Solution
Correct Answer: Option C
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দকে 'পদ' বলা হয়। শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তার সঙ্গে কিছু বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়, যা শব্দকে বাক্যের অন্যান্য পদের সাথে সম্পর্কযুক্ত করে। এই বর্ণ বা বর্ণসমষ্টিকেই বিভক্তি বলে।
- বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় বা সম্পর্ক স্থাপনের জন্য শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে যে সকল বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়, তাদের বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি ছাড়া বাক্যের পদগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি হয় না এবং বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যেমন: 'ছাদ' এবং 'বসে' শব্দ দুটি আলাদা। কিন্তু 'ছাদে বসে' বললে স্থানিক সম্পর্ক বোঝা যায়। এখানে 'এ' হলো বিভক্তি।
- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী শব্দ-বিভক্তি ৭ প্রকার: প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী।
• উদাহরণ:
- 'মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।'
এই বাক্যে 'শিশু' শব্দের সঙ্গে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'শিশুকে' হয়েছে, যা ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
- 'বুলবুলিতে ধান খেয়েছে।'
এখানে 'বুলবুলি' শব্দের সাথে 'তে' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- সমাস: সমাস অর্থ সংক্ষেপণ। দুই বা ততোধিক পদকে এক পদে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। এটি পদের সাথে বিভক্তি যোগ করার প্রক্রিয়া নয়, বরং নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া।
- কারক: বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। কারক সম্পর্ক নির্দেশ করে, কিন্তু যে চিহ্নের মাধ্যমে এই সম্পর্ক প্রকাশ পায় তা হলো বিভক্তি।
- সম্বন্ধ পদ: বাক্যের যে পদের সঙ্গে ক্রিয়াপদের কোনো সরাসরি সম্পর্ক থাকে না কিন্তু অন্য কোনো বিশেষ্য পদের সম্পর্ক থাকে, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে (যেমন- তার ভাই)। এটি কোনো ব্যাকরণিক চিহ্ন নয়, বরং একটি পদের ধরন।