Solution
Correct Answer: Option B
বাংলা কবিতায় ছন্দ প্রধানত ৩ প্রকার। যথা:
১. স্বরবৃত্ত ছন্দ (শ্বাসাঘাত প্রধান ছন্দ)
২. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ (ধ্বনিপ্রধান ছন্দ)
৩. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ (তানপ্রধান ছন্দ)
মূল ব্যাখ্যাটি নিচে উপস্থাপন করা হলো:
ছন্দ সম্পর্কিত তথ্য:
- বাংলা ছন্দের জাদুকর বলা হয় সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে।
- ছন্দের নিপুণ কারিগর বলা হয় আব্দুল কাদিরকে।
==================================
ছন্দের প্রকারভেদ ও বৈশিষ্ট্য:
১. স্বরবৃত্ত ছন্দ: একে শ্বাসাঘাত প্রধান ছন্দ, দলবৃত্ত বা লৌকিক ছন্দও বলা হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রতিটি পর্বে সাধারণত ৪টি করে মাত্রা থাকে। ছড়া ও লোকসাহিত্যে এই ছন্দের ব্যবহার বেশি।
- উদাহরণ: "বাঁশ বাগানের / মাথার ওপর / চাঁদ উঠেছে / ওই" (যতিন্দ্রমোহন বাগচী)।
২. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: একে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ, কলাবৃত্ত বা গীতিছন্দও বলা হয়। এই ছন্দে যুক্তাক্ষর সর্বদা ২ মাত্রা গণনা করা হয় (শব্দের শুরুতে, মাঝে বা শেষে যেখানেই থাকুক)। এর লয় বা গতি ধীর।
- উদাহরণ: "মেঘের কোলে / রোদ হেসেছে / বাদল গেছে / টুটি" (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর)।
৩. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ: একে তানপ্রধান ছন্দ, মিশ্রকলাবৃত্ত বা পয়ার জাতীয় ছন্দও বলা হয়। এটি বাংলা ভাষার স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক ছন্দ হিসেবে পরিচিত। এই ছন্দে যুক্তাক্ষর শব্দের শুরুতে ১ মাত্রা, শেষে ২ মাত্রা এবং শব্দের মাঝে থাকলে অধিকাংশ সময় ১ মাত্রা ধরা হয়।
- উদাহরণ: "মহাভারতের কথা / অমৃত সমান / কাশীরাম দাস কহে / শুনে পুণ্যবান"।
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ: অক্ষরবৃত্ত ছন্দের একটি বিশেষ রূপ হলো অমিত্রাক্ষর ছন্দ (Blank verse), যার প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। এর চরণের শেষে মিল থাকে না এবং যতি স্বাধীন।
• গদ্যছন্দ: আধুনিক যুগে কবিতার ভাব প্রকাশের প্রয়োজনে গদ্যের চালে যে ছন্দ ব্যবহৃত হয় তাকে গদ্যছন্দ বলে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পুনশ্চ', 'শেষ সপ্তক', 'শ্যামলী' প্রভৃতি কাব্যে এর সার্থক প্রয়োগ দেখা যায়।