Solution
Correct Answer: Option A
বাংলা ভাষায় যে সব শব্দ বাক্যে অন্য কোনো শব্দের পরে বসে, শব্দটির সঙ্গে বাক্যের অন্যান্য অংশের সম্পর্ক তৈরি করে, তাদের অনুসর্গ (Postpositions) বা কর্মপ্রবচনীয় বলা হয়। অনুসর্গগুলো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে এবং বিভক্তির ন্যায় কাজ করে অথবা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে। প্রশ্নে উল্লিখিত ‘অভিমুখে’ ও ‘কাছে’ শব্দ দুটি বাক্যে অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- অনুসর্গ কখনো পদের সঙ্গে মিশে থাকে না, বরং পৃথকভাবে অবস্থান করে (তবে 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি কখনো কখনো বিভক্তির মতো আচরণ করে)।
- প্রধান কয়েকটি অনুসর্গ হলো: প্রতি, বিনা, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মাঝ, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, সঙ্গে, অবধি, পানে, অভিমুখে, কাছে ইত্যাদি।
- অনুসর্গ মূলত দুই প্রকার: নাম অনুসর্গ এবং ক্রিয়া অনুসর্গ।
- অনুসর্গকে ‘পদান্বয়ী অব্যয়’ও বলা হয়ে থাকে।
• উদাহরণ:
- গ্রামটির অভিমুখে যাত্রা শুরু করো। (এখানে 'অভিমুখে' দিক নির্দেশে অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।)
- আমার কাছে এসো। (এখানে 'কাছে' স্থান বা নৈকট্য বোঝাতে অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।)
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- বলে, কয়ে: এগুলো অসমাপিকা ক্রিয়াপদ। যেমন- ‘সে কথা বলে চলে গেল’। এগুলো অনুসর্গ নয়।
- আপন, তুমি: 'আপন' হলো বিশেষণ বা নিজ অর্থে ব্যবহৃত শব্দ এবং 'তুমি' হলো মধ্যম পুরুষের সর্বনাম পদ। এগুলো নামপদ, অনুসর্গ নয়।
- জোরে, আস্তে: এগুলো ক্রিয়া বিশেষণ (Adverb)। এগুলো ক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হচ্ছে (দ্রুত না ধীর গতিতে) তা নির্দেশ করে, অনুসর্গ হিসেবে কাজ করে না।