সরাসরি মূল কন্টেন্টে যান

ধ্বনি পরিবর্তন

২০৪ টি প্রশ্ন
টপিক তালিকা
একই বিষয়ের সব টপিক
ব্যাখ্যা (Explanation)
উচ্চারণের সুবিধার জন্য যুক্তব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসার প্রক্রিয়াকে বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে ।
এখানে 'প্রীতি' শব্দের যুক্তব্যঞ্জন (প্ + র)-এর মাঝে 'ই' স্বরধ্বনি এসে 'পিরীতি' গঠিত হয়েছে ।
- মূল শব্দ: প্রীতি
- পরিবর্তিত রূপ: পিরীতি (মাঝে 'ই' স্বরধ্বনির আগমন) ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
শব্দের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে অন্য কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হলে তাকে ব্যঞ্জনবিকৃতি বলে ।
এখানে 'কবাট' শব্দের 'ব' ধ্বনিটি পরিবর্তিত হয়ে 'প' ধ্বনিতে রূপ নিয়েছে । তাই এটি ব্যঞ্জনবিকৃতির উদাহরণ ।
- ধোবা > ধোপা
- শাক > শাপ
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হলে তাকে পরাগত সমীভবন বলে ।
'কাঁদনা > কান্না' শব্দে পরের ধ্বনি 'ন'-এর প্রভাবে আগের 'দ' ধ্বনিটি বদলে 'ন' হয়ে গেছে ।
- প্রগত: আগের ধ্বনির প্রভাবে পরেরটি বদলায় ।
- পরাগত: পরের ধ্বনির প্রভাবে আগেরটি বদলায় ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
শব্দের আদিস্বর (প্রথম স্বরধ্বনি) অনুযায়ী যদি অন্ত্যস্বর (শেষ স্বরধ্বনি) পরিবর্তিত হয়, তাকে প্রগত স্বরসংগতি বলে ।
'মুলা' শব্দে প্রথম স্বরধ্বনি 'উ' এর প্রভাবে শেষ স্বরধ্বনি 'আ' পরিবর্তিত হয়ে 'ও' (মুলো) হয়েছে ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
- আদি স্বরাগম: উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের শুরুতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে । যেমন: স্কুল > ইস্কুল (শব্দের শুরুতে 'ই' ধ্বনি এসেছে) ।
- মধ্য স্বরাগম: উচ্চারণের সুবিধার জন্য যুক্তব্যঞ্জনের মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম বা স্বরভক্তি বলে । যেমন: রত্ন > রতন (ত্+ন-এর মাঝে 'অ' ধ্বনি এসেছে) ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
বিষমীভবন (Dissimilation):
শব্দের মধ্যে থাকা দুটো সমবর্ণ বা একই ব্যঞ্জনধ্বনির একটি পরিবর্তিত হলে তাকে বিষমীভবন বলে।

• উদাহরণ:
- শরীর > শরীল (দুটি 'র'-এর একটি পরিবর্তিত হয়ে 'ল' হয়েছে)।
- লাল > নাল (দুটি 'ল'-এর একটি পরিবর্তিত হয়ে 'ন' হয়েছে)।
- আরমারি > আলমারি।

• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করলে তাকে সমীভবন বলে (যেমন: জন্ম > জম্ম)।
- বর্ণবিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে বর্ণবিপর্যয় বলে (যেমন: রিক্সা > রিস্কা)।
- অসমীকরণ: একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করতে মাঝখানে স্বরধ্বনি যুক্ত হলে তাকে অসমীকরণ বলে (যেমন: ধপ + ধপ > ধপাধপ)।
ব্যাখ্যা (Explanation)
পরাগত স্বরসংগতি:
অন্ত্য স্বরের (পরের স্বরের) প্রভাবে আদি স্বরের (আগের স্বরের) পরিবর্তন ঘটলে তাকে পরাগত স্বরসংগতি বলে।

• উদাহরণ:
- দেশি > দিশি (পরের 'ই'-কারের প্রভাবে আগের 'এ'-কার পরিবর্তিত হয়ে 'ই'-কার হয়েছে)।
- আখুয়া > এখো (উ-কারের প্রভাবে আ-কার পরিবর্তিত হয়ে এ-কার হয়েছে)।

• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- প্রগত স্বরসংগতি: আদি স্বরের প্রভাবে অন্ত্য স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে প্রগত স্বরসংগতি বলে (যেমন: মুলা > মুলো)।
- মধ্যগত স্বরসংগতি: আদি ও অন্ত্য স্বরের প্রভাবে মাঝের স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে মধ্যগত স্বরসংগতি বলে (যেমন: বিলাতি > বিলিতি)।
- অন্যোন্য স্বরসংগতি: আদি ও অন্ত্য উভয় স্বরই পরস্পরের প্রভাবে পরিবর্তিত হলে তাকে অন্যোন্য স্বরসংগতি বলে (যেমন: মোজা > মুজো)।
ব্যাখ্যা (Explanation)
আদিস্বরলোপ:
শব্দের আদিতে বা শুরুতে থাকা স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদিস্বরলোপ বলা হয়। উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের কোনো স্বরধ্বনি বাদ পড়লে তাকে সাধারণভাবে স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ বলে।

• উদাহরণ:
- অলাবু > লাবু > লাউ (এখানে শুরুতে থাকা আদি স্বর 'অ' লোপ পেয়েছে)।
- উদ্ধার > উধার > ধার।

• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- অন্তঃস্বরলোপ: শব্দের শেষের স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তঃস্বরলোপ বলে (যেমন: আশা > আশ)।
- মধ্যস্বরলোপ: শব্দের মাঝখানের স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বরলোপ বলে (যেমন: অগুরু > অগরু)।
- আদি স্বরাগম: উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের শুরুতে স্বরধ্বনি যুক্ত হলে তাকে আদি স্বরাগম বলে (যেমন: স্কুল > ইস্কুল)।
ব্যাখ্যা (Explanation)
স্বরসংগতি (Vowel Harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অন্য স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসংগতি বলে। বাংলা ভাষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়ম। সাধারণত আদি স্বর অনুযায়ী অন্ত্য স্বর অথবা অন্ত্য স্বর অনুযায়ী আদি স্বর পরিবর্তিত হয়।

• উদাহরণ:
- দেশি > দিশি (এ-র প্রভাবে ই হয়ে যাওয়া)
- বিলাতি > বিলিতি (আ-র প্রভাবে ই হয়ে যাওয়া)

• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- স্বরভক্তি: শব্দমধ্যস্থ যুক্তব্যঞ্জন ভেঙে মাঝখানে স্বরধ্বনি আনলে তাকে স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ বলে (যেমন: রত্ন > রতন)।
- স্বরলোপ: উচ্চারণের দ্রুততার জন্য শব্দের আদি, মধ্য বা অন্ত্য স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে স্বরলোপ বলে।
- স্বরসঙ্গম: এটি বাংলা ব্যাকরণের ধ্বনি পরিবর্তনের প্রচলিত কোনো নিয়ম নয়।

প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা ওয়েবসাইটে; সবগুলোর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে অ্যাপ ইন্সটল করুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
শব্দের প্রথম স্বরধ্বনি (আদিস্বর) অনুযায়ী পরের স্বরধ্বনি (অন্ত্যস্বর) পরিবর্তিত হলে তাকে প্রগত স্বরসংগতি বলে ।
এখানে 'শিখা' শব্দে আদিস্বর 'ই'-এর প্রভাবে অন্ত্যস্বর 'আ' পরিবর্তিত হয়ে 'এ' (শিখে) হয়েছে । একইভাবে 'মিঠা' শব্দে প্রথম 'ই'-এর কারণে পরের 'আ' বদলে 'এ' (মিঠে) হয়েছে ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
শব্দের মধ্যে পরের ই-কার বা উ-কার আগে উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে ।
যেমন:
- 'আজি' > 'আইজ' ('ই' আগে উচ্চারিত হয়েছে) ।
- 'চারি' > 'চাইর' ('ই' আগে উচ্চারিত হয়েছে) ।
পরের 'ই' কার আগে আসার এই নিয়মই অপিনিহিতি ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
শব্দে পাশাপাশি দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে, আগের ধ্বনির প্রভাবে যদি পরের ধ্বনিটি বদলে আগের ধ্বনির মতো হয়ে যায়, তবে তাকে প্রগত সমীভবন বলে ।
উদাহরণ:
- পক্ব > পক্ক (আগের ধ্বনি 'ক'-এর প্রভাবে পরের 'ব' বদলে 'ক' হয়েছে) ।
- চক্র > চক্ক (আগের ধ্বনি 'ক'-এর প্রভাবে পরের 'র' বদলে 'ক' হয়েছে) ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
উচ্চারণের সুবিধার জন্য যুক্তব্যঞ্জন ভেঙে মাঝখানে স্বরধ্বনি আসাকে মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি বলে ।
- রত্ন > রতন: 'ত্ন' (ত্+ন্) যুক্তবর্ণের মাঝে 'অ' স্বরধ্বনি এসেছে ।
- ধর্ম > ধরম: 'র্ম' (র্+ম্) যুক্তবর্ণের মাঝেও 'অ' স্বরধ্বনি যুক্ত হয়েছে ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি এলে তাকে অন্ত্যস্বরাগম বলে।
যেমন:
- 'সত্য' এর শেষে 'ই' ধ্বনি যুক্ত হয়ে হয়েছে 'সত্যি'।
- 'বেঞ্চ' এর শেষে 'ই' ধ্বনি যুক্ত হয়ে হয়েছে 'বেঞ্চি'।
শব্দের শেষে এই অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসার কারণেই এগুলো অন্ত্যস্বরাগম।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
শব্দে পাশাপাশি দুটো স্বরধ্বনি থাকলে তা যৌগিক স্বর না হলে উচ্চারণের সুবিধার জন্য মাঝে অন্তস্থ 'য়' বা 'ব' ধ্বনি আসে । এই অপ্রধান ব্যঞ্জনধ্বনিকে ইংরেজিতে Euphonic glides বা য়-শ্রুতি ও ব-শ্রুতি বলে ।
- উদাহরণ: মা + আমার = মায়ামার ('য়' ধ্বনির আগমন) ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)

'করিয়া' থেকে 'করে' শব্দটির পরিবর্তন একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা অভিশ্রুতি (Umlaut) নামে পরিচিত।
এই পরিবর্তনটি দুটি ধাপে ঘটে:

১. অপিনিহিতি: প্রথমে 'করিয়া' শব্দটি কথ্য ভাষায় 'কইরা' বা 'কইর‍্যা' রূপ নেয়। এখানে 'ই' কারটি তার স্বাভাবিক অবস্থানের আগে চলে আসে। একে অপিনিহিতি বলে।
২. অভিশ্রুতি: এরপর, অপিনিহিতির ফলে সৃষ্ট 'ই' ধ্বনি এবং তার পূর্ববর্তী 'অ' ধ্বনি মিলিত হয়ে 'এ' ধ্বনিতে রূপান্তরিত হয় ('অ' + 'ই' = 'এ') এবং পরবর্তী 'আ' ধ্বনি লুপ্ত হয়। ফলে 'কইরা' থেকে 'করে' শব্দটি তৈরি হয়।

এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি হলো অভিশ্রুতি, যা মূলত অপিনিহিতির পরবর্তী ধাপ।

ব্যাখ্যা (Explanation)
- অভিশ্রুতি হলো অপিনিহিতির পরবর্তী পর্যায়।
- অপিনিহিতির ফলে কোনো স্বরধ্বনি (সাধারণত ই বা উ) তার স্বাভাবিক অবস্থানের আগে চলে আসে। পরবর্তীতে সেই এগিয়ে আসা স্বরধ্বনিটি তার পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিশে যায় এবং পরবর্তী স্বরকেও পরিবর্তন করে, এই প্রক্রিয়াকেই অভিশ্রুতি বলে।
- উদাহরণস্বরূপ: 'করিয়া' শব্দটি অপিনিহিতির ফলে 'কইরা' হয় এবং অভিশ্রুতির মাধ্যমে তা 'করে'-তে পরিণত হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের শুরুতে বা আদিতে যখন কোনো স্বরধ্বনি যুক্ত হয়, তখন সেই প্রক্রিয়াটিকে আদি স্বরাগম বলা হয়।
- সাধারণত শব্দের প্রথমে যুক্তব্যঞ্জন থাকলে তা উচ্চারণ করতে সহজ করার জন্য তার আগে স্বরধ্বনি আনা হয়।
- যেমন: স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন, স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।
ব্যাখ্যা (Explanation)
- বাংলা ব্যাকরণে, প্রকৃতির শেষে প্রত্যয় যুক্ত হলে প্রকৃতির আদিস্বরের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে গুণ ও বৃদ্ধি বলে।
- কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় প্রকৃতির বা ধাতুর আদিস্বরের এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে হয়ে থাকে।

গুণ ও বৃদ্ধি কী?
গুণ: ই, ঈ-কারের স্থলে এ-কার এবং উ, ঊ-কারের স্থলে ও-কার হলে তাকে গুণ বলে।
উদাহরণ:
- √চিন্ + আ = চেনা (এখানে 'ই'-কার পরিবর্তিত হয়ে 'এ'-কার হয়েছে)
- √নী + আ = নেওয়া (এখানে 'ঈ'-কার পরিবর্তিত হয়ে 'এ'-কার হয়েছে)
= √ধু + আ = ধোয়া (এখানে 'উ'-কার পরিবর্তিত হয়ে 'ও'-কার হয়েছে)

বৃদ্ধি: অ-কারের স্থলে আ-কার, ই-কার ও ঈ-কারের স্থলে ঐ-কার এবং উ, ঊ-কারের স্থলে ঔ-কার হলে তাকে বৃদ্ধি বলে।
উদাহরণ:
- √পচ্ + অক = পাচক (এখানে 'অ'-কার পরিবর্তিত হয়ে 'আ'-কার হয়েছে)
- √শিশু + অ = শৈশব (এখানে 'ই'-কার পরিবর্তিত হয়ে 'ঐ'-কার হয়েছে)
- √যুবন্ + অ = যৌবন (এখানে 'উ'-কার পরিবর্তিত হয়ে 'ঔ'-কার হয়েছে)

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গুণ।

নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন — অ্যাপে লাইভ পরীক্ষা দিয়ে মেরিট লিস্টে নিজের অবস্থান দেখুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
অপিনিহিতি হলো একটি ধ্বনিগত পরিবর্তন যেখানে শব্দের মধ্যে থাকা 'ই' বা 'উ' ধ্বনি তার প্রকৃত স্থান থেকে এগিয়ে এসে উচ্চারিত হয়। অর্থাৎ, 'ই' বা 'উ' ধ্বনিটি তার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের পরে না বসে, সেই ব্যঞ্জনের আগেই বসে যায়।
উদাহরণস্বরূপ:
আজি > আইজ: এখানে 'আজি' শব্দে 'জ' এর পরে 'ই' ছিল। অপিনিহিতির কারণে 'ই' ধ্বনিটি 'জ' এর আগে চলে এসে 'আইজ' হয়েছে।
সাধু > সাউধ: এখানে 'সাধু' শব্দে 'ধ' এর পরে 'উ' ছিল। অপিনিহিতির কারণে 'উ' ধ্বনিটি 'ধ' এর আগে চলে এসে 'সাউধ' হয়েছে।
সত্য > সত্যি > সইত্য: এখানে 'সত্য' থেকে 'সত্যি' হয়ে তারপর অপিনিহিতির কারণে 'ই' ধ্বনিটি 'ত্' এর আগে চলে এসে 'সইত্য' হয়েছে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
দুটি স্বরধ্বনি পাশাপাশি উচ্চারিত হলে মাঝখানে একটি শূন্যস্থানের সৃষ্টি হয়, যা উচ্চারণকে কিছুটা কঠিন করে তোলে। এই কঠিনতা দূর করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই মাঝখানে একটি অতিরিক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগমন ঘটে। এই অতিরিক্ত ধ্বনিকে শ্রুতিধ্বনি বলা হয়। বাংলা ভাষায় এই শ্রুতিধ্বনি দুই প্রকারের হয়ে থাকে:

য়-শ্রুতি (অ-শ্রুতি): দুটি স্বরধ্বনির মধ্যে যদি ‘য়’ (y) ধ্বনির আগমন ঘটে, তবে তাকে য়-শ্রুতি বা অ-শ্রুতি বলে।
উদাহরণ: মা + এর = মায়ের। এখানে ‘আ’ এবং ‘এ’ স্বরধ্বনি দুটির মাঝে ‘য়’ শ্রুতিধ্বনির আগমন ঘটেছে।

ব-শ্রুতি: দুটি স্বরধ্বনির মধ্যে যখন ‘ব’ (w) ধ্বনির আগমন ঘটে, তখন তাকে ব-শ্রুতি বলা হয়।
উদাহরণ: খা + আ = খাওয়া। এখানে ‘আ’ এবং ‘আ’ স্বরধ্বনি দুটির মাঝে ‘ব’ (ওয়া) শ্রুতিধ্বনির আগমন ঘটেছে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
- অ- রত্ন> রতন, ধর্ম> ধরম, স্বপ্ন> স্বপন, হর্ষ> হরষ ইত্যাদি।
- আ- প্রাণ>পরাণ ইত্যাদি।
- ই- প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ >কিলিপ, ফিল্ম> ফিলিম ইত্যাদি।
- ও- শ্লোক > শোলোক, মুরগ >মুরোগ> মোরগ ইত্যাদি।
- এ- গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ> সেরেফ ইত্যাদি।
ব্যাখ্যা (Explanation)
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বতা : শব্দের কোন ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হলে, অর্থাৎ দুইবার উচ্চারিত হলে তাকে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বতা বলে । মূলত জোর দেয়ার জন্য দ্বিত্ব ব্যঞ্জন হয় । যেমন, পাকা> পাক্কা, সকাল> সক্কাল
ব্যাখ্যা (Explanation)
- ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।

যেমন:
- চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)।
- বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ)।
- উৎ + লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)।
- বাক্ + দান = বাগ্দান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।
- তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে (এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন )।
- শম্ + কা = শঙ্কা (এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ)।
- সম্ + চয় = সঞ্চয় (এখানে তালব্যধ্বনি চ-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঞ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিশ্ > দিশা;
- পোখত্ > পোক্ত;
- বেঞ্চ > বেঞ্চি;
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।
ব্যাখ্যা (Explanation)
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে।
- অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
- যেমন: চক্র > চক্ক, পক্ব > পক্ক, পদ্ম > পদ্দ, লগ্ন > লগ্গ, লাল > নাল ইত্যাদি।
ব্যাখ্যা (Explanation)
ব্যঞ্জনচ্যুতি : পাশাপাশি দুটি একই উচ্চারণের ব্যঞ্জন থাকলে তার একটি লোপ পেলে তাকে বলে ব্যঞ্জনচ্যুতি । যেমন, বউদিদি> বউদি, বড় দাদা> বড়দা
ব্যাখ্যা (Explanation)
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি ,অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ ।
যেমনঃ
- গামোছা >গামছা ;
- সুবর্ণ>স্বর্ণ;
- অগুরু>অগ্রু


স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ ৩ প্রকার:
- আদিস্বরলোপ
- মধ্যস্বর লোপ
- অন্ত্যস্বর লোপ
ব্যাখ্যা (Explanation)
ধ্বনি প্রধানত দুই প্রকার- ১) স্বরধ্বনি এবং ২) ব্যঞ্জনধ্বনি। উভয়প্রকার ধ্বনিরই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আবার ধ্বনি পরিবর্তনের ধরণগুলি মূলত চার প্রকারের। যথা- 
ক) ধ্বনির আগম- উচ্চারণকালে নতুন একটি বা একাধিক ধ্বনির আগমন ঘটে। যেমন- স্কুল> ইস্কুল, স্ত্রী> ইস্ত্রী ইত্যাদি।
খ) ধ্বনির লোপ- উচ্চারণকালে একটি বা একাধিক ধ্বনি লোপ পায়। যেমন- গামোছা> গামছা, জানালা> জানলা ইত্যাদি।
গ) ধ্বনির রূপান্তর- শব্দমধ্যস্থ কোনো ধ্বনি রূপান্তরিত হয়। যেমন- গল্প> গপ্প, শরীর> শরীল ইতাদি।
ঘ) ধ্বনির স্থানান্তর- দ্রুত উচ্চারণের ফলে বা অসাবধানতাবশত পাশাপাশি থাকা দুটি ধ্বনি একটির জায়গায় আরেকটি উচ্চারিত হয়। যেমন- রিকশা> রিশকা, মুকুট> মুটুক ইত্যাদি। 
 
নবম ও দশম শ্রেণির নতুন বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থে প্রায় ১৮ প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

এই টপিকের সব প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ, ভুল-সঠিক-বুকমার্ক আলাদা করে রিভিশন — অ্যাপে।

ব্যাখ্যা (Explanation)
ব্যঞ্জনচ্যুতি : পাশাপাশি দুটি একই উচ্চারণের ব্যঞ্জন থাকলে তার একটি লোপ পেলে তাকে বলে ব্যঞ্জনচ্যুতি । যেমন, বউদিদি> বউদি, বড় দাদা> বড়দা
সঠিক উত্তর: ০ ভুল উত্তর: ০
নোটিশ

 ✅ টপিক ও সাব-টপিকভিত্তিক জব সলিউশন্স 

২০০৫ – ২০২৬ সাল পর্যন্ত সব জব সলিউশন্স প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়েছে — সর্বমোট প্রায় ২৫ হাজার ইউনিক প্রশ্ন। ১২তম – ২০তম গ্রেডের পরীক্ষার্থীরা শুধু এইগুলো পড়লেই হবে।

▶ প্রশ্ন ব্যাংক → অনুশীলন → এরপর উপরের ডানে হলুদ বাটনে ক্লিক করে Job Solutions ফিল্টার করে নিন।
↻ প্রতি সপ্তাহে নতুন জব প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়।


 ★ বর্তমান চলমান কোর্স (সব পরীক্ষা website থেকে OMR পদ্ধতিতে দিতে পারবেন) 

১) ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি'র লং কোর্স (১৫৬ দিন)  নতুন 
২) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (লেকচার শিট ভিত্তিক কোর্স) নতুন 
৩) ‘অগ্রদূত বাংলা’ ৯০ দিনের মাস্টার স্টাডি রুটিন নতুন 
৪) Master English Study (৯৯ দিনের স্পেশাল কোর্স) নতুন 
৫)
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — লেকচারশীট ভিত্তিক
৬) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৭) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৮) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — সমাজবিজ্ঞান
৯) ১৯তম নিবন্ধন (প্রভাষক) — গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান
১০) ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি — ২৩৬ দিনে সম্পূর্ণ সিলেবাস
১১) টপিক ভিত্তিক জব সলিউশন রুটিন (১৬৫ দিনের)
১২) প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (৩য় ব্যাচ)
১৩)  ৫১তম স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) সমন্বিত প্রস্তুতি রুটিন (মেডিকেল)  নতুন 
১৪) সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী


 ➤ আপকামিং কোর্স ও রুটরশ

✦ ১০তম-১৩তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ১৪তম-২০তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ৫২তম বিসিএস প্রস্তুতি।