বাঙ্গালা থেকে বেঙ্গল (বাংলা): - মধ্যযুগে ‘গৌড়’ এবং ‘বঙ্গ’ সত্তার পৃথক পরিচয় গড়ে ওঠে ‘লখনৌতি’ এবং ‘সোনারগাঁও' নামের ভিন্ন প্রশাসনিক পরিচয়ের আদলে।
- এ সময় ‘সাতগাঁও’ নামেও পৃথক একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র তার বিশেষ পরিচিতি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গ ও গৌড় নামের প্রভাব-প্রতিপত্তি তখনও বজায় ছিল।
- চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝিতে পারস্য (ইরান) থেকে আগত শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রায় সমগ্র এলাকা দখল করে ‘বাঙ্গালাহ’ নামের প্রাতিষ্ঠানিক প্রবর্তন ঘটান।
- এভাবে ‘বঙ্গ’ থেকে ‘বঙ্গাল’ এবং ‘বঙ্গাল’ থেকে ‘বাঙ্গালা’ নামের উৎপত্তি হয়।
- দিল্লির দরবারি ইতিহাসবিদ শামস-ই-সিরাজ আফিফ সুলতান ইলিয়াস শাহকে ‘শাহ- ই-বাঙ্গালাহ’, ‘শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান’ এবং ‘সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ্” পরিচয়ে আখ্যায়িত করেন। - এই বাঙ্গালার আইনগত সীমানা নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব। কেননা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজবংশ ও রাজার ক্ষমতা বলয়ের সংকোচন ও সম্প্রসারণ ঘটে।
সোর্সঃ মাধ্যমিক বোর্ড বই - ২০২৪