Solution
Correct Answer: Option B
মুর্শিদকুলী খান কেবল বাংলার দীউয়ান ও সুবাহদার ছিলেন তা নয়, একই সময়ে তিনি ছিলেন উড়িষ্যার দীউয়ান ও সুবাহদার, বিহারের দীউয়ান এবং কয়েকটি জেলার ফৌজদার। তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল তিনটি প্রদেশ। এই সুবাদে তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধ-ুবান্ধবদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেন। তারা তাঁকে রাজস্বসহ প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করেন। ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান পূর্ববর্তী টোডরমল ও শাহ সুজা প্রবর্তিত ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্ত পদ্ধতির সংস্কার করে একটি নতুন বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। রাজস্ব কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি ভূমির উৎপাদনক্ষমতা নিশ্চিত করেন এবং এভাবে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধিরও ব্যবস্থা করেন। তাঁর রাজস্ব ব্যবস্থা মাল জমিনী নামে পরিচিত, অর্থাৎ তিনি জমিদারদের উপর তাদের জমির রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন। তাঁর আমলে বেশ কিছু নতুন ও বৃহৎ জমিদারির পত্তন হয়। তাঁর সময়ে জমিদার হিসেবে সাধারণভাবে হিন্দুরাই অধিকতর পছন্দের ছিলেন। কারণ তিনি মনে করতেন, হিন্দুদের কাছ থেকে সহজে রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে মুর্শিদকুলী খান অত্যন্ত কঠোর ছিলেন এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের তিনি শাস্তি দিতেন। এই শাস্তি কখনও কখনও অত্যাচার ও জবরদস্তিতে পরিণত হতো।