‘তৎসম’ শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশি হয়?

A চলিত

B সাধু রীতি

C মিশ্র রীতি

D আঞ্চলিক রীতি

Solution

Correct Answer: Option B

- বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের জনগণ নিজ নিজ অঞ্চলের ভাষায় কথা বলে। পৃথিবীর সব ভাষায়ই উপভাষা আছে। এক অঞ্চলের জনগণের মুখের ভাষার সঙ্গে অপর অঞ্চলের জনগণের মুখের ভাষার যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। ফলে এক অঞ্চলের ভাষা অন্য অঞ্চলের মানুষের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। তখন বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভাব বিনিময়ের জন্য একটি মার্জিত ও সর্বজনগ্রাহ্য ভাষার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তাকে প্রমিত ভাষা বা উচ্চকক্ষ বা শিষ্ট ভাষা বলে। কালক্রমে এই ভাষারূপটি বা প্রমিত ভাষাটি সাহিত্য রচনার ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
- বাংলা ভাষার এই লিখিত রূপের দুটি প্রধান রীতি রয়েছে: সাধু রীতি এবং চলিত রীতি
- সাধু রীতি: বাংলা গদ্যের যে রূপটি অপেক্ষাকৃত গুরুগম্ভীর, তৎসম শব্দবহুল এবং ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ ব্যবহার করে, তাকে সাধু রীতি বলে। এই রীতিতে সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের ব্যবহার অনেক বেশি লক্ষ্য করা যায়। তৎসম মানে ‘তার সমান’ অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান। যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে, সেসব শব্দই তৎসম শব্দ। সাধু ভাষায় এদের প্রাধান্য থাকে।

উদাহরণ:
- সাধু: "মস্তক" (তৎসম শব্দ) - *তাহার মস্তকে আঘাত লাগিল।*
- চলিত: "মাথা" (তদ্ভব শব্দ) - *তার মাথায় আঘাত লাগল।*
এখানে 'মস্তক' শব্দটি তৎসম এবং এটি সাধু রীতিতে ব্যবহৃত হয়েছে। পক্ষান্তরে, 'মাথা' শব্দটি তদ্ভব এবং এটি চলিত রীতিতে অধিক ব্যবহৃত।

ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- চলিত রীতি: এই রীতিতে তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি হয়। এখানে তৎসম শব্দের ব্যবহার কম এবং ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। তাই এটি ভুল উত্তর।
- মিশ্র রীতি: সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণকে ‘গুরুচণ্ডালী দোষ’ বলা হয়, যা ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ। এটি কোনো স্বীকৃত বা আদর্শ রীতি নয়।
- আঞ্চলিক রীতি: এটি বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা বা কথ্য রূপ। একে উপভাষাও বলা হয়। এতে আঞ্চলিক শব্দের আধিক্য থাকে, তৎসম শব্দের ব্যবহার সুনির্দিষ্ট নয় এবং স্থানভেদে ভিন্ন হয়।

গুরুত্বপূর্ণ নোট:
- সাধু রীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- সাধু ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় (যেমন: *তাহারা* খেলাইতেছে)।
- পক্ষান্তরে, চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয় (যেমন: *তারা* খেলছে)।
অ্যাপ/ওয়েবসাইটে রুটিনভিত্তিক নিয়মিত লাইভ পরীক্ষা হচ্ছে।
পরীক্ষা – ৭৯
কোর্স নামঃ প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (২য় ব্যাচ)
টপিকসঃ
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী সম্পূর্ণ সিলেবাস (১০০ মার্ক)
৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু।
রুটিন দেখুন
পরীক্ষা-৫৪
কোর্স নামঃ ৫১ তম বিসিএস প্রস্ততি - ২৩৬ দিনে সম্পূর্ণ সিলিবাস।
টপিকসঃ
বাংলা সাহিত্য
খুব গুরুত্বপূর্ণঃ কাজী নজরুল ইসলাম।
গুরুত্বপূর্ণঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, এস. ওয়াজেদ আলি, কায়কোবাদ, কাজী ইমদাদুল হক, কাজী আবদুল ওদুদ, জহির রায়হান, জাহানারা ইমাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, নির্মলেন্দু গুণ, নুরুল মোমেন, প্যারীচাঁদ মিত্র,।
কম গুরুত্বপূর্ণঃ আবুল হাসান, আসাদ চৌধুরী, আরজ আলী মাতুব্বর, আশরাফ সিদ্দিকী, আহমদ ছফা, ড. আহমদ শরীফ, আহসান হাবীব, আহমদ রফিক, ইব্রাহীম খাঁ, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, উইলিয়াম কেরি, এম. আর. আখতার মুকুল, কাঙাল হরিনাথ, কাজী মোতাহার হোসেন, কামিনী রায়, কালিদাস রায়, কালীপ্রসন্ন ঘোষ, কালীপ্রসন্ন।
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রুটিন দেখুন

Practice More Questions on Our App!

Download our app for free and access thousands of MCQ questions with detailed solutions