Solution
Correct Answer: Option A
- উষ্ম ধ্বনি: যে ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় তালুর সাথে জিহ্বার ঘর্ষণ হয় এবং ফুসফুস থেকে নির্গত বাতাসের চাপ একটু বেশি থাকে অর্থাৎ বাতাস যতক্ষণ ইচ্ছে ধরে রাখা যায়, তাকে উষ্ম ধ্বনি বা শিশ ধ্বনি বলে। যেমন- শ, ষ, স, হ।
- শিশ ধ্বনি: উষ্ম বর্ণের মধ্যে ‘শ’, ‘ষ’ ও ‘স’ উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য বা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখা যায় এবং এর সঙ্গে এক প্রকার শিশ দেওয়ার মতো শব্দ হয়ে থাকে। তাই এই ধ্বনিগুলোকে শিশ ধ্বনিও বলা হয়।
- এই দুটি ধ্বনির মূল পার্থক্য হলো, উষ্ম ধ্বনির একটি বিশেষ অংশ হলো শিশ ধ্বনি। উষ্ম ধ্বনির সংজ্ঞায় ঘর্ষণ এবং 'শ্বাস যতক্ষণ ইচ্ছে ধরে রাখা' বা বাতাসের চাপ প্রধান বিষয়। যদিও শিশ ধ্বনিতেও বাতাসের চাপ থাকে, কিন্তু শিশ ধ্বনির নামকরণের মূল কারণ হলো এর 'হিস হিস' বা শিশ দেওয়ার মতো শব্দ। তবে উষ্ম ধ্বনি ও শিশ ধ্বনির মধ্যে মৌলিক পার্থক্যের প্রশ্নে ব্যাকরণবিদরা বাতাসের চাপের ভিন্নতা বা তীব্রতাকেই নির্দেশ করে থাকেন। 'হ' উচ্চারণে শিশ শব্দ হয় না, কিন্তু বাতাসের চাপ থাকে, তাই এটি কেবল উষ্ম ধ্বনি।
• উদাহরণ:
- উষ্ম ধ্বনি: শ, ষ, স, হ
- শিশ ধ্বনি: শ, ষ, স (এখানে ‘হ’ নেই)
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- জিহ্বার অগ্রভাগ হতে উচ্চারণ: এটি দন্ত্য বা মূর্ধ্যন্য ধ্বনির বৈশিষ্ট্য হতে পারে কিন্তু শিশ বা উষ্ম ধ্বনির মূল পার্থক্য নয়। সব উষ্ম ধ্বনি জিহ্বার অগ্রভাগ দিয়ে উচ্চারিত হয় না (যেমন: ‘হ’ কণ্ঠনালীয়)।
- জিহ্বার কম্পন: এটি কম্পনজাত ধ্বনির (যেমন: র) বৈশিষ্ট্য। শিশ বা উষ্ম ধ্বনিতে জিহ্বা কাঁপে না, বরং ঘর্ষণ তৈরি করে।