Solution
Correct Answer: Option D
‘হিন্দি’ শব্দটি মূলত ফারসি ভাষার শব্দ। ফারসি বা পারস্যের মানুষেরা সিন্ধু নদের তীরবর্তী এলাকার অধিবাসীদের ‘সিন্ধি’ না বলে ‘হিন্দি’ বলত। কারণ, ফারসি ভাষায় ‘স’-এর উচ্চারণ ‘হ’-এর মতো হতো। কালক্রমে এই ‘হিন্দি’ শব্দটি দ্বারাই ভারতের অধিকাংশ মানুষের ভাষাকে বোঝানো শুরু হয়।
প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলো:
* বাগযন্ত্র ও ভাষা: বাগযন্ত্র বা বাকপ্রত্যঙ্গ দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে- “মনুষ্যজাতি যে ধ্বনি বা ধ্বনিসকল দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ করে, তার নাম ভাষা।”
* ভাষার কাজ: ভাষা ভাবের বাহন। দেশ, কাল ও পরিবেশভেদে ভাষার পার্থক্য ও পরিবর্তন ঘটে।
* পৃথিবীর ভাষা: বর্তমানে পৃথিবীতে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি ভাষা প্রচলিত আছে। তার মধ্যে প্রকাশভঙ্গির দিক দিয়ে বাংলা ভাষা অন্যতম।
• উদাহরণ:
যেমন- ফারসি ভাষায় 'সপ্তাহ' শব্দটিকে 'হপ্তা' বলা হয় (স > হ পরিবর্তন)। ঠিক একইভাবে 'সিন্ধু' থেকে 'হিন্দু' বা 'হিন্দি' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- হিন্দি: যদিও এটি একটি ভাষার নাম, কিন্তু ‘হিন্দি’ শব্দটি নিজে হিন্দি ভাষার নিজস্ব শব্দ নয়, এটি বিদেশি (ফারসি) উৎস থেকে আগত।
- বাংলা: বাংলা ভাষায় ‘হিন্দি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এর উৎস বাংলা নয়। এটি একটি তৎসম বা তদ্ভব শব্দ নয়, বরং একটি বিদেশি শব্দ।
- তামিল: তামিল একটি দ্রাবিড় ভাষা। ‘হিন্দি’ শব্দের সাথে এর কোনো ব্যুৎপত্তিগত সম্পর্ক নেই।