থাকে।
- সংশক্তি বল (Cohesion): একই পদার্থের অণুগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে সংশক্তি বল বলে। যেমন- পানির অণুগুলোর মধ্যকার আকর্ষণ।
- অভিকর্ষ বল: পৃথিবী ও অন্য কোনো বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বল, যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বায়ুর সংস্পর্শে 20° C তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানির তলটান বা পৃষ্ঠটান হলো 73.5 dyne/cm (বা 0.0735 N/m)।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- তরলের পৃষ্ঠটান তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তরলের পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়।
- CGS পদ্ধতিতে পৃষ্ঠটানের একক dyne/cm এবং SI পদ্ধতিতে এর একক N/m (নিউটন/মিটার)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পানিতে কর্পূর রাখলে তা অসমভাবে দ্রবীভূত হয়। যেদিকে কর্পূর বেশি দ্রবীভূত হয়, সেদিকের পানির তলটান বা পৃষ্ঠটান (Surface Tension) কমে যায়। পৃষ্ঠটানের এই অসমতার কারণে কর্পূরের টুকরোটি এলোমেলোভাবে ঘুরতে বা নাচতে থাকে, যাকে 'Dancing of Camphor' বলা হয়।

পৃষ্ঠটানের অন্যান্য উদাহরণ:
- কচুপাতায় বা বৃষ্টির জল পৃষ্ঠটানের কারণে গোলাকার আকার ধারণ করে।
- একটি দলবিহীন সুচ জলের উপরে সাবধানে রাখলে পৃষ্ঠটানের জন্য তা ভাসতে থাকে।
- মাকড়সা বা ছোট পোকামাকড় পৃষ্ঠটানের কারণে জলের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারে।
- তরলের পৃষ্ঠটান পরিমাপক যন্ত্রের নাম টেনসিওমিটার
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পৃষ্ঠশক্তি (Surface Energy) হলো তরলের পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল একক পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সম্পন্ন কাজ।
- অর্থাৎ, পৃষ্ঠশক্তি = কাজ / ক্ষেত্রফল।
- কাজের একক = জুল (J) বা নিউটন-মিটার (Nm) এবং ক্ষেত্রফলের একক = বর্গমিটার (m2)।
- সুতরাং, পৃষ্ঠশক্তির একক = Nm / m2 = Nm-1 বা N/m
- গাণিতিক ও পরিমাণগতভাবে কোনো তরলের পৃষ্ঠটান এবং পৃষ্ঠশক্তি সংখ্যাগতভাবে সমান
- তাই পানির পৃষ্ঠটান 0.06 N/m হলে এর পৃষ্ঠশক্তিও হবে 0.06 N/m
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মূল নীতি: একটি বড় ফোঁটা ভেঙে একাধিক ছোট ফোঁটায় পরিণত হলে মোট আয়তন অপরিবর্তিত থাকে
- ধরি, বড় ফোঁটার ব্যাসার্ধ $R$ এবং $n$ সংখ্যক ছোট ফোঁটার প্রতিটির ব্যাসার্ধ $r$। আয়তন সমান হওয়ায়: $\frac{4}{3}\pi R^3 = n \times \frac{4}{3}\pi r^3 \implies R = n^{\frac{1}{3}}r$
- বড় ফোঁটার ক্ষেত্রফল, $A_1 = 4\pi R^2 = 4\pi (n^{\frac{1}{3}}r)^2 = 4\pi n^{\frac{2}{3}}r^2$
- ছোট ফোঁটাগুলোর মোট ক্ষেত্রফল, $A_2 = n \times 4\pi r^2$
- ক্ষেত্রফলের অনুপাত: $\frac{A_2}{A_1} = \frac{n \times 4\pi r^2}{4\pi n^{\frac{2}{3}}r^2} = n^{\frac{1}{3}}$
- যেহেতু $n > 1$, তাই $n^{\frac{1}{3}} > 1$ হবে। অর্থাৎ $A_2 > A_1$
- তাই ছোট ফোঁটাগুলোর সমষ্টিগত ক্ষেত্রফল বড় ফোঁটার তুলনায় বৃদ্ধি পাবে
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আমরা জানি, পৃষ্ঠটান = বল / দৈর্ঘ্য।
- বলের মাত্রা = [MLT-2] এবং দৈর্ঘ্যের মাত্রা = [L]।
- সুতরাং, পৃষ্ঠটানের মাত্রা সমীকরণ = [MLT-2] / [L] = [MT-2]
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পৃষ্ঠটান (Surface Tension) হলো তরলের পৃষ্ঠের উপর কল্পিত কোনো রেখার একক দৈর্ঘ্যের ওপর লম্বভাবে ক্রিয়াশীল বল।
- অর্থাৎ, পৃষ্ঠটান = বল / দৈর্ঘ্য।
- বলের একক নিউটন (N) এবং দৈর্ঘ্যের একক মিটার (m)।
- সুতরাং, পৃষ্ঠটানের একক হলো নিউটন/মিটার (N/m) বা Nm-1
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পানিতে ডিটারজেন্ট বা সাবান মেশালে পানির অণুগুলোর মধ্যকার সংশক্তি বল (cohesive force) কমে যায়।
- এর ফলে পানির পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়
- পৃষ্ঠটান হ্রাস পাওয়ার কারণেই ডিটারজেন্ট মেশানো পানি কাপড়ের সূক্ষ্ম ছিদ্রে সহজে প্রবেশ করে ময়লা পরিষ্কার করতে পারে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
স্টোকসের সূত্র (Stokes' Law) অনুসারে, কোনো সান্দ্র মাধ্যমের (যেমন: বাতাস) মধ্য দিয়ে পড়ন্ত গোলাকার বস্তুর প্রান্তিক বেগ বা অন্ত্যবেগ (Terminal Velocity) বস্তুর ব্যাসার্ধের বর্গের সমানুপাতিক
অর্থাৎ, v ∝ r2

দেওয়া আছে,
শিলাপিন্ড দুটির ব্যাসার্ধের অনুপাত, r1 : r2 = 1 : 2

অতএব, তাদের অন্ত্যবেগের অনুপাত হবে:
v1 : v2 = r12 : r22 = 12 : 22 = 1 : 4

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পৃষ্ঠশক্তি (Surface Energy) হলো তরলের পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল একক পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সম্পন্ন কাজ।
অর্থাৎ, পৃষ্ঠশক্তি = কাজ / ক্ষেত্রফল

আমরা জানি,
- কাজের একক = জুল (J) বা নিউটন-মিটার (Nm)
- ক্ষেত্রফলের একক = বর্গমিটার (m2)

সুতরাং, পৃষ্ঠশক্তির একক = Nm / m2 = Nm-1 বা Jm-2
যেহেতু পৃষ্ঠশক্তি এবং পৃষ্ঠটান সংখ্যাগতভাবে অভিন্ন, তাই উভয়ের এককই Nm-1
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0