Solution
Correct Answer: Option B
- প্রবীন: শব্দটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: প্র (উপসর্গ) + বীণ (ধাতু) + অ (প্রত্যয়)। এখানে ‘প্র’ হলো একটি সংস্কৃত (তৎসম) উপসর্গ। 'প্র' উপসর্গটি সাধারণত প্রকৃষ্ট, বিশেষ, খ্যাতি বা আধিক্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। ‘প্রবীন’ শব্দে এটি ‘বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন’ বা ‘অভিজ্ঞ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী, ‘প্রবীন’ শব্দটি সঠিক বানান হলো ‘প্রবীণ’ তবে অনেক পুরোনো ব্যাকরণ বইতে ণ-ত্ব বিধানের আগের নিয়মে বা মুদ্রণজনিত কারণে ‘ন’ ব্যবহৃত হতে পারে। যাই হোক, গঠনগতভাবে এটি উপসর্গ যোগেই সাধিত।
বাকি অপশনগুলো প্রত্যয় যোগে গঠিত। নিচে এগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ
- ভিখারি: এটি ‘ভিখ’ শব্দের সাথে ‘আরি’ প্রত্যয় যোগে গঠিত (ভিখ + আরি = ভিখারি)। এখানে কোনো উপসর্গ নেই, বরং তদ্ধিত প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে।
- বাবুয়ানা: শব্দটি ‘বাবু’ শব্দের সাথে ‘আনা’ প্রত্যয় যোগে গঠিত (বাবু + আনা = বাবুয়ানা)। ‘আনা’ প্রত্যয়টি ভাব বা সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটিও প্রত্যয়সাধিত শব্দ।
- সেলাই: এটি ‘সিল্’ বা ‘সী’ ধাতুর সাথে ‘আই’ প্রত্যয় যোগে গঠিত (সিল্ + আই = সেলাই)। এটি একটি কৃৎ প্রত্যয়সাধিত শব্দ।
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
শব্দের শুরুতে বসে যে অব্যয় বা অব্যয়সূচক শব্দাংশ নতুন শব্দ গঠন করে এবং অর্থের পরিবর্তন ঘটায়, তাকে উপসর্গ বলে। অন্যদিকে, শব্দের শেষে বসে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে প্রত্যয় বলে। উপসর্গ শব্দের আগে বসে এবং প্রত্যয় শব্দের পরে বসে।
বাংলা ভাষায় তিন প্রকারের উপসর্গ রয়েছে: খাঁটি বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ। ‘প্র’ হলো একটি সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ (যেমন- প্রভাব, প্রচলন, প্রবীণ)।