শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে- এ বিভক্তির রূপভেদ হয়?
Solution
Correct Answer: Option A
বাংলা ব্যাকরণের বিভক্তি যোগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাতিপাদিক বা নামশব্দের শেষে যদি স্বরধ্বনি থাকে, তবে বিভক্তির রূপভেদ ঘটে। বিশেষভাবে শব্দের শেষে যদি ই-কার (ি) বা উ-কার (ু) থাকে, তবে সেখানে 'এ' বিভক্তি যুক্ত না হয়ে তার রূপভেদ হিসেবে '-তে' বিভক্তি যুক্ত হয়।
- শব্দের শেষে স্বরধ্বনি থাকলে: শব্দের শেষে যদি অ-কার বা আ-কার থাকে, তবে সাধারণত '-য়' বা '-য়ে' বিভক্তি যুক্ত হয়। (যেমন: মা + এ = মায়ে, ঘোড়া + এ = ঘোড়ায়)।
- শব্দের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে: শব্দের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে সরাসরি 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়। (যেমন: হাত + এ = হাতে, কলম + এ = কলমে)।
- ই-কার ও উ-কারান্ত শব্দ: শব্দের শেষে ই-কার বা উ-কার থাকলে এবং এরপর সপ্তমী বিভক্তি যোগ করতে হলে, 'এ'-এর পরিবর্তে 'তে' ব্যবহৃত হয়।
• উদাহরণ:
- বাড়ি (ই-কারান্ত) + এ = বাড়িতে (সঠিক), 'বাড়িয়ে' নয়।
- হাতি (ই-কারান্ত) + এ = হাতিতে।
- মধু (উ-কারান্ত) + এ = মধু-তে।
- লাউ (উ-কারান্ত) + এ = লাউতে (কথ্যরীতিতে অনেক সময় 'লায়ে' বলা হলেও প্রমিত ব্যাকরণে 'লাউতে' শুদ্ধ)
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- -য়ে: শব্দের শেষে আ-কার থাকলে 'এ' বিভক্তির রূপভেদ হিসেবে '-য়ে' ব্যবহৃত হয় (যেমন: বাংলা + এ = বাংলায়/বাংলায়ে)। ই/উ কারান্ত শব্দের ক্ষেত্রে এটি প্রজোয্য নয়।
- -এ: এটি মূল বিভক্তি চিহ্ন, যা সাধারণত ব্যঞ্জনান্ত শব্দের শেষে বসে। ই/উ কারান্ত শব্দের শেষে সরাসরি 'এ' বসে না।
- -কে: এটি বাংলা ব্যাকরণের দ্বিতীয়া বা চতুর্থী বিভক্তির চিহ্ন। এটি সপ্তমী বিভক্তি 'এ'-এর রূপভেদ নয়।