Solution
Correct Answer: Option C
- শব্দের গঠন এবং অর্থের ওপর ভিত্তি করে শব্দকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: ১. যৌগিক শব্দ ২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং ২. যোগরূঢ় শব্দ।
- যোগরূঢ় শব্দ: সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদেরকে যোগরূঢ় শব্দ বলে।
সহজ কথায়, যেসব শব্দ প্রকৃতি-প্রত্যয় বা সমাসের অর্থে না চলে নতুন ও বিশেষ একটি অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোই যোগরূঢ় শব্দ।
• উদাহরণ:
- সুহৃদ: এর ব্যুৎপত্তিগত বা সাধারণ অর্থ হলো—'সুন্দর হৃদয় যার' বা 'শোভন হৃদয় যার'। কিন্তু যোগরূঢ় অর্থের কারণে 'সুহৃদ' বলতে কেবল 'বন্ধু'-কে বোঝায়। যেহেতু এটি সাধারণ অর্থ ত্যাগ করে একটি বিশেষ অর্থ গ্রহণ করেছে, তাই এটি একটি যোগরূঢ় শব্দ।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উদাহরণ:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা (শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি), কিন্তু বোঝায় কেবল 'পদ্মফুল'।
- রাজপুত: রাজার পুত্র (সাধারণ অর্থ), কিন্তু বোঝায় বিশেষ এক 'জাতি'।
- মহাযাত্রা: মহাসমারোহে যাত্রা (সাধারণ অর্থ), কিন্তু বোঝায় 'মৃত্যু'।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না (যেমন: গোলাপ, নাক, লাল, তিন)। সুহৃদকে ভাঙা যায় (সু + হৃদ), তাই এটি মৌলিক নয়।
- যৌগিক শব্দ: যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই হয় (যেমন: গায়ক = গৈ + অক/গান করে যে)। সুহৃদের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক নয়, তাই এটি যৌগিক নয়।
- রূঢ়ি শব্দ: যেসব শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে গঠিত হয়ে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে (যেমন: হস্তী = হস্ত + ইন/হস্ত আছে যার, কিন্তু বোঝায় একটি বিশেষ প্রাণী)। সুহৃদ সমাস নিষ্পন্ন শব্দ, প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে মূল অর্থ পরিবর্তনকারী নয়, তাই এটি রূঢ়ি নয়।