‘মৃগয়া’ শব্দের দ্বারা হরিণ বোঝালে অর্থের কি ধরনের পরিবর্তন হয়?
Solution
Correct Answer: Option C
- শব্দার্থ পরিবর্তন: ভাষায় ব্যবহৃত শব্দের অর্থ সর্বদা স্থির থাকে না; কালের বিবর্তনে শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন মূলত তিন প্রকার: অর্থের বিস্তার বা প্রসার, অর্থের সংকোচন, এবং অর্থের রূপান্তর বা সংশ্লেষ।
- অর্থ সংকোচন: যখন কোনো শব্দ তার আদি বা মূল অর্থের ব্যাপকতা হারিয়ে, কালক্রমে একটি নির্দিষ্ট বা সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করে, তখন তাকে অর্থের সংকোচন বা অর্থ-সংকোচন বলে।
• উদাহরণ:
- মৃগয়া: শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘বন্য প্রাণী শিকার’ (মৃগ অর্থাৎ বন্য জন্তু শিকার)। প্রাচীনকালে যে কোনো বন্য পশু শিকারকেই ‘মৃগয়া’ বলা হতো। কিন্তু বর্তমানে শব্দটি কেবল ‘হরিণ শিকার’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেহেতু বন্য প্রাণীর ব্যাপক অর্থ থেকে সরে এসে এটি নির্দিষ্ট একটি প্রাণীতে (হরিণ) সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে, তাই এটি অর্থের সংকোচন-এর উদাহরণ।
- অন্ন: একসময় এর অর্থ ছিল ‘খাদ্য বা ভক্ষ্য বস্তু’। বর্তমানে এটি সংকুচিত হয়ে কেবল ‘ভাত’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- অর্থ বদল: এটি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণিক পরিভাষা নয়, সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। ব্যাকরণে অর্থের পরিবর্তনের নির্দিষ্ট শ্রেণিবিভাগ রয়েছে।
- অর্থ প্রসার: যখন কোনো শব্দ তার মূল অর্থের গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যাপকতর অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে অর্থ প্রসার বলে। যেমন: ‘গং’ (গঙ্গা নদী) > বর্তমানে ‘যে কোনো নদী’।
- অর্থের ভাবার্থ: এটি শব্দের অর্থের পরিবর্তন নির্দেশক কোনো প্রক্রিয়া নয়, বরং কোনো বিষয়ের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।