A কর্মকারক, পঞ্চমী বিভক্তি
B করণকারক, তৃতীয়া বিভক্তি
C অপাদান কারক,ষষ্ঠী বিভক্তি
D অধিকরণ কারক,সপ্তমী বিভক্তি
Solution
Correct Answer: Option D
ক্রিয়ার আধারকে কারক ভেদে অধিকরণ কারক বলা হয়। অর্থাৎ, ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধার (স্থান)-কে অধিকরণ কারক বলে।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটি হলো- 'তিলে তৈল আছে'।
- এখানে তিল হলো একটি আধার বা স্থান যেখানে তৈল অবস্থান করছে বা বিদ্যমান আছে। যেহেতু 'তিল'-এর ভেতরে তেল থাকার বিষয়টি বোঝাচ্ছে, তাই এটি অধিকরণ কারক।
- 'তিল' শব্দের সাথে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'তিলে' হয়েছে। ব্যাকরণের নিয়মানুযায়ী 'এ, য়, তে' ইত্যাদি ৭মী বিভক্তির চিহ্ন।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হবে: অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
অধিকরণ কারকের প্রকারভেদ:
অধিকরণ কারক প্রধানত তিন প্রকার। যথা—
১. কালাধিকরণ: যে কালে বা সময়ে ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়, তাকে কালাধিকরণ বলে। যেমন— প্রভাতে সূর্য ওঠে। (সময় বোঝাচ্ছে)
২. আধারাধিকরণ: যে স্থানে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে আধারাধিকরণ বলে। যেমন— বনের বাঘ বনে থাকে। (স্থান বোঝাচ্ছে)
৩. ভাবাধিকরণ: যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনো রূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। একে ভাবে সপ্তমীও বলা হয়। যেমন— কান্নায় কি শোক মন্দীভূত হয়?
• উদাহরণ:
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুর - স্থান, তাই অধিকরণ কারক)
- বসন্তে কোকিল ডাকে। (বসন্ত - কাল বা সময়, তাই অধিকরণ কারক)
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- অপাদান কারক: অপাদান কারকে কোনো কিছু থেকে বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হওয়া বোঝায়। যেমন- 'তিলে তৈল হয়' বা 'তিল থেকে তেল হয়' (এখানে তিল থেকে তেল উৎপন্ন হওয়া বোঝাচ্ছে, তাই এটি অপাদান)। কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে 'তিলে তৈল আছে' (অবস্থান বোঝাচ্ছে), তাই এটি অপাদান নয়, অধিকরণ।
- কর্মকারক: যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্মকারক বলে। এখানে 'তিল' কর্ম নয়।
- করণকারক: কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণকারক বলে। এখানে 'তিল' কোনো যন্ত্র বা সহায়ক নয়।