‘এ’, ‘য়’ বিভক্তিগুলো শব্দের সাথে যুক্ত হয় কোন কারকে?

A করণ কারক

B অপাদান কারক

C অধিকরণ কারক

D সম্বন্ধ কারক

Solution

Correct Answer: Option C

বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে (স্থান) অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি বা ‘এ’, ‘য়’, ‘তে’ বিভক্তি যুক্ত হয়।
উদাহরণস্বরূপ:
* কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল। (কানন + এ = স্থান বোঝাচ্ছে)
* সকালে সোনার রবি পূর্ব দিকে ওঠে। (সকাল + এ = সময় বোঝাচ্ছে)
* তিলকে তাল করা। (তিল + কে = এখানে কে বিভক্তি হলেও তিলকের মধ্যে অর্থে স্থান বোঝাচ্ছে, তবে মূল প্রশ্নানুসারে 'এ' বিভক্তি প্রাসঙ্গিক: তিলে তৈল আছে।)
* গলায় হার। (গলা + য় = স্থান বোঝাচ্ছে)

ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- করণ কারক: ‘করণ’ শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। এতে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়া’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়, অথবা তৃতীয়া বিভক্তি দেখা যায়। যেমন- ছেলেরা বল খেলে (বলের দ্বারা)।

- অপাদান কারক: যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এতে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’, ‘চেয়ে’ অনুসর্গ ও পঞ্চমী বিভক্তি ব্যবহৃত হয়। যেমন- গাছ থেকে পাতা পড়ে।

- সম্বন্ধ পদ: ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যের অন্য কোনো পদের সাথে সম্পর্ক যুক্ত হয়, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে। এটি মূলত কারক নয়। এতে সাধারণত ‘র’ বা ‘এর’ (ষষ্ঠী বিভক্তি) যুক্ত থাকে। যেমন- করিমের ভাই এসেছে।

নোট: বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ এবং এনসিটিবি (NCTB) অনুমোদিত পাঠ্যবই অনুসারে, স্থান ও কালবাচক শব্দের শেষে ‘এ’ ও ‘য়’ বিভক্তি যুক্ত হয়ে অধিকরণ কারক গঠন করার নিয়মটি সুপ্রতিষ্ঠিত।

Practice More Questions on Our App!

Download our app for free and access thousands of MCQ questions with detailed solutions