Correct Answer: Option C
- বার্লিন প্রাচীর ১৯৬১ সালের ১৩ই আগস্ট নির্মাণ করা হয়েছিল।
- পূর্ব জার্মানি থেকে পশ্চিম বার্লিনে শরণার্থীদের গমন ঠেকানোই ছিল এই প্রাচীর নির্মাণের প্রধান উদ্দেশ্য।
- প্রাচীরটি ভেঙে ফেলা হয় ৯ নভেম্বর, ১৯৮৯ সালে।
- এর দৈর্ঘ্য ছিল ১৫৫ কিলোমিটার।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি এবং এর রাজধানী বার্লিন চারটি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়, যা মিত্রশক্তির চারটি দেশ—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো। পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স তাদের নিয়ন্ত্রিত অংশগুলোকে একত্রিত করে "পশ্চিম জার্মানি" (Federal Republic of Germany) গঠন করে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তার অংশটিকে "পূর্ব জার্মানি" (German Democratic Republic) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
বার্লিন শহরটি ভৌগোলিকভাবে পূর্ব জার্মানির ভেতরে অবস্থিত হলেও, এটিও একইভাবে বিভক্ত ছিল। পশ্চিম বার্লিন পশ্চিম জার্মানির অংশ হিসেবে একটি গণতান্ত্রিক এবং পুঁজিবাদী অঞ্চল ছিল, আর পূর্ব বার্লিন ছিল সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানির রাজধানী।
১৯৪৯ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে প্রায় ২৫ লক্ষ পূর্ব জার্মান নাগরিক উন্নত জীবন, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের আশায় পশ্চিম বার্লিনে পালিয়ে যায়। এই বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যা, বিশেষ করে দক্ষ শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের দেশত্যাগ পূর্ব জার্মানির অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। এই "ব্রেইন ড্রেন" বা মেধা পাচার রোধ করার জন্যই পূর্ব জার্মান সরকার সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনে আকস্মিকভাবে এক রাতের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পশ্চিম বার্লিনকে আলাদা করে ফেলে, যা পরবর্তীতে কংক্রিটের প্রাচীরে রূপান্তরিত হয়। এই প্রাচীরটি স্নায়ুযুদ্ধের সময় পূর্ব ও পশ্চিমের বিভাজন এবং সমাজতান্ত্রিক শাসনের কঠোরতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
Download our app for free and access thousands of MCQ questions with detailed solutions