Solution
Correct Answer: Option C
সংস্কৃত বা তৎসম তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ গঠনের নিয়ম অনুসারে, শব্দের শেষে ‘ইক’ (ষ্ণিক) প্রত্যয় যুক্ত হলে মূল শব্দের আদিস্বর বা প্রথম স্বরধ্বনির বৃদ্ধি ঘটে। এখানে ‘বার্ষিক’ শব্দটি ‘বর্ষ’ শব্দের সাথে ‘ষ্ণিক’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে।
নিয়মটি হলো: বিশেষ্য শব্দের শেষে ‘ষ্ণিক’ (ইক) যোগ করে বিশেষণ গঠন করা হয়। এক্ষেত্রে মূল শব্দের আদিস্বর ‘অ’ থাকলে তা পরিবর্তিত হয়ে ‘আ’ হয় (অ > আ)।
• সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
‘বার্ষিক’ শব্দটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়:
মূল শব্দ বা প্রকৃতি: বর্ষ
প্রত্যয়: ষ্ণিক (উচ্চারণে ‘ইক’)
সন্ধি বা প্রত্যয়ের নিয়মে: বর্ষ + ষ্ণিক = বআর্ষিক = বার্ষিক।
এখানে ‘বর্ষ’-এর ‘ব’-এর সাথে থাকা ‘অ’ ধ্বনিটি প্রত্যয়ের প্রভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ‘আ’ হয়েছে (ব > বা)।
• উদাহরণ:
একই নিয়মে গঠিত অন্যান্য শব্দ:
- ধর্ম + ষ্ণিক (ইক) = ধার্মিক
- মাস + ষ্ণিক (ইক) = মাসিক
- বছর + ইক = বাৎসরিক (বাংলায় ‘বছর’ তদ্ভব শব্দ হলেও সংস্কৃতে ‘বৎসর’ থেকে ‘বাৎসরিক’ হয়)
- প্রকৃতি + ষ্ণিক (ইক) = প্রাকৃতিক
নোট: বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী, তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ‘ইক’ প্রত্যয়কে মূল সংস্কৃতে ‘ষ্ণিক’ (বা স্নিক) বলা হয়। আধুনিক বাংলা ব্যাকরণে সহজীকরণের জন্য অনেক সময় সরাসরি ‘ইক’ লেখা হয়, তবে অপশনে ‘ষ্ণিক’ থাকলে সেটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও তাত্ত্বিকভাবে নির্ভুল।