Solution
Correct Answer: Option C
বাংলা ব্যাকরণে সন্ধির সাধারণ নিয়ম অনুসারে দুটি ধ্বনির মিলন ঘটে। কিন্তু কিছু সন্ধি আছে যা প্রচলিত কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা সূত্র মেনে চলে না। এগুলোকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি।
’পরস্পর’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: পর + পর = পরস্পর।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এখানে সন্ধি হওয়ার কথা ছিল না, বা হলেও অন্য কোনো পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল (যেমন- অ-কারের পর অ-কার থাকলে আ-কার হওয়া)। কিন্তু এখানে কোনো সাধারণ নিয়ম না মেনে মাঝখানে একটি ’স্’ ধ্বনি আগম হয়েছে। এই অনিয়মিত বা ব্যতিক্রমী গঠনের কারণেই এটি ‘নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি’র উদাহরণ।
প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলো:
* সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন। পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
* যে সন্ধি প্রচলিত কোনো নিয়ম বা সূত্র অনুসারে হয় না, তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
* নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি সাধারণত নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি, নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি এবং নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গসন্ধি- এই তিন প্রকার হতে পারে। তবে পাঠ্যবইগুলোতে এগুলোকে সাধারণত ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ নামেই আলাদা করে দেখানো হয়।
• উদাহরণ:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য
- বন + পতি = বনস্পতি
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি
- গো + পদ = গোষ্পদ
- তৎ + কর = তস্কর
- এক + দশ = একাদশ
- মনস্ + ঈষা = মনীষা
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি