এসি মেশিন (387 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- কারেন্ট ট্রান্সফরমারের (CT) সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং সবসময় বন্ধ রাখা বা লোডের সাথে যুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
- যদি সেকেন্ডারি সার্কিট খোলা থাকে, তবে প্রাইমারি দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট কোরের মধ্যে খুব শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স তৈরি করে।
- এই অতিরিক্ত ফ্লাক্স সেকেন্ডারি টার্মিনালে অত্যন্ত উচ্চ ভোল্টেজ তৈরি করে, যা ইনসুলেশন নষ্ট করে দিতে পারে এবং ট্রান্সফরমারটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
- এই উচ্চ ভোল্টেজ অপারেটরের জন্য মারাত্মক বিপদজনক হতে পারে এবং শক লাগার ঝুঁকি তৈরি করে।
- তাই, নিরাপত্তা এবং যন্ত্রের সুরক্ষার জন্য কোনো অবস্থাতেই কারেন্ট ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি দিক খোলা রাখা হয় না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- শেল টাইপ ট্রান্সফর্মারের কোরটি উইন্ডিং বা কুণ্ডলীকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখে
- এর ফলে ম্যাগনেটিক ফ্লাক্সের পথটি খুব ছোট এবং শক্তিশালী হয়, যা ম্যাগনেটিক লিকেজ বা চৌম্বকীয় ফ্লাক্সের অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়
- এই ডিজাইনে সাধারণত একটি কেন্দ্রীয় বা মধ্যবর্তী লিম্ব (Limb) এবং দুটি বাইরের লিম্ব থাকে, যেখানে উইন্ডিংগুলো কেন্দ্রীয় লিম্বে পেঁচানো থাকে
- কোর টাইপ ট্রান্সফর্মারের তুলনায় শেল টাইপ ট্রান্সফর্মার তার কম লিকেজ ফ্লাক্স এবং উচ্চ যান্ত্রিক শক্তির জন্য লো-ভোল্টেজ ও হাই-কারেন্ট অ্যাপ্লিকেশনের জন্য বেশি উপযোগী।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমারের ওপেন সার্কিট টেস্টের মাধ্যমে মূলত Core loss বা Iron loss নির্ণয় করা হয়।
- এই পরীক্ষার সময় সেকেন্ডারি সাইড বা হাই ভোল্টেজ সাইড ওপেন (Open) রাখা হয়।
- প্রাইমারি সাইড বা লো ভোল্টেজ সাইডে রেটেড ভোল্টেজ (Rated Voltage) এবং রেটেড ফ্রিকোয়েন্সি সরবরাহ করা হয়।
- যেহেতু সেকেন্ডারি সাইড ওপেন থাকে, তাই এতে কোনো লোড থাকে না এবং প্রাইমারি দিয়ে খুব সামান্য পরিমাণ No-load current প্রবাহিত হয়।
- এই সামান্য কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার কারণে কপার লস নগণ্য হয়, তাই ওয়াটমিটারের রিডিং দ্বারা শুধুমাত্র কোর লস পাওয়া যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমার পরীক্ষার সাধারণ পদ্ধতিগুলি (যেমন- ওপেন সার্কিট এবং শর্ট সার্কিট টেস্ট) দিয়ে পূর্ণ লোড অবস্থায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা দক্ষতা সঠিকভাবে নির্ণয় করা কঠিন, কারণ এতে প্রচুর বিদ্যুতের অপচয় হয়।
- যদি দুটি অভিন্ন বা Identical transformer পাওয়া যায়, তবে তাদের লোড অবস্থায় দক্ষতা নির্ণয়ের জন্য Back-to-back test বা Sumpner’s test সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি।
- এই পদ্ধতিতে ট্রান্সফরমার দুটিকে সম্পূর্ণ লোডে চালানো হয়, কিন্তু আসলে খুব সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি খরচ হয়, যা কেবল লস (Loss) পূরণ করতে ব্যবহৃত হয়।
- এর মাধ্যমে ট্রান্সফরমারের Iron loss এবং Copper loss একই সাথে নির্ণয় করা সম্ভব হয়, যা সঠিক দক্ষতা (Efficiency) এবং ভোল্টেজ রেগুলেশন বের করতে সাহায্য করে।
- ওপেন সার্কিট টেস্ট দিয়ে মূলত আয়রন লস (Iron loss) এবং শর্ট সার্কিট টেস্ট দিয়ে কপার লস (Copper loss) নির্ণয় করা হয়, কিন্তু পূর্ণ লোড কন্ডিশনের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক টেস্টই সেরা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমার এর ভোল্টেজ সমীকরণ হলো E = 4.44 f N B_max A; যেখানে E = ইনডিউসড ভোল্টেজ, f = ফ্রিকোয়েন্সি, B_max = ফ্লাক্স ডেনসিটি।
- এই সূত্র অনুযায়ী, ফ্লাক্স ডেনসিটি B_max ∝ V/f (যেহেতু N এবং A নির্দিষ্ট থাকে)।
- প্রশ্নে বলা হয়েছে ভোল্টেজ নির্দিষ্ট (Rated voltage) কিন্তু ফ্রিকোয়েন্সি কমানো হয়েছে (Reduced frequency)।
- যেহেতু ফাক্স ডেনসিটি (B_max) ফ্রিকোয়েন্সির (f) সাথে ব্যস্তানুপাতিক, তাই ফ্রিকোয়েন্সি কমালে কোর ফ্লাক্স ডেনসিটি (Core flux density) বৃদ্ধি পাবে
- ফ্লাক্স ডেনসিটি বেড়ে গেলে ট্রান্সফরমারের কোরের স্যাচুরেশন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা আয়রন লস এবং ম্যাগনেটাইজিং কারেন্টকে অনেক বাড়িয়ে দেয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমারের ভেতরের বৈদ্যুতিক সংযোগকে বাইরের সার্কিটের সাথে যুক্ত করার জন্য যে ইনসুলেটেড টার্মিনাল ব্যবহৃত হয়, তাকে বুশিং (Bushings) বলে।
- বুশিং সাধারণত ট্রান্সফরমারের ট্যাংকের ওপরে বা পাশে বসানো থাকে, তাই এটি বাইরে থেকে দৃশ্যমান হয়।
- ট্রান্সফরমারের প্রধান অংশ যেমন— কোর (Core), প্রাইমারি উইন্ডিং ও সেকেন্ডারি উইন্ডিং একটি ইস্পাতের ট্যাংকের ভেতরে ট্রান্সফরমার অয়েলে ডুবানো থাকে।
- যেহেতু এই অংশগুলো ট্যাংকের ভেতরে অবস্থান করে, তাই এগুলোকে বাইরে থেকে সরাসরি দেখা যায় না।
- বুশিং সাধারণত চীনামাটি বা পোর্সেলিন দিয়ে তৈরি হয়, যা উচ্চ ভোল্টেজের লাইনকে নিরাপদে ট্রান্সফরমারের কয়েলের সাথে সংযুক্ত করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমারে উচ্চ ভোল্টেজ বা হাই-ভোল্টেজ ওয়াইন্ডিং (High-voltage winding)-এ অধিক সংখ্যক প্যাঁচ বা টার্ন থাকে।
- ভোল্টেজ বেশি হলে কারেন্ট প্রবাহ বা বিদ্যুৎ প্রবাহ কম হয়, তাই সরু তার ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
- সরু তারের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল বা ক্রস-সেকশনাল এরিয়া (Cross-sectional area) সবসময় কম হয়।
- অন্যদিকে, লো-ভোল্টেজ ওয়াইন্ডিং-এ অধিক কারেন্ট প্রবাহিত হয় বলে সেখানে মোটা তার ব্যবহার করা হয়, যার প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল বেশি।
- তাই এটি মনে রাখা জরুরি যে, উচ্চ ভোল্টেজের জন্য সরু তার (কম প্রস্থচ্ছেদ) এবং নিম্ন ভোল্টেজের জন্য মোটা তার (বেশি প্রস্থচ্ছেদ) ব্যবহৃত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমার তেলের সান্দ্রতা (viscosity) কম होना উচিত, যাতে এটি ট্রান্সফরমারের ভেতরে সহজে প্রবাহিত হতে পারে এবং তাপ দ্রুত অপসারণ করে ট্রান্সফরমারকে ঠান্ডা রাখতে পারে।
- এই তেলের উদ্বায়ীতা (volatility) অবশ্যই কম হতে হবে, কারণ উচ্চ তাপমাত্রায় তেল বাষ্পীভূত হয়ে কমে গেলে ট্রান্সফরমারের কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটবে।
- ট্রান্সফরমার তেলের প্রধান দুটি কাজ হলো—বৈদ্যুতিক ইনসুলেশন (Insulation) প্রদান করা এবং ট্রান্সফরমারের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশকে শীতল (Cooling) রাখা।
- ভালো মানের ট্রান্সফরমার তেলের ফ্ল্যাশ পয়েন্ট (Flash point) এবং ফায়ার পয়েন্ট (Fire point) বেশি হতে হয় যাতে সহজে আগুন লাগার ঝুঁকি না থাকে।
- এই তেলকে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পের প্রভাব থেকেও মুক্ত থাকতে হয়, কারণ জলীয় কণা তেলের ডাই-ইলেকট্রিক শক্তি (Dielectric strength) কমিয়ে দেয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একটি auto-transformer ও একটি সাধারণ two-winding transformer এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো তাদের ওয়াইন্ডিং কাঠামো। এই পার্থক্য থেকে auto-transformer এর কিছু বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়। নিচে মূল কারণগুলো পয়েন্ট আকারে দেওয়া হলো:
- Auto-transformer এ একটি মাত্র ওয়াইন্ডিং থাকে, যা অংশবিশেষ ভাগ হয় ভোল্টেজ অনুযায়ী, তাই সম্পূর্ণ নতুন ওয়াইন্ডিং তৈরি করার প্রয়োজন হয় না।
- এর ফলে, কপার বা তামার তারের পরিমাণ অনেক কম লাগে, কারণ শুধু একটি ওয়াইন্ডিং ব্যবহার করা হয়, দুইটি আলাদা ওয়াইন্ডিং নয়।
- কম ওয়াইন্ডিং মানে ওজন ও খরচ উভয়ই কম হয়, তাই এটি material saving এর ক্ষেত্রে খুবই লাভজনক।
- অন্যদিকে, two-winding transformer-এ primary ও secondary দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ওয়াইন্ডিং থাকে, যার জন্য বেশি তার এবং মেটেরিয়াল দরকার হয়।

অন্য অপশনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
- Hysteresis losses ও Eddy current losses মূলত লৌহ কোরের বৈশিষ্ট্যের কারণে হয়, যা একই রকম থাকে auto-transformer ও two-winding transformer উভয়ের ক্ষেত্রেই। তাই এগুলো কমে না বা পুরোপুরি শেষ হয় না।
- Copper losses (তামার ক্ষতি) auto-transformer-এ মোটামুটি কম হতে পারে কারণ তার তারের পরিমাণ কম, কিন্তু এটি সম্পূর্ণরূপে negligible নয়।

সুতরাং, auto-transformer এর প্রধান সুবিধা হলো winding material এর সাশ্রয়, যা অপশন ২-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমারের আয়রন লস বা কোর লস পরিমাপের জন্য ওপেন সার্কিট টেস্ট (Open Circuit Test) করা হয়।
- এই টেস্টে ট্রান্সফরমারের লোড থাকে না, তাই কারেন্টের পরিমাণ খুব কম হয় এবং পাওয়ার ফ্যাক্টর (Power Factor) অত্যন্ত কম থাকে।
- সাধারণ ওয়াটমিটার কম পাওয়ার ফ্যাক্টরে সঠিক মান বা রিডিং দিতে পারে না।
- এজন্য ওপেন সার্কিট টেস্টে আয়রন লস নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে লো পাওয়ার ফ্যাক্টর ওয়াটমিটার (Low Power Factor Wattmeter) ব্যবহার করা হয়।
- অন্যদিকে, কপার লস পরিমাপ করার জন্য শর্ট সার্কিট টেস্ট করা হয়, যেখানে সাধারণ বা হাই পাওয়ার ফ্যাক্টর ওয়াটমিটার ব্যবহার করা যেতে পারে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমারের Short Circuit Test-এর মাধ্যমে মূলত কপার লস (Copper Loss) এবং ইকুইভ্যালেন্ট রেজিস্ট্যান্স বা ও রিঅ্যাক্ট্যান্স নির্ণয় করা হয়।
- এই পরীক্ষার সময় ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিংকে শর্ট সার্কিট করা হয় এবং প্রাইমারি সাইডে খুব অল্প পরিমাণ ভোল্টেজ (সাধারণত রেটেড ভোল্টেজের ৫%-১০%) প্রয়োগ করা হয়।
- আয়রন লস বা কোর লস (Iron/Core Loss) সরাসরি সাপ্লাই ভোল্টেজের ওপর নির্ভরশীল (Core loss ∝ V²)।
- যেহেতু শর্ট সার্কিট টেস্টে প্রাইমারি সাইডে প্রয়োগকৃত ভোল্টেজ খুবই নগণ্য বা কম থাকে, তাই এই ভোল্টেজের কারণে সৃষ্ট আয়রন লসও অত্যন্ত কম হয়।
- এই লস এত সামান্য হয় যে, ব্যবহারিক ক্ষেত্রে শর্ট সার্কিট টেস্টের সময় আয়রন লসকে উপেক্ষা (Negligible) করা হয়
- অন্যদিকে, অল্প ভোল্টেজেই প্রাইমারি ও সেকেন্ডারিতে পূর্ণ লোড কারেন্ট প্রবাহিত হয় বলে এই পরীক্ষায় কপার লসই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বৈদ্যুতিক মেশিনের কোর তৈরিতে সাধারণ স্টিলের পরিবর্তে সিলিকন স্টিল ব্যবহার করা হয়।
- স্টিলের সাথে সামান্য পরিমাণ (প্রায় ৪-৫%) সিলিকন মেশানো হয় মূলত হিসটেরেসিস লস (Hysteresis loss) কমানোর জন্য।
- সিলিকন মেশানোর ফলে স্টিলের পারমিবিলিটি (Permeability) বা ভেদনযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং হিসটেরেসিস লুপের ক্ষেত্রফল কমে আসে।
- কোরের উপাদান হিসেবে সিলিকন স্টিল ব্যবহারের ফলে বারবার চুম্বকীয় এবং অচুম্বকীয় অবস্থায় পরিবর্তনের সময় শক্তির অপচয় রোধ হয়।
- উল্লেখ্য যে, কোরকে ল্যামিনেটেড বা পাতলা পাতে বিভক্ত করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো এডি কারেন্ট লস (Eddy current loss) কমানো, কিন্তু সিলিকন উপাদানের কাজ হলো হিসটেরেসিস লস কমানো।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- একটি আদর্শ ট্রান্সফর্মার (Ideal Transformer) হলো একটি কাল্পনিক বা তাত্ত্বিক মডেল, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই তবে এটি ট্রান্সফর্মারের কার্যপ্রণালী বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এই ধরণের ট্রান্সফর্মারে কোনো প্রকার শক্তির অপচয় বা লস (Losses) হয় না, যেমন- কপারের রেজিস্ট্যান্স লস, এডি কারেন্ট লস বা হিস্টেরেসিস লস সম্পূর্ণ শূন্য থাকে।
- এর কুণ্ডলী বা ওয়াইন্ডিং-এর রোধ (Resistance) শূন্য বলে ধরা হয় এবং এর দক্ষতা ১০০% (100% Efficiency) বিবেচনা করা হয়।
- আদর্শ ট্রান্সফর্মারে কোনো চৌম্বকীয় লিকেজ (Magnetic Leakage) থাকে না, অর্থাৎ প্রাইমারি কুণ্ডলীতে তৈরি হওয়া সমস্ত ফ্লাক্স সেকেন্ডারি কুণ্ডলীর সাথে সংযুক্ত হয়।
- এর কোরের উপাদানের ব্যাপ্তিযোগ্যতা বা পারমিবিলিটি (Permeability) অসীম (Infinite) বলে ধরে নেওয়া হয়, যাতে সামান্য এমএমএফ (MMF) দিয়েই প্রয়োজনীয় ফ্লাক্স তৈরি করা সম্ভব হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমারের পরীক্ষা প্রধানত দুই প্রকারের হয়ে থাকে: রুটিন টেস্ট (Routine Test) এবং টাইপ টেস্ট (Type Test)।
- রুটিন টেস্ট হলো সেই পরীক্ষা যা উৎপাদিত প্রতিটি ট্রান্সফরমারের উপর আবশ্যিকভাবে করা হয় যাতে তার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
- ট্রান্সফরমারের উল্লেখযোগ্য রুটিন টেস্টগুলো হলো পোলারিটি টেস্ট, ইম্পিডেন্স টেস্ট বা শর্ট সার্কিট টেস্ট, ওপেন সার্কিট টেস্ট এবং কোর ইনসুলেশন ভোল্টেজ টেস্ট।
- অন্যদিকে, টাইপ টেস্ট প্রতিটি ট্রান্সফরমারের উপর না করে শুধুমাত্র একটি প্রোটোটাইপ বা নমুনা ট্রান্সফরমারের উপর করা হয় ডিজাইন যাচাই করার জন্য।
- রেডিও ইন্টারফেরেন্স টেস্ট (Radio Interference Test), টেম্পারেচার রাইজ টেস্ট এবং ইম্পালস টেস্ট হলো বিশেষ ধরনের টাইপ টেস্ট।
- প্রশ্নে উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে পোলারিটি টেস্ট, ইম্পিডেন্স টেস্ট এবং কোর ইনসুলেশন ভোল্টেজ টেস্ট হলো রুটিন টেস্ট, কিন্তু রেডিও ইন্টারফেরেন্স টেস্ট কোনো রুটিন টেস্ট নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- অয়েল ইমার্সড ন্যাচারাল কুলিং বা যাকে সংক্ষেপে ONAN (Oil Natural Air Natural) বলা হয়, সেটি ছোট ও মাঝারি আকারের ট্রান্সফরমারে ব্যবহৃত হয়।
- সাধারণত এই ধরনের ট্রান্সফরমারগুলির রেটিং ৩০০০ কেভিএ (3000 kVA) পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- এই পদ্ধতিতে ট্রান্সফরমারের গরম তেল প্রাকৃতিক পরিচলন (Natural Convection) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপরের দিকে উঠে যায় এবং ঠান্ডা তেল নিচে নেমে আসে।
- বাতাসের সংস্পর্শে থাকা ট্রান্সফরমারের ট্যাংক বা রেডিয়েটরের মাধ্যমে তাপ বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ট্রান্সফরমার ঠান্ডা হয়।
- ট্রান্সফরমার অয়েলের দুইটি প্রধান কাজ হলো- ট্রান্সফরমারের কয়েলকে ঠান্ডা রাখা বা শীতলীকরণ এবং কয়েল ও কোরের মধ্যে ইনসুলেশন প্রদান করা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে লিকেজ ফ্লাক্স (Leakage Flux) হলো সেই চৌম্বক ফ্লাক্স, যা একটি তারের কুণ্ডলী বা ওয়াইন্ডিং-এ তৈরি হয় কিন্তু অন্য কুণ্ডলীকে ছেদ করে না।
- সেকেন্ডারি সাইডে লিকেজ ফ্লাক্স বাড়ার মানে হলো, সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং-এ উৎপন্ন ফ্লাক্সের একটি বড় অংশ প্রাইমারি বা কোন্টির সাথে যুক্ত হচ্ছে না।
- যখন সেকেন্ডারি লিকেজ ফ্লাক্স বেশি হয়, তখন এটি সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং-এ একটি বিপরীত বা কাউন্টার ই.এম.এফ (Counter E.M.F.) তৈরি করে যা মূল ই.এম.এফ-কে বাধা দেয়।
- এর ফলে, সেকেন্ডারি কয়েলে যে কার্যকরী বা ইন্ডুসড ই.এম.এফ (Secondary Induced E.M.F.) পাওয়া যায়, তার মান কমে যায়।
- সহজ কথায়, লিকেজ ফ্লাক্স এক ধরনের লস বা অপচয় হিসেবে কাজ করে, যা ভোল্টেজ বা ই.এম.এফ কমিয়ে দেয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্যারালাল অপারেশনে থাকা দুটি ট্রান্সফরমারের লোড শেয়ারিং নির্ভর করে মূলত তাদের Per Unit Impedance-এর ওপর।
- দুটি ট্রান্সফরমার যখন প্যারালালে সংযুক্ত থাকে, তখন তারা এমনভাবে লোড ভাগ করে নেয় যাতে তাদের ইম্পিডেন্স ভোল্টেজ ড্রপ সমান থাকে।
- যদি দুটি ট্রান্সফরমারের পার ইউনিট ইম্পিডেন্স সমান হয়, তবে তারা তাদের নিজস্ব kVA রেটিং অনুপাতে লোড শেয়ার করবে।
- কিন্তু যদি কোনো ট্রান্সফরমারের পার ইউনিট ইম্পিডেন্স কম হয়, তবে সেটি তার রেটিং-এর তুলনায় বেশি লোড বহন করবে।
- বিপরীতভাবে, যার পার ইউনিট ইম্পিডেন্স বেশি, সেটি তার ক্ষমতার তুলনায় কম লোড বহন করবে।
- তাই ট্রান্সফরমারগুলোর লোড শেয়ারিং তাদের রেটিং বা লিকেজ রিঅ্যাক্ট্যান্স-এর ওপর সরাসরি নির্ভর না করে, তাদের সমতুল্য পার ইউনিট ইম্পিডেন্সের ব্যস্তানুপাতিক হারে হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পাওয়ার ট্রান্সফরমারের নকশা এমনভাবে করা হয় যেন এটি প্রায় পূর্ণ লোডে (nearly full load) সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদান করে।
- ট্রান্সফরমারের দক্ষতা সর্বোচ্চ হয় তখন, যখন এর কপার লস (Cu loss) এবং আয়রন লস (Iron loss) সমান হয়
- পাওয়ার ট্রান্সফরমারগুলো সাধারণত ট্রান্সমিশন লাইনের শেষে ব্যবহার করা হয় এবং এগুলো দিনের বেশির ভাগ সময় শতকরা ১০০ ভাগ লোডে চলে।
- যেহেতু এই ট্রান্সফরমারগুলো সবসময় পূর্ণ লোডের কাছাকাছি অবস্থায় চালু থাকে, তাই এদের সর্বোচ্চ দক্ষতা পূর্ণ লোডেই পাওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়
- অন্যদিকে, ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমারগুলো সাধারণত ৫০% থেকে ৭০% লোডে সর্বোচ্চ দক্ষতা দেয়, কারণ সেগুলো সারাদিন পূর্ণ লোডে চলে না।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমার হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা ফ্রিকোয়েন্সি এবং পাওয়ার ঠিক রেখে ভোল্টেজ ও কারেন্ট পরিবর্তন করে।
- একটি ট্রান্সফরমারের 'রুটিন দক্ষতা' (Routine Efficiency) নির্ভর করে মূলত লোডের কারেন্ট এবং পাওয়ার ফ্যাক্টরের উপর।
- ট্রান্সফরমারে দুই ধরনের ক্ষতি বা লস (Loss) হয়: কপার লস (Copper Loss) এবং আয়রন বা কোর লস (Iron/Core Loss)।
- কপার লস নির্ভর করে লোড কারেন্টের বর্গের উপর, অর্থাৎ লোড বাড়লে বা কমলে লসও পরিবর্তিত হয়।
- ট্রান্সফরমারের আউটপুট পাওয়ার নির্ভর করে লোডের পাওয়ার ফ্যাক্টরের উপর (Output Power = V × I × cosφ)।
- যেহেতু দক্ষতা বা এফিশিয়েন্সি হলো আউটপুট পাওয়ার এবং ইনপুট পাওয়ারের অনুপাত, তাই এটি লোড কারেন্ট এবং পাওয়ার ফ্যাক্টর উভয়ের উপরেই নির্ভরশীল।
- তবে সাপ্লাই ফ্রিকোয়েন্সি মূলত আয়রন লসকে প্রভাবিত করে, কিন্তু রুটিন এফিশিয়েন্সির প্রধান নিয়ামক হিসেবে লোড ও পাওয়ার ফ্যাক্টরকেই বিবেচনা করা হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সঠিক উত্তরটি high-voltage side হবে (প্রশ্নটিতে প্রদত্ত উত্তরটি ভুল)। নিচে সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
- ট্রান্সফরমারে ট্যাপিং সাধারণত উচ্চ ভোল্টেজ বা হাই-ভোল্টেজ সাইডে (High-voltage side) দেওয়া হয়।
- হাই-ভোল্টেজ ওয়াইন্ডিং-এ কারেন্টের পরিমাণ কম থাকে, তাই ট্যাপ চেঞ্জারের কন্টাক্টগুলোর ওপর স্পার্কিং হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
- ট্যাপিং-এর জন্য অধিক সংখ্যক প্যাঁচ বা টার্ন প্রয়োজন হয়, যা হাই-ভোল্টেজ সাইডে বা চিকন তারের অধিক প্যাঁচযুক্ত কয়েলটিতে সহজে ব্যবস্থা করা যায়।
- যেহেতু হাই-ভোল্টেজ কয়েলটি সাধারণত লো-ভোল্টেজ কয়েলের বাইরের দিকে থাকে, তাই মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এটি সহজে অ্যাক্সেস করা যায়
- লো-ভোল্টেজ সাইডে ট্যাপিং দিলে উচ্চ কারেন্ট সামলাতে হয়, যার ফলে বড় এবং ব্যয়বহুল ট্যাপ চেঞ্জার ব্যবহারের প্রয়োজন হতো।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমার কোরে ব্যবহৃত লেমিনেশনগুলোর পুরুত্ব সাধারণত ০.৩৫ মি.মি. থেকে ০.৫ মি.মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- ট্রান্সফরমারের লেমিনেশন যত পাতলা হয়, এতে উৎপন্ন এডি কারেন্ট লস বা এডি প্রবাহ জনিত ক্ষতি তত কম হয়।
- ট্রান্সফরমারের কোর সাধারণত সিলিকন স্টিল দিয়ে তৈরি করা হয়, যা হিস্টেরেসিস লস বা হিস্টেরেসিস জনিত ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।
- কোরের লেমিনেশনগুলো একে অপরের থেকে বার্নিশ বা ইনসুলেশন দ্বারা বৈদ্যুতিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকে।
- এডি কারেন্ট লস কমানোর জন্য এই পাতলা লেমিনেশনগুলো ব্যবহার করে ট্রান্সফরমারের দক্ষতা বা ایفিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- স্টার-স্টার (Y-Y) কানেকশন ট্রান্সফর্মার তখনই সন্তোষজনকভাবে কাজ করে যখন লোড সুষম বা ব্যালেন্সড থাকে।
- এই সংযোগে নিউট্রাল পয়েন্টটি গ্রাউন্ডেড বা আর্থ করা না থাকলে, আনব্যালেন্সড বা অসম লোডের ক্ষেত্রে নিউট্রাল পয়েন্টটি শিফ্‌ট (Shift) করতে পারে, যাকে 'ফ্লোটিং নিউট্রাল' সমস্যা বলা হয়।
- এর ফলে ফেজ ভোল্টেজগুলো অসম হয়ে যায়, অর্থাৎ কোনো ফেজে ভোল্টেজ খুব বেড়ে যেতে পারে এবং অন্যটিতে কমে যেতে পারে, যা ইকুইপমেন্টের জন্য ক্ষতিকর
- এছাড়া, ডেল্টা সংযোগ না থাকায় এতে থার্ড হারমোনিকস (Third Harmonics) কারেন্ট প্রবাহের পথ থাকে না, যা ভোল্টেজে বিকৃতি বা ডিসটর্শন ঘটায়।
- তবে যদি লোড সম্পূর্ণ ব্যালেন্সড থাকে, তখন নিউট্রাল পয়েন্ট স্থির থাকে এবং হারমোনিকসের সমস্যা কম হয়, ফলে ট্রান্সফর্মারটি তখন সঠিকভাবে কাজ করে
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমারের কোর বা মজ্জা তৈরির জন্য সাধারণত সিলিকন স্টিল (Silicon steel) ব্যবহার করা হয়।
- স্টিলের সাথে প্রায় ৩-৫% সিলিকন মিশিয়ে এই বিশেষ সংকর ধাতু তৈরি করা হয়, যা হিসটেরেসিস লস (Hysteresis loss) কমাতে সাহায্য করে।
- সিলিকন মেশানোর ফলে স্টিলের চৌম্বকীয় ভেদনযোগ্যতা বা পারমিবিলিটি (Permeability) বৃদ্ধি পায়।
- ট্রান্সফরমারের কোরটি নিরেট ধাতুর ব্লকের বদলে পাতলা পাতলা স্তরে বা ল্যামিনেশনে (Laminations) বিভক্ত থাকে।
- এই ল্যামিনেশন করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো ট্রান্সফরমারের এডি কারেন্ট লস (Eddy current loss) কমিয়ে আনা।
- অর্থাৎ, সিলিকন স্টিল হিসটেরেসিস লস কমায় এবং ল্যামিনেশন এডি কারেন্ট লস কমায়, ফলে ট্রান্সফরমারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফর্মারের কোরে air gap বা বাতাসের ফাঁক খুবই কম থাকে, যার ফলে এর চৌম্বকীয় বাধা (Reluctance) অনেক কমে যায়।
- এই রিলাক্ট্যান্স বা চৌম্বকীয় বাধা কম হওয়ার কারণে ট্রান্সফর্মারের কোরে প্রয়োজনীয় চৌম্বক ফ্লাক্স তৈরি করতে খুবই অল্প পরিমাণ কারেন্টের প্রয়োজন হয়
- ট্রান্সফর্মারের এই অল্প পরিমাণ কারেন্টকেই ম্যাগনেটাইজিং কারেন্ট (Magnetising Current) বলা হয়, যা সাধারণত পূর্ণ লোড কারেন্টের মাত্র ২% থেকে ৫% হয়ে থাকে।
- আবেশ মোটর বা অন্যান্য মেশিনে বাতাসের ফাঁক (Air gap) বেশি থাকে, তাই সেখানে ফ্লাক্স তৈরি করতে অনেক বেশি কারেন্টের প্রয়োজন হয়।
- ট্রান্সফর্মারের কোর সাধারণত উচ্চ প্রবেশ্যতা (High Permeability) সম্পন্ন সিলিকন স্টিল দিয়ে তৈরি করা হয়, যা চৌম্বক ফ্লাক্স প্রবাহকে আরও সহজ করে তোলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- একটি ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি উইন্ডিং দুটি সম্পূর্ণ আলাদা কয়েল দিয়ে তৈরি হয় এবং তাদের মধ্যে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ (Electrical Connection) থাকে না।
- এই দুটি উইন্ডিং পরস্পরের থেকে ম্যাগনেটিক্যালি যুক্ত থাকে কিন্তু বৈদ্যুতিকভাবে ইনসুলেটেড (Insulated) বা বিচ্ছিন্ন থাকে।
- যেহেতু দুটি কয়েলের মধ্যে কোনো সরাসরি তারের সংযোগ বা পরিবাহী মাধ্যম নেই, তাই ওহমিটার বা মেগার দিয়ে পরিমাপ করলে এদের মধ্যবর্তী রোধ অসীম (Infinite) দেখায়।
- প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কয়েলের মাঝখানে ইনসুলেশন হিসেবে সাধারণত কাগজ, তেল বা ইনসুলেটিং ভার্নিশ ব্যবহার করা হয় যা বিদ্যুৎ পরিবহনে বাধা দেয়।
- এই অসীম রোধ নিশ্চিত করে যে, প্রাইমারি সাইডের ভোল্টেজ সরাসরি সেকেন্ডারি সাইডে প্রবাহিত না হয়ে শুধুমাত্র ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক আবেশ (Electromagnetic Induction) প্রক্রিয়ায় শক্তি স্থানান্তরিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমার বা রূপান্তরক হলো এমন একটি স্থির যন্ত্র যা তড়িৎশক্তিকে একটি সার্কিট থেকে অন্য সার্কিটে স্থানান্তরিত করে।
- ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি সাইড বা মুখ্য কুন্ডলী এবং সেকেন্ডারি সাইড বা গৌণ কুন্ডলী উভয় দিকেই ফ্রিকোয়েন্সি বা কম্পাঙ্ক সর্বদা সমান থাকে।
- ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে ইনপুট পাওয়ার এবং আউটপুট পাওয়ার প্রায় সমান থাকে, তাই এটিকে অনেকে কনস্ট্যান্ট পাওয়ার ডিভাইস বা ধ্রুবক ক্ষমতার যন্ত্র মনে করেন।
- তবে তাত্ত্বিকভাবে ট্রান্সফরমারের কোরের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স বা চৌম্বক ফ্লাক্স লোড পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় না, এটি সর্বদা স্থির থাকে।
- যেহেতু ট্রান্সফরমারের কোর লস ও ম্যাগনেটাইজিং কারেন্ট এর উপর ভিত্তি করে এর কার্যপ্রণালী পরিচালিত হয় এবং এর মেইন ফ্লাক্স সবসময় ধ্রুবক থাকে, তাই একে সঠিকভাবে মেইন ফ্লাক্স ডিভাইস বলা হয়।
- ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ এবং কারেন্ট লোড অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু একটি আদর্শ ট্রান্সফরমারের মূল ফ্লাক্স (Main flux) লোড কিংবা নো-লোড উভয় অবস্থাতেই অপরিবর্তিত থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
এই প্রশ্নের সঠিক ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
- ট্রান্সফর্মারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্রিদার (Breather)
- ট্রান্সফর্মারের ভেতরের তেল যখন উত্তপ্ত হয়ে আয়তনে বাড়ে ও কমে, তখন বাতাসের আদান-প্রদান ঘটে, একে ট্রান্সফর্মারের ব্রিদিং বা শ্বাসক্রিয়া বলা হয়।
- এই বাতাসের সাথে যেন কোনো জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা ট্রান্সফর্মারের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ব্রিদারে সিলিকা জেল (Silica Gel) ব্যবহার করা হয়।
- সিলিকা জেল হলো একটি উৎকৃষ্ট মানের বাষ্প শোষক (Desiccant) রাসায়নিক পদার্থ।
- ভালো বা শুষ্ক অবস্থায় সিলিকা জেলের রং থাকে নীল, কিন্তু আর্দ্রতা শোষণ করার পর এর রং হালকা গোলাপি বা সাদা হয়ে যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমার তেলকে অবশ্যই আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প (Moisture) মুক্ত হতে হয়।
- কারণ আর্দ্রতা উপস্থিত থাকলে তেলের ডাই-ইলেকট্রিক শক্তি (Dielectric strength) মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়, যা ইনসুলেশন ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে।
- ভালো মানের ট্রান্সফরমার তেলের সান্দ্রতা (viscosity) কম হওয়া উচিত, যাতে এটি সহজে প্রবাহিত হয়ে তাপ অপসারণ করতে পারে।
- এই তেলের উদ্বায়ীতা (volatility) অবশ্যই কম হতে হবে, যাতে উচ্চ তাপমাত্রায় তেল বাষ্পীভূত হয়ে কমে না যায়।
- ট্রান্সফরমার তেলের প্রধান দুটি কাজ হলো—বৈদ্যুতিক ইনসুলেশন (Insulation) প্রদান করা এবং ট্রান্সফরমারের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশকে শীতল (Cooling) রাখা।
- এছাড়া তেলের ফ্ল্যাশ পয়েন্ট (Flash point) এবং ফায়ার পয়েন্ট (Fire point) বেশি হতে হয় যাতে সহজে আগুন লাগার ঝুঁকি না থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমার একটি ইলেকট্রিক্যাল ডিভাইস যা এসি (AC) বৈদ্যুতিক শক্তিকে এক ভোল্টেজ লেভেল থেকে অন্য ভোল্টেজ লেভেলে রূপান্তরিত করে।
- ট্রান্সফরমারের যে ওয়াইন্ডিং বা কয়েলের সাথে সরাসরি সাপ্লাই ভোল্টেজ বা সোর্স যুক্ত থাকে, তাকে প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং (Primary Winding) বলা হয়।
- অন্যদিকে, যে ওয়াইন্ডিং থেকে লোডে (Load) বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং (Secondary Winding) বলা হয়।
- স্টেপ-আপ (Step-up) ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং লো-ভোল্টেজ (Low-voltage) এবং সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং হাই-ভোল্টেজ হয়।
- আবার, স্টেপ-ডাউন (Step-down) ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং হাই-ভোল্টেজ (High-voltage) এবং সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং লো-ভোল্টেজ হয়।
- অর্থাৎ, প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং সব সময় হাই বা লো ভোল্টেজ হবে এমন কোনো নিয়ম নেই, এটি প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনোটিই হতে পারে

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ট্রান্সফরমারে উচ্চ ভোল্টেজ বা হাই-ভোল্টেজ ওয়াইন্ডিং (High-voltage winding)-এ অধিক সংখ্যক প্যাঁচ বা টার্ন থাকে।
- ট্রান্সফরমারের কার্যনীতি অনুযায়ী, ভোল্টেজ এবং প্যাঁচের সংখ্যা পরস্পরের সমানুপাতিক। অর্থাৎ যেখানে ভোল্টেজ বেশি, সেখানে তারের প্যাঁচ বা টার্ন সংখ্যাও বেশি হবে।
- এর বিপরীতে, লো-ভোল্টেজ ওয়াইন্ডিং (Low-voltage winding)-এ ভোল্টেজ কম থাকার কারণে প্যাঁচের সংখ্যাও কম হয়।
- উচ্চ ভোল্টেজ ওয়াইন্ডিং-এ ভোল্টেজ বেশি হলেও কারেন্ট বা বিদ্যুৎ প্রবাহ কম থাকে, তাই এখানে তুলনামূলক সরু তার ব্যবহার করা হয়।
- অন্যদিকে, লো-ভোল্টেজ ওয়াইন্ডিং-এ কারেন্ট প্রবাহ বেশি থাকে, তাই অতিরিক্ত তাপ সহন করার জন্য মোটা তার (বেশি প্রস্থচ্ছেদযুক্ত) ব্যবহার করা হয়।
- তাই সহজ কথায়, ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি বা সেকেন্ডারি যেই অংশেই ভোল্টেজ বেশি হবে, সেই অংশেই তারের প্যাঁচের সংখ্যা বেশি হবে।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0