ভাষার বিচারে বাক্যে তিনটি গুণ থাকতে হয়, নিচের কোনটি এই তিনের অন্তর্ভুক্ত নয়?

A যোগ্যতা

B আকাঙ্ক্ষা

C প্রত্যাশা

D আসক্তি

Solution

Correct Answer: Option C

বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, একটি সার্থক বাক্যের তিনটি সুনির্দিষ্ট গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। এই গুণগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তিযোগ্যতা। প্রশ্নে উল্লেখ করা 'প্রত্যাশা' বা 'Expectation' বাক্যের কোনো ব্যাকরণিক গুণ নয়। তাই সঠিক উত্তরটি হলো 'প্রত্যাশা'।

নিচে সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. আকাঙ্ক্ষা: বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা জাগে, তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন: ‘পৃথিবী সূর্যের চারদিকে...’ বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ হয় না, শোনার ইচ্ছা থেকে যায়। কিন্তু ‘পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে’ বললে আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্ত হয়।

২. আসত্তি: মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসংগতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
যেমন: ‘কাল বিতরণী হবে উৎসবে আমাদের পুরস্কার স্কুলে’—এখানে পদগুলো এলোমেলো থাকায় আসত্তি বা সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস রক্ষিত হয়নি। শুদ্ধ বাক্যটি হবে: ‘কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব হবে।’

৩. যোগ্যতা: বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। অর্থাৎ, বাক্যের শব্দগুলোর অর্থ ও ভাবের মধ্যে সঙ্গতি থাকতে হবে।
যেমন: ‘বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়’—এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কিন্তু যদি বলা হয় ‘বর্ষার রোদে প্লাবনের সৃষ্টি হয়’, তবে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে কারণ রোদে প্লাবন সৃষ্টি হয় না, এটি প্রকৃতির নিয়মের পরিপন্থী।

----------------------------------------------
প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত অতিরিক্ত তথ্য:
- বাগযন্ত্র বা বাকপ্রত্যঙ্গ দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাকযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনি দ্বারা নিষ্পন্ন, কোনো বিশেষ সমাজে ব্যবহৃত, স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত, তথা বাক্যে প্রযুক্ত শব্দসমষ্টিকে ভাষা বলে।
- ভাষা ভাবের বাহন।

Practice More Questions on Our App!

Download our app for free and access thousands of MCQ questions with detailed solutions