Solution
Correct Answer: Option B
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধার (স্থান)-কে অধিকরণ কারক বলে। সহজ কথায়, ক্রিয়াটি কোথায় বা কখন সংঘটিত হচ্ছে তা বোঝালে সেটি অধিকরণ কারক হয়।
প্রদত্ত বাক্যটিতে 'এ বাড়িতে কেউ নেই' বলতে একটি নির্দিষ্ট স্থান বা জায়গা বোঝানো হচ্ছে। প্রশ্ন করা যেতে পারে— 'কোথায় কেউ নেই?' উত্তর আসবে— 'বাড়িতে'। যেহেতু 'বাড়ি' একটি স্থান, তাই এটি অধিকরণ কারক।
এবার বিভক্তি নির্ণয় করা যাক:
মূল শব্দ 'বাড়ি' এর সাথে 'তে' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী 'এ', 'য়', 'তে', 'এতে'— এই বিভক্তিগুলো সপ্তমী বিভক্তির চিহ্ন।
সুতরাং, সামগ্রিকভাবে এটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলো:
* ক্রিয়াকে 'কোথায়' (স্থান), 'কখন' (সময়) বা 'কী বিষয়ে' (বিষয়) দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা অধিকরণ কারক।
* অধিকরণ কারক প্রধানত তিন প্রকার:
১. কালাধিকরণ: যে কালে বা সময়ে ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। (যেমন: প্রভাতে সূর্য ওঠে।)
২. আধারাধিকরণ: যে স্থানে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। (যেমন: বনে বাঘ থাকে।)
৩. ভাবাধিকরণ: যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। (যেমন: কান্নায় কি শোক কমে?)
• উদাহরণ:
- তিলে তৈল আছে। (আধারাধিকরণ - ঐকদেশি্ক)
- পুকুরে মাছ আছে। (আধারাধিকরণ - ঐকদেশি্ক)
- সকালে সে আসবে। (কালাধিকরণ)
- তিনি ব্যাকরণে পন্ডিত। (বিষয়াধিকরণ)
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- অপাদান কারক: যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন বা রক্ষিত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। যেমন— 'গাছ থেকে পাতা পড়ে'। কিন্তু এখানে কোনো কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বোঝাচ্ছে না, বরং একটি স্থানে অবস্থান (বা না থাকা) বোঝাচ্ছে।
- করণ কারক: 'করণ' শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র বা উপকরণকে করণ কারক বলে। যেমন— 'কলম দিয়ে লিখি'। বাড়িতে কোনো উপকরণ বা মাধ্যম নয়।
- কর্ম কারক: যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে কর্ম কারক পাওয়া যায়। এখানে বাড়ি কোনো কাজকে আশ্রয় দিচ্ছে না, বরং স্থান নির্দেশ করছে।