'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' পঙক্তিটির স্রষ্টা কে?
সমাধান
সঠিক উত্তর: Option D
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মঙ্গলকাব্যের সর্বশেষ শক্তিমান কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের 'অন্নপূর্ণার ভবানন্দ ভবনে যাত্রা' অংশে এই অমর পঙক্তিটি পাওয়া যায়। পাটনী খেয়া পার করে দেবী অন্নপূর্ণাকে চিনে ফেলার পর দেবীর কাছে বর প্রার্থনা করে বলে-
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে”
এই উক্তিটির মাধ্যমে আবহমান বাংলার চিরায়ত বাৎসল্য প্রেম ও সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে উঠেছে। ঈশ্বরী পাটনী ধন-সম্পদ বা মোক্ষ লাভ চায়নি, বরং সন্তানের জন্য কেবল দুবেলা দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা চেয়েছিল, যা সেই সময়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার করুণ চিত্রও ফুটিয়ে তোলে।
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ও অন্নদামঙ্গল কাব্য সম্পর্কিত তথ্য:
- তাকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মঙ্গলকাব্য ধারার সর্বশেষ শক্তিমান কবি বলা হয়।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি ছিলেন তিনি। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'রায়গুণাকর' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তার কাব্যে সংস্কৃত ছন্দের নিপুণ ব্যবহার এবং কৌতুকরসের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। তাকে বাংলা সাহিত্যে 'নাগরিক কবি' বলা হয়।
অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- এটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- গ্রন্থটি মোট তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:
১. শিবায়ন বা অন্নদামঙ্গল (দেবখণ্ড)
২. বিদ্যাসুন্দর বা কালিকা মঙ্গল (লৌকিক উপাখ্যান বা প্রণয়োপাখ্যান)
৩. মানসিংহ বা অন্নপূর্ণামঙ্গল (ঐতিহাসিক বা ভবানন্দ উপাখ্যান)
- ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে বা ১৬৭৪ শকাব্দে এই কাব্যটি রচিত হয়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে *অন্নদামঙ্গল* কাব্যের মাধ্যমেই সক্ষাৎ ইতিহাসের প্রথম পদচারণা ঘটে।
- ১৮১৬ সালে গঙ্গা কিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত সচিত্র *অন্নদামঙ্গল* কাব্যটিই বাংলা মুদ্রণযন্ত্রে মুদ্রিত প্রথম সচিত্র বাংলা বই।
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সত্যপীরের পাঁচালী (এটি তার প্রথম রচনা)
- রসমঞ্জরী
- চণ্ডীনাটক (অসম্পূর্ণ)
একই নামে বা একই বিষয়ে অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
- 'বিদ্যাসুন্দর' নামে মধ্যযুগের আরেকজন কবি সাবিরিদ খান একটি কাব্য রচনা করেন। তবে ভারতচন্দ্রের 'বিদ্যাসুন্দর' অংশটি অধিক জনপ্রিয়।
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে”
এই উক্তিটির মাধ্যমে আবহমান বাংলার চিরায়ত বাৎসল্য প্রেম ও সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে উঠেছে। ঈশ্বরী পাটনী ধন-সম্পদ বা মোক্ষ লাভ চায়নি, বরং সন্তানের জন্য কেবল দুবেলা দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা চেয়েছিল, যা সেই সময়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার করুণ চিত্রও ফুটিয়ে তোলে।
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ও অন্নদামঙ্গল কাব্য সম্পর্কিত তথ্য:
- তাকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মঙ্গলকাব্য ধারার সর্বশেষ শক্তিমান কবি বলা হয়।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি ছিলেন তিনি। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'রায়গুণাকর' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তার কাব্যে সংস্কৃত ছন্দের নিপুণ ব্যবহার এবং কৌতুকরসের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। তাকে বাংলা সাহিত্যে 'নাগরিক কবি' বলা হয়।
অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- এটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- গ্রন্থটি মোট তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:
১. শিবায়ন বা অন্নদামঙ্গল (দেবখণ্ড)
২. বিদ্যাসুন্দর বা কালিকা মঙ্গল (লৌকিক উপাখ্যান বা প্রণয়োপাখ্যান)
৩. মানসিংহ বা অন্নপূর্ণামঙ্গল (ঐতিহাসিক বা ভবানন্দ উপাখ্যান)
- ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে বা ১৬৭৪ শকাব্দে এই কাব্যটি রচিত হয়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে *অন্নদামঙ্গল* কাব্যের মাধ্যমেই সক্ষাৎ ইতিহাসের প্রথম পদচারণা ঘটে।
- ১৮১৬ সালে গঙ্গা কিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত সচিত্র *অন্নদামঙ্গল* কাব্যটিই বাংলা মুদ্রণযন্ত্রে মুদ্রিত প্রথম সচিত্র বাংলা বই।
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সত্যপীরের পাঁচালী (এটি তার প্রথম রচনা)
- রসমঞ্জরী
- চণ্ডীনাটক (অসম্পূর্ণ)
একই নামে বা একই বিষয়ে অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
- 'বিদ্যাসুন্দর' নামে মধ্যযুগের আরেকজন কবি সাবিরিদ খান একটি কাব্য রচনা করেন। তবে ভারতচন্দ্রের 'বিদ্যাসুন্দর' অংশটি অধিক জনপ্রিয়।