Solution
Correct Answer: Option B
বাংলা ভাষায় আগত বিদেশি শব্দগুলোর মধ্যে ফারসি শব্দের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলে মুসলিম শাসনের প্রভাবে প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কারণে প্রচুর ফারসি শব্দ বাংলা শব্দভাণ্ডারে প্রবেশ করেছে। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ‘বাদশাহ’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত একটি শব্দ, যার অর্থ রাজা বা নৃপতি। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং এনসিটিবি (NCTB) অনুমোদিত ব্যাকরণ বই অনুসারে এটি বিদেশি (ফারসি) শব্দ হিসেবে স্বীকৃত।
প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলো
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দগুলোকে উৎস বা উৎপত্তি অনুসারে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়: তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি এবং বিদেশি।
- রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশে আগত বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বহু শব্দ বাংলায় এসে গেছে, এগুলোকে বিদেশি শব্দ বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় ফারসি শব্দের প্রভাব খুবই বেশি এবং এগুলোকে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়: ধর্মীয়, প্রশাসনিক ও বিবিধ শব্দ।
• উদাহরণ:
ফারসি শব্দের কিছু উদাহরণ: খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, রোজা, কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তারিখ, তোশক, দপ্তর, দরবার, দোকান, দৌলত, নালিশ ইত্যাদি।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ
- হজ: এটি আরবি ভাষার শব্দ। এরকম আরও আরবি শব্দ হলো— আল্লাহ, ইসলাম, ইমান, ওযু, কোরান, গোসল, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি।
- আলপিন: এটি পর্তুগিজ ভাষার শব্দ। বাংলায় ব্যবহৃত আরও কিছু পর্তুগিজ শব্দ হলো— আনারস, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি।
- হরতাল: এটি গুজরাটি ভাষার শব্দ। মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলনের সূত্র ধরে এই শব্দটি বাংলায় প্রচলিত হয়েছে। গুজরাটি ভাষার আরও একটি পরিচিত শব্দ হলো— খদ্দর।