Solution
Correct Answer: Option B
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদিতম নিদর্শন। হাজার বছরের পুরনো এই পদগুলো মূলত গান হিসেবে গাওয়া হতো। চর্যাপদের ছন্দ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও আধুনিক অধিকাংশ ছন্দবিশারদের মতে, চর্যাপদের পদগুলো পাদাকুলক বা মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। এর কারণ হলো পদগুলোতে মাত্রার বিন্যাস সুনির্দিষ্ট এবং এর লয় বা গতি সাধারণত বিলম্বিত নয়, বরং সঙ্গীতধর্মী।
চর্যাপদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে। এর আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- ১৯১৬ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এটি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন।
- চর্যাপদের ভাষা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'Origin and Development of the Bengali Language' (ODBL) গ্রন্থে প্রমাণ করেন যে, এর ভাষা মূলত বাংলা।
- চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা ৫১টি (মতান্তরে ৫০টি)। তবে মূল পুঁথিতে পাওয়া গেছে সাড়ে ৪৬টি পদ।
- চর্যাপদ রচনায় সবথেকে বেশি পদের রচয়িতা কাহ্নপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা ১৩টি।
চর্যাগীতিকা সম্পর্কিত আরও কিছু তথ্য:
- চর্যাপদের ভাষায় একই সঙ্গে আলো ও আঁধার অর্থাৎ অস্পষ্টতা থাকায় একে ‘সন্ধ্যা ভাষা’ বা ‘আলো-আঁধারি ভাষা’ বলা হয়।
- এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের সাধন-ভজন বা ধর্মীয় তত্ত্বকেন্দ্রিক গান।
- চর্যাপদ যে ছন্দে লেখা তাকে অনেক সময় ‘পাদাকুলক’ বা ‘মরিহট্ট’ ছন্দ নামেও অভিহিত করা হয়, যা আধুনিক মাত্রাবৃত্ত ছন্দেরই প্রাচীন রূপ।
• চর্যাপদ সম্পর্কিত নাম বিভ্রান্তি:
- অনেক সময় ‘দোহাকোষ’ নামের সাথে চর্যাপদের গুলিয়ে ফেলা হয়। সরহপা ও কাহ্নপা উভয়েই দোহা রচনা করেছেন, তবে দোহা এবং চর্যাপদ আঙ্গিক ও বিষয়বস্তু বিচারে কিছুটা ভিন্ন।