Solution
Correct Answer: Option C
মৌলিক শব্দ ছাড়া অন্য সব শব্দকেই সাধিত শব্দ বলা হয়। অর্থাৎ, যে শব্দকে বিশ্লেষণ করলে বা ভাঙলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ, প্রত্যয় বা উপসর্গ পাওয়া যায়, তাকে সাধিত শব্দ বলে। সাধিত শব্দ মূলত তৈরি হয় উপসর্গ যোগে, প্রত্যয় যোগে, বা সমাসবদ্ধ হয়ে।
- মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন— গোলাপ, নাক, লাল, তিন।
- সাধিত শব্দ: যে শব্দগুলো মৌলিক নয় এবং অন্য উপায়ে গঠিত হয়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। সাধিত শব্দ গঠনের প্রধান উপায়গুলো হলো:
১. উপসর্গযোগে: (যেমন: প্র + হার = প্রহার)
২. প্রত্যয়যোগে: (যেমন: চল্ + অন্ত = চলন্ত)
৩. সমাসযোগে: (যেমন: নীল যে আকাশ = নীলাকাশ)
- উপসর্গ: বাংলা ভাষায় কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ বাক্যের মধ্যে স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না। এগুলো অন্য কোনো শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ গঠন করে। একে উপসর্গ বলে। যেমন: ‘হার’ শব্দের আগে ‘প্র’ উপসর্গ যুক্ত হয়ে ‘প্রহার’ শব্দটি গঠিত হয়েছে। এখানে ‘প্রহার’ একটি সাধিত শব্দ।
- প্রত্যয়: ধাতু বা শব্দের শেষে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়। একে প্রত্যয়ান্ত শব্দ বলে, যা এক প্রকার সাধিত শব্দ। যেমন: ‘পড়’ ধাতুর সাথে ‘আ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘পড়া’ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- এনসিটিবি (NCTB) ও বাংলা একাডেমি-এর প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে, সাধিত শব্দ গঠনের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস। তাই অপশনগুলোর মধ্যে 'উপসর্গ ও প্রত্যয় দিয়ে' শব্দটি সঠিক।
• উদাহরণ:
- উপসর্গযোগে সাধিত শব্দ: প্র + হার = প্রহার, বি + দেশ = বিদেশ।
- প্রত্যয়যোগে সাধিত শব্দ: ডুব + উরি = ডুবুরি, ঢাকা + আই = ঢাকায়।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- উপসর্গ দিয়ে: এটি আংশিক সত্য কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নয়, কারণ কেবল উপসর্গই সাধিত শব্দ তৈরির একমাত্র উপায় নয়।
- প্রত্যয় দিয়ে: এটিও আংশিক সত্য, কারণ প্রত্যয় ছাড়াও সাধিত শব্দ গঠিত হতে পারে।
- রেফ দিয়ে: 'রেফ' (র্ ) কোনো শব্দ গঠনের ব্যাকরণিক প্রক্রিয়া নয়, এটি কেবল ‘র’ ধ্বনির একটি লিখিত রূপ বা ব্যঞ্জনবর্ণের রূপভেদ মাত্র। শব্দ গঠনে এর কোনো ভূমিকা নেই।