- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে '-আ' বা '-আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে ক্রিয়াপদ বা ক্রিয়ামূল গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বা নামধাতুর ক্রিয়া (Denominative Verb) বলে। - এখানে 'নাম' বলতে বিশেষ্য বা বিশেষণকে বোঝানো হয়েছে।
মা: এটি হলো ধাতু বা ক্রিয়ামূল। 'মা' ধাতুটির অর্থ হলো পরিমাপ করা, নির্মাণ করা, তৈরি করা ইত্যাদি।
তৃচ্: এটি একটি কৃৎ প্রত্যয়। 'তৃচ্' প্রত্যয় সাধারণত কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত হয় এবং 'কারী' বা 'কর্তা' অর্থে ব্যবহৃত হয়। যখন 'তৃচ্' প্রত্যয় যোগ হয়, তখন প্রত্যয়ের 'চ্' এবং 'র্' লুপ্ত হয় এবং শুধুমাত্র 'তৃ' অংশটি থাকে।
যখন 'মা' ধাতুর সঙ্গে 'তৃচ্' প্রত্যয় যোগ করা হয়, তখন "মা + তৃ" হয়। এরপর সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী এর স্ত্রীলিঙ্গ রূপ 'মাতা' হয়, যার অর্থ যিনি পরিমাপ করেন বা নির্মাণ করেন (অর্থাৎ যিনি জন্ম দেন)।
- যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং প্রাতিপদিক বা নাম শব্দের পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে প্রত্যয় বলে। - প্রত্যয় দুই প্রকার: ১.তদ্ধিত প্রত্যয়, ২.কৃৎ প্রত্যয়।
• কৃৎ প্রত্যয়: যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) । যেমন: ‘আভাসিত’ শব্দটির প্রত্যয় আ + √ ভাসি + ত। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।
অন্যদিকে, তদ্ধিত প্রত্যয় হল এমন কিছু শব্দ বা শব্দাংশ যা কোনো শব্দ বা শব্দের প্রকৃতির শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, যা মূলত বিশেষ্য, বিশেষণ বা সর্বনামের মতো শব্দ তৈরি করে। যেমন, "পঠ + অক" = "পাঠক" বা "দিন + ইক" = "দৈনিক" সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়: - তেজঃ + বিন = তেজস্বী, - পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক, - কুসুম + ইত = কুসুমিত, - সর্বজন + নীন = সর্বজনীন, - নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।
• তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়। যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে । যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়: - তেজঃ + বিন = তেজস্বী, - পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক, - কুসুম + ইত = কুসুমিত, - সর্বজন + নীন = সর্বজনীন, - নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।
অন্যদিকে, চোরা, চোখা, মিঠাই- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- 'চোরা ' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: 'চোর + আ'। - 'চোখা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: 'চোখ + আ'। - ‘মিঠাই’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: 'মিঠা + আই'।
বাংলা ভাষায় কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হলো সেইসব শব্দ, যেগুলো মূল শব্দের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় (যেমন: -ন, -তা, -ক, -ই, ইত্যাদি) যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ তৈরি করে। এখানে "কাঁদন" শব্দটি "কাঁদ" ধাতুর সঙ্গে "ন" কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, পড়া, খাওয়া, দেখা—এসব শব্দ মূলত ধাতু বা মৌলিক ক্রিয়া, এগুলো কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়।
ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতুর শেষে যে সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় বলে। সংস্কৃত কৃত প্রত্যয়গুলো অনেক সময় বাংলায় পরিবর্তিত রূপে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সংস্কৃত 'অনট' প্রত্যয়ের বাংলা রূপ 'অন' - সংস্কৃত 'ণক' প্রত্যয়ের বাংলা রূপ 'অক' ।
- ‘মানব’ শব্দটি এখানে মূল শব্দ বা প্রকৃতি। এটি একটি নাম প্রকৃতি। - ‘ইক’ প্রত্যয়টি ‘মানব’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ ‘মানবিক’ তৈরি করেছে। - ‘মানবিক’ শব্দটি মানব সম্পর্কিত বা মানবের গুণাবলী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এখানে ‘ইক’ প্রত্যয় যোগ করার মাধ্যমে শব্দটি বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। উদাহরণ: মানব + ইক = মানবিক (যেমন: মানবিক গুণাবলী, মানবিক আচরণ)।
- এটি একটি তদ্ধিত প্রত্যয়, যা নাম প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ প্রকাশ করে।
এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।
- অনট্ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দসমূহ হলো এমন শব্দ, যেগুলোতে "অনট্" প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়। - এই প্রত্যয় সাধারণত ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ গঠন করে।
ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতুর শেষে যে সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় বলে। সংস্কৃত কৃত প্রত্যয়গুলো অনেক সময় বাংলায় পরিবর্তিত রূপে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সংস্কৃত 'অনট' প্রত্যয়ের বাংলা রূপ 'অন' - সংস্কৃত 'ণক' প্রত্যয়ের বাংলা রূপ 'অক' ।
যেমন- √গৈ+অক (ণক)= গায়ক, √গম্+অন (অনট) = গমন ইত্যাদি।
- 'ফ্যাকাসে' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় হবে 'ফিকা + সে'। - এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
• তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়। - যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়। - ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।
• বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার। ১) বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। ২) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়। ৩) তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
সোর্স: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
- শব্দের শেষে তি/ক্তি/ন্তি/গ্ধি/দ্ধি/প্তি থাকলে তি/ক্তি হবে এবং প্রত্যয় সাধিত শব্দটি বিশেষ্য/বিশেষণ হবে। • শর্টকাট : তি/ক্তি/ন্তি/গ্ধি/দ্ধি/প্তি = তি/ক্তি
- 'টেক+সই' ছাড়া অন্য সবগুলি উদাহরণে একটি মূল শব্দের সাথে একটি প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে, যা নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করেছে। কিন্তু 'টেক+সই' এর ক্ষেত্রে, এটি দুটি পৃথক শব্দের সমন্বয় মাত্র, যেখানে কোনো প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়নি। - 'টিপ' শব্দের সাথে 'সই' প্রত্যয় যোগ করে 'টিপসই' শব্দটি গঠিত হয়েছে। - 'খবর' শব্দের সাথে 'দার' প্রত্যয় যোগ করে 'খবরদার' শব্দটি গঠিত হয়েছে।। - 'কারি' শব্দের সাথে 'গর' প্রত্যয় যোগ করে 'কারিগর' শব্দটি গঠিত হয়েছে।
বাংলা প্রত্যয়জনিত নারীবাচক শব্দ অভিসারিনী। এ প্রত্যয়গুলো বাংলা শব্দের সাথে যুক্ত হয়। পুরুষবাচক শব্দের শেষে ঈ থাকলে নারীবাচক শব্দে নী হয় এবং আগের ঈ পরবর্তীতে ই হয়।
চাকরি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল পেতে নিয়মিত অনুশীলন ও লাইভ পরীক্ষার কোন বিকল্প নেই।
অনুশীলন প্রশ্ন ব্যাংক বিষয়ভিত্তিক, টপিক ও সাবটপিক আকারে সাজানো। ২০০৫ থেকে সব জব সলিউশন ও টপিকভিত্তিক জব সলিউশন বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ, রুটিন ভিত্তিক নিয়মিত লাইভ পরীক্ষা, পিডিএফ লেকচার শীট।
✅ প্রধান শিক্ষক প্রস্তুতি - লেকচারশীট ভিত্তিকঃ রুটিন আপলোড করা হয়েছে। (২য় ব্যাচ) পরীক্ষা শুরুঃ ৫ ফেব্রুয়ারি। মোট পরীক্ষা – ৮০টি। টপিক ভিত্তিক – ৪০টি। সাবজেক্ট ভিত্তিক – ২০টি। ফুল মডেল টেস্ট – ২৮টি। প্রতিদিন পরীক্ষা ও প্রতি ৩ দিন পরপর ফুল ও বিষয়ভিত্তিক মডেল টেস্ট। সব প্রশ্ন সাজেশন্স ভিত্তিক।
✅ ৫১ তম বিসিএস প্রস্ততি - ২৩৬ দিনে সম্পূর্ণ সিলিবাস। ✪ পরীক্ষা শুরুঃ ১০ ফেব্রুয়ারি। ✪ মোট পরীক্ষাঃ ১৬২টি ✪ ডেইলি পরীক্ষাঃ ১০০টি ✪ প্রতি ২টি ডেইলি পরীক্ষার পর ১টি করে রিভিশনের মোট পরীক্ষাঃ ৫০টি ✪ পাক্ষিক রিভিশনঃ ১১টি ✪ প্রতি পরীক্ষায় ৫০টি Exclusive MCQ
✅ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি'র লং কোর্স (রুটিনের জন্য পিডিএফ বাটন দেখুন) - পরীক্ষা শুরুঃ ১০ নভেম্বর। - মোট পরীক্ষাঃ ১২৮টি, - টপিক ভিত্তিকঃ ১১২টি, - রিভিশন পরীক্ষাঃ ২২টি, - Vocabulary রিভিশনঃ ৩বার
অ্যাপ এর হোম screen -এ পিডিএফ বাটন ক্লিক করুন, এখান থেকে রুটিন ডাউনলোড করতে পারবেন। রুটিনের তারিখ অনুযায়ী পরীক্ষা রাত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোন সময় দিতে পারবেন, ফলাফল সাথে সাথে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হয়। missed পরীক্ষাগুলো আর্কাইভ থেকে দিতে পারবেন, তবে মেরিট লিস্ট আসবে না, মেরিট লিস্টে থাকতে হলে রুটিন অনুযায়ী নির্দিষ্ট তারিখে দিতে হবে। আর্কাইভ থেকে পরীক্ষা দিতে হলে ভিজিট করুনঃ অ্যাপ এর হোম স্ক্রীনে 'পরীক্ষার সেকশন' বাটনে ক্লিক করুন -> বিসিএস বাটন -> [ফ্রি কোর্স] ৫০তম বিসিএস প্রিলি ২২০ দিনের সেকশনের All Exam বাটন ক্লিক করুন -> এখান Upcoming, Expired ট্যাব পাবেন।
✅ আপকামিং রুটিনঃ - ১০০ দিনের বিসিএস বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি। - অগ্রদূত বাংলা বই অনুসারে বাংলা সাহিত্য ও ভাষা রুটিনে টপিক ও বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ থাকবে।। - English মাস্টার বই অনুসারে রুটিনে টপিক ও বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ থাকবে।